Dinkal




Inkilab




Sokaler khobor






Destiny
যে কোনো সময় ফাঁসি
ডেসটিনি রিপোর্ট
যুদ্ধাপরাধী কাদের মোল্লার ফাঁসির প্রক্রিয়া যেখানে আটকে ছিল, সরকারের সিদ্ধান্ত পেলে সেখান থেকেই আবার শুরু করা হবে বলে জানিয়েছেন কারা মহাপরিদর্শকের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত সচিব মাঈন উদ্দিন খন্দকার।
'রিভিউ' আবেদন খারিজের আদেশ হাতে পাওয়ার পর গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে তিনি এ কথা বলেন। এর আগে 'রিভিউ' খারিজের আদেশে বিচারকরা সই করেন এবং বিকাল পৌনে ৪টার দিকে তার অনুলিপি কারা কর্তৃপক্ষ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে পাঠিয়ে দেয়া হয় বলে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার এ কে এম শামসুল ইসলাম জানান।
মাঈনউদ্দিন খন্দকার বলেন, মঙ্গলবার আমরা আদালতের একটি আদেশের কপি পেয়ে ফাঁসি স্থগিত করেছিলাম। আজ (গতকাল) আপিল বিভাগের নতুন আদেশের কপি পেয়েছি। সরকারের সিদ্ধান্ত পেলে যেখানে থেমেছিলাম, সেখান থেকেই কাজ শুরু করব। একজন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জানান, মামলার বিচারিক আদালত, অর্থাৎ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গত ৮ ডিসেম্বর রায় বাস্তবায়নে কাদের মোল্লার 'মৃত্যু পরোয়ানা' জারি করায় নতুন করে আর কোনো পরোয়ানা জারির প্রয়োজন পড়বে না।
নিয়ম অনুযায়ী আসামি কাদের মোল্লা রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমার আবেদন করার সুযোগ পেলেও তিনি তা করতে রাজি হননি বলে গত মঙ্গলবার সাংবাদিকদের জানিয়েছেন আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলাম। তবে কাদের মোল্লা প্রাণভিক্ষার সুযোগ প্রত্যাখ্যান করেননি বলে সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেছেন তার আইনজীবী ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক।
গতকাল বৃহস্পতিবার আপিল বিভাগের খারিজের আদেশের পর তিনি বলেন, পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর সরকারকে যা কিছু করতে হয় তা আইন ও জেল কোড মেনেই করবে। জেল কোড না মেনে কেউ কিছু করতে পারবে না। আপিল বিভাগে কাদের মোল্লার মৃত্যুদ-ের রায়ের পর তৎকালীন আইনমন্ত্রী ও বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা শফিক আহমেদ বলেছিলেন, এ ধরনের অপরাধে বিশ্বের কোথাও অপরাধী সাধারণত ক্ষমা পান না। অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম গতকাল বৃহস্পতিবার বলেন, প্রাণভিক্ষার কথা অনেক আগে থেকেই বলা হয়েছে। (কাদের মোল্লা) কোনো রেসপন্স করেননি। এখন কোনো সুযোগ নেই। উনি চাইলে আলাদা কথা। ৫ ফেব্রুয়ারি জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল কাদের মোল্লাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল যাবজ্জীবন কারাদ- দেয়ার পর গত ১৭ সেপ্টেম্বর আপিল বিভাগ সাজা বাড়িয়ে ফাঁসির আদেশ দেয়।
এর আড়াই মাসের মাথায় পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ হলে ট্রাইব্যুনাল মৃত্যুপরোয়ানা জারি করে। দুই পৃষ্ঠার একটি পরোয়ানা খামে করে এবং লাল কাপড়ে মোড়ানো ৭৯০ পৃষ্ঠার নথিসহ রায়ের কপি গত ৮ ডিসেম্বর পেঁৗছে দেয়া হয় ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে।
এরপর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু জানান, কাদের মোল্লার ফাঁসির রায় কার্যকর করার আগে সব আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। এরপর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের জ্যেষ্ঠ জেল সুপার ফরমান আলী ওইদিন রাত ৮টার সময় সাংবাদিকদের জানান, ১২টা ১ মিনিটে মৃত্যুদ-ের রায় কার্যকর করা হবে। কিন্তু আসামিপক্ষের আবেদনে সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার জজ রাতে এক আকস্মিক আদেশে তা স্থগিত করে দেন। বুধ ও বৃহস্পতিবার আসামিপক্ষের রিভিউ আবেদনের ওপর শুনানি শেষে তা নাকচ করে দেয় আপিল বিভাগ।

গণজাগরণ মঞ্চের বিজয় নেতাকর্মীদের উল্লাস
ডেসটিনি রিপোর্ট
যুদ্ধাপরাধী কাদের মোল্লার মৃত্যুদ-ের রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন খারিজ হওয়ায় গণজাগরণ মঞ্চের 'বিজয়' হয়েছে বলে দাবি করেছেন মঞ্চের নেতারা। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ আসামিপক্ষের করা রিভিউ আবেদন খারিজ করে দেয়ার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, এ রায় গণজাগরণ মঞ্চের বিজয়।
শহীদ জননী জাহানারা ইমামের শুরু করা আন্দোলনের বিজয়। আমাদের প্রত্যাশা, আরো যেসব অভিযুক্ত যুদ্ধাপরাধী আছে তাদের রায় বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে যেন কোনো জটিলতা না হয়। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরিম-লে যেসব শক্তি মুক্তিযুদ্ধের ?বিরুদ্ধে সোচ্চার তাদের মুখোশ উন্মোচনের দাবি জানিয়ে এই মুক্তিযোদ্ধা বলেন, এগুলো করতে পারলেই আমাদের বিজয় পরিপূর্ণ হবে।
ছাত্র-জনতার ওই আন্দোলনের মুখে আইন সংশোধন করে ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে আসামিপক্ষের পাশাপাশি প্রসিকিউশনকে আপিলের সুযোগ দেয়া হয়, যার প্রেক্ষাপটে সর্বোচ্চ আদালতে আপিলের রায়ে গত ১৭ সেপ্টেম্বর কাদের মোল্লার মৃত্যুদ- হয়।
পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরিম-লে যেসব শক্তি মুক্তিযুদ্ধের ?বিরুদ্ধে সোচ্চার তাদের মুখোশ উন্মোচনের দাবি জানিয়ে এই মুক্তিযোদ্ধা বলেন, এগুলো করতে পারলেই আমাদের বিজয় পরিপূর্ণ হবে। এরপর সংক্ষুব্ধ হয়ে ওই রাত ১১টা থেকে শাহবাগ মোড়ে আবার অবস্থান নেন গণজাগরণ মঞ্চের কর্মী-সংগঠকরা। কয়েক দফায় ওই এলাকায় হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হলেও শাহবাগ মোড়েই লাগাতার অবস্থান চালিয়ে আসেন জাগরণ মঞ্চের নেতাকর্মীরা। কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত রাজপথে থাকার ঘোষণা দেন তারা।

Songbad
কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকর
নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল কাদের মোল্লার মৃত্যুদ-ের রায় কার্যকর করা হয়েছে। গতকাল রাত ১০টা ১ মিনিটে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে এই রায় কার্যকর করা হয়েছে। এ সময় কারাগারে উপস্থিত ছিলেন ম্যাজিস্ট্রেট, আইজি প্রিজন মাঈনুদ্দিন খন্দকার, ডিআইজি প্রিজন গোলাম হাওলাদার, এডিশনাল আইজি কর্নেল ইফতেখার আহমেদ, সিভিল সার্জন ডাক্তার আবদুল মালেক মৃধা। নজিরবিহীন নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে এই রায় কার্যকর করা হয়েছে। এটিই বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দ-প্রাপ্তদের মধ্যে প্রথম কোন অভিযুক্তের রায় কার্যকর করা হলো।
এর আগে গত মঙ্গলবার রাত ১২টা এক মিনিটে এই রায় কার্যকর হওয়ার কথাছিল। কিন্তু রাত সাড়ে ১০টার সময় হঠাৎ করেই তার ফাঁসির কার্যকারিতা বুধবার সকাল সাড়ে ১০ টা পর্যন্ত স্থগিত করা হয়। পরে রিভিউ আবেদনের শুনানি শেষে গতকাল বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ তা খারিজ করে দেন। এর পর থেকেই ফাঁসির আদেশ কার্যকর করার প্রক্রিয়া শুরু হয়।
কারা সূত্র জানায়, ফাঁসি কার্যকর করতে ছয়জন জল্লাদের নামও চূড়ান্ত করা হয়েছিল। পরে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী শাহজাহান ভূঁইয়া জল্লাদের দায়িত্ব পালন করে। শাহজাহান দুটি খুনের মামলায় ৬০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত কয়েদি। ২০১০ সালের ২৭ জানুয়ারি ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার পাঁচ কয়েদির ফাঁসির রায় কার্যকরে প্রধান জল্লাদ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন এই শাহজাহান।
এছাড়া আলোচিত শারমিন রিমা হত্যা মামলার আসামি মনিরকে ফাঁসি দেয়া জল্লাদ হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করেন। কুখ্যাত খুনি খুলনার এরশাদ সিকদারের ফাঁসি কার্যকর করতে শাহজাহানকে ওই সময় কাশিমপুর কারাগার থেকে খুলনায় নেয়া হয়েছিল। ২০০৭ সালের মার্চে কাশিমপুর কারাগারে জঙ্গি মামুনের ফাঁসির সময় জল্লাদের দায়িত্ব পালন করেন এই শাহজাহান। ওই সময়সহ জল্লাদের দায়িত্বে থাকা কালু মিয়াও জল্লাদের তালিকায় নাম লিখিয়েছেন। হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত কয়েদি কালু ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী। বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার কয়েদিদের ফাঁসির রায় কার্যকরের সময়ও তিনি সহ জল্লাদের দায়িত্ব পালন করেন।
কাদের মোল্লার মৃত্যুদ-ের রায় কার্যকর করার সময় চারজন জল্লাদকে শাহজাহানের সহযোগী হিসেবে মঞ্চের পাশে ডাকা হয়। এর আগে কাদের মোল্লাকে গোসল করানো হয়। তারপর নামাজ আদায় করতে দেয়া হয়। স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়, তারপর কারাগার জামে মসজিদের ইমাম হাফেজ মনির হোসেন তাকে তওবা পড়ান এবং রাত ১০টা ১ মিনিটে ফাঁসি কার্যকর করা হয়। ফাঁসি কার্যকরের ১ ঘণ্টা ১৫ মিনিট অর্থাৎ সোয়া ১১টায় তার লাশ স্বজনের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এরপরেই কড়া নিরাপত্তায় তার গ্রামের বাড়ি ফরিদপুরের সদরপুরের উদ্দেশে যাত্রা করে।
কনডেম সেলে দেখা করেছের কাদের মোল্লার স্বজনরা : সন্ধ্যায় কাদের মোল্লার সঙ্গে দেখা করেছেন তার পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ভেতরে কনডেম সেলে গিয়ে মোট ৯ জন স্বজন দীর্ঘ ৪০ মিনিট কথা বলেন কাদের মোল্লার সঙ্গে। গতকাল সন্ধ্যা ৭টায় দেখা করে কারাগারের বাইরে বের হন তারা।
কাদের মোল্লার পরিবারের সদস্যরা তার সঙ্গে আরও একবার দেখা (শেষ দেখা) করার সুযোগ পেলেন। বিকেলে পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কারা কর্তৃপক্ষ এ সুযোগ দিয়েছে। কাদের মোল্লার মৃত্যুদ-ের রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ খারিজ করে দেয়ার পর ফের তার সঙ্গে কারাগারে দেখা করার আবেদন জানালে দেখা করার অনুমতি দেয়া হয়।
হাসান জামিল জানান, বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে তারা এই আবেদন জানান। পরে তাদের আবেদনে সাড়া দিয়ে যত দ্রুত সম্ভব কারাগারে গিয়ে দেখা করতে বলা হয়। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের কনডেম সেলে কাদের মোল্লার সঙ্গে দেখা করতে চেয়ে জেলগেটে আবেদন পৌঁছে দেয়া হয় বলে জানান হাসান জামিল। এর আগে মঙ্গলবার রাতে কাদের মোল্লার সঙ্গে শেষ দেখা করেছিলেন তার ২৩ স্বজন। বৃহস্পতিবার সকালে আসামিপক্ষের রিভিউ আবেদন খারিজ করে দেন আপিল বিভাগ। এর ফলে কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকর করার পথে আর কোন আইনগত বাধা নেই বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।
রিভিউ আবেদনের গ্রহণযোগ্যতার প্রশ্নে এবং রিভিউয়ের মূল আবেদনের (অন মেরিট) শুনানি শেষে আসামিপক্ষের দুটি আবেদনই খারিজ করে সংক্ষিপ্ত আদেশ দেন প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেনের নেতৃত্বে আপিল বিভাগের ৫ বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ। অপর বিচারপতিরা হচ্ছেন, বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা, বিচারপতি আব্দুল ওয়াহহাব মিঞা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী।
গত মঙ্গলবার কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকর করার সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়। কিন্তু তার আইনজীবীদের আবেদনে রাত ১০টা ২০ মিনিটে চেম্বার বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বুধবার সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত রায় কার্যকর করা স্থগিত করেন। মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিটে এ ফাঁসি কার্যকর করার কথা ছিল। গত ৫ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধাপরাধের বিচারে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ জামায়াত নেতা কাদের মোল্লাকে যাবজ্জীবন কারাদ- দেন। এরপর রাজধানীর শাহবাগে গণজাগরণ মঞ্চ তারসহ সকল যুদ্ধাপরাধীর সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে আন্দোলন করে আসছিল। এ আন্দোলনের মুখে সরকার আইন পরিবর্তন করে কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে আপিল করে। আপিল শুনানি শেষে সুপ্রিম কোর্ট ১৭ সেপ্টেম্বর ট্রাইব্যুনালের দেয়া যাবজ্জীবন কারাদ-ের সাজা বাড়িয়ে মৃত্যুদ-াদেশ দেন। ৫ ডিসেম্বর পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেন আপিল বিভাগ।
শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী কবরের জায়গা প্রস্তুত : ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার ভাসানচর ইউনিয়নের আমিরাবাদ গ্রামের সোনা উল্লাহ মোল্লা ওরফে সোনা মোল্লা-বাহেরুন নেছা দম্পতির ৩ ছেলে ও ৬ মেয়ের মধ্যে ৩য় সন্তান আবদুল কাদের মোল্লা যুদ্ধাপরাধের দায়ে ফাঁসির দ-াদেশ প্রাপ্ত। বৃহস্পতিবার দিবাগত মধ্যরাতে তার ফাঁসি কার্যকর হবে এমন আশঙ্কা থেকে তার পরিবার গ্রামের বাড়িতে মা-বাবার কবরের পাশে তার কবরস্থানে জায়গা নির্ধারণ করে রেখেছেন।
কাদের মোল্লার ছোট ভাই মাইনুদ্দিন মোল্লা জানান, তার ভাই কাদের মোল্লার সঙ্গে সর্বশেষ মাস দেড়েক আগে কারাগারে গিয়ে দেখা করেছিলেন তিনি। সেখানে ভাইয়ের সঙ্গে নানা বিষয় নিয়ে কথার একপর্যায়ে তার ভাই কাদের তাকে বলেছেন, বর্তমান সরকার আমাকে ফাঁসি দিয়ে দিতে পারে। যদি ফাঁসি দেয় অথবা আমার স্বাভাবিক মৃত্যু হয় তবে সদরপুর স্টেডিয়ামে নামাজে জানাজা পড়িয়ে বাড়ির উঠানে মায়ের পায়ের কাছে আমায় কবর দিস।
স্থানীয় ভাসানচর ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান মাইনুদ্দিন মোল্লা আরও জানান, তার এই ইচ্ছা অনুযায়ী মা-বাবার কবরের পাশেই তার দাফন করা হবে। এরই মধ্যে যে স্থানে কবর খোঁড়া হবে সেখানে পরিষ্কার করা হয়েছে। প্রস্তুতি শেষ হয়েছে দাফন-কাফনের অন্য সব কার্যক্রমেরও। তিনি বলেন, কাদের তাকে জানিয়েছেন, কোন কারণে যদি বিদেশে মৃত্যু হয়, তবে আমাকে দেশে আনিস না। ভাই বোনেরা জমিজমা নিয়ে দ্বন্দ্ব করিস না। প্রয়োজন হলে আমার জমিও তোরা ভাগ করে নিয়ে নিস। মেজ ভাই আমাকে তার সন্তানদের চেয়েও বেশি ভালোবাসতেন বলেও দাবি করেন মাইনুদ্দিন। আমিরাবাদের গ্রামের বাড়ি থেকে মোবাইল ফোনে এসব কথা জানান মাইনুদ্দিন মোল্লা।
আমিরাবাদ গ্রামে ১৯৪৮ সালে জন্ম মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ফাঁসি কার্যকর হতে যাওয়া কাদের মোল্লার। ১৯৬৯ সালে তিনি পড়াশোনার উদ্দেশে গ্রাম ছেড়ে ঢাকায় চলে যান। ফেরেন মুক্তিযুদ্ধ শেষে। তাই পুরো একাত্তর সালজুড়ে ঢাকার বৃহত্তর মিরপুরে তা-ব চালিয়ে বেড়ানো কাদের মোল্লার কুকীর্তি সম্পর্কে তেমন একটা অবগত ছিলেন না তার নিজ গ্রামবাসীও। গ্রামের মানুষ প্রথমদিকে তাকে একজন ভালো মানুষ হিসেবে চিনলেও বর্তমান সরকার যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রক্রিয়া শুরুর করার পর একে একে ফাঁস হতে শুরু করে কাদের মোল্লার কুকীর্তির কথা। একপর্যায়ে আবদুল কাদের মোল্লাকে গ্রেফতার করার পর বিভিন্ন মিডিয়ায় আসতে শুরু করে হত্যা, গণহত্যা, ধর্ষণ, লুটপাটসহ তার করা বিভিন্ন অপরাধের ঘটনা। এসব অভিযোগ সম্পর্কে বিস্তারিত জানার পর কাদের মোল্লাকেও নতুনভাবে চিনেছেন সদরপুরের মানুষ।
এখন নিজ গ্রামের মানুষের কাছেই ধিক্কারের পাত্র কাদের মোল্লা। আর শীঘ্রই দেশের এই শীর্ষ যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসি হয়ে যাচ্ছে- এ খবর জানার পর আনন্দে ভাসছে পুরো গ্রামটিও। গ্রামের অনেকেই মুক্তিযুদ্ধের সক্রিয় ও সশস্ত্র বিরোধিতাকারী জামায়াতের এই সহকারী সেক্রেটারি জেনারেলের ফাঁসি দ্রুত কার্যকর করা হবে- এ খবর জেনে তাদের সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন।

যত অভিযোগ
নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
পল্লবসহ সাতজনকে হত্যা : একাত্তরে মিরপুর-১১ নম্বরের বি-বস্নকের বাসিন্দা ও মিরপুর বাংলা কলেজের ছাত্র পল্লব স্থানীয় বাঙালি ও অবাঙালিদের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ করার উদ্যোগ নেন। ১৯৭১ সালের মার্চে 'স্বাধীনতাবিরোধীরা' পল্লবকে নবাবপুর থেকে ধরে মিরপুরে কাদের মোল্লাার কাছে নিয়ে যায়। কাদের মোল্লার নির্দেশে পল্লবকে হাতে দড়ি বেঁধে টেনেহিঁচড়ে মিরপুর-১২ নম্বর থেকে ১ নম্বর সেকশনে শাহ আলী মাজার পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর তাকে মিরপুর-১ নম্বর থেকে ১২ নম্বর সেকশনে ঈদগাহ মাঠে নেয়া হয় একইভাবে। পরে পল্লবকে গাছে ঝুলিয়ে আঙুল কেটে দেয়া হয়। দু'দিন পর গুলি করে হত্যা করা হয় তাকে। হত্যার দু'দিন পর পল্লবের লাশ মিরপুর-১২ নম্বর সেকশনে কালাপানি ঝিলের পাশে আরও ছয় জনের সঙ্গে মাটি চাপা দেয়া হয়।
কবি মেহেরুন্নেসা ও তার মা-ভাইকে হত্যা : ১৯৭১ সালের ২৭ মার্চ সকাল ১১টায় আবদুল কাদের মোল্লার নেতৃত্বে আলবদর বাহিনীর একটি দল কবি মেহেরুন্নেসার মিরপুরের বাসায় যায়। কাদের মোল্লার নির্দেশে সেখানেই মেহেরুন্নেসাকে জবাই করে তারা। শরীর থেকে মাথা কেটে রশি দিয়ে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয় মেহেরুন্নেসার লাশ। জবাই করা হয় কবির দুই ভাই রফিকুল হক বাবলু, শরিফুল হক টুকু এবং তাদের মাকেও।
খন্দকার আবু তালেবকে হত্যা : একাত্তরের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি বাহিনী ঢাকায় গণহত্যা শুরুর পর পালিয়ে আরামবাগে চলে যান মিরপুর ১০ নম্বরের বাসিন্দা খন্দকার আবু তালেব। ২৯ মার্চ তিনি মিরপুরে ফিরে দেখতে পান, সব পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। এরপর আরামবাগে ফেরার জন্য মিরপুর ১০ নম্বর বাসস্ট্যান্ডে গেলে আবদুল কাদের মোল্লা ও তার সহযোগীরা রশি দিয়ে বেঁধে আবু তালেবকে জল্লাদখানা পাম্প হাউসে নিয়ে যায়। সেখানে কাদের মোল্লার উপস্থিতিতে তাকে জবাই করা হয়।
কেরানীগঞ্জের দুই গ্রামে গণহত্যা : ১৯৭১ সালের ২৫ নভেম্বর সকালে কাদের মোল্লার নেতৃত্বে কেরানীগঞ্জের খানবাড়ি ও ঘটারচর এলাকার দুটি গ্রামে হামলা করে ৪২ জনকে হত্যা এবং বাড়িঘরে আগুন দেয়া হয়।
আলকদী গ্রামে গণহত্যা : একাত্তরের ২৪ এপ্রিল ফজরের নামাজের সময় পাকিস্তানি বাহিনী হেলিকপ্টারে করে তুরাগ নদের পাড়ে পল্লবীর আলকদী গ্রামের পশ্চিম পাশে অবতরণ করে। সে সময় কাদের মোল্লার নেতৃত্বে আলবদর বাহিনীর প্রায় ৫০ জন সদস্য ও কয়েকজন বিহারি ওই গ্রাম ঘিরে ফেলে। এরপর নিরস্ত্র মানুষের ওপর নির্বিচারে গুলি চালানো হয়। এই অভিযানে ৩৪৪ জনেরও বেশি মানুষকে হত্যা করা হয়।
হযরত আলী ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যা, ধর্ষণ : কাদের মোল্লা ও বিহারি আক্তার গুন্ডাসহ কয়েকজন বিহারি একাত্তরের ২৬ মার্চ সন্ধ্যা ৬টার দিকে মিরপুরের শহীদ হযরত আলী লস্করের বাড়িতে হানা দেয়। তারা জোর করে ওই বাড়িতে ঢুকে হজরত আলীকে গুলি করে, তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আমিনা ও দুই মেয়েকে (বয়স ৭ ও ৯ বছর) জবাই করে হত্যা করে। এরপর আলীর দুই বছরের ছেলে বাবুকে মাটিতে আছড়ে হত্যা করে কাদের মোল্লার সহযোগীরা। এসব দেখে চৌকির নিচে লুকিয়ে থাকা হযরত আলীর আরেক মেয়ে আমেনা চিৎকার করে উঠলে তাকে সেখান থেকে টেনে বের করে পলাক্রমে ধর্ষণ করা হয়। ওই সময় আলীর বড় মেয়ে মোমেনা সংজ্ঞা হারানোর কারণে প্রাণে বেঁচে যায়।
যে সাক্ষ্যে কাদের মোল্লার ফাঁসি
নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
দুই বছরের ছোট ভাইকে আছড়ে মারা, দুই বোনকে জবাই, এক বোনকে ধর্ষণ, মাকে গুলি করে মারা- এতগুলো দৃশ্য দেখে নিজে ধর্ষিত হওয়ার পর মোমেনা বেগমের স্বাভাবিক থাকাটাই হতো অস্বাভাবিক।
একাত্তরে একদিনে এতগুলো ঘটনার পর পাগলই হয়েছিলেন এই নারী। তবে সেই অবস্থা থেকে উত্তরণ ঘটিয়ে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিতে হাজির হয়েছিলেন তিনি। মা-ভাই- বোনদের মৃত্যু দেখলেও সেদিন ধরে নেয়ার পর বাবা হযরত আলী লস্করের কোন খবর আর পাননি মোমেনা। তাই সাক্ষীর কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে আসামির কাঠগড়ায় যে দাঁড়ানো কাদের মোল্লার প্রতি মোমেনার প্রশ্ন ছিল- আমি তাকে জিজ্ঞাসা করতে চাই- আমার বাবা কোথায়?
কার্যত ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী এই নারীর সাক্ষ্যেই জামায়াতে ইসলামীর নেতা যুদ্ধাপরাধী আবদুল কাদের মোল্লার ফাঁসির রায় হয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন কারণে গত বছরের ১৭ জুলাই দেয়া মোমেনার এই সাক্ষ্য বিচার চলা অবস্থায় প্রকাশিত হয়নি। আপিল বিভাগে রায়ের পর এই সাক্ষ্যটি পাওয়া যায়।
একাত্তরে 'মিরপুরের কসাই' কাদের মোল্লাকে যাবজ্জীবন কারাদ- দিয়েছিল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিলে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ চূড়ান্ত রায়ে তাকে মৃত্যুদ- দেয়।
কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে আনা ষষ্ঠ অভিযোগে তার ফাঁসির রায় হয়, ওই অভিযোগে ছিল আওয়ামী লীগ সমর্থক হযরত আলীর পুরো পরিবারের ওপর নির্মম নির্যাতন।
তখন তিনি আরও জোয়ান ছিলেন, অল্পবয়সী ছিলেন, কাঠগড়ায় থাকা জামায়াত নেতাকে শনাক্ত করেছিলেন মোমেনা। কাদের মোল্লা যে সেদিন পাঞ্জাবি পরা ছিলেন, দুঃসহ সেই দিনের স্মৃতি না চাইলেও মনে আছে ওই সময়ের কিশোরীর। পেশায় দরজি হযরত আলী একাত্তরের উত্তাল সময়ে আওয়ামী লীগের সব মিছিলে যেতেন। ওই সময় বিহারিদের আবাস মিরপুরে '৭০ এর নির্বাচনে 'নৌকা' মার্কার পোস্টার নিজে লাগাতেন তিনি। স্ত্রী, চার মেয়ে, এক ছেলেকে নিয়ে হযরত আলী থাকতেন মিরপুর ১২ নম্বর সেকশনের কালাপানি এলাকার পাঁচ নম্বর লেইনের ২১ নম্বর বাড়িতে। ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি সৈন্যদের বাঙালি নিধন শুরুর পরের দিনটিতে 'নরক' নেমে আসে তার বাড়িতে।
মোমেনার ভাষ্য, বেলা ডোবার আগে কাদের মোল্লার নেতৃত্বে হামলা হয় তাদের বাড়িতে। আব্বা দৌড়াইয়া দৌড়াইয়া আসে এবং বলতে থাকে- 'কাদের মোল্লা মেরে ফেলবে'। আক্তার গু-া, বিহারীরা তারা ও পাক বাহিনীরা দৌড়াইয়া আসছিল। আব্বা ঘরে এসে দরজার খিল লাগায়ে দেয়। হযরত দরজা এঁটে সন্তানদের খাটের নিচে লুকাতে বলে। মোমেনার সঙ্গে তার বোন আমেনা বেগমও খাটের নিচে ঢোকে। তখন দরজায় শোনে কাদের মোল্লাসহ বিহারিদের কণ্ঠস্বর। এই হারামি বাচ্চা দরজা খোল, বোম মার দেঙ্গা। শুরুতে দরজা না খোলায় বাড়ির দরজার সামনে একটি বোমা ফাটানো হয়। এক পর্যায়ে হযরতের স্ত্রী একটি দা হাতে নিয়ে দরজা খোলে। দরজা খোলার সঙ্গে সঙ্গে তাকে গুলি করা হয়। আব্বা তখন আম্মাকে ধরতে যায়। কাদের মোল্লা পেছন থেকে শার্টের কলার টেনে ধরে বলে, 'এই শুয়ারের বাচ্চা, এখন আর আওয়ামী লীগ করবি না? বঙ্গবন্ধুর সাথে যাবি না? মিছিল করবি না? জয় বাংলা বলবি না?' আব্বা হাতজোড় করে বলে, 'কাদের ভাই, আমাকে ছেড়ে দাও'। আক্তার গু-াকে বললা, 'আক্তার ভাই, আমাকে ছেড়ে দাও'। তবে না ছেড়ে হযরত আলীকে টেনেহিঁচড়ে ঘরের বাইরে নিয়ে যায় বিহারীরা।
সাক্ষীর কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে এরপর কাঁদতে কাঁদতে চোখের সামনে ঘটে যাওয়া হত্যাকা-ের বিবরণ দেন মোমেনা। দাও দিয়ে আমার মাকে তারা জবাই করে। চাপাতি দিয়ে খোদেজাকে (বোন) জবাই করে। তাসলিমাকেও (বোন) জবাই করে। আমার একটি ভাই ছিল বাবু, বয়স ছিল দুই বছর, তাকে আছড়িয়ে মারে। বাবু মা মা করে চিৎকার করছিল, বলতে গিয়ে অঝোরে কাঁদেন মোমেনা। বাবুর চিৎকার শুনে খাটের তলায় লুকানো আমেনা চিৎকার দিলে তার অবস্থান যেনে যায় হামলাকারীরা। মোমেনা বলেন, আমেনাকে তারা টেনে বের করে, সব কাপড়- চোপর ছিঁড়ে ফেলে। এরপর তাকে নির্যাতন করতে থাকে। আমেনা অনেক চিৎকার করছিল, এক সময় চিৎকার থেমে যায়। কাঁদতে কাঁদতে প্রায় অজ্ঞান মোমেনা এরপর শোনান নিজের ওপর নির্যাতনের বর্ণনা। তখন পর্যন্ত মোমেনা খাটের নিচেই লুকিয়ে ছিলেন। সন্ধ্যা হলে হামলাকারীরা যাওয়ার সময় ঘরের বিভিন্ন জায়গায় খুঁচিয়ে খুচিয়ে দেখছিল, আর কেউ আছে কিনা। একটি খোঁচা মোমেনার পায়ে লাগলে মুখ দিয়ে বের হওয়া শব্দ তার অবস্থান জানিয়ে দেয়। এরপর তার ওপরও চলে নির্যাতন, জ্ঞান হারান তিনি। রাতে জ্ঞান ফিরলে কোনো রকমে পাশের ফকির বাড়িতে যান মোমেনা। সেখানে তারা তাকে আশ্রয় দেন। তাদের মাধ্যমে শ্বশুরবাড়িতে খবর পাঠানো হলে মোমেনাকে নিয়ে যান তারা।
স্বাধীনতার পর মিরপুরে লাশ খুঁজতে যেতেন মোমেনা। কিন্তু বাড়িতে কাউকে পাননি তিনি, পাননি বাবার খোঁজও। কামাল খান নামে একটা লোক ছিল, সে মুক্তিযোদ্ধাদের চা বানিয়ে খাওয়াত। সে আমাকে বলতো, 'কাদের মোল্লা তোর বাবা-মাকে মেরে ফেলেছে'। আক্কাস মোল্লা আমার উকিল বাবা ছিলেন, তিনিও একই কথা বলতেন। পরিবারের সবাইকে হারিয়ে প্রায় তিন বছর মোমেনা বেগম মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন। তাকে শেকল দিয়ে বেঁধে রাখা হতো। পরে চিকিৎসায় ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠেন তিনি।
হত্যা করার সেই দৃশ্য আজও ভুলতে পারি না। সেই জন্যই আমি পাগলপ্রায় ছিলাম। আমি বেঁচে থেকেও মরে আছি, শুধু বিচার চাই।
৪২ বছর পর বিচার পেয়েছেন মোমেনা। হযরত আলীর পরিবারকে হত্যাকা-ের জন্য কাদের মোল্লাকে দোষী সাব্যস্ত করে ট্রাইব্যুনাল যাবজ্জীবন কারাদ- দিলে ফুঁসে উঠেছিলেন সবাই। আপিল বিভাগের চূড়ান্ত রায়ে ফাঁসির আদেশ হলে সেই ক্ষোভের প্রশমন ঘটে; মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার কে এম সফিউল্লাহ বলেন, এবার যথার্থ রায় হয়েছে
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন