বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর, ২০১৩
সাল ১৮৫৭ , ইস্ট ইন্ডিয়া কম্পানির সেপাহীদের জন্যে নিয়ে আসল ৫৫৭ ক্যালিবার এনফিল্ড (পি/৫৩) রাইফেল।
একসাথে তিন রাউন্ডের বেশি গুলি ছোরা যায় এই রাইফেল থেকে। কার্তুজ দাত দিয়ে কেটে প্রথমে গান পাউডার ঢেলে দিতে হয় ব্যারেলে। এরপর বুলেটটা ব্যারেলের ভেতর দেয়ার আগে ভালো করে মুখের লালা দিয়ে ভিজিয়ে নিতে হয়। শেষমেশ প্রিকোশন ক্যাপটা এনশিওর করলেই ব্যাস। অসাধারন এর নিশানা। দারুন এক রাইফেল।
শুধু ছোট্ট একটা সমস্যা , আর তা হলো এর কার্তুজ। গরু আর শুয়োরের চর্বি দিয়ে এর কার্তুজ তৈরি বলে কম্পানির ভার...তিয় মুসলিম এবং হিন্দু সৈন্যরা ধর্মিয় কারনে এই কার্তুজ দাত দিয়ে ছিরতে এবং এর বুলেট মুখের ভেতর নিতে অস্বীকৃতি যানায়।
আর সৈন্যদের এই অস্বীকৃতিই একসময় বিপ্লবের রুপ নেয়। সংঘঠিত হয় সিপাহী বিদ্রোহ। আর আমরা সবাই জানি ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে এই সিপাহী বিপ্লবের গুরুত্ব কতখানি।
আজকের শাহাবাগের গনজাগরন মঞ্চ হচ্ছে আসলে সেই ৫৫৭ ক্যালিবার এনফিল্ড (পি/৫৩) রাইফেলটি। যা শত্রুকে ঘায়েল করার জন্যে তৈরি করা হয়েছে। অসাধারন নিশানা এবং দারুন সব ফিচার।
সেই একটাই ছোট্ট সমস্যা , আর তা হল শাহাবাগিদের পশুর চর্বি মেশানো কার্তুজ (শাহাবাগিদের সঙ্গা অনুযায়ী মুক্তিযুদ্ধের চেতনা),
তবে এইবার কার্তুজে(চেতনায়) মেশানো হয়েছে শুধুই শুয়রের চর্বি(ইসলাম বিদ্বেষ),
একটু পরিষ্কার করে বলিঃ
শাহাবাগীরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার নামে যে শুধু রাজাকার নিধন করছে তা কিন্তু না তারা সত্যিকার ইসলামকে বিতারিত করে সেকুলার ইসলাম প্রতিষ্ঠার লক্ষে চেতনা এবং দেশপ্রেমের নামে কিছু কাইটেরিয়াও সেট করেছে যাকে তারা বাংলার সংস্কৃতি বলে বুকে ধারন করার কথা বলে (যদিও এর সিংহ ভাগ বাংলার সংস্কৃতি না বরং বামদের সংস্কৃতি),
তাদের মতে যারা এই কাইটেরিয়া গুলো ফুল ফিল করবে তারাই প্রকৃত দেশ প্রেমিক । তারাই স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি । আর যারা এই কাইটেরিয়া গুলো ফুলফিল করবে না বা করতে পারবে না তারা দেশকে যতই ভালো বাসুক না কেন, তারা হবে দেশ দ্রহী , রাজাকার। স্বাধীনতা বিপক্ষ শক্তি।
আর একজন মুসলিমের পক্ষে শাহাবাগিদের দেয়া চেতনার কাইটেরিয়া মেইন্টেইন করে দেশকে ভালো বাসা সম্ভব নয়।
একজন মুসলিম এই দেশে থেকে ইসলামের নিয়ম অনুযায়ী এই দেশকে যে ভালোবাসবে সেই সুযোগটাকে হত্যা করছে শাহাবাগের গনজাগরন মঞ্চ।
তাদের মত করে চেতনাকে ধারন না করলে ট্যাগ দিয়ে দিচ্ছে দেশ দ্রোহীর , রাজাকারের।
আর তাদের দেয়া এই চেতনা হচ্ছে ঠিক সেই রাইফেলের শুয়োরের চর্বি মিশ্রিত কার্তুজের মত, যা একজন মুসলিমের শত ইচ্ছা থাকা সত্যেও সজ্ঞ্যানে কখনওই তা মুখে নেয়া সম্ভব না।
মজার ব্যাপার হল শাহাবাগিদের নষ্ট চেতনার মাধ্যমে এত চেষ্টার পরও এই অঞ্চলের মুসলিমদের বিন্দু মাত্র দুর্বল করতে পারে নি তারা।
বরং শাহাবাগের কারনেই এখন এই অঞ্চলের মুসলিমরা আরও বেশি ঐক্যবদ্ধ হয়েছে আরও বেশি শক্তি শালী হয়েছে।
শাহাবাগীদের দুর্ভাগ্য !!! তারা না বুঝেই সেকুলার রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে ইসলামিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করায় দারুন ভুমিকা রাখছে। তারা মুসলিমদের বিজয়কে তরান্যিত করছে।
[বিঃদ্রঃ ব্রিটিশদের যেমন এই অঞ্চল থেকে বিতারিত করা হয়েছে , সেই দিন দূরে নয় যেই দিন শাহাবাগী চেতনা ব্যবসায়িদেরকেও লাঞ্চিত করে এই অঞ্চল থেকে বিতারিত করা হবে।
ইন শা আল্লাহ।]
collected
এতে সদস্যতা:
মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন (Atom)
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন