মায়ের পরকীয়া, মায়ের স্নেহ...
20 Dec, 2013
স্কুল পড়ুয়া এক মেয়ের মায়ের সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে ওঠে এক মুদী দোকানীর। দীর্ঘদিন ধরে সবার অগোচরে চলতে থাকে সে প্রেম। এক পর্যায়ে চোখ পড়ে প্রেমিকার মেয়েটির ওপর। সুযোগ খুঁজতে থাকে। ততদিনে দশম শ্রেণী পড়ুয়া ওই মেয়েটিকেও নিজের আয়ত্বে নেয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু বাধা হয়ে দাঁড়ায় প্রেমিকা।
একরাতে সুযোগ বুঝে ঝাঁপিয়ে পড়ে মেয়েটির ওপর। চোখে পড়ে মায়ের। রাগে ক্ষোভে প্রেমিকের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করে তাকে।
গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে এ হত্যার ঘটনা ঘটেছে ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার কৈবর্তখালি গ্রামের পাকাপুল বাজার এলাকায়। পুলিশ মা মাহিনুর বেগম (৩৫) ও মেয়ে আইরিন (১৫) দুজনকেই গ্রেপ্তার করেছে। পরে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে জেল হাজাতে।
নিহত ব্যক্তির নাম রফিকুল ইসলাম (৪৫)। তিনি বড় গালুয়া গ্রামের মৃত রশিদ হাওলাদারের ছেলে ও চার সন্তানের জনক। উপজেলার পাকাপুল বাজারের মুদি দোকান চালান। মাহিনুর বেগম কৈবর্তখালি গ্রামের পাকাপুল বাজার এলাকার শুকুর খানের স্ত্রী এবং আইরিন তার বড় মেয়ে।
প্রতিবেশীরা জানান, মাহিনুর বেগমের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে রফিকুলের পরকীয়া প্রেম চলছিল। কিন্তু লম্পট প্রকৃতির রফিকের নজর পরে প্রেমিকার দশম শ্রেণীতে পড়ুয়া মেয়ের ওপর। এতে ক্ষিপ্ত হওয়ায় এ ঘটনা ঘটাতে পারে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, বৃহস্পতিবার রাতে রফিক কৈবর্তখালির শুকুর খানের ঘরে ঢুকে লুকিয়ে থাকে। গভীর রাতে সবাই ঘুমিয়ে পড়লে প্রেমিকার মেয়েকে কৌশলে ধর্ষণের চেষ্টা করে। এসময় মেয়ের চিৎকার শুনে মা মাহিনুর বেগম এসে রফিকের ওপর ক্ষিপ্ত হয়। ধারালো অস্ত্র নিয়ে এসে এলোপাথাড়ি কোপাতে থাকে। এক পর্যায়ে গলাকেটে হত্যা করে।
পুলিশের কাছে গ্রেপ্তার হওয়া মাহিনুর বেগম স্বীকার করেছে নিজের মেয়ের ইজ্জত বাঁচাতে রফিককে কুপিয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে এমন তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন রাজাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম।
শুক্রবার সন্ধ্যায় ময়না তদন্ত শেষে পরিবারের কাছে তার লাশ হস্তান্তর করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় নিতহের স্ত্রী সেফালী বেগম বাদী হয়ে গ্রেপ্তার হওয়া মা ও মেয়েকে আসামি করে রাজাপুর থানায় হত্যা মামলা (নং-৭) দায়ের করেছে।
তবে এলাকাবাসী জানিয়েছে, জমিজমা নিয়ে রফিকুলের সঙ্গে তার প্রতিবেশীর বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে একাধিক মামলাও দায়ের হয়েছে। ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের পাওনা টাকা নিয়ে প্রভাবশালী অনেকের সঙ্গে রফিকের বিরোধও ছিল। এ কারণে অনেকেই ধারণা করছে, এদেরই কেউ হয়তো পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করেছে। কিন্তু প্রকৃত খুনিকে আড়াল করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
পুলিশ ঘটনার ক্লু বের করতে এসব বিষয় নিয়ে তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
উৎসঃ বাংলামেইল
Share on facebook Share on email Share on print
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন