মঙ্গলবার, ২৮ জানুয়ারি, ২০১৪


বিদ্রোহীদের সতর্কবার্তা প্রধানমন্ত্রীর
28 Jan, 2014 উপজেলা নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে কোন দলীয় নেতা যাতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে না পারেন তা নিশ্চিত করতে বললেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, দল থেকে একক প্রার্থীর কোন বিকল্প নেই। নিজেরা নিজেরা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামলে অন্যরা এর সুবিধা নেবে। আমি সংশ্লিষ্ট জেলার মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের বিষয়টি দেখভালের জন্য বলছি। এছাড়া, মন্ত্রিসভার বৈঠকে জাতীয় সমপ্রচার নীতিমালা, সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা, সহিংসতায় নিহত-আহত ও ক্ষতিগ্রস্ত নেতা-কর্মীদের তদারক ও জলবিদ্যুৎসহ বিভিন্ন প্রসঙ্গ উঠে আসে। মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে একাধিক সিনিয়র মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। গতকাল সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে অনির্ধারিত আলোচনায় উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে কোন বিদ্রোহী প্রার্থী যেন না থাকে এবং একক প্রার্থী হয় ওই বিষয়ে নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। নিয়মিত এজেন্ডা নিয়ে আলোচনার পর উপজেলা নির্বাচন নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম প্রসঙ্গটি তুললে প্রধানমন্ত্রী এসব নির্দেশ দেন। প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিসভার সদস্যদের জানান, উপজেলা নির্বাচনে একক প্রার্থী বাছাইয়ের নির্দেশ দিয়ে গত রোববার জেলা ও উপজেলা নেতাদের কাছে সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছে। ওই বার্তায় তৃণমূল নেতাদের মতামতের ভিত্তিতে চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান পদে একক প্রার্থী বাছাই করার নির্দেশের কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে দলীয় সিদ্ধান্ত না মানলে বিদ্রোহীদের বহিষ্কারের সিদ্ধান্তও জানিয়ে দেয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট উপজেলা নির্বাচনে আসবে এবং ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবে। তাই আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার বিকল্প নেই। এ বিষয়টি আপনাদের দেখতে হবে। প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিসভার সদস্যদের বলেন, প্রত্যেক জায়গায় যেন একক প্রার্থী থাকে সে জন্য কাজ করতে হবে। নিজ নিজ এলাকায় আপনাদের ভূমিকা রাখতে হবে। পাঁচ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীদের পরাজয়ের পর উপজেলা নির্বাচনকে ইমেজ বৃদ্ধির নির্বাচন হিসেবে অভিহিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগের জেলা কমিটিকে একক প্রার্থীর বিষয়ে যত্নবান হওয়ার জন্য বলছি। যারা জাতীয় নির্বাচন বয়কট করে আন্দোলন করেছিল, তারা উপজেলা নির্বাচনে যাচ্ছেন বলে যে খবর প্রকাশ হয়েছে- তাকে ভাল সিগন্যাল জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী স্বচ্ছ, সুন্দর নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যাপারে তার অবস্থান তুলে ধরেন। এদিনের মন্ত্রিসভা বৈঠকে জাতীয় সমপ্রচার নীতিমালা নিয়েও আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতীয় সমপ্রচার নীতিমালা ভাল করে দেখার দরকার রয়েছে। এটি চূড়ান্ত করার আগে নীতিমালার খসড়া সব মন্ত্রীদের কাছে মতামতের জন্য পাঠানো প্রয়োজন। এরপরই এটা নিয়ে মন্ত্রিসভায় এজেন্ডা হিসেবে আলোচিত হতে পারে। এছাড়া, গত কয়েক মাস ধরে রাজনৈতিক সহিংসতায় যে সমস্ত আওয়ামী লীগ কর্মী মারা গেছেন, শারীরিকভাবে আহত হয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তাদের প্রকৃত তথ্য জেনে সাহায্য-সহযোগিতা করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীদের যতটুকু সম্ভব সাহায্য-সহযোগিতা করার নির্দেশ দেয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, যেখানে সম্ভব ব্যক্তিগতভাবে সহায়তা করতে হবে। প্রয়োজনে সরকারিভাবেও সহায়তার উদ্যোগ নিতে হবে। মন্ত্রিসভার বৈঠকে দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করার লক্ষ্যে চার লেন প্রকল্পের কাজ দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে স্থলপথে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে কানেক্টিভিটি বাড়ানোর জন্যও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেন। বৈঠকে যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের কাছে প্রধানমন্ত্রী যোগাযোগ ব্যবস্থার সচিত্র প্রতিবেদন নিয়ে আগামী বর্ষার আগেই সেগুলোর মেরামতের কাজ এগিয়ে নেয়ার নির্দেশ দেন। ঢাকা-চট্টগ্রাম এবং জয়দেবপুর-ময়মনসিংহ মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণের কাজ শিগগিরই শেষ করতে যোগাযোগমন্ত্রীকে তাগিদ দেন। এছাড়া, যোগাযোগমন্ত্রীর কাছে চীন, মিয়ানমার ও ভারতের সঙ্গে সংযোগ সড়কগুলোর অবস্থা সম্পর্কেও জানতে চান। পাশাপাশি সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও ব্রিজের কাজও দ্রুত শেষ করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। মন্ত্রিসভায় পার্শ্ববর্তী কোন দেশ থেকে জলবিদ্যুৎ উৎপন্ন করে কিভাবে দেশে আনা যায় ওই বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। জলবিদ্যুতের প্রতি বিশেষ নজর দেয়ার নির্দেশ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, লাভজনক হলে প্রয়োজনে দেশের বাইরে জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা যেতে পারে। নাবিকদের কল্যাণে দুই কনভেনশনে অনুসমর্থন সমুদ্রগামী জাহাজের নাবিকদের কাজের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত ও কল্যাণের জন্য আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার দু’টি কনভেনশনে অনুসমর্থন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। তাই আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) দু’টি কনভেনশনে স্বাক্ষর করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এর ফলে সমুদ্রগামী জাহাজে কর্মরত ১২ হাজার বাংলাদেশী নাবিক বায়োমেট্রিক পরিচয়পত্র পাবেন। কোন দেশে গেলে জাহাজ অবস্থানকালে ওই দেশে প্রবেশে কড়াকড়ি, জাহাজ পরিবর্তন এবং দেশে ফেরা নিয়ে বিভিন্ন জটিলতা থেকেও তারা মুক্তি পাবেন। গতকাল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ মোশাররাফ হোসাইন ভূঁইঞা সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার সামুদ্রিক জাহাজে শ্রম কনভেনশন, ২০০৬ এবং নাবিকদের পরিচয়পত্র কনভেনশন ২০০৩ এ অনুসমর্থনের প্রস্তাব মন্ত্রিসভা অনুমোদন করেছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, বর্তমানে আন্তর্জাতিক নৌপথে বাংলাদেশের ৬৮টি সমুদ্রগামী জাহাজ রয়েছে এবং দেশী-বিদেশী প্রতিষ্ঠানে ১২ হাজার বাংলাদেশী নাবিক রয়েছেন। এ খাত থেকে ৫০০ কোটি টাকার মতো বিদেশী মুদ্রা দেশে আসে। তিনি বলেন, বাংলাদেশী নাবিকরা অনেক সময় অন্য দেশের বন্দরে অবস্থানকালে ওই দেশে ঢুকতে চাইলে বৈষম্যের শিকার হন, আইনি ঝামেলাতেও পড়তে হয়। কনভেনশনে সই না করায় বড় বড় দেশের জাহাজ কোম্পানিও অনেক সময় বাংলাদেশীদের চাকরি দিতে অনীহা প্রকাশ করতো। শ্রম কনভেনশনে অনুসমর্থনের ফলে সমুদ্রগামী জাহাজের নাবিকরা কাজের সুষ্ঠু পরিবেশ, চিকিৎসা, বিনোদন, কর্মঘণ্টা, বাসস্থান, সামাজিক নিরাপত্তা ইত্যাদি বিষয়ে সুবিধা পাবেন। ইতিমধ্যে আইএলও সদস্যভুক্ত ৫৬টি দেশ এ কনভেনশন অনুসমর্থন করেছে এবং গত বছর ২০শে আগস্ট থেকে তা কার্যকর হয়েছে। পরিচয়পত্র কনভেনশনে অনুসমর্থনের ফলে বাংলাদেশের নাবিকরা বায়োমেট্রিক পরিচয়পত্র পাবেন, যাতে তাদের সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য, আঙুলের ছাপসহ অন্যান্য তথ্য থাকবে। এই পরিচয়পত্র হবে মেশিন রিডেবল। এ পর্যন্ত ২৪টি দেশ এ কনভেনশনে অনুসমর্থন করেছে। উৎসঃ মনবজমিন Share on facebook Share on email Share on print

বন্দুকযুদ্ধ’ নয়, ঠাণ্ডা মাথায় হত্যা
27 Jan, 2014 বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীদের বেছে বেছে হত্যা (Selected Killing ) মিশন শুরু হয়েছে। বেশ কয়েক মাস আগেই এটা শুরু হলেও একতরফা নির্বাচনের পর এ ধরনের হত্যাকাণ্ড বাড়তে পারে বলে আগেই হুশিয়ার করে দিয়েছিলেন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা। সেই আশঙ্কাই সত্যে পরিণত হচ্ছে। আওয়ামী লীগ সরকার বুঝছে পারছে যে তারা এখন আক্ষরিক অর্থেই জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন। ৫ জানুয়ারি জনগণ নীরবে যেভাবে আওয়ামী লীগকে প্রত্যাখ্যান করেছে তা কারও ধারণার মধ্যেই ছিল না। এমনকি আওয়ামী লীগের সমর্থকরাও যে দলটিকে প্রত্যাখ্যান করবে তা সম্ভবত উপরওয়ালা ছাড়া কেউই বুঝতে পারেননি। জনগণের নীরব বিপ্লবের মধ্যে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগ নেতাদের অনেকের ঘুম যে হারাম হয়ে গিয়েছে তা তাদের কথাবার্তা এবং অঙ্গভঙ্গী দেখলে বিলক্ষণ বোঝা যায়। সত্যি কথা বলতে কী, মুখে যত লম্বা বুলি আওড়াক না কেন আওয়ামী লীগ নেতারা এখন হতাশার সাগরে হাবুডুবু খাচ্ছেন। দেশের জনগণ তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় তাদেরকে ধিক্কার দিচ্ছে। ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার আশঙ্কা সরকারের কর্তব্যক্তিদের তাড়া করে ফিরছে। হতাশার মহাসমুদ্রে আওয়ামী লীগের একমাত্র ভরসা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো যাদের কিলার বা ঘাতক উপাধি দিয়েছে। দেশের এই মুহূর্তে সরকার-বিরোধী কোনো আন্দোলন না থাকায় যৌথবাহিনী এখন তার পুরো শক্তিকে নিয়োজিত করেছে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের নিধনযজ্ঞে। সাতক্ষীরা, গাইবান্ধা, নীলফামারীতে সম্প্রতি গ্রেফতারের পর বহু নেতাকর্মীকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে বলে নিহতদের পরিবারের অভিযোগ। বর্তমানে দেশের নিরাপত্তা বাহিনীর বর্বরতা সম্ভবত রক্ষীবাহিনীকেও ছাড়িয়ে গেছে। এর আগে রাজপথে নামলেই বিরোধী নেতাকর্মীদের নির্বিচারে গুলি করে হত্যার মাধ্যমে তারা পুরো দেশকে একটি বধ্যভূমিতে পরিণত করেছিল। এখন তারা আরও একধাপ এগিয়ে গেছে। এখন আর রাজপথে নামতে হয় না। বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে গুলি করে হত্যা করা হচ্ছে। বাড়িতে পরিবারের লোকজনের সামনেও গুলি করে হত্যা করা হচ্ছে, যেমনটা ঘটেছে লক্ষ্মীপুরে এক জামায়াত নেতার ক্ষেত্রে। এক্ষেত্রে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ব্যাপার হচ্ছে, মধ্যম বা নিচু পর্যায়ের কোনো নেতাকর্মীকে নয়, জেলার শীর্ষস্থানীয় নেতাদের গ্রেফতার করে হত্যা করা হচ্ছে। গতকালও জামায়াত-শিবিরের ৩ নেতাকর্মীকে গ্রেফতারের পর ঠাণ্ডা মাথায় গুলি করে হত্যা করা হয়েছে বলে পরিবারের অভিযোগ। অনেক প্রবীণ নেতা, আলেম, শিক্ষকও নাকি অস্ত্রবাজ! এসব হত্যাকাণ্ডের পর পুলিশ ও যৌথবাহিনী কথিত বন্দুকযুদ্ধের অতি পুরনো হাস্যকর গল্প প্রচার করেছে। বাংলাদেশের মানুষকে এতটা বোকা ভাবা নিরাপত্তা বাহিনীর উর্বর মস্তিষ্কের পক্ষেই শুধু সম্ভব। দিনদুপুরে গ্রেফতারের পর মধ্যরাতে অস্ত্র উদ্ধারের নাটক করা হয়। এতে শুধু নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে আটক ব্যক্তিই মারা যায়। কথিত যেসব অস্ত্রধারী নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর গুলিবর্ষণ করে তাদেরও কেউ মারা যায় না। অন্যদিকে নিরাপত্তা বাহিনীর কারও গায়ে আঘাত লাগে না ভুলেও। মারা যায় শুধু পুলিশ বা যৌথবাহিনীর হাতে আগেই আটক সেই হতভাগ্য আদম সন্তান! প্রতিটি মৃত্যুর পেছনে প্রায় একই কাহিনী, অনেকটা বাংলা সিনেমার মতোই। নিরাপত্তা বাহিনীর এই অসাড় দাবির পর যে কেউ প্রশ্ন করতে পারেন, ৫ জানুয়ারির পর হঠাত্ করে বিএনপি-জামায়াতের হাতে এত অস্ত্র এলো কোত্থেকে? গত ৫ বছর তো আওয়ামী লীগ দেশ শাসন করেছে। তার আগেও দুবছর ক্ষমতা ছিল কট্টর বিএনপি-জামায়াত বিরোধী ফখরুদ্দিন-মইনউদ্দিন সরকার। এই ৭ বছরে বিএনপি-জামায়াতের কাছ থেকে নিরাপত্তা বাহিনী কয়টি অস্ত্র উদ্ধার করেছে, তার একটি পরিসংখ্যান দিলে মানুষ বুঝতে পারে তাদের দাবির সত্যাসত্য। নিরাপত্তা বাহিনী আরও একটি পরিসংখ্যান দিয়ে জাতিকে কৃতজ্ঞ করতে পারে যে গত ৫ বছরে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ফ্রেন্ডলি ফায়ারে কতজন নিহত হয়েছে। মনে হচ্ছে, ৫ জানুয়ারির পরপরই জামায়াত-শিবিরের ‘অস্ত্র ভাণ্ডারের’ সন্ধান পেয়েছে নিরাপত্তা বাহিনী। অথচ সাম্প্রতিক দুটি ঘটনার বিশ্লেষণ করলে মানুষ বুঝতে পারবে প্রকৃত সত্যটা কী। বিএনপি সরকারের আমলে অপারেশন ক্লিনহার্টের সময় বিএনপি ও আওয়ামী লীগের বহু সন্ত্রাসী গুলিতে মারা যায়। তখন জামায়াত-শিবিরের কেউ কী মারা গিয়েছিল? উত্তর-না। ফখরুদ্দিন-মইনুদ্দিনের সময় একই ধরনের অভিযানে জামায়াত-শিবিরের কাছ থেকে কোনো অস্ত্র উদ্ধার হয়েছিল কী? উত্তর-না। গত ৫ বছরে জামায়াত—শিবিরের বিরুদ্ধে প্রতি মুহূর্তে চিরুনি অভিযান চললেও কোনো অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে কী? এর উত্তরও একই। নিকট অতীতের এসব তথ্য জানার পর নিরাপত্তা বাহিনীর অস্ত্র উদ্ধারের কাহিনী নিয়ে যে কেউ প্রশ্ন তুলতেই পারেন। তাহলে বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীদের গ্রেফতারের পর এভাবে ঠাণ্ডা মাথায় হত্যার কারণ কী? কারণ, আওয়ামী লীগ নেতারা জানেন যে তারা তাসের ঘরে আছেন। ধাক্কা লাগলেই ছিন্নভিন্ন হয়ে যাবে। তাই যাতে কোনোভাবেই ধাক্কা না লাগে তাই বিরোধী মতকে নিশ্চিহ্ন করতেই এই ব্যবস্থা। তাছাড়া আগামী মাসেই শুরু হচ্ছে উপজেলা নির্বাচন। স্থানীয় নির্বাচন হলেও এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের যে অকল্পনীয় ভরাডুবি হবে তা বোঝার জন্য রাষ্ট্রবিজ্ঞানী হওয়ার দরকার নেই। এ অবস্থায় বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের প্রতি মুহূর্তে মৃত্যুর ভয় তাড়া করে ফিরলে আওয়ামী লীগ সরকার তো ভোটের মাঠ ফাঁকা পাবেই। উৎসঃ আমার দেশ Share on facebook Share on email Share on print 3

ভিডিও >> ধুমপায়ি মন্ত্রীর ৫ লাইনে ৬ ভুল !
28 Jan, 2014 গতকাল প্রকাশ্যে ছাত্র অভিভাবকদের সামনে ধুমপান করে সারাদেশ এবং স্যোশাল মিডিয়ায় তুঙ্গে এখন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী মহসীন আলী। এনিয়ে গতকাল কোনো উচ্চবাচ্য না করলেও আজকে তিনি ক্ষমা চেয়ে তার ফেসবুক ওয়ালে একটি স্ট্যাটাস দেন। কিন্তু স্ট্যাটাসটি পড়লে অনেকে মুখ টিপে হেসে বলবে ইহা কি কোনো মন্ত্রীর লেখা নাকি দ্বিতীয় বা তৃতীয় শ্রেণী পড়ুয়া কোনো ছাত্রের লেখা! মাত্র সাড়ে ৫ লাইন লিখতে গিয়ে তিনি বানান ভুল করেছেন ৬টি। এই নিয়ে স্যোশাল মিডিয়ায় বেশ মুখরোচক আলোচনা চলছে। Share on facebook Share on email Share on print 1

ভিডিও >> কোনো মধ্যবর্তী নির্বাচন নয়
28 Jan, 2014 দেশে আর কোনো মধ্যবর্তী নির্বাচন হবে না বলে জানিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম। মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে তিনি এ কথা জানান। কামরুল ইসলাম নেতাকর্মীদের উদ্দেশ বলেন, ‘নির্বাচনের আগে অনেকেই মনে করেছিলেন এই সরকার বেশিদিন টিকবে না, আর্ন্তজাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন পাবে না। কিন্তু দেখেছেন নির্বাচনের পর আর্ন্তজাতিক সম্প্রদায় সরকারকে সমর্থন দিচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘সরকারের প্রত্যেকটি সদস্য দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছে। এই পাঁচ বছরে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারলে আগামী নির্বাচনেও আমরা বিজয়ী হতে পারবো।’ খাদ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি এখন চুপ করে বসে আছে, কিন্তু মনে করবেন না এটাই ওদের আসল পথ। ওদের মূল পথ সন্ত্রাসের পথ, সঙ্ঘাতের পথ।’ তিনি আরো বলেন, ‘বিএনপি-জামায়াত জাতীয় নির্বাচনের ট্রেন মিস করে উপজেলা নির্বাচনের ট্রেনে উঠে নতুন করে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালানোর পাঁয়তারা করছে।’ তিনি বলেন, ‘বিএনপি আইএসআইয়ের ফর্মূলা অনুযায়ী নতুন করে ষড়যন্ত্রের ছক আঁকছে। তারা উপজেলা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনীতির মাঠে আবারো সন্ত্রাসী চেহারায় ফিরে আসবে। তাদের এই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডকে প্রতিহত করতে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।’ ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি কামাল আহমেদ মজুমদার এমপির সভাপতিত্বে আরো উপস্থিত ছিলেন দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এম এ আজিজ, সহ-সভাপতি মুকুল চৌধুরী, হাজী মো. সেলিম এমপি, ইলিয়াসউদ্দিন মোল্লাহ এমপি, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আব্দুল হক সবুজ, শাহে আলম মুরাদ প্রমুখ। উৎসঃ বাংলামেইল২৪ Share on facebook Share on email Share on print

নৈতিক শিক্ষার নামে ধর্মীয় রাজনীতিতে আকৃষ্ট করা হচ্ছে
28 Jan, 2014 দেশের প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোমলমতি শিক্ষার্থীদেরকে একটি গোষ্ঠী নৈতিকতা শিক্ষার নামে ধর্মীয় রাজনীতিতে আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছেন বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন। মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর সেগুনবাগিচা হাইস্কুলের বার্ষিক ক্রিড়া প্রতিযোগিতা উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ অভিযোগ করেন। মেনন বলেন, ‘আমরা অসাম্প্রদায়িক ও ধর্ম নীরপেক্ষ রাষ্ট্র গঠনের জন্যই মহান মুক্তিযুদ্ধ করেছি। মুক্তিযুদ্ধের এ বাংলায় ধর্মীয় কোনো উগ্রপন্থিদেরকে স্থান দেয়া যায় না।’ তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ করছি যে, একটি ধর্মীয় উগ্রগোষ্ঠী দেশের বিদ্যালয়গুলোর কোমলমতি শিক্ষার্থীদেরকে নৈতিকতার নামে ধর্মীয় রাজনীতির দিকে আকৃষ্ট করছে।’ শিক্ষা ব্যবস্থার প্রশংসা করে মন্ত্রী বলেন, ‘সরকার বছরের প্রথম দিনেই শিক্ষার্থীদের হাতে বই পৌঁছে দিয়েছে। ফলে শিক্ষার্থীরা বছরের প্রথম দিন থেকেই শিক্ষার সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে পেরেছে।’ বর্তমান সরকার শিক্ষা ক্ষেত্রে যে সুযোগ করে দিয়েছে সে সুযোগ কাজে লাগানোর জন্যও শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। পরে মন্ত্রী শান্তির প্রতীক পায়রা উড়িয়ে বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রিড়া প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন। বিদ্যালয়ের কার্যকরি পরিষদের সভাপতি মো. ইউসূফ চৌধুরীর সভাপতিত্বে এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন- ঢাকা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাজী মো. সেলিম, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা জিএম আতিকুর রহমান, আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ। উৎসঃ বাংলামেইল২৪ Share on facebook Share on email Share on print

স্বামী প্রবাসে সেই সুযোগে পরপুরুষের সাথে যৌনক্রিয়া অবশেষে দুজনের গলায় জুতার মালা
28 Jan, 2014 লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে যৌন মিলনের কাজে ধরা পড়ায় রায়পুর থানার এক পুলিশ সদস্য ও প্রবাসীর স্ত্রীকে গলায় জুতার মালা দিয়েছে এলাকাবাসী। পরে দুজনকে জনসম্মুখে বেঁধে রেখে পুলিশে খবর দেয়। এ ঘটনায় পুলিশের ভাবমূর্তি প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। পরে ঘটনার সঙ্গে জড়িত পুলিশ কনস্টেবল মোরশেদকে সাময়িক বরখাস্ত করেছেন পুলিশ সুপার। ঘটনাটি ঘটেছে রায়পুর উপজেলার কেরোয়া গ্রামের ৭ নং ওয়ার্ডের প্রাবাসী মিজানের বাড়িতে। এলাকাবাসী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, রায়পুর থানার পুলিশ সদস্য মোরশেদ দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসী মিজানের ঘরে আসা-যাওয়া করতেন। এতে স্থানীয়দের মাঝে সন্দেহ দেখা দেয়। অন্য সময়ের মতো শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে পুলিশ সদস্য মোরশেদ প্রবাসী মিজানের ঘরে ঢুকতে দেখে প্রতিবেশীরা। এতে এলাকাবাসী একত্র হয়ে যৌন মিলনের কাজে লিপ্ত অবস্থায় তাদের দুজনকে আটক করে গণধোলাই দেয়। পরে পুলিশ কনস্টেবল মোরশেদ ও শাহিনুর বেগমকে জুতার মালা দিয়ে বিভিন্ন স্থানে ঘুরিয়ে দুজনকে উন্মুক্ত স্থানে বেঁধে রাখে পুলিশে খবর দেয় এলাকাবাসী। পরে পুলিশ গিয়ে তাদের উদ্ধার করে। রায়পুর থানা পুলিশ তাদের ঊর্ধ্বতন জেলা পুলিশ সুপারকে ঘটনাটি অবহিত করেন। নাম প্রকাশে কয়েকজন এলাকাবাসী জানায়, রক্ষক যখন ভক্ষক হয়, তাহলে সাধারণ মানুষ যাবে কোথায়। এসব গল্প কাহিনী বলে দোষী পুলিশের শাস্তি দাবি করেন তারা। তবে এ বিষয়ে জড়িত পুলিশ কনস্টেবল মোরশেদ কোনো কথা বলতে রাজি নয়। এ ব্যাপারে রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রুপক কুমার সাহা ও ওসি তদন্ত নাছিরুজ্জামানের সঙ্গে মোবাইল ফোনে বার বার কথা বলার চেষ্টা করেও কোনো লাভ হয়নি। বরং তারা বিষয়টি এড়িয়ে যান। এ ব্যাপারে জেলা পুলিশ সুপার ফয়েজ আলম বলেন, এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ সদস্য মোরশেদকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে জেলা পুলিশ লাইনে ক্লোজ করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে আরো তদন্ত চলছে। তদন্তের পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। উৎসঃ প্রাইমনিউজ Share on facebook Share on email Share on print

ইসলামের সাথে বৈরিতা করে কেউ রেহাই পায়নি
28 Jan, 2014 ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর ও চরমোনাইপীর মুফতী সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বলেছেন, ইসলামের সাথে বৈরিতা করে ইতিহাসে কেউ রেহাই পায়নি বর্তমানে কেউ পাবে না। বর্তমান তাগুতি শাসন ব্যবস্থার পরিবর্তে ইসলামকে শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণে উলামায়ে কেরামরা অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। আর উলামায়ে কেরাম যখন তাগুতের সহযোগি হয়ে যায় তখন ইসলামদ্রোহী শক্তিগুলো ইসলামের বিরুদ্ধে ঝেঁকে বসে। সোমবার বিকেলে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কুমিল্লার মেঘনা উপজেলা শাখার উদ্যোগে মেঘনার মাইনকারচরে এক মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত উলামা ও সুধী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। মুফতী সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বলেন, ‘ইসলামের ধারক-বাহকরা যখন অভিশপ্ত নারী নেতৃত্ব মেনে নেন, তখন আল্লাহর গজব আসাই স্বাভাবিক। ইসলামকে আজ জঙ্গি প্রমাণে মরিয়া একটি গোষ্ঠী। ইসলাম জঙ্গিবাদকে সমর্থন করে না। এখনও উলামায়ে কেরাম ঐক্যবদ্ধ না হলে এবং ইসলাম প্রতিষ্ঠায় এগিয়ে আসতে না পারলে অদূর ভবিষ্যতে ইসলাম নিয়ে বেঁচে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে। একটি সুন্দর, সমৃদ্ধ ও আধুনিক দেশ গড়ার লক্ষ্যে এবং গণমানুষের অধিকার আদায়ে আরো একটি সংগ্রামে উলামায়ে কেরামদের অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। একটি বৈপ্লবিক পরিবর্তন ছাড়া এদেশের মানুষের ভাগ্যের কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন সম্ভব নয়। পরিবর্তনের এই বিপ্লবের সূচনা করতে না পারলে জাতিকে আরো চরম খেসারত দিতে হতে পারে।’ অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন জেলা সভাপতি কাজী এম. রফিকুল ইসলাম, কফিল উদ্দিন, মোবারক হোসেন, মুফতী মাওলানা তাজুল ইসলাম, মাওলানা সিরাজুল ইসলাম, ডা. আবদুল জলিল, মাওলানা মু. ইসহাক ও মাওলানা হাফেজ আলআমিন প্রমুখ। উৎসঃ primenewsbd Share on facebook Share on email Share on print