আতঙ্কের জনপদ সাতক্ষীরায় যা ঘটছে-
নূর ইসলাম, সাতক্ষীরা থেকে | ১৯ ডিসেম্বর ২০১৩, বৃহস্পতিবার, ১০:২৬ | মতামত: ৬ টি
Share on facebook Share on twitter Share on email Share on print More Sharing Services 15
সাতক্ষীরার সর্বত্র বিরাজ করছে থমথমে অবস্থা। অজানা আতঙ্ক এ জনপদের সর্বত্র। স্বজনহারাদের বুক ফাটা কান্নায় বাতাস ভারি হয়ে উঠলেও মুখে কথা নেই। আগুন জ্বলছে গ্রামের ঘরবাড়ি আর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে। সহায়-সম্বল হারিয়ে যারা এখন মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা বাকরুদ্ধ। আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছে কয়েক শ’ মানুষ। গৃহহীন শতাধিক পরিবার। পুলিশ দেখলেই পালাচ্ছে সাধারণ মানুষ। দিনের আলো শেষে সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে অজানা আতঙ্কের মধ্যেই নতুন নতুন ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটছে। সাতক্ষীরায় নতুন করে ৫৮টি ঘরবাড়ি, দোকানপাট ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে গতকাল সকাল পর্যন্ত সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার কুশখালি, গোবিন্দপুর ও বিষ্ণুপুর ইউনিয়নে এসব ঘটনা ঘটে। যৌথবাহিনীর উপস্থিতিতে স্থানীয় সরকারদলীয় লোকজন এসব তাণ্ডব চালিয়েছে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। এলাকাবাসী বলছে, আওয়ামী লীগ নেতা মসলেম উদ্দিন হত্যার বদলা হিসেবে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা এ তাণ্ডব চালাচ্ছে। এসব ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডে হিন্দু সমপ্রদায়ের লোকজনের ৫টি দোকানও ভস্মীভূত হয়। প্রায় ২০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো জানিয়েছে। অগ্নিসংযোগের সময় এলাকায় ফায়ার সার্ভিসের কোন সদস্যকে ঢুকতে দেয়নি হামলাকারীরা। ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে বিষ্ণুপুর ইউনিয়নে ১২টি বসতবাড়ি ও ২৭টি দোকানপাট, ঘরবাড়ি লুটপাট এবং কুশখালী, গোবিন্দপুরে ১৯টি ঘরবাড়ি ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। এর মধ্যে বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের চৌমুহনী গ্রামের বাহারুল ইসলাম, মোশারফ হোসেন, মাওলানা মিজানুর রহমান, সিদ্দিক হোসেনের বসতবাড়ি, শ্রীধরকাটি গ্রামের অধ্যক্ষ আব্দুল কাদেরের বাড়ি, ফরিদপুর গ্রামের আব্দুল আজিজ, আব্দুস সবুর, রাজনগরের মোশারফ এবং মুকন্দকাটির আব্দুল করিমের বসতবাড়ি ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। এছাড়া একই ইউনিয়নের চৌমুহনী এলাকার বাহারুলের দোকান, মোশারফের থালাবাটির দোকান, সাইফুলের ওষুধের ফার্মেসী, আব্দুল কালামের মুদি দোকান, শামসুর রহমানের মুদির দোকান, দাউদের মিষ্টির দোকান, আব্দুল্লার স্টেশনারির দোকান, জগদীশের স্টেশনারির দোকান, ময়নার ফলের দোকান, মুকুল, সালাম, হানিফ, তাপস, বিশ্বজিৎ, নারায়ণ চন্দ্র, দুলাল সাহা, শহিদুল, সাখাওয়াত, মিজান, বিশ্বনাথ এবং মাহবুবের মুদি দোকান ও স্টেশনারির দোকানপাট লুটপাট, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। এছাড়া হোগলা গ্রামের মাহবুব ও সাইফুলের দোকানপাট পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। কালিগঞ্জ উপজেলার কুশলিয়া ইউনিয়নের ভদ্রখালি বাজারের বেশির ভাগ দোকানপাট পোড়ানো হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে সিরাজুল ইসলামের ওষুধের দোকান, মোজামের কাপড়ের দোকান, বিল্লালের সেলুনের দোকান, হান্নানের মুদির দোকান, মনিরুলের চায়ের দোকান, বনি আদম, মাইউদ্দীনের দোকানঘর ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ওহেদুজ্জামানের নেতৃত্বে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান সাইদ মেহেদীর নির্দেশে আওয়ামী লীগ কর্মীরা এ তাণ্ডবলীলা চালায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা অভিযোগ করেন। রাতভর একই ভাবে যৌথবাহিনীর উপস্থিতিতে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে গোবিন্দপুরে। আগুনে ভস্মীভূত করা হয় মিজানুর রহমান, আব্দুর রাশেদ, আব্দুল হাকিম, বাবু ও লিলি বেগমের একমাত্র আশ্রয়স্থল। সব মিলিয়ে জেলায় এক ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে কালীগঞ্জের বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মোসলেম হত্যা মামলায় ২৪ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে নিহতের ভাই সলেমান বিশ্বাস। পুলিশ এই হত্যাকানেকশনে জড়িত ৩ জনকে আটক করেছে। এছাড়া, গতরাতে জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে যৌথবাহিনীর সদস্যরা বিএনপি ও জামায়াত-শিবিরের ১২ নেতাকর্মীকে আটক করেছে।
পাঠকের মতামত
**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।
আবদুর রাজজাক
বৃহস্পতিবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০১৩ ১০:২৭
দেশপ্রেমিক জনগন সাতক্ষীরার ক্ষতিগ্রস্থ হিন্দু মোসলমান ভাইদের সাহায্যে এগিয়ে আসুন।
| ১
| ০
Safi
বৃহস্পতিবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০১৩ ১০:২০
আমাদের নতুন প্রজন্মের যারা পাকিস্তানী হানাদারও তাদের দোসরদের তান্ডব দেখেনি তারা এখন সাতক্ষীরার অবস্থা দেখে তার বিস্তারিত বিবরন জানতে পারবে। আমাদের মত যাদের প্রত্যক্ষভাবে মুক্তিযুদ্ধ দেখার ও সামান্য হলেও অংশ নেবার সুযোগ হয়েছিল তাদের মাথায় এখন আর গনতন্ত্রের, সাম্যের, ন্যায় বিচারের বা অর্থনৈতিক মুক্তির আশা নেই বরং স্বাধীনতার চেতনা, জনমানুষের স্বপ্ন ইত্যাদি ভৌতিক ছায়া হয়ে ক্রমশ: ভয় দেখাচ্ছে। আমরা ভাবতে পারিনি বাংলাদেশ এমন একটা অবস্থায় পৌছুবে যেখানে পুনরায় হানাদার বাহিনীর পুনরাগমন ও দানবীয় কর্মকান্ড পুন:প্রত্যক্ষ করবার মত কঠিন দুর্ভাগ্যের শিকার হতে হবে। বিভিন্ন ধর্মের মনিষীদের একটি কথাই খুব করে মনে পড়ছে - যে মাটিতে নিরীহ নিরপরাধ মানুষের রক্তপাত ঘটেছে সে মাটিতে শান্তি আসা সুদুরপরাহত।
| ০
| ০
আনোয়ার, ঝিনাইদহ
বৃহস্পতিবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০১৩ ০৪:০৬
হিন্দু ভাইদের বলবো শুধু বিরোধিতার খাতিরেই বিরোধিতা করবেন না। দেখুন, হাতে নাতে কোন জামায়াত-বিএনপি আজও ধরা পড়েনি, অথচ অনেক জায়গায় বেশ কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ধরা খেয়েছে আপনাদের বাড়িঘর, মন্দিরে আগুন দিতে গিয়ে বা ভাঙচুর করতে গিয়ে। এবার একটু চোখটা খুলুন। বাংলাদেশ আপনার দেশ, আমার দেশ। বাংলাদেশী হিসাবে আপানার যে অধিকার আমারও তা। আপনি কেন শুধু শুধু আওয়ামী লীগের গোলামী করবেন। আপনার রাজনৈতিক আদর্শ যাইহোক সেটা নিয়ে আমার কোন আপত্তি নেই, শুধু ভালকে সাপোর্ট করুন আর খারাপকে খারাপ বলুন। অন্তত মানুষ হিসাবে বিবেকটাকে কাজে লাগান। মনুষ্যত্ব নষ্ট করেন না। অন্ধ হয়েন না।
| ৪
| ০
rakib hasan
বৃহস্পতিবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০১৩ ০২:০৪
Orato aponar amar maa,bon.please police vai-era oder proti sho-anu bhuti hon..
| ০
| ০
siwiqi
বৃহস্পতিবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০১৩ ০১:১৫
বিদেশী দখলদার বাহীনির তান্ডব!!!
| ০
| ০
iqbal
বৃহস্পতিবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০১৩ ১২:৫০
auwami-lauge try to make FINISH of oposition of bangladesh and part of india like napal.WE ARE BANGLADISHI. MAKE YOU HEAD UP FOR BANGLADESH NOT FOR OTHER'S AND LOVE PEOPLE OF BANGLADES.........
| ০
| ০
আপনার মতামত দিন
নাম
ই-মেইল
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন