লক্ষ্মীপুরজুড়ে আতঙ্ক, এখনো মেলেনি র্যাবের ক্রসফায়ারে নিহত দু’জনের লাশ : বিরোধী নেতাকর্মীরা আত্মগোপনে
মো.কাউছার লক্ষ্মীপুর
« আগের সংবাদ
25
পরের সংবাদ»
লক্ষ্মীপুর জেলাজুড়ে বিরাজ করছে র্যাব-আতঙ্ক। সর্বত্র থমথমে অবস্থা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দেখলেই পালাচ্ছে সাধারণ মানুষ। যুবদল নেতা ইকবাল মাহমুদ জুয়েল ও বিএনপি কর্মী বেলাল হোসেন এখনো রয়েছে নিখোঁজ। মৃত অথবা জীবিত তাদের সন্ধান পেতে চায় পরিবার। স্বজনহারা পরিবারের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে আকাশ-বাতাস। এদিকে র্যাব ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভয়ে ১৮ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা আত্মগোপনে। র্যাবের অভিযানের পর থেকে নেতারা বাসায় থাকেন না। বিএনপি ও জামায়াতের জেলা নেতাদের পাশাপাশি ইউনিয়ন এবং ওয়ার্ড নেতাদেরও মোবাইল ফোন বন্ধ রয়েছে। নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষের মাঝে দেখা দিয়েছে ভয়ভীতি, উদ্বেগ ও উত্কণ্ঠা।
১২ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার সকাল ৬টায় জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাহাবউদ্দিন সাবুর শহরের উত্তর তেমুহনীর বাসভবনে র্যাব অভিযান চালায়। সাহাবউদ্দিন সাবু, তার ভাই আজিজুল করিম বাচ্ছু ও তাদের দুই কেয়ারটেকারকে আটক করা হয়। এ সময় সাহাবউদ্দিন সাবু গুলিবিদ্ধ হন। সাহাবউদ্দিন সাবুর ভাই আবুল কালাম আজাদ সাংবাদিকদের জানান, র্যাব ও মুখোশ পরা কিছু লোক বাসভবনের ভেতরে ঢুকে সাহাবউদ্দিন সাবুকে গুলি করে নিয়ে যায়। এ সময় বাসভবনের সামনে থাকা তিনটি গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে মুখোশ পরা কিছু ব্যক্তি। এ খবর শুনে আদর্শ সামাদ উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে থেকে জেলা যুবদলের সিনিয়র সহসভাপতি ইকবাল মাহমুদ জুয়েলের নেতৃত্বে একটি মিছিল শহরের চকবাজার এলাকায় এলেই উত্তর দিক থেকে র্যাব কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে। ওই সময় ঘটনাস্থলে থাকা কয়েকজন সাধারণ মানুষ জানান, র্যাবের গুলিতে জুয়েল ও নেছার গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এ সময় জুয়েল ঘটনাস্থলে মারা যান। এর পর থেকে জুয়েলের কোনো হসিদ পাওয়া যায়নি। এর জের ধরে নেতাকর্মীর সঙ্গে র্যাবের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। এ সময় জোটের ৪ নেতাকর্মী ও অজ্ঞাত পরিচয়ে ১ জন নিহত হন এবং অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন। নিহতরা হচ্ছে, লাহারকান্দি ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মাহবুবুর রহমান, পৌরসভার মজুপুর গ্রামের যুবদল কর্মী মামুন, পৌর যুবদলের ৩নং ওয়ার্ড সভাপতি সুমন ও শিবির কর্মী শিহাব হোসেন। এছাড়া জেলা যুবদলের সিনিয়র সহসভাপতি ইকবাল মাহমুদ জুয়েলের লাশের সন্ধান ৯ দিন অতিবাহিত হলেও পায়নি তার পরিবার। যুবদল নেতা জুয়েলের ভাই রাসেল জানান, র্যাব তার ভাইকে গুলি করে হত্যার পর লাশ নিয়ে যায়।
গত ১৪ ডিসেম্বর রাতে শহরের উত্তর তেমুহনী এলাকায় জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির ডাক্তার ফয়েজ আহমদকে নিজ বাসায় গুলি করে হত্যা করেছে র্যাব— নিহতের স্ত্রী মারজিয়া ফয়েজসহ পরিবারের পক্ষ থেকে এ দাবি করা হয়েছে। র্যাব সদস্যরা তাকে আটকের পর টেনেহিঁচড়ে বাসার ছাদে নিয়ে যায় এবং গুলি করে হত্যা করার পর তিনতলার ছাদ থেকে তার লাশ নিচে ফেলা দেয়। পরে বাসার সামনে থেকে গাড়িতে লাশ তুলে নিয়ে সদর হাসপাাতলে ফেলে চলে যায়। এ ঘটনার পর থেকে ভয়ে নিহত জামায়াত নেতার পরিবারের লোকজন বাসা ছেড়ে চলে যান। এ ব্যাপারে প্রশাসনের কোনো কর্মকর্তা কথা বলতে রাজি নন।
১৫ ডিসেম্বর রাতে সদর উপজেলার উত্তর জামিরতলী এলাকায় র্যাবের অভিযানে দিঘলী ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান বাবুল ও খোরশেদ আলম সুমন নামে দু’জন নিহত হয়েছে। নিহত বাবুলের স্ত্রী আমিনের নেছার দাবি রোববার রাত সাড়ে ১২টায় তার স্বামী বাবুল ঘরে বসে ভাত খাচ্ছিলেন। এ সময় কালো পোশাকধারী কয়েকজন র্যাব সদস্য ঘরে ঢুকে তাকে গুলি করে হত্যা করে লাশ নিয়ে যায়। তবে পুলিশ বলেছে, বাবুল পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী। র্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে সে মারা যায়। তার বিরুদ্ধে কয়েকটি হত্যা চাঁদাবাজি অপহরণসহ বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে।
স্থানীয় এলাকাবাসী জানায়, ওইদিন র্যাবের অভিযানের সময় বেলাল হোসেন, আবদুল মান্নান ও জহিরুল ইসলাম নামে তিনজনকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। এর পরদিন সকালে একই উপজেলার বটতলী পল্লী বিদ্যুত্ সাবস্টেশন এলাকায় খালপাড়ে আবদুল মান্নান ও জহিরুল ইসলামের গুলিবিদ্ধ লাশ পাওয়া যায়। বেলাল হোসেন এখানও নিখোঁজ রয়েছে।
নিখোঁজ বিএনপি কর্মী বেলাল হোসেনের স্ত্রী লাভলী আক্তার জানান, রোববার রাতে র্যাব অভিযান চালিয়ে আমার স্বামীকে ধরে নিয়ে যায়। এর পর থেকে তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। তবে সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাইন উদ্দিন চৌধুরী রিয়াজ বিএনপির সক্রিয় কর্মী দাবি করে এ প্রতিবেদকে বলেন, বিএনপির নেতা আসাদুজ্জামান বাবুলকে গুলি করে হত্যার পর বিএনপি কর্মী আবদুল মান্নান, জহিরুল ইসলাম বেলাল হোসেনকে র্যাব ধরে নিয়ে যায়। পরদিন সকালে খালপাড়ে আবদুল মান্নান ও জহিরুল ইসলাম সুমনের লাশ পাওয়া যায়। বেলালের খবর পাওয়া যায়নি। এসব ঘটনা রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড। এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।
১৫ ডিসেম্বর রোববার বিকালে রায়পুর উপজেলার কেরোয়া গ্রামের ভাটেরপোল এলাকায় জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মিরাজুল ইসলাম মিরাজ ও ছাত্রলীগ কর্মী মাসুদ আলমকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেছে দুবৃত্তরা। গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে রায়পুর স্বাস্থ কমপ্লেক্সে নেয়ার পথে মিরাজুল ইসলাম মিরাজ মারা যায়। এ ঘটনায় ছাত্রলীগ জামায়াত শিবিরকে দায়ী করলেও রায়পুর থানা জামায়াতের আমির হাবিবুর রহমান মিন্টু জানান, এ ঘটনার সঙ্গে জামায়াত-শিবির কোনোভাবে জড়িত নয়। এর জের ধরে রায়পুর শহরের মীরগঞ্জ রোডে জামায়াত পরিচালিত আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজে অগ্নিসংযোগ, মধুপুর কলেজের ক্যাম্পাস, অধ্যক্ষ নিজাম উদ্দিন ও প্রবাসী মিজানুর রহমানের বাসভবন, উত্তর বাজার নজরুল ইসলামের দোকান, লেংড়া বাজারে ৩টি দোকান ভাংচুর করেছে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা।
অন্যদিকে সংঘর্ষে ৫ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাহাবউদ্দিন সাবু ও জামায়াতের সেক্রেটারি মফিজুল ইসলামসহ জামায়াত বিএনপির ১১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও তিন হাজার নেতাকর্মীকে আসামি করে মামলা করেছে র্যাব। র্যাবের ডিএডি জাহাঙ্গীর কবির বাদী হয়ে মঙ্গলবার রাতে লক্ষ্মীপুর সদর থানায় এ মামলা দায়ের করেন। মামলায় অন্য আসামিরা হচ্ছে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি হারুনুর রশিদ, সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম মামুন, শহর শিবিরের সভাপতি আবদুল আউয়াল রাসেল ও সেক্রেটারি হারুনুর রশিদসহ ১১ জন। অন্যদিকে নিহত বিএনপি নেতা ও বাহিনী প্রধান আসাদুজ্জামান বাবুলসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে ডাকাতির প্রস্তুতি ও অস্ত্র আইনে র্যাবের একই কর্মকর্তা পৃথক আরও দুটি মামলা দায়ের করেন।
সদর থানার ওসি তদন্ত লোকমান হোসেন মামলার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, অবরোধ চলাকালে ১৮ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা সড়কে গাছ ফেলে অবরোধ সৃষ্টি করলে র্যাব ফাঁকা গুলি করে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ সময় ১৮ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা নিজেরাই নিজেদের গুলিতে নিহত হয়। র্যাব কোনো গুলি করেনি। অন্যদিকে নিহত বাহিনী প্রধান ও সন্ত্রাসী আসাদুজ্জামান বাবুলসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে ডাকাতির প্রস্তুতি ও অস্ত্র আইনে র্যাবের একই কর্মকর্তা পৃথক আরও দুটি মামলা দায়ের করেন। আসামিদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান চলছে।
এ ব্যাপারে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেন জানান, আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। অভিযান অব্যাহত আছে।
প্রথম পাতা
২৬ ডিসেম্বর থেকে সেনা মোতায়েন
আজ থেকে ৮৩ ঘণ্টার অবরোধ
বিশেষ কাউন্সিলে এরশাদ বহিষ্কৃত : কাজী জাফরের নেতৃত্বে নতুন জাতীয় পার্টির যাত্রা শুরু : মঞ্চের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ, ১৮ দলের সঙ্গে যুগপত্ আন্দোলনের সিদ্ধান্ত
নির্বাচনে পর্যবেক্ষক পাঠাবে না ইউরোপীয় ইউনিয়ন
সাতক্ষীরায় যৌথবাহিনী-আ.লীগের নজিরবিহীন ধ্বংসযজ্ঞ চলছেই : বিএনপি-জামায়াতের আরও ১৫টি বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আগুন, বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেয়া হয়েছে কয়েকটি
সেনাবাহিনীকে কলঙ্কিত করতে প্রহসনের নির্বাচনে সেনা মোতায়েন করা হচ্ছে : আলোচনা সভায় খন্দকার মাহবুব
সন্ত্রাসের মাধ্যমে সরকার দীর্ঘকাল ক্ষমতায় থাকতে চায় : ফখরুল
রাজধানীসহ সারা দেশে লিফলেট বিতরণ ও গণসংযোগ : যে কোনো মূল্যে ২৪ ডিসেম্বরের মহাসমাবেশ সফল করা হবে : হেফাজতে ইসলাম
সৈয়দা জোহরা তাজউদ্দীন আর নেই
রাজধানীতে ফ্ল্যাট থেকে এএসপি’র ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার
বিএনপির বিরুদ্ধে কঠোরতম ব্যবস্থা নেয়া হবে : এইচটি ইমাম : নির্বাচনে অংশ নেবে জাতীয় পার্টি
একতফরা নির্বাচন বর্জনের সিদ্ধান্তে অটল এরশাদ : জি এম কাদের
হাসিনা-এরশাদ নাটক করে থাকলে তা খুব নিম্নমানের হয়েছে : বি. চৌধুরী
কৃতদাস সরকারের সঙ্গে কোনো আলোচনা নয় : শফিউল আলম প্রধান
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন