বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর, ২০১৩


দিনদিন বেড়েই চলছে ঢাবি ছাত্রলীগের বর্বরতা: আতঙ্কে হল ছাড়ছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা 19 Dec, 2013 দুপুরের ঘটনা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম (এস এম) হলের ৪ শিক্ষার্থীকে রড দিয়ে বেধড়ক পেটাচ্ছেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। অপরাধ-ওই শিক্ষার্থীদের বাড়ি সাতক্ষীরায়।টানা এক ঘণ্টা পেটানোর পর যখন ওই শিক্ষার্থীরা জ্ঞান হারালেন, তখন থামলেন নির্যাতনকারীরা। কিন্তু রক্তাক্ত শিক্ষার্থীদের হাসপাতালে নেওয়ার উদ্যাগ নেয়নি। উদ্ধারে আবাসিক শিক্ষক ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টরিয়াল টিমের সদস্যরা এগিয়ে এলে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা লাঞ্চিত করেন তাদেরকেও। শুধু তাই নয়, সাংবাদিকদেরকেও ঘটনাস্থলে যেতে দেয়নি তারা। বিশ্বদ্যিালয়ের হলগুলোয় প্রায়ই ঘটছে এরকম নির্যাতনের ঘটনা। জানা গেছে, এস এম হলের ৪ শিক্ষার্থীকে রড দিয়ে পেটায় ছাত্রলীগ হল শাখার সাধারণ সম্পাদক দিদার ও তার অনুগতরা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে নির্যাতিতদের কয়েকজন সহপাঠী ঢাকাটাইমসকে জানান, গ্রামের বাড়ি সাতক্ষীরায় হওয়ায় তাদের পিটিয়ে আহত করা হয়েছে। তবে ছাত্রলীগ ওই শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে গণজাগরণ মঞ্চ নিয়ে কটুক্তি এবং হেফাজত ইসলাম করার অভিযোগ করে। রাজনৈতিক মতের মিল না হলে বা ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালাচ্ছেন ছাত্রলীগ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতাকর্মীরা। এতে পঙ্গুত্ববরণ করাসহ গুরুতর আহত হয়ে মাসের পর মাস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ভুক্তভোগী অসংখ্য শিক্ষার্থী। ছাত্রলীগের এ ধরনের মারমুখী আচরণে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। প্রতিনিয়তই ছাত্রলীগের অপরাজনীতির শিকার হচ্ছেন তারা। এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও নিরব ভূমিকা পালন করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সাধারণ শির্ক্ষাথীদের ওপর এসব হামলার ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠিত হলেও রিপোর্ট প্রকাশ করা হয় না কখনই। প্রকাশ করা হলেও দোষীদের বিরুদ্ধে নেয়া হয় না কোনো ব্যবস্থা। ছাত্রলীগের সিনিয়র নেতারা শুধু দুঃখ প্রকাশ করেই তাদের দায় সারেন। ফলে আতঙ্কে শিক্ষার্থীরা হল ছাড়ছেন। জানা গেছে, ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সামান্য অজুহাতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালাচ্ছেন। তারা প্রথমে শিক্ষার্থীদের শিবির-ছাত্রদল বানানোর চেষ্টা করেন। সফল না হলে বিশেষ কিছু এলাকার লোক বলে নির্যাতন করেন। পরে হল থেকে বের করে দেয়া হয়। আসতে দেয়া হয় না ক্যাম্পাসেও। সাধারণ শিক্ষার্থীদেরকে মারধরের সময় শিক্ষার্থীদের হাত-পা ভেঙ্গে দেয়া হচ্ছে। ফলে অনেকে পঙ্গু হয়ে যাচ্ছেন। হাত, পা ও চোখ বেধে নির্যাতন করার কারণে মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েছেন অনেক শিক্ষার্থী। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে ঢাকাটাইমসকে বলেন, ছাত্রলীগের এরকম মারধরের ঘটনা মধ্যযুগীয় বর্বরতাকেও হার মানায়। কিন্তু সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে শিবির বা ছাত্রদল করার অভিযোগ এনে এভাবে মারধরের ঘটনা জানার পরও কোনও উদ্যোগ নিচ্ছে না প্রশাসন। নির্যাতনের সময় বা পরে মোবাইলে পাওয়া যায় না হল প্রোভোস্টেরকে। এসব ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থীরা জানান, হামলা বা মারধরের পর আবাসিক শিক্ষকরা হলে এসেও নির্যাতিত শিক্ষার্থীদের উদ্ধারে কোন ভূমিকা রাখতে পারেন না তারা। কারণ উদ্ধারে এগিয়ে এলে তাদেরও লাঞ্চিত করে থাকেন ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। এদিকে গতকালের ওই ঘটনা প্রক্টরকে জানানো হলেও তাৎক্ষণিক কোনো ব্যবস্থা নেননি তিনি। মোবাইল করেও পাওয়া যায়নি তাকে। তবে এসময় আটক শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করতে আসলে সাধারণ সম্পাদক দিদার এক আবাসিক শিক্ষক এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টরিয়াল টিমের সদস্যদের লাঞ্চিত করেন। সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে দিদার সেখানে তাদের কোনো কাজ নেই বলে চলে যেতে বলেন। এছাড়া গত ১৯ নভেম্বর মধ্য রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সূর্যসেন হলে দুই শিক্ষার্থীকে শিবির অভিযোগে বেধড়ক মারধর করা হয়। যদিও পরে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। মেরে তাদের হাত-পা ভেঙ্গে দেয়া হয়। হাত ভেঙ্গে যাওয়ায় সহকারী নিয়োগ করে পরীক্ষা দিচ্ছেন আহত ওই দুই শিক্ষার্থী। ওই দিনও ঘটনার পর হলের এক আবাসিক শিক্ষক আসলেও আটক শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করতে পারেননি তিনি। এঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিলো। কমিটি রিপোর্টও জমা দিয়েছেন। তবে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এখনো কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর ড. এ এম আমজাদ বলেন, এটি হল প্রশাসন ব্যবস্থা নেবেন। তাদের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ সত্য নয় উল্লেখ করে ড. আমজাদ বলেন, তারা সম্পূর্ণ নির্দোষ। তাদের হলে থাকার ব্যবস্থা করা হবে কিনা এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি ব্যস্ত আছেন বলে মোবাইল রেখে দেন। ছাত্রলীগের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মেহেদী হাসান মোল্লা বলেন, সাধারণ শিক্ষার্থীদের মারধর করা উচিত নয়। এটা দুঃখজনক ঘটনা। তবে শিবির হলে তাদের সঙ্গে আমরা কোনো আপোস করবো না। উৎসঃ ঢাকাটাইমস২৪ Share on facebook Share on email Share on print 7

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন