21 Dec, 2013
তামাশার নির্বাচনের রেকর্ড, লাশের মিছিল, নাগরিক নিরাপত্তা বিপন্ন, সরকার নির্বিকার
বাংলাদেশ নিয়ে জাতিসংঘ বেশ চিন্তিত। এজন্য জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিরোধী দল বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে চিঠি দিয়েছেন। একইসঙ্গে ফোনেও কথা বলেছেন। সর্বশেষ অচলাবস্থা নিরসনে রাজনীতিবিষয়ক সহকারী মহাসচিব তারানকোকে বাংলাদেশে পাঠিয়েছেন। তারানকোকে জাতিসংঘের একজন সফল কর্মকর্তা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কারণ সংকট নিরসনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তার প্রত্যেকটি মিশন সফল হয়েছে। তাই অনেকেই তার বাংলাদেশ সফরে আশাবাদী হয়ে উঠেছিলেন। মনে করা হয়েছিল, তারানকোর এই সফরে একটা সফলতা আসবে। নৈরাশ্যবাদীরা অবশ্য তারানকোর সফরকেও টিপ্পনি কেটে বলছিলেন, তারানকো যতই সফল ব্যক্তি হউক বাংলাদেশের ক্ষেত্রে তিনি অবশ্যই ব্যর্থ হবেন। কারণ, তাদের রসাত্মক বক্তব্য হলো- বাংলাদেশ বিশ্বের বাইরের দেশ বা বিশ্ব থেকে আলাদা কিছু। আর এজন্যই তারানকো সফল হবেন না। এখন অবশ্য নৈরাশ্যবাদীদের কথাই ফলতে শুরু করেছে। বাংলাদেশ যে বিশ্ব থেকে আলাদা এটাই প্রমাণ করল।
বাংলাদেশে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নেমেই দৌড়ঝাঁপ শুরু করেন অস্কার ফার্নান্দেজ তারানকো। সফরের সুফল পেতে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে একদিন বেশি অবস্থান করেন বাংলাদেশে। প্রধানমন্ত্রী, বিরোধী দলের নেত্রীসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দল, বিশিষ্ট নাগরিক ও বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন। কিন্তু তাতেও কাজের কাজ কিছুই হলো না। তবে তারানকোর দাবি, প্রধান দুই দলকে অন্তত আলোচনার টেবিলে বসানো গেছে। বিশ্লেষকদের অভিমত, আলোচনার টেবিলে বসাতে পারাটা যে আসলে সফলতার জন্য কোন ধাপই নয় তা এদেশের একজন সাধারণ মানুষও জানেন। অতীত ইতিহাসও তাই বলে। বস্তুত বাংলাদেশে অতীতের কোন সংকটেই আলোচনার মাধ্যমে সফলতা আসেনি। তারানকোর অনেক দৌড়ঝাঁপ এবং কষ্টে অর্জন করা সংলাপ সাফল্য আসলে যে কোন সাফল্য নয় তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম বিবিসিসহ বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে তারানকো শেখ হাসিনাকে প্রধানমন্ত্রী রেখেই সমাধানের পথ বের করতে চেয়েছেন। তার উদ্যোগ বা কৌশল যে কোন কাজে আসবে না যে কেউ বলে দিতে পারেন। কারণ শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় রেখে বিরোধী দল কোনভাবেই নির্বাচনে অংশ নেবে না। বিশেষ করে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বিষয়টি কোনভাবেই মানবেন না। বিষয়টি তারানকোও জানতেন। কিন্তু আওয়ামী লীগের মন পাওয়ার জন্য তারানকো এই প্রস্তাব দেন। এর কারণ প্রথমত আওয়ামী লীগ সংলাপে যেতেই রাজি নয়। সংলাপে বসলেই কিছু না কিছু ছাড় দিতে হবে আওয়ামী লীগকে। কিন্তু শেখ হাসিনা এখন আর কিছুই ছাড় দিতে রাজি নন। অন্যদিকে পশ্চিমা দেশগুলোর কোন পদক্ষেপও দীর্ঘদিন ধরে ভাল চোখে দেখছেন না প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আওয়ামী লীগ বস্তুত চাচ্ছে না বাংলাদেশ নিয়ে আন্তর্জাতিক মহল কিছু বলুক। মূলত আওয়ামী লীগ সরকারের মন পাওয়ার জন্য তারানকো ছাড় দিয়ে অনেক সূক্ষ্ম কৌশলে এগুতে চেয়েছিলেন। এরপরও তাকে ব্যর্থ হাতে ফিরে যেতে হয়েছে। শুধু তাই নয়, বাংলাদেশ ত্যাগ করার আগে শেখ হাসিনার সঙ্গে তারানকোর যে পূর্বনির্ধারিত বৈঠক হওয়ার কথা ছিল নির্ধারিত সময়ের একদিন পরে বাংলাদেশ ছাড়লেও বৈঠক করা সম্ভব হয়নি। সরকারের পক্ষ থেকে তা নাকচ করা হয়েছে।
রেকর্ডময় দশম সংসদ নির্বাচন
রেকর্ডময় হয়ে যাচ্ছে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন। একক প্রার্থী হিসেবে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত প্রার্থীর সংখ্যা, সবচেয়ে কম সংখ্যক প্রার্থী ও দলের অংশগ্রহণ, একক দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতার নতুন রেকর্ড গড়তে যাচ্ছে এই নির্বাচন। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী ৩০০ আসনের মধ্যে ১৫৪টি আসনে একক প্রার্থী হিসেবে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার নতুন রেকর্ড হতে যাচ্ছে। এর আগে ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ৪৯ জন প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছিলেন। বর্তমান একতরফা নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ সর্বাধিক সংখ্যক ১শ’২৭টি আসনে বিজয়ী হতে যাচ্ছে। এছাড়া জাতীয় পার্টির (এরশাদ) ২১টি, ওয়ার্কার্স পার্টির দুটি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) (ইনু) তিনটি এবং জাতীয় পার্টি (জেপি) (মঞ্জু) একজন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে চলেছেন। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল ৪১টি রাজনৈতিক দল। এবার অংশ নিচ্ছে মাত্র ১৬টি। তখন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন ১ হাজার ৪শ’৫০ জন প্রার্থী এবং মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন ১ হাজার ৯শ’ ৮৭ জন প্রার্থী। এবারের নির্বাচনে ১ হাজার ১শ’ ৭ প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিলে যাচাই-বাছাইয়ে ২শ’ ৬০ জন প্রার্থী বাতিল হয়। আপিল শুনানি শেষে ৩৭ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্রের বৈধতা ফিরে পান। সব মিলিয়ে বৈধ প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়ায় ৮শ’ ৮০ জন। কিন্তু এরশাদ নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেয়ার পর সারাদেশ থেকে ১শ’ ৪৯টি আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেন। এছাড়া অন্য রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্য থেকেও ১শ’ ৪৮ জন প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেয়। মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনে সারাদেশের ২শ’ ৯৭ জন প্রার্থী তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেন। এদের মধ্যে ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ ১টি, জাতীয় পার্টি ১শ’ ৪৯টি, জাতীয় পার্টি ( জেপি) ১৫টি, জাসদ (জেএসডি) ১৯টি, আওয়ামী লীগ ৪৪টি, ইসলামিক ফ্রন্ট ১০টি, খেলাফত মজলিশ ২টি, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) ৪টি, তরিকত ফেডারেশন ৬টি, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি ৩টি, বিএনএফ ৬টি, ওয়ার্কার্স পার্টি ৭টি ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ৩১টি। এর মাধ্যমে মাত্র ৫শ’ ৭৭ জন প্রার্থী নির্বাচনে বৈধ প্রার্থী রয়েছেন। যা ইতোপূর্বের যে কোন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চেয়ে কম সংখ্যক।
লাশের মিছিল
রাজনৈতিক দলগুলো সমঝোতায় না আসায় প্রতিনিয়তই আন্দোলনের তীব্রতা বাড়াচ্ছে বিরোধী জোট। অন্যদিকে আন্দোলন ঠেকাতে গুলি ছুঁড়ছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। প্রাণ হারাচ্ছে মানুষ। বাড়ছে লাশের মিছিল। রাজপথে পড়ছে লাশ। গত ১৫ দিনে সংঘর্ষে শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছে। শুধু রাজপথে নয় বাসা-বাড়িতে ঢুকে গুলি করে মানুষ হত্যার অভিযোগ ওঠেছে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে। গুম হয়ে দীর্ঘদিন নিখোঁজ থাকার পর যাদের লাশ মিলছে তাদের অভিযোগের তীর আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীর দিকে। বিশ্লেষকরা বলছেন, একের পর এক র্যাব-পুলিশ বর্বরতা চালালেও কোন রকম জবাব দিতে হচ্ছে না আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের। বলা চলে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সব রকম জবাবদিহিতার ঊর্ধ্বে চলে গেছে। বরং যারা গুলি করছে না তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে।
১৩ ডিসেম্বর শুক্রবার গভীর রাতে লক্ষ্মীপুর জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর ডা. ফয়েজ আহমদকে বাসায় ঢুকে গুলি করে র্যাব। তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবার। এসব মৃত্যুর দায় কে নেবে তা জানে না ভুক্তভোগীরা। ওই দিনই ঢাকার মতিঝিল আইডিয়াল স্কুলের সামনে পুলিশের গুলিতে মাথা ও পিঠে গুলিবিদ্ধ হয়ে রাজপথে মুখ থুবড়ে পড়ে ৮ বছরের শিশু শান্ত। এরপরের দিন শনিবার নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় পুলিশের সঙ্গে জামায়াত-শিবির কর্মীদের সংঘর্ষে পুলিশের গুলিতে ৭ জন এবং নীলফামারীতে সংসদ সদস্য আসাদুজ্জামান নূরের গাড়িবহর থেকে হামলা এবং এর জের ধরে সংঘর্ষের ঘটনায় ছয় জন নিহত হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা আরো বলছেন, যে পুলিশ সদস্যরা জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে বিদেশের মাটিতে গিয়ে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় দায়িত্ব পালন করে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করছেন। সেই পুলিশ সরকারের কাছে নিজেদের আনুগত্যের প্রমাণ দিতে গিয়ে নিজ দেশের মানুষকে নির্বিচারে গুলি করে কিংবা পিটিয়ে হত্যা করছে। তাদের অভিমত হলো- র্যাব ও পুলিশের কার্যকলাপ এখন অনেকটাই দলীয় বাহিনীর মতো।
নাগরিক নিরাপত্তা বিপন্ন
ঢাকাসহ সারাদেশে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ায় নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষ। ক্ষমতাসীনদের অত্যাচার, নির্যাতন, যখন তখন ধরপাকড়। চারদিকে সংঘর্ষ, গুলি, গুম, হত্যায় মানুষের মধ্যে সব সময় আতঙ্ক বিরাজ করছে। কোথাও নিজেকে নিরাপদ মনে করতে পারছে না নাগরিকরা। কি ঘর কি বাইরে। আর ঘর থেকে বের হওয়াকে কোনভাবেই নিরাপদ মনে করতে পারছেন না কেউ। এজন্য খুব বেশি প্রয়োজন না হলে বাসা থেকে বের হচ্ছেন না। এমনকি বাসার ভেতরে থেকেও সব সময় এক ধরনের আতঙ্কে থাকে মানুষ। আতঙ্ক সৃষ্টি হওয়ার কারণ হলো- বাসায় ঢুকেও মানুষ হত্যা করছে র্যাব-পুলিশ। মানুষ মনে করছে এই সময়ে প্রাণ হারালেও কারো কাছে প্রতিকার পাওয়ার সুযোগ নেই। কারণ মানবাধিকার, মৌলিক অধিকার বা সাংবিধানিক অধিকার কোনো কিছুর তোয়াক্কাই করছে না সরকারি দলের নেতাকর্মী এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। মানবাধিকার কর্মীদের অভিমত হলো, দেশের সর্বত্র আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গ্রেফতার-নির্যাতন অতীতের সব রেকর্ড ভঙ্গ করেছে। অবস্থা এমন হয়েছে যে, বিরোধীদের ওপর যে পুলিশ-র্যাব সদস্য যত বেশি নির্যাতন নিপীড়ন চালাতে পারছে তাকেই বাহবা দিচ্ছে সরকার। হত্যাকা- চালাতে পারলে তার ভালো পদ পাওয়ার নিশ্চয়তা আরও বেড়ে যায়। বাংলাদেশের এহেন অবস্থাকে ‘বাংলাদেশ নামের জেলখানা‘ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে বৃটেনের প্রভাবশালী পত্রিকা ‘দ্য গার্ডিয়ান’। কাতারভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম আল জাজিরার রিপোর্টে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে ইসরাইল এবং আফগানিস্তানের মতো ‘সিলেক্টেড কিলিং’ বা বেছে বেছে হত্যা শুরু হতে পারে। এ অবস্থায় জনমনে আতঙ্ক আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
সরকার নির্বিকার
দেশ জ্বলছে সহিংসতার আগুনে। ঢাকা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে সারাদেশ। ঢাকাকে দীর্ঘ সময়ের জন্য বিচ্ছিন্ন রাখতে মহাসড়কগুলো কেটে তৈরি করা হচ্ছে বড় বড় গর্ত। তুলে ফেলা হচ্ছে রেল লাইন। আগুন ধরিয়ে দেয়া হচ্ছে লঞ্চে। চলছে হামলা-পাল্টা হামলা। পুড়ে ছারখার হচ্ছে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও জনপদ। ব্যাহত হচ্ছে উৎপাদন। বেড়ে যাচ্ছে জিনিসপত্রের দাম। দিন দিন অবরোধ ও সহিংসতার মাত্রা আরও বাড়ছে। ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে ব্যবসা-বাণিজ্য। পঙ্গু হয়ে যাচ্ছে দেশের অর্থনীতি। মানুষ মরছে। মৃত্যুর কাফেলা প্রতিদিনই দীর্ঘ হচ্ছে। উদ্বেগ জানিয়েছে জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে একাধিকবার ফোন করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি ও তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেফ তাইয়্যেফ এরদোগানসহ বিশ্বের প্রভাবশালী রাষ্ট্রের কর্তা ব্যক্তিরা। কিন্তু এসব বিষয়কে গায়ে মাখছে না সরকারের কেউ। এক ধরনের ভাবলেশহীন অবস্থা সরকারি দলের শীর্ষ নেতাদের। বিশেষ করে নিজ সিদ্ধান্তে অটল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সবার কথাকে ভ্রুক্ষেপহীনভাবে এড়িয়ে যাচ্ছেন ক্ষমতাসীনরা। বলছেন, তাদের সিদ্ধান্ত পৃথিবীর কোন শক্তি পরিবর্তন করতে পারবে না। বিশ্লেষকরা বলছেন, অবস্থা এমন হয়েছে যে সরকার যা করবে সাধারণ মানুষ তাই নিয়তি হিসেবে মেনে নেবে। কারও যেন কিছু বলার নেই। করারও নেই। রাজনৈতিক অস্থিরতায় গত ১৫ দিনে সারাদেশে শতাধিক মানুষের প্রাণহানি হয়েছে (সূত্র : শীর্ষ নিউজ ডটকম ১৫ ডিসেম্বর)। আহত হয়েছে পাঁচ হাজারের বেশি। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা পাখির মতো গুলি করে মানুষ মারছে। একের পর এক চলছে মানবাধিকার লঙ্ঘন। উল্টো প্রধানমন্ত্রী বলে দিয়েছেন ‘যাদের দিয়েই ফোন করানো হোক কোন কাজ হবে না’। তত্ত্বাবধায়ক ইস্যুর সঙ্গে জামায়াতের জন্য যুক্ত হয়েছে কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকর। আন্দোলনকারীদের পিকেটিং, পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ, ককটেল বিস্ফোরণ, অগ্নিসংযোগ ও ট্রেনলাইন উৎপাটন করে জনজীবন অচল করে দিয়েছে। দেশের প্রতিটি জেলা-উপজেলায় সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। এর মধ্যে সাতক্ষীরা, খুলনা, যশোর, রাজশাহী, নাটোর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রংপুর, টাঙ্গাইল, মুন্সীগঞ্জ, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা, চাঁদপুর, সিলেট, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চট্টগ্রাম, সীতাকু-, কক্সবাজার, ময়মনসিংহ জেলা রীতিমতো রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।
পাল্টা আক্রমণে যাচ্ছে আ’লীগ
আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগ কর্মীরা বিরোধী দলের লোকজনের ওপর আক্রমণ করে আসছে অনেক আগে থেকেই। কিন্তু এবার আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা প্রকাশ্যে নেতাকর্মীদের নির্দেশ দিয়েছেন পাল্টা আঘাত করতে। আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ ১৪ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ের এক সমাবশে বলেছেন, ‘কয়েক দিন ধরে বিরোধী দলের সহিংসতা বেপরোয়া হয়ে গেছে। তবে ১৬ ডিসেম্বরের পর থেকে বিরোধী দল যদি সহিংসতা করে, তাহলে যেখানেই আঘাত, সেখানেই পাল্টা আঘাত করা হবে।’ (সূত্র : শীর্ষ নিউজ ডটকম ১৫ ডিসেম্বর)। একই দিনে বন ও পরিবেশ মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ জাতীয় প্রেসক্লাবের এক অনুষ্ঠানে বলেন, ‘বিরোধী দল ও জামায়াত-শিবির যেভাবে নাশকতা চালাচ্ছে তাতে করে দেখা মাত্র গুলি করার নির্দেশ দিতে বাধ্য হবে সরকার’। বিশ্লেষকরা বলছেন, আওয়ামী লীগ কর্মীরা প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়ে মাঠে নামলে যে পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে তা হলো গৃহযুদ্ধ। আন্তর্জাতিক কয়েকটি গণমাধ্যম কয়েকদিন আগেই বলে দিয়েছে যে, বাংলাদেশে এখন গৃহযুদ্ধ পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
সংকট দীর্ঘ হচ্ছে
সচেতন মানুষ মনে করেন প্রধানমন্ত্রীর অনঢ় অবস্থানের কারণে দেশের সংকট দীর্ঘ হচ্ছে। কয়েকদিন ধরে একটি জাতীয় দৈনিক পাঠকের মন্তব্য নেয়। তাতে বলা হয় যে, নির্বাচন নিয়ে সঙ্কট কাটাতে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ অ্যাডভোকেটকে বান কি মুনের অনুরোধ ফল বয়ে আনবে কি? তাতে ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে না বলে ৮৯ ভাগ পাঠক মত দেন। মাত্র ৯ ভাগ পাঠক পক্ষে মত দিয়েছেন। পত্রিকাটির দ্বিতীয় জিজ্ঞাসা ছিল, সাবেক মার্কিন কূটনীতিক উইলিয়াম বি মাইলামের আশঙ্কা, বাংলাদেশ একদলীয় রাষ্ট্রে পরিণত হতে পারে এমন আশঙ্কার পক্ষে ভোট দিয়েছেন মন্তব্য প্রদানকারীদের ৬০ ভাগ। আর ৩৮ ভাগ এমন আশঙ্কা নাকচ করেছেন। একই ভাবে জাতিসংঘ মহাসচিবের দূত অস্কার ফার্নান্দেজ তারানকো’র মিশন সফল হবে না বলে মত দেন ৮২ ভাগ মত প্রদানকারী। বর্তমান অবস্থায় রাজনৈতিক নেতারা অনঢ় অবস্থা থেকে সরে আসবেন না বলেও মনে করেন বেশির ভাগ পাঠক।
জামায়াতের আন্দোলনে নতুন গতি
তীব্র গতিতে আন্দোলনের মাঠে ঝাঁপিয়ে পড়ার পরিকল্পনা নিয়েছে দীর্ঘদিনের আন্দোলনে পরীক্ষিত দল জামায়াত-শিবির। আগের সংখ্যায় সাপ্তাহিক শীর্ষ কাগজ ১৩ ডিসেম্বর মনোনয়ন প্রত্যাহারের দিন থেকে জামায়াত-শিবিরের নতুন আন্দোলনের পরিকল্পনা নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকরের পর জামায়াত শিবিরের শপথধারী কর্মীদের মধ্যে আন্দোলন প্রবণতার গতি আরও কয়েকগুণ বেড়েছে। কাদের মোল্লার রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা না চাওয়া, নির্ভীকচিত্তে ফাঁসির মঞ্চে এগিয়ে যাওয়া তাদের মধ্যে শাহাদাতের আকাক্সক্ষা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। কারণ জামায়াত-শিবির এমন একটি দল যে দলের নেতাকর্মীরা দুনিয়ার চেয়ে আখেরাতকেই বেশি প্রাধান্য দিয়ে থাকেন। ফাঁসির আগে কাদের মোল্লা বলে গেছেন, তার মৃত্যুদ- কার্যকরের পর যেন কেউ উচ্ছৃঙ্খল আচরণ না করেন। বরং বাংলাদেশে ইসলামী শাসন কায়েম করে যেন তার রক্তের বদলা নেওয়া হয়। ফলে রায় কার্যকরের পরদিন কিছুটা শান্ত ছিলেন জামায়াত-শিবিরের কর্মী-সমর্থকরা। এরপরও ঢাকার বাইরে রাস্তাঘাট অচল করে দিয়ে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে আবেগপ্রবণ কর্মীরা। বাকীরা নিরবে চোখের পানি ফেলেছেন। এরপর দলীয় কর্মসূচিতে আটঘাট বেঁধে মাঠে নামার সিদ্ধান্তের অপেক্ষা করছে জামায়াত শিবিরের নেতাকর্মীরা। সেইসাথে নতুন করে টানা কর্মসূচি দেয়ার জন্য মহানগর ও কেন্দ্রীয় নেতাদের চাপ দিয়ে যাচ্ছে। এরপর নতুন করে কর্মসূচি ঘোষণা আসলে সেই আন্দোলনের গতি আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
পুলিশ-আন্দোলনকারী আঁতাত !
১৫ ডিসেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এই মর্মে আলোচনা হয় যে, পুলিশের অনেক কর্মকর্তা বিরোধী দলের সাথে গোপনে যোগাযোগ রক্ষা করছেন। সরকারের দুরবস্থা দেখেই মূলত এসব পুলিশ কর্তা এরকমের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাদের অনেকেই কিছুটা প্রকাশ্যে আন্দোলনকারীদের সহযোগিতা করছেন। আবার কেউ কেউ গোপনে বিরোধী দলের সঙ্গে হাত মিলাচ্ছেন। সবচেয়ে বড় ব্যাপার হলো- প্রশাসনের সব কর্মকর্তা তো আর আওয়ামী লীগপন্থী নন। আবার অনেকেই আছেন সব সময় নিরপেক্ষ দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করেন। আবার সরকার পরিবর্তন হলে তাদের অবস্থা কি হবে সে ব্যাপারটি মাথায় রেখে অনেক মাঠপর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। কারণ যারা মূলত সরকারের আজ্ঞাবহ তারা নানা সুবিধা নিয়ে আখের গুছিয়ে ফেলেছেন। কামিয়ে নিয়েছেন কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা। সরকার পরিবর্তন হলে তাদের চাকরি না করলেও চলবে। যারা মাঠ পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করছেন তাদের চাকরি করে যেতে হবে। তারা বস্তুত পড়েছেন উভয় সংকটে। কুল রাখি নাকি শ্যাম রাখি অবস্থা। এদিকে যে সব কর্মকর্তা মাঠ পর্যায়ে বিরোধী দল এবং আন্দোলনকারীদের প্রতি কঠোর মনোভাব দেখাচ্ছেন না তাদের বিরুদ্ধে এই মুহূর্তে ব্যবস্থা নিতে পারছে না ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। কারণ পুলিশ বাহিনীতে দায়িত্বে অবহেলার সর্বোচ্চ শাস্তি হচ্ছে সাময়িক বরখাস্ত করা। এই শাস্তি দেয়া হলে বরং দমবন্ধ অবস্থা থেকে মুক্তি পেয়ে যাবেন ওই কর্মকর্তা। আর কম শাস্তি হিসেবে ঢাকা থেকে অন্যত্র বদলি করা হলে আরও বেশি খুশি হবেন ওই কর্মকর্তা।
ঢাকার বাইরে বিভাগ ও জেলা-উপজেলা পর্যায়ে যে সহিংসতা হচ্ছে তাতে পুলিশ বাধা দিচ্ছে না বলে অভিযোগ করছেন ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা। তারা বলছেন, পুলিশের সঙ্গে জামায়াত-শিবিরের আঁতাত হয়ে গেছে। এজন্য জামায়াত-শিবিরের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে পুলিশ উল্টো তাদের সহযোগিতা করছে। এজন্যই আন্দোলনকারীরা আওয়ামী লীগ নেতাদের বাড়ি ঘরে আগুন জ্বালিয়ে দেয়ার সুযোগ পাচ্ছে। হামলা হচ্ছে তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে। আর পুলিশের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বলছেন তাদের জনবল সংকট এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার অসুবিধার কথা। ১৫ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় সচিবালয়ের বৈঠকেও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আঁতাত থাকার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বৈঠক থেকে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পুলিশ বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আঁচ করতে পেরেছেন, এই মুহূর্তে বেশি কঠোর হলে আন্দোলনের তীব্রতা আরও বাড়বে। তাতে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও বেশি অবনতি হবে। এজন্য মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বিশেষ নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, এখন আর বেপরোয়া গুলি চালানো যাবে না। কারণ গুলি চালানো হলে প্রাণহানির পরিমাণ বাড়ার আশংকা থাকে। তাতে পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হবে।
এরশাদ সমাচার
১২ ডিসেম্বর রাতে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদকে র্যাব দিয়ে আটক করে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সরকার মনে করেছিল, আটক করা হলেই এরশাদ হয়তো আবার নির্বাচনে যাওয়ার ঘোষণা দেবেন। এজন্য এরশাদসহ জাতীয় পার্টির রওশন এরশাদ, আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ও জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু মনোনয়ন প্রত্যাহারের আবেদন করলেও নানান ছুঁতা দেখিয়ে মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়নি। কিন্তু হাসপাতালে থেকেই এরশাদ বিশেষ প্রতিনিধির মাধ্যমে খবর পাঠান যে, তিনি অসুস্থ নন। গ্রেফতারের জন্য আটকে রাখা হয়েছে। একইসঙ্গে দলের নেতাকর্মীদের তার অবস্থানের কথা জানিয়ে দেন যে, বিএনপিসহ সব দল ছাড়া জাতীয় পার্টি নির্বাচনে যাবে না। এরপর বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে তোলপাড় শুরু হয়। এরশাদকে আটকে রেখে জাতীয় পার্টির সিনিয়র প্রেসিডিয়াম সদস্য ও এরশাদের স্ত্রী রওশন এরশাদের নেতৃত্বে দলের একাংশকে নির্বাচনে আনার চেষ্টা করে সরকার। এরমধ্যে এরশাদকে নিয়ে নানা গুজব ওঠতে থাকে। শোনা যায়, এরশাদকে সিঙ্গাপুরে পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে। এও শোনা যায়, দল থেকে এরশাদকে মাইনাস করা হচ্ছে।
নির্বাচন বর্জনের সিদ্ধান্তে এরশাদ অনড় থাকায় তার স্ত্রী রওশন এরশাদের নেতৃত্বে জাতীয় পার্টির (জাপা) একাংশকে নির্বাচনে রাখার আয়োজন সরকার প্রায় সম্পন্ন করে। এমনকি সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই অংশটিকে দলের প্রতীক লাঙ্গল বরাদ্দ দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয় নির্বাচন কমিশন। সরকারের এমন তৎপরতার খবর প্রচার হওয়ায় তড়িঘড়ি করে সিইসিকে চিঠি দেন জাপা চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ। চিঠিতে তিনি ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে জাপার নির্বাচনী প্রতীক ‘লাঙ্গল’ কাউকে বরাদ্দ না দিতে কমিশনকে অনুরোধ করেন। এরপরও প্রার্থীদের লাঙ্গল প্রতীক দিতে রাজি হয় ইসি। নির্বাচন কমিশন ব্যাখ্যা দিয়ে বলে, নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে হলে প্রার্থীদের ব্যক্তিগতভাবে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করতে হবে। কারণ দলীয় প্রধানের চিঠির ভিত্তিতে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার হয়ে যাবে এমন সুস্পষ্ট বিধান গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে (আরপিও) নেই। এদিকে ১৪ ডিসেম্বর রাতে রওশন এরশাদের নির্বাচনে যাওয়ার ঘোষণা দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু রহস্যজনক কারণে সেদিন তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। সাংবাদিক সম্মেলন করেননি। পরে রহস্য সম্পর্কে জানা গেল এরশাদ বলে দিয়েছেন, তার সিদ্ধান্তের বাইরে গেলে রওশনের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করা হবে। মূলত এ কারণেই রওশন আর নির্বাচনে যাওয়ার ঘোষণা দেননি।
চূড়ান্ত যুদ্ধ এবং ঢাকা আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা
জাতিসংঘসহ বিভিন্ন মহলের সমঝোতা প্রস্তাবে কাজ না হওয়ায় বিরোধী দল এবার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে নেমেছে। এবারের ঘোষিত অবরোধ কর্মসূচিকে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে দাবি আদায়ের চূড়ান্ত যুদ্ধ হিসেবে দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে সরকার বিরোধীদলের আন্দোলনকে চ্যালেঞ্জ করেই নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। দু’জোটের এই মুখোমুখি যুদ্ধে কে জিতবে তা নির্ভর করছে তাদের কসরতের ওপর। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এতদিন বিরোধী জোট সারাদেশ থেকে ঢাকাকে বিচ্ছিন্ন করার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করেছে। ফলে বিগত দিনের কর্মসূচিতে ঢাকার বাইরে ব্যাপক প্রভাব পড়লেও ঢাকায় তেমনটি ছিল না। বিজয় দিবসের পর ঘোষিত কর্মসূচি চূড়ান্ত যুদ্ধ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তাই বিরোধী জোটের এবার মূল টার্গেট ঢাকাকে অচল করে দেওয়া। দলীয় সূত্র জানিয়েছে, এবারের অবরোধে রাজপথে নেমে আসবেন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের আত্মগোপনে থাকা সব নেতাকর্মী। বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে সেরকমই নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। একইসাথে এবার দলীয় নেতাকর্মীদের রাজপথের পারফরমেন্স বিএনপি চেয়ারপারসন নিজে পর্যবেক্ষণ করবেন এবং সেই অনুযায়ী আগামী দিনে মূল্যায়ন করা হবে। আন্দোলন তীব্রতর করতে প্রয়োজনে খালেদা জিয়া নিজে রাজপথে নেমে আসবেন বলেও জানা গেছে। এদিকে বিএনপির পাশাপাশি রাজপথে চূড়ান্ত শক্তি দেখাবে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা। রাজপথে নেমে আসবে জামায়াত-শিবিরের পালিয়ে থাকা নেতাকর্মীরাও। এবারের কর্মসূচিতে জামায়াত-শিবির তাদের সমস্ত শক্তি ঢেলে দিয়ে আন্দোলনের চূড়ান্ত বিজয় নিয়ে ঘরে ফেরার চেষ্টা করবে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। এদিকে ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যেতে সর্বোচ্চ চেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে আওয়ামী লীগ। এজন্য যেখানে যা করা দরকার সবকিছুই করার পরিকল্পনা নিয়েছে ক্ষমতাসীন দল। এহেন অবস্থায় দুই জোটের মুখোমুখি অবস্থানে আইন-শৃঙ্খলার ব্যাপক অবনতি হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। কারণ, বিজয় ছিনিয়ে নিতে দু’পক্ষই সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগ করবে।
উৎসঃ শীর্ষ কাগজ
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন