বিএনপিকেও নিষিদ্ধ করা যায়
21 Dec, 2013
‘সন্ত্রাসী, রাষ্ট্রদ্রোহী কর্মকাণ্ডের জন্য জামায়াতের মতো বিএনপির রাজনীতিও দেশে নিষিদ্ধ করা যায়’ বলে মত ব্যক্ত করেছেন প্রখ্যাত সাংবাদিক, লন্ডন প্রবাসী কলামিস্ট আবদুল গাফফার চৌধুরি।
তার মতে, ‘আগামী ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠেয় দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের আয়োজনটি গণতন্ত্রের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। ওই নির্বাচনের পর আবার হয়তো নতুন সরকার গঠন হবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে। বিএনপি তাদের রাজনৈতিক মিত্র জামায়াতের সহায়তায় দেশজুড়ে সন্ত্রাস, গণনির্যাতন চালিয়ে আগামী নির্বাচন ঠেকাতে পারবে না। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমেও বিএনপি, জামায়াতের নির্বাচন বানচালের চেষ্টা ব্যর্থ হবে। তেমনি নতুন বছরের জানুয়ারিতে নতুন সরকার গঠনও বিএনপি, জামায়াত ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না।’
অমর ভাষা গানের রচয়িতা আবদুল গাফফার চৌধুরি আজ শুক্রবার প্রিয় দেশ ডটনেটকে দেয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যায় মুঠোফোনে বরেণ্য এ সাংবাদিকের সাক্ষাৎকারটি নেয়া হয়।
এক সময়ের পাঠকনন্দিত, প্রখ্যাত ঔপন্যাসিক আবদুল গাফফার চৌধুরি বলেন, ‘বাংলাদেশে এখন বিদ্যমান পরিস্থিতিতে জননিরাপত্তা, গণতন্ত্রের জন্যই বিএনপিকে নিষিদ্ধ করা যায়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শুধু জামায়াতকেই নয়, ইচ্ছে করলে বিএনপিকেও নিষিদ্ধ করতে পারেন। সন্ত্রাস, রাষ্ট্রের অস্তিত্ববিরোধী কার্যকলাপের জন্য তার সরকার বিএনপিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করতে পারে। গণতান্ত্রিক অনেক রাষ্ট্রে গণতন্ত্রের স্বার্থে বিএনপি, জামায়াতের মতো রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ হয়েছে।’
প্রধান বিরোধী দল বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮ দলের জোটকে ছাড়া আগামী সংসদ নির্বাচন আয়োজন প্রসঙ্গে গাফফার চৌধুরির বক্তব্য, ‘দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে নির্বাচন বড় নয়। দেশ হচ্ছে বড়। দেশকে বাঁচাতে হলে শেখ হাসিনার সামনে নির্বাচন দেয়া ছাড়া দ্বিতীয় কোনো পথ ছিল না। তাই তার সরকার নির্বাচনের আয়োজন করছে। তাছাড়া বিএনপিই নানা অজুহাত তুলে এই নির্বাচনে আসেনি। এমনকি দলটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রিপদ দেয়ার ব্যবস্থা রাখা সত্ত্বেও খালেদা জিয়া বহুদলীয় সরকারে যোগ দেননি।’
বরেণ্য সাংবাদিক আবদুল গাফফার চৌধুরি মনে করেন, ‘আগামী দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এলেও বিএনপির নেতারা জয়ী না হলে সংসদে আসতেন, এর কোনো নিশ্চয়তা নেই। তবে সংসদে না এসেও তারা বেতন, ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা ভোগ করতে থাকতেন। যেমন, তারা বর্তমানে করছেন। এটা একটি নিশ্চিত সম্ভাবনা।’
ক্ষমতাসীনদের একতরফা নির্বাচনের উদ্যোগের বিষয়টিকে সমর্থন করে আবদুল গাফফার চৌধুরি বলেন, ‘হাসিনা ইচ্ছে করলেই জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠান আপাতত সাংবিধানিক উপায়ে ঠেকিয়ে রাখতে পারতেন। গণতান্ত্রিক রাজনীতির আন্দোলনে তার জন্ম বলেই তিনি তা করেননি। তার সরকার গণতান্ত্রিক, সাংবিধানিকভাবে নির্বাচনের আয়োজন করছে।’
গাফফার চৌধুরির প্রত্যাশা, ‘বাংলাদেশের অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রীয় চরিত্র অক্ষুণ্ণ রাখার স্থায়ী ব্যবস্থা হবে। শান্তি, সমৃদ্ধি, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার বিকাশ ধারা অক্ষুণ্ণ থাকবে। একাত্তরের শেষ না হওয়া যুদ্ধটি শেষ হবে। শেখ হাসিনার সরকার এসব দায়িত্ব পালন করে দেশে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে এনে দ্রুততম সময়ে আরেকটি স্বাভাবিক সাধারণ নির্বাচনের ব্যবস্থা করবেন।’
সাক্ষাৎকার নিয়েছেন- হাসান শান্তনু।
উৎসঃ প্রিয়দেশ
Share on facebook Share on email Share on print 4
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন