মঙ্গলবার, ১৭ ডিসেম্বর, ২০১৩


আমাকে দেশ ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে : ববি হাজ্জাজ 18 Dec, 2013 জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদের বিশেষ উপদেষ্টা ববি হাজ্জাজ ও তার পরিবারের তিন সদস্যকে জোর করে বিদেশে পাঠিয়ে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার বিকেলে তিনি নিজেই এই অভিযোগ করে বলেছেন, চাপের মুখে তিনি দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। র‌্যাব তাকে ২০ ঘণ্টারও বেশি সময় আটকে রেখেছিল। ববি হাজ্জাজ একটি জাতীয় দৈনিকের অন লাইনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘তাকে ২০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে আটকে রাখা হয়েছিল। সব বিবৃতি প্রত্যাহার করে আড়ালে যেতে বলা হয়েছে। তা না হলে সরকারের রোষাণলের মুখোমুখি হওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে। আর এ সবই করা হয়েছে ভোটের আগে সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রার্থী বিজয়ী হওয়া এবং বর্তমান নির্বাচন প্রক্রিয়ার সমালোচনা করার জন্য।’ এরশাদ মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের আবেদন করলেও দৃশ্যমান কোনো কারণ ছাড়াই তা গ্রহণ করা হয়নি দাবি করে ববি হাজ্জাজ বলেন, ‘এ নির্বাচন প্রহসনের। এটা জনগণের মুখে চপেটাঘাত।’ এদিকে জাতীয় পার্টি রিসার্চ অ্যান্ড স্ট্রাটেজি উইংয়ের (জেপিআরএসডব্লিউ) কার্যক্রম স্থগিত করেছেন ববি হাজ্জাজ। ব্যক্তিগত সহকারীর মাধ্যমে আজ দুপুরে এক ঘোষণায় তিনি এটি নিশ্চিত করেন। এরশাদের এই বিশেষ উপদেষ্টা বলেন, ‘জেপিআরএসডব্লিউ সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক এব পেশাদার গবেষণা ও কৌশল নির্ধারণী সংস্থা হিসেবে এক বছরের বেশি সময় ধরে কাজ করছে। জাতীয় পার্টি ও এর সম্মানিত চেয়ারম্যান মহোদয়ের সামনে সামাজিক ও রাজনৈতিক ইস্যুতে নির্মোহভাবে পরিচালিত বিভিন্ন গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন এবং সমাজের বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরাটাই ছিল এর একমাত্র কাজ।’ সেখানে যাঁরা কাজ করতেন তারা সবাই পেশাদার ও অরাজনৈতিক ব্যক্তি ছিলেন বলেও মন্তব্য করেন ববি হাজ্জাজ। ববি হাজ্জাজ জাতীয় পার্টির রিসার্চ অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক উইংয়ের প্রধান এবং এইচ এম এরশাদের বিশেষ উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। গত বৃহস্পতিবার রাতে এরশাদকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) নিয়ে যাওয়ার পর শুক্রবার এক বিবৃতিতে ববি বলেছিলেন, এরশাদ তাকে মুখপাত্রের দায়িত্ব দিয়েছেন। শনিবারও মুখপাত্র হিসেবে সংবাদ সম্মেলনে এরশাদের নির্বাচনে অংশ না নেওয়া এবং বিভিন্ন বিষয়ে বক্তব্য দেন তিনি। গত শনিবার তার পরিবারের একটি সূত্র জানায়, হাজ্জাজকে র‌্যাব কার্যালয়ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তবে র‌্যাবের পক্ষ থেকে তখন এ বিষয়টি কেউ নিশ্চিত করেনি। শনিবার বিকেলে ৪টায় র‌্যাব-১ এর কার্যালয় থেকে ববি হাজ্জাজকে দেখা করতে বলা হয়। এরপর তিনি বিকেল ৫টায় এরশাদের পক্ষ হয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন। পরে আবারও তাকে র‌্যাব কার্যালয়ে ডেকে পাঠানো হয়। তাকে সেখানে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে শনিবার রাতে তার পারিবার দাবি করেছিল। রোববার সকালে ববির পরিবারের একটি সূত্র দাবি করে, ববিকে আটক করেছে র‌্যাব। সে সময় র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্নেল জিয়াউল আহসান জানিয়েছিলেন, জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ববি হাজ্জাজকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তাকে র‌্যাব আটক করেছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে তখনও দাবি করা হয়। রোববার সন্ধ্যায় ববির পরিবার ববিকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানায়। ববি হাজ্জাজের লন্ডন যাওয়া প্রসঙ্গে র‌্যাব কিছু জানে না বলে জানিয়েছে। উৎসঃ প্রাইমনিউজ Share on facebook Share on email Share on print 11

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন