বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর, ২০১৩


Songgram আব্দুল কাদের মোল্লার ফাঁসির রায় কার্যকর আবদুল কাদের মোল্লা সামছুল আরেফীন, শাহেদ মতিউর রহমান, তোফাজ্জল হোসেন কামাল : ইসলামী আন্দোলনের শীর্ষ নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল প্রবীণ সাংবাদিক আব্দুল কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে কথিত মানবতা বিরোধী অপরাধের অভিযোগে দেয়া ফাঁসির রায় কার্যকর করা হয়েছে। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ১০টা ১ মিনিটে ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থাপিত ফাসির মঞ্চে ঝুলিয়ে এ রায় কার্যকর করা হয়। এর আগে জামায়াত নেতা আবদুল কাদের মোল্লাকে ৮ নম্বর সুগন্ধা সেল থেকে ফাঁসির মঞ্চে নিয়ে আসা হয়। কড়া নিরাপত্তার মধ্যে রাত ১১ টা ১৫ মিনিটে তার লাশ একটি বেসরকারী এ্যাম্বুলেন্সযোগে কারাগারের ভিতর থেকে বের করে আনা হয়। তারপর পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবির প্রহরায় তার লাশ ফরিদপুরের সদরপুরের গ্রামের বাড়ীতে নিয়ে যাওয়া হয়। আজ শুক্রবার নামাজে জানাযা শেষে তার লাশ দাফন করা হবে। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার সূত্র জানায়, রাত ১০টা ১ মিনিটে সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে আবদুল কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকর করে কারা কর্তৃপক্ষ। এ সময় জল্লাদের ভূমিকা পালন করেন ৬০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত কয়েদি নরসিংদীর শাহজাহান ভূঁইয়া। তার সঙ্গে ছিলেন আরও ৪ জল্লাদ গোপালগঞ্জের শেখ কামরুজ্জামান, ঢাকার ফারুক, সাভারের কালু ও বাবুল মিয়া। ফাসি কার্যকরের পর কর্তৃপক্ষের নিদের্শে রাত ১০টা ১৫ মিনিটে একটি বেসরকারী এ্যাম্বুলেন্স প্রবেশ করে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে। এরপর সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকতা শেষে কফিনে করে আবদুল কাদের মোল্লার লাশ এ্যাম্বুলেন্সে তোলা হয়। লাশবাহী এ্যাম্বুলেন্সটি চলে যায় চিরচেনা সেই ফরিদপুরে। যেখানে তার জীবনের শুরু সেখানেই তাকে সমাহিত করা হয়। প্রিয়জনদের সান্নিধ্যে ঘটবে তার পরপারের যাত্রা। কারাবিধি অনুসারে সাধারণত রাত বারোটা এক মিনিটে ফাঁসির রায় কার্যকরের নিয়ম রয়েছে। তবে যেহেতু রাত বারোটা এক মিনিট ছুটির দিন শুক্রবার শুরু হবে, তাই পবিত্র জুমার দিন শুরুর আগেই এ ফাঁসি কার্যকরের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। এজন্য রাত ৯টার মধ্যেই তড়িঘড়ি করে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়। রাত ৮টার পর থেকেই ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডের কেন্দ্রীয় কারাগারের চার পাশসহ তৎসন্নিহিত এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। এ সময় জনসাধারণের চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়। যানবাহনও চলাচল করতে দেয়া হয়নি। পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবির পক্ষ থেকে কয়েক স্তরবিশিষ্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল ফাঁসির রায় কার্যকরকে ঘিরে। এই নিরাপত্তার ঘেরাটোফের ভিতর দিয়ে প্রথমেই কারাগারের ভিতরে প্রবেশ করেন ঢাকার সিভিল সার্জন ডাক্তার আবদুল মালেক মৃধা। এরপর প্রবেশ করেন ঢাকার জেলা প্রশাসক শেখ মোহাম্মদ ইউসুফ আবদুল্লাহ হারুন। রাত ৯টায় কারাগারে প্রবেশ করেন আইজি প্রিজন, এডিশনাল আইজি প্রিজন, ডিআইজি প্রিজন, পুলিশ ও র‌্যাবের সংশ্লিষ্ট কর্তকর্তারা। রাত সাড়ে ৯টার পর জামায়াত নেতা আবদুল কাদের মোল্লাকে কয়েদীর পোষাক পরিয়ে ফাঁসির মঞ্চে নিয়ে যাওয়া হয়। এর আগে গতকাল দুপুরের দিকে সচিবালয়ে এক বৈঠক শেষে এটর্নি জেনারেল মাহাবুবে আলম জানান, জেল কোডের কোনো সুবিধা কাদের মোল্লা পাবেন না। একই সঙ্গে প্রাণ ভিক্ষারও সুযোগ নেই। গতকাল বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ রিভিউ গ্রহণযোগ্যতার আবেদন খারিজ করে দেয়ার পর আর কোনো আইনি সুযোগ পাননি আবদুল কাদের মোল্লা। বিকালেই আপিল বিভাগের আদেশ কারা কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠনো হয়। কারা মহাপরিদর্শক মাঈন উদ্দিন খন্দকার জানান, বিকাল সোয়া ৪টায় তার হাতে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের দেয়া সংক্ষিপ্ত আদেশ পৌঁছে। রায় কার্যকরের বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত দেবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ পাওয়ার পরই রায় কার্যকর করা হয়। কাদের মোল্লার ফাঁসির রায় কার্যকরের বিষয় নিয়ে বেলা ৩টায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আইন উপদেষ্টার সভাপতিত্বে বৈঠক করেন আইন প্রতিমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষ কর্তা ব্যক্তিরা। অপরদিকে গতকাল বিকেলে কাদের মোল্লার পরিবারের পক্ষ থেকে তার বড় ছেলে হাসান জামিল সাক্ষাতের জন্য কারা কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করার পর অনুমতি পেয়ে সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে কারাগারে গিয়ে সাক্ষাৎ করেন স্ত্রীসহ পরিবারের ১১ সদস্য। সাক্ষাৎ শেষে বাইরে এসে আব্দুল কাদের মোল্লার পুত্র হাসান জামিল বলেন, তার পিতার শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী দু’ভাই পরামর্শের জন্য আইনজীবীদের সঙ্গে দেখা করতে চান। জেল কোড আনুযায়ী তিনি ৭ দিন সময় পাবেন। রাষ্ট্রপতির কাছে আব্দুল কাদের মোল্লার ক্ষমা চাওয়ার প্রসঙ্গে বলেন, জেল কোড অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে ক্ষমা চাওয়ার বিষয়ে তিনি আইনজীবীদের সাথে পরামর্শ করবেন। ক্ষমা চাইবেন কি না এ ব্যাপারে তিনি পরে জানাবেন। তিনি এটাও জানান, কারা কর্তৃপক্ষ তাদের দেখা করতে ডাকেননি। তারা নিজেরাই কাদের মোল্লার সঙ্গে দেখা করতে চেয়ে আবেদন করলে কর্তৃপক্ষ সুযোগ দেন। কিন্তু আবদুল কাদের মোল্লার শেষ ইচ্ছা পূরণ করা হয়নি। জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা রাজনীতিক কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকর বাতিল করার জন্য পৃথক পৃথক বিবৃতি ও চিঠি দিয়েছে। কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকর করার সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ার পর আইনজীবীদের রিভিউ আবেদনের প্রেক্ষিতে গত মঙ্গলবার রাতে চেম্বার বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন পরদিন বুধবার সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত রায় কার্যকর স্থগিত করেন। বুধবার ও বৃহস্পতিবার উভয় পক্ষের শুনানি শেষে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন সুপ্রিম কোর্টের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ রিভিউ আবেদনটি খারিজ করে দেন। গতকাল বৃহস্পতিবার কার্যদিবস শেষ হওয়ার আগেই খারিজের আদেশ কারা কর্তৃপক্ষের নিকট হস্তান্তর করেন আদালত। গত মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিটে এ ফাঁসি কার্যকর করার কথা ছিল। ৫ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেয়া যাবজ্জীবন সাজা বাড়িয়ে ১৭ সেপ্টেম্বর সংক্ষিপ্ত রায়ে কাদের মোল্লাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদ-ের রায় দেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। দেশবাসীকে ধৈর্য ও সহনশীলতার সাথে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের আহ্বান সরকার তড়িঘড়ি করে আব্দুল কাদের মোল্লাকে হত্যা করেছে --------মকবুল আহমদ -িবচার করছে আদালত আর রায়ের দিন, তারিখ, সময় নির্ধারণ করে বক্তব্য রাখছেন মন্ত্রী, এমপি ও দলীয় নেতৃবৃন্দ -আিব্দুল কাদের মোল্লাকে হত্যার প্রতিফোঁটা রক্তের জবাব আওয়ামী লীগ ও সরকারকে দিতে হবে -আওয়ামী লীগকে অনাগত ভবিষ্যতে বিচার নামক প্রহসনের জন্য আসামীর কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে বিচারের রায় কার্যকরের নামে আব্দুল কাদের মোল্লাকে হত্যার জন্য সরকারের বিরুদ্ধে দেশবাসীকে ধৈর্য ও সহনশীলতার সাথে শান্তিপূর্ণ প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত আমীর মকবুল আহমদ গতকাল বুধবার বিবৃতি দিয়েছেন। বিবৃতিতে তিনি বলেন, সরকার সংবিধান, সুপ্রিম কোর্ট রুলস্ এবং জেলকোডের বিধান অবজ্ঞা করে আব্দুল কাদের মোল্লাকে সুপরিকল্পিতভাবে রাজনৈতিক কারণে হত্যার উদ্দেশ্যে ১০ তারিখ রাত ১২.০১ মিনিট সময় নির্ধারণ করে। আব্দুল কাদের মোল্লার আইনজীবীগণ সরকারের বে-আইনি আদেশের বিরুদ্ধে চেম্বার জজের নিকট আবেদন করলে উক্ত আদেশ স্থগিত করা হয়। বিচারের রায় কার্যকরের নামে আব্দুল কাদের মোল্লাকে হত্যার জন্য সরকারের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে দেশবাসীকে ধৈর্য ও সহনশীলতার সাথে শান্তিপূর্ণ প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত আমীর মকবুল আহমদ গতকাল বুধবার বিবৃতি দিয়েছেন। বিবৃতিতে তিনি বলেন, সরকার সংবিধান, সুপ্রিম কোর্ট রুলস্ এবং জেলকোডের বিধান অবজ্ঞা করে আব্দুল কাদের মোল্লাকে সুপরিকল্পিতভাবে রাজনৈতিক কারণে হত্যার উদ্দেশ্যে ১০ তারিখ রাত ১২.০১ মিনিট সময় নির্ধারণ করে। আব্দুল কাদের মোল্লার আইনজীবীগণ সরকারের বে-আইনি আদেশের বিরুদ্ধে চেম্বার জজের নিকট আবেদন করলে উক্ত আদেশ স্থগিত করা হয়। তিনি বলেন, সুপ্রিম কোর্ট দেশের সর্বোচ্চ আদালত। মৃত্যুদ-ের মত একটি স্পর্শকাতর বিষয়ে রিভিউ পিটিশনের ওপর পর্যাপ্ত সময় নিয়ে শুনানি কারাই ছিল স্বাভাবিক দাবি। সংবিধানের ১০৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রিভিউ পিটিশনের অধিকার আব্দুল কাদের মোল্লাকে দেয়া হয়েছে। এ পিটিশন দায়েরের জন্য আইন অনুযায়ী ৩০ দিন সময় পাওয়ার কথা। কিন্তু তার আগেই সরকার রায় কার্যকরের ঘোষণা দেয়, যা প্রকারান্তরে পরিকল্পিত হত্যারই নামান্তর। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদালতের শুনানিতে স্বাভাবিকভাবেই সরকার কর্তৃক আদালত প্রভাবিত হয়েছে বলে জনগণের ধারণা। ভারপ্রাপ্ত আমীর বলেন, অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত সময়ে শুনানির পর আদালত সরকারের আদেশের বিরুদ্ধে দায়ের করা আবেদন খারিজ করে দেন। ঐ খারিজ আদেশে কি নির্দেশনা দেয়া হয়েছে তা এখনো জনগণের সামনে পরিষ্কার নয়। তদুপরি আবেদনে জেলকোড অনুসরণ সংক্রান্ত বিষয়ে আইনজীবীগণ উল্লেখ করেছিলেন। সংক্ষিপ্ত মৌখিক আদেশে জেলকোড সংক্রান্ত বিষয়ে কোন কিছু জানা যায়নি। এমতাবস্থায় আব্দুল কাদের মোল্লার রিভিউ পিটিশন সংক্রান্ত বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের প্রদত্ত আদেশ সংক্রান্ত বিস্তারিত জানার অধিকার তার রয়েছে। অথচ সরকার রায় কার্যকরে কোন বাধা নেই বলে প্রচার করে তড়িঘড়ি করে আব্দুল কাদের মোল্লাকে হত্যার ষড়যন্ত্র করছে। মকবুল আহমদ বলেন, আমাদের সুস্পষ্ট বক্তব্য হলো, আব্দুল কাদের মোল্লাকে বিচারের নামে প্রহসন করে হত্যার যে আয়োজন করেছিল সরকার তা বাস্তবায়নের চেষ্টা চালাচ্ছে। যে আইনে তার বিচার করা হলো তা এবং ট্রাইব্যুনাল, দেশে-বিদেশে ব্যাপকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ ও বিতর্কিত। এই বিচার প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত হয়ে আছে স্কাইপ কেলেঙ্কারি, সেইফ হোম কেলেঙ্কারি। বিচার করছে আদালত আর রায়ের দিন, তারিখ, সময় নির্ধারণ করে বক্তব্য রাখছেন সরকারের মন্ত্রী, এমপি ও দলীয় নেতৃবৃন্দ। এই বিচারে জালিয়াতির নিকৃষ্ট উদাহরণ ভুয়া মোমেনা বেগমের সাক্ষ্য। যে মোমেনা বেগমের সাক্ষ্য বিবেচনায় নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট তাকে মৃত্যুদ- প্রদান করেছে, ঐ কথিত মোমেনা বেগম তার সাক্ষ্যের তিন জায়গায় তিন রকম বক্তব্য দিয়েছে, যা বিবেচনা করে বিচারপতি আব্দুল ওহাব মিঞা ঘোষিত মৃত্যুদ-ের সাথে একমত পোষণ করেননি। তিনি বলেন, শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বিচার পরিচালিত হয়েছে সরকার নির্দেশিত ছকে। বিশ্ব সম্প্রদায় বিচার প্রক্রিয়া ও রায় সম্পর্কে যেসব বক্তব্য রেখেছেন এ সরকার তা অগ্রাহ্য করে আব্দুল কাদের মোল্লাকে হত্যা করতে অস্থির হয়ে পড়েছে। ভারপ্রাপ্ত আমীর বলেন, জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশনার নাভি পিল্লাই, দুইজন বিশেষজ্ঞ, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, হিউম্যান রাইটস্ ওয়াচ, এশিয়ান হিউম্যান রাইটস্ কমিশন, ব্রিটিশ সিনিয়র পররাষ্ট্রমন্ত্রী, তুরস্ক, অস্ট্রেলিয়া, ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সদস্য, লর্ড এ্যাভেবুরি, লর্ড কার্লাইলসহ আন্তর্জাতিক মহল আব্দুল কাদের মোল্লার মৃত্যুদ-াদেশ স্থগিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। কিন্তু সরকার তার রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার জন্য এবং একদলীয় প্রহসনের নির্বাচনের প্রতিবাদে গড়ে ওঠা গণআন্দোলন ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার উদ্দেশ্যে আব্দুল কাদের মোল্লাকে হত্যা করতে চাচ্ছে। সরকার তার এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করলে বাংলাদেশসহ সারাবিশ্বে এটি একটি নিকৃষ্ট রাজনৈতিক হত্যাকা- হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। সরকারের মনে রাখা দরকার আব্দুল কাদের মোল্লাকে হত্যা করা হলে তার প্রতিফোঁটা রক্তের জন্য আওয়ামী লীগ ও সরকারকে জবাব দিতে হবে। আওয়ামী লীগকে অনাগত ভবিষ্যতে বিচার নামক প্রহসনের জন্য আসামীর কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে। এই সরকারকে তার বে-আইনি, অসাংবিধানিক ও নিজের ছকে বিচার পরিচালনা করে মৃত্যুদ- হাসিল করার নানাবিধ ষড়যন্ত্র ও চক্রান্তের কারণে অবশ্যই জনতার আদালতে দাঁড়াতে হবে। তিনি মানব ইতিহাসে এ কলঙ্কজনক রাজনৈতিক হত্যাকা-ের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে দেশের আপামর জনতা ও বিশ্ববাসীকে সোচ্চার হওয়ার এবং সরকারের এই নিকৃষ্ট ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক উপায়ে শান্তিপূর্ণভাবে ঐক্যবদ্ধ গণপ্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন