বুধবার, ১৩ নভেম্বর, ২০১৩
মুসলিম ব্রাদারহুডের সংস্কার মিশন
13 Nov, 2013
বিপ্লবোত্তর মিশরের রাষ্ট্র ক্ষমতা গ্রহণে মুসলিম ব্রাদারহুডের কোনো প্রস্তুতিই ছিল না। এমনকি বিশ্বমোড়ল যুক্তরাষ্ট্রও এ ধরনের সরকার মেনে নিতে প্রস্তুত ছিল না। উভয়ের মধ্যে একটা পারস্পরিক সন্দেহ বিরাজ করছিল।
মুসলিম ব্রাদারহুড নিজেদের সংস্কার সাধন না করে, তাহলে পশ্চিমারা তাদের মিশরের রাষ্ট্র ক্ষমতায় মেনে নিবে না, এটাও নিশ্চিত ছিল। সুতরাং, মুসলিম ব্রাদারহুডের উচিত তাদের কর্মকাণ্ডে তাৎক্ষণিকভাবে ইস্তফা দিয়ে আরো সময় নিয়ে পুনরায় সংগঠিত হওয়া। আর এটা হবে ধর্ম, সমাজ ও রাজনীতি নিয়ে তাদের ভিশন সম্পর্কে নতুন করে চিন্তার মধ্যদিয়ে।
সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে এখন লড়াই করে মুসলিম ব্রাদারহুড কিছুই অর্জন করতে পারবে না। কারণ মিশরের সেনাবাহিনী মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের সবচেয়ে শক্তিধর এবং নির্মম। অন্যদিকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারেরও উচিৎ ব্রাদারহুডের নেতাদের মুক্ত করে দেয়া। যেন সংগঠনটি চরমপন্থার দিকে পা না বাড়ায়।
মিশরের ইসলামপন্থি দলগুলোর ধ্যান-ধারণা পর্যালোচনা করে বলা যায়, আরবের সবচেয়ে জনবহুল দেশ মিশরকে শাসন করতে হলে ব্রাদারহুডকে নিজেদের মধ্যে বেশ কয়েকটি সংস্কার আনতে হবে;
১. তিউনিসিয়া এবং তুরস্ক থেকে শিক্ষা গ্রহণ
মুসলিম ব্রাদারহুডকে তুরস্ক এবং তিউনিসিয়ার কাছে থেকে শিক্ষা নিয়ে সমাজের ‘বহুমুখিতা’ মেনে নিতে হবে। আর এটাও মেনে নিতে হবে যে, সেক্যুলার রাষ্ট্র মাত্রই ইসলাম বিরোধী নয়। প্রকৃতপক্ষে একটি সেক্যুলার রাষ্ট্রই মিশরের ইসলামপন্থি, কপটিক খ্রিষ্টান এবং অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে পারে।
২০১২ সালের জুনে তিউনিসিয়ার ইসলামপন্থি দল আন্না হাদার প্রধান রশীদ ঘানুসি মুসলিম ব্রাদারহুডকে পরামর্শ দেন, মুরসি যদি সেক্যুলারদের ক্ষমতার ভাগ না দেন, তাহলে তাহরির স্কয়ারের বিপ্লবীরাও তাকে আর সমর্থন করবে না। তিউনিসিয়ায় ইসলামপন্থিরা সংবিধানে ইসলামি আত্মপরিচয়কে একটি মূলনীতি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চায়নি। কিন্তু মিশরের ইসলামপন্থিরা সংবিধানে মিশরীয়দের ইসলামি আত্মপরিচয়কে প্রতিষ্ঠার জন্য জান-প্রাণ লড়াই করে। এতে করে সেক্যুলাররা ভয় পেয়ে যায়।
তেমনিভাবে তুরস্কের এরদোগানও প্রকাশ্যেই বলাবলি করেন, ব্রাদারহুড ভুল পথে হাঁটছে। ২০১১ সালে তিনি প্রকাশ্যে মিশরের নেতাদের গণতন্ত্র মেনে নেয়ার আহবান জানান এবং বলেন, সেক্যুলারিজম মানে ‘ধর্মহীনতা’ নয়। কিন্তু এর জবাবে ব্রাদারহুডের মুখপাত্র এসাম আল আরিয়ান মন্তব্য করেন, তুরস্কের কাছ থেকে মিশরকে গণতন্ত্র শিখতে হবে না।
এরদোগান এবং ঘানুসি উভয়েই নিজ দেশের সেক্যুলার রাষ্ট্রযন্ত্রের ক্ষমতা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল ছিলেন। তারা জানতেন, ইসলামপন্থিরা তাদের প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে গেলে সেক্যুলাররাও বসে থাকবে না। এছাড়া মুরসি সমর্থকরা আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের সেক্যুলার এবং আধুনিক অ-ইসলামপন্থি মুসলিম, কপটিক খ্রিষ্টান, রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত গণমাধ্যম এবং বিচার বিভাগের জনমত গঠনের ক্ষমতা সম্পর্কে কোনো ধারণাই করতে পারেনি। এছাড়া পশ্চিমারাও তাদের পুরো চার বছর ধরেই সমর্থন দিয়ে যাবে এটা ভাবাটাও ভুল ছিল। আর তারা সবচেয়ে ভয়াবহ ভুলটি করেছিল সেনাবাহিনী তাদের প্রতি অনুগত থাকবে, এটা ভেবে।
২. অভিজাতদের সঙ্গে সমঝোতা
মুসলিম ব্রাদারহুডের প্রতিষ্ঠাতা হাসানুল বান্নার সময় (১৯০৬-১৯৪৯) সংগঠনটির সফলতার একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ ছিল তিনি মিশরের অভিজাত শ্রেণী বিশেষ করে কায়রোর অভিজাত শ্রেণীর চরিত্র ভালো মতোই বুঝতেন। তিনি নিয়মিতই ন্যাশনাল অপেরা হাউজে যেতেন এবং রাজা প্রথম ফারুকের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন। এছাড়া তিনি গণমাধ্যম এবং সেনাবাহিনীর ক্ষমতা সম্পর্কেও ওয়াকিবহাল ছিলেন। তিনি আরব জগতের প্রথম ম্যাগাজিনগুলোর একটির প্রতিষ্ঠাতা। এমনকি ১৯৫২ সালের মিশরীয় বিপ্লবের নেতা মোহাম্মদ নাগিব এবং গামাল আব্দুন নাসেরও এক সময় তার অনুসারি ছিলেন।
আধুনিক ব্রাদারহুডকেও সফল হতে হলে তাদের শুধু রাস্তায় পড়ে থাকলে হবে না বরং সেই একই অভিজাতদের সঙ্গেই আবারো সমঝোতা করতে হবে। মিশরের অভিজাতরা ব্যক্তিগতভাবে অধার্মিক নন। তারা নিয়মিত নামায পড়েন। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে দান-সদকা করেন। আল-আজহারের বিখ্যাত পণ্ডিতদের পৃষ্ঠপোষকতা করেন। অভিজাতদের আবাসিক এলাকাগুলোর মসজিদগুলো মিশরের সবেচেয় ধনী মসজিদ। কিন্তু ব্রাদারহুড তাদের এই ধার্মিকতা বোঝে না। কারণ মুসলিম ব্রাদারহুড ইসলামকে শুধু একাট্টা একটি রাজনৈতিক আদর্শ হিসেবেই বিবেচনা করে।
অন্যদিকে এই অভিজাতরাও ব্রাদারহুডকে বুঝতে পারে না। তারা সংগঠনটিকে খুবই সন্দেহের চোখে দেখে থাকেন। মুসলিম ব্রাদারহুড সম্পর্কে গণমাধ্যম এবং সেনাবাহিনী চরমপন্থার যে অভিযোগ করে, তারা সেটাই বিশ্বাস করে। তারা সালাফি সংগঠন এবং ব্রাদারহুডের মধ্যে কোনো ফারাক করতে পারেন না।
৩. সালাফিদের সঙ্গ ত্যাগ
সালাফিদের সঙ্গে ব্রাদারহুডের আদর্শের অনেক ক্ষেত্রে মিল থাকার কারণেই মিশরে তাদের মূলধারার সমাজবহির্ভূত সংগঠন হিসেবে গণ্য করা হয়। উদাহরণত, ব্রাদারহুড সদস্যরা যখন তুরস্ক সফরে যায়, সেখানে তারা এরদোগানের জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টির নারী সদস্যদের সঙ্গে ছবি তুলতে অস্বীকৃতি জানায়। তাদের ভয়, সালাফিরা এসবের ব্যবহার করে তাদের ইসলামপন্থি ইমেজ ধ্বংস করার চেষ্টা করবে।
এছাড়া ব্রাদারহুড নিজেদের ইসলামপন্থি ইমেজকে আরো শক্তিশালী করার আশায় সালাফিদেরও ক্ষমতার ভাগিদার করে। এমনকি তাদের মিশরের সংবিধান রচনার প্রক্রিয়াতেও অংশ নেয়ার সুযোগ করে দেয়। সালাফিদের সঙ্গে তারা নিয়মিতই ওঠা-বসা এবং আলোচনা সভা করতো। এর মাধ্যমে সালাফি এবং জিহাদিদের সরকারবিরোধী সংঘাত থেকে বিরত রাখা গেলেও তা মিশরের ভোটারদের মনে আস্থা স্থাপন করতে পারেনি।
তাছাড়া সাধারণ জনগণ সালাফিদের কিছু চরমপন্থি কর্মকাণ্ডের জন্য ব্রাদারহুডের বিরুদ্ধে নিয়মিতই অভিযোগ করতে থাকেন। ব্রাদারহুডের প্রশ্রয় পেয়েই সালাফিরা গ্রামে প্রায়ই শরীয়া আদালত বসিয়ে বিচার করাসহ খ্রিষ্টান নারীদেরও বোরখা পরতে বাধ্য করার মত ঘটনা ঘটায়। সুতরাং ব্রাদারহুডের উচিত এখনই সমাজের মূলধারায় ফিরে আসা।
৪. ব্যক্তি নয়, প্রতিষ্ঠানকে প্রাধান্য
মুরসি প্রশাসন প্রায়ই ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠানকে গুলিয়ে ফেলতো। এর ফলে ব্রাদারহুড রাজনৈতিকভাবে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। উদাহরণত, প্রেসিডেন্ট মুরসি এবং জেনারেল আব্দুল ফাত্তাহ আল সিসি কায়রোর প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে প্রায়ই একসঙ্গে নামায পড়তেন এবং আল সিসির স্ত্রী হিজাব পরতেন। আল সিসির ব্যক্তিগত এই ধর্মপরায়ণতা দেখে মুরসি মনে করেন, পুরো সেনা বাহিনীই হয়তো তাদের মেনে নিয়েছে। কিন্তু মিশরীয় সেনা বাহিনীর জাতীয়তাবাদ, সেক্যুলারবাদী আদর্শ এবং সাধারণভাবে ব্রাদারহুড বিরোধী অবস্থান বুঝতে মুরসি পুরোপুরি ব্যর্থ হন।
আর ব্রাদারহুড এবং প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূত অ্যানি পিটারসেনের ঘনিষ্টতা দেখে মুরসি মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের পুরোপুরি সমর্থন করছে। একইভাবে মুরসি ফিলিস্তিনের গাজার শাসক দল হামাসের চরমপন্থার কথা ভুলে গিয়েই সংগঠনটির নেতাদের সঙ্গে সখ্যতা করেন।
এছাড়া, মুসলিম ব্রাদারহুডের নিজেকেও একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবেই গড়ে তুলতে হবে। মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে মিশরের সেনাবাহিনী, বিচার বিভাগ এবং গণমাধ্যমের অনেক লোকেরই ব্যক্তিগত যোগাযোগ আছে, যা সংগঠনটির অনেক কাজেই লাগতে পারে। কিন্তু তা যথেষ্ট নয়। অভিজাত শ্রেণীর সামান্য কিছু লোকের সঙ্গে ব্যক্তিগত যোগাযোগ দিয়েই ব্রাদারহুড ক্ষমতায় ফিরে আসতে পারবে না।
৫. নারী ও তরুণদের দলে ভেড়ানো
মিশরের জনসংখ্যার অর্ধেকেরও বেশি নারী এবং প্রতি তিনজন নাগরিকের একজনের বয়সই ২৮ বছরে নিচে। এমন একটি দেশে মুসলিম ব্রাদারহুড একটি মধ্যযুগীয় সংগঠনের মতো আচরণ করলে তো টিকে থাকতে পারবে না। বর্তমানে তাদের নারীদের জন্য মুসলিম সিস্টারহুড নামে একটি আলাদা সংগঠন আছে। কিন্তু মূল সংগঠনে নারীরা সদস্য হতে পারেন না।
অথচ তিউনিসিয়ার ইসলামপন্থি দল আন্না হাদার নারী সদস্যরা দলটিতে একটি বড় ভূমিকা পালন করে থাকেন। তারা পুরুষদের সঙ্গে সমানতালেই চলেন। তেমনিভাবে তুরস্কের ইসলামপন্থি নারীরাও পুরোপুরি পশ্চিমা পোশাক পরেই পার্লামেন্টে হাজির হন। তাদের অনেকেই হয়তো হিজাব পরেন কিন্তু বেশিরভাগই মাথা খোলা রেখেই চলাফেরা করেন। কিন্তু তাদের ধার্মিকতা নিয়ে কারো কোনো সংশয় নেই।
ব্রাদারহুডেরও উচিৎ তুরস্ক এবং তিউনিসিয়ার ইসলামপন্থিদের মতই নারীদের মূলধারার সাংগঠনিক কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে পশ্চাৎপদতার যে অভিযোগ আছে, তা থেকে মুক্ত হওয়া। ব্রাদারহুডের বেশিরভাগ নেতাই বর্তমানে জেলে বন্দি হওয়ায় এখন ব্রাদারহুডের নারী এবং তরুণ সদস্যদের জন্য একটা সুযোগ এসেছে নেতৃত্বের প্রথম সারিতে চলে আসার।
৬. শরীয়ার চেতনা ব্যাখ্যা
উপরে সংস্কারের যে রূপরেখা টানা হলো তা একটি মৌলিক প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পেতে সহায়ক হবে। প্রশ্নটি হলো- ইসলামি রাষ্ট্র মানে কী? ব্রাদারহুডের পুরোনো স্লোগান ‘ইসলামই সমাধান’ বা ‘কোরআনই আমাদের সংবিধান’ এসব আর চলবে না। ব্রাদারহুডও ক্ষমতায় আসার পর এসব স্লোগান না আউড়িয়ে বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়েছে। কিন্তু ব্রাদারহুডের তৃণমূল পর্যায়ের সদস্যরা এর তাৎপর্য অনুধাবনে ব্যর্থ হয়েছে। তারা বুঝতে পারেনি ‘কোনো স্বর্গীয় কিতাব’ মিশরের সংবিধান হতে পারে না। তিউনিসিয়ার ইসলামপন্থি দল আন্না হাদার প্রধান নেতা রশীদ ঘানুসিও এই নির্মম সত্যটি মেনে নেন।
এটা নিছকই পশ্চিমাদের বা সেক্যুলারদের শান্ত করার কোনো কৌশল নয়। বরং ইসলামি আইন শাস্ত্রের মধ্যেই এর শেকড় নিহিত রয়েছে। মুসলিম ব্রাদারহুডের প্রতিষ্ঠাতা হাসানুল বান্নার নাতী অক্সফোর্ডভিত্তিক একাডেমিশিয়ান তারিক রামাদান আধুনিক জামানায় শরীয়ার লক্ষ্য উদ্দেশ্য কী হওয়া উচিৎ তা ব্যাখ্যা করে গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছেন। তিনি ‘মাকাসিদ আল শরীয়াহ’ নামে একটি তত্ত্ব হাজির করেন। ধ্রুপদী মুসলিম পাণ্ডিত্যের চিন্তা ধারার ওপর ভিত্তি করেই তিনি এটা করেন। এই তত্ত্ব আইনের লক্ষ্য এবং চেতনার মধ্য দিয়েই ইসলামি শরীয়াকে বুঝার তাগিদ দেয় এবং আইনের কোনো একটি বিশেষ ধারার আক্ষরিক ব্যাখ্যার ওপর ভিত্তি করেই শুধু শরীয়ার মর্ম সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নিতে বারণ করে। কিন্তু ইসলামের এই ঐতিহ্য সম্পর্কে ব্রাদারহুড একদমই ওয়াকিবহাল নয়।
মাকাসিদের পথে না হাঁটলে মুসলিম ব্রাদারহুড নাগরিক মডেলের অনুসরণে নারী এবং ধর্মীয় স্বাধীনতার নায্যতা প্রতিপাদন করতে পারবে না। ব্রাদরহুড যদি রক্ষা পেতে চায় তাহলে তাদের অবশ্যই ‘মাকাসিদ আল শরীয়াহ’ তত্ত্ব প্রকাশ্যেই গ্রহণ করতে হবে এবং তার সৈনিকদের এ তত্ত্বের আলোকেই দীক্ষিত করে তুলতে হবে।
এভাবে, ভবিষ্যতে ব্রাদারহুড নিয়ন্ত্রিত একটি পার্লামেন্ট শুধু নারীদের খৎনা করানো বা অপ্রাপ্ত বয়স্ক নারীদের বিবাহের ইস্যু নিয়েই তর্ক-বিতর্ক করবে না বরং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, বেকারত্ব দূরীকরণ, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং সব মিশরীয়দের জীবনে সমৃদ্ধি অর্জনের মতো বিষয়গুলো নিয়ে তর্ক-বিতর্কে লিপ্ত হবে।
(ইসলামিক আদর্শ, রাজনীতি বিশেষ করে বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্যে ইসলামী আন্দোলন ও সুশীল সমাজ, সালাফি, সুফী এবং মিশরসহ আরবের রাজনৈতিক বৈশিষ্ট্য বিষয়ে বিশেষজ্ঞ এড হুসেন। মিডল-ইস্টার্ন স্টাডিজের সিনিয়র এই ফেলোর লেখা ‘রিফর্মমিং দ্যা মুসলিম ব্রাদারহুড’ শিরোনামের নিবন্ধ থেকে লেখাটি অনূদিত।)
উৎসঃ আরটিএনএন
মঙ্গলবার, ১২ নভেম্বর, ২০১৩
পৃথিবীর অসাধারণ কিছু জ্ঞানঘর
28 Oct, 2013
জ্ঞান সৃষ্টিকর্তার দান। জ্ঞানী চিরদিন বেঁচে থাকে না। তার মানে কি জ্ঞানীর প্রস্থানের পরই তার আলো থেকে বঞ্চিত বিশ্ব। না, এমনটি হয়নি হবারও নয়। বিশ্বখ্যাত জ্ঞানীদের আলো মানব সভ্যতায় যুগের পর যুগ বিতরণ করে চলেছে একজন। না, তিনি কোনো ব্যক্তি নন। প্রতিষ্ঠান, লাইব্রেরি। অসীম জ্ঞানের আঁধার।
পৃথিবীর সবচেয়ে নিরব জায়গাগুলোর অন্যতম লাইব্রেরি। কিন্তু এ নিরব জায়গাগুলোই অসংখ্য সরব চিন্তা, তত্ত্ব ও তথ্যের আশ্রয়। থাকে বর্তমান ও ভবিষ্যতের দিক-নির্দেশনা। আর থাকে এখন পর্যন্ত মানবজাতির হেঁটে যাওয়া পায়ের ছাপ। সব যুগেই লাইব্রেরি ছিল জ্ঞানপিপাসু মানুষের আশ্রয়স্থল। প্রয়োজনটা প্রায় অভিন্ন থাকলেও সময়ের পালাবদলে লাইব্রেরির গঠনে আসছে অনেক পরিবর্তন।
এখন একেকটা লাইব্রেরি যেন একেকটা শিল্পকর্ম, নান্দনিকতার অনন্য উদাহরণ। পৃথিবীর এমন কয়েক’টি অসাধারণ লাইব্রেরির সঙ্গে আরটিএনএন’র পাঠকদের পরিচয় করিয়ে দিচ্ছি;
১. স্টুটগার্ট সিটি লাইব্রেরি
জার্মানির স্টুটগার্টে এ লাইব্রেরি অবস্থিত। বইয়ের তাকগুলো ওপরের পাঁচটি মেঝেতে অবস্থিত। সিঁড়িগুলো এমনভাবে বানানো হয়েছে যেন মনে হয় একেকটা ফানেল। কৃত্রিম ও প্রাকৃতিক আলোর সমন্বয়ে এমন সুন্দরভাবে সাজানো হয়েছে যেন সতেজতা বিরাজ করে আশেপাশে! সাধারণের মাঝে অনন্য এ লাইব্রেরিটি। বাহিরের দিক থেকে দেখলে মনে হবে বিশাল একটি কিউব/ঘনাকৃতির স্থাপনা। স্বচ্ছ ছাদ দিয়ে সূর্যের আলো ঢুকতে পারে। রাতের বেলা লাইব্রেরিটির এমন আলোকসজ্জা করা হয়, মনে হয় যেন একটি রুবিকস কিউব।
২. সিয়াটল পাবলিক লাইব্রেরি
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন সিটির সিয়াটলে ২০০৪ সালে উদ্বোধন হওয়া এ লাইব্রেরিটি একটি অত্যাধুনিক লাইব্রেরি। লাইব্রেরিটির ডাচ স্থপতি রেম কোলহাস বলেন, একবিংশ শতাব্দীর লাইব্রেরি শুধু অনেকগুলো বইয়ের তাক হবে না বরং হবে একটা তথ্য ভাণ্ডার, যেখানে নতুন-পুরাতন সব ধরনের তথ্য পাওয়া যাবে। পাঠকক্ষগুলোকে সিলিকন ভ্যালির অফিস কক্ষের মত মনে হবে! পুরো বিল্ডিংটাই অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে সমৃদ্ধ। সেখানে বই অনুসন্ধান থেকে শুরু করে হাতের কাছে বই চলে আসা সবগুলোই হয় প্রযুক্তির সহায়তায়। আছে বিশ্রামাগার, বাচ্চাদের থাকার জায়গাসহ আরো অনেক নাগরিক সুবিধা।
৩. সেইন্ট ফ্লোরিয়ান মঠ
৮১৯ সাল থেকেই অনেকগুলো মঠ লাইব্রেরির কাজে ব্যবহার হচ্ছে। কিন্তু অস্ট্রিয়ার বর্তমানের এ অনন্য স্থাপনাটি ১৮ শতকে তৈরি হয়। লাইব্রেরির ভেতরের কাঠামোটা ‘বারোক’ স্থাপত্য রীতিতে তৈরি। সিলিং আছে অসাধারণ ফ্রেসকো পেইন্টিং যেটাকে দেখলে মনে হবে মেঘ থেকে কোনো রূপকথার জগতের প্রাণীরা কক্ষটির পাঠকদের দেখছে!
৪. ট্রিনিটি কলেজ ওল্ড লাইব্রেরি
আয়ারল্যান্ডের সবচেয়ে বড় বইয়ের সংগ্রহ রয়েছে এ লাইব্রেরিটিতে। ১৫৯২ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়া এ লাইব্রেরির বইয়ের সংগ্রহ বেড়েই যাচ্ছে। ১৮ শতকের প্রথম দিকে আইরিশ স্থপতি থমাস বার্গ এ নতুন স্থাপনাটির কাজ শুরু করেন। দেশের একটি পুরোনো লাইব্রেরি হিসেবে এটি এখন পর্যটকদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু। এটি ডাবলিনে অবস্থিত।
৫. বিব্লিওথেকা
খ্রীষ্টপূর্ব তৃতীয় শতকে প্রতিষ্ঠিত এ লাইব্রেরিটি তৃতীয় শতকে ধ্বংসযজ্ঞের মুখোমুখি হওয়ার আগে ছিল বিশ্বের একটি প্রাচীনতম ও গুরুত্বপূর্ণ জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র। ২০০২ সালে তৈরি শেষ হওয়া নতুন বিব্লিওথেকা, আলেকজান্দ্রিয়ার লক্ষ্যও হলো জ্ঞানচর্চার নতুন কেন্দ্রবিন্দু হওয়া। প্রাচীন স্থাপত্যের সঙ্গে আধুনিক বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার সমন্বয়ে এ লাইব্রেরিটি হয়ে উঠছে জ্ঞানপিপাসু মানুষদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু। মুসলিম বিশ্ব সভ্যতার আঁধার খ্যাত মিশরের আলেকজান্দ্রিয়ায় এটির অবস্থান।
৬. ক্লেমেনতিনাম
চেক রিপাবলিকের ন্যাশনাল লাইব্রেরির প্রধান স্থাপনা এ ক্লেমেনতিনাম। এটি অনেকগুলো ঐতিহাসিক ভবনের ওপর প্রতিষ্ঠিত। সবচেয়ে প্রাচীনতম ভবনটি ১১ শতকের।
৭. ইউনিভার্সিটি অব এবারদিন নিউ লাইব্রেরি
ইংরেজি ভাষার সবচেয়ে প্রাচীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের একটি হল দ্যা ইউনিভার্সিটি অব এবারদিন। প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ১৪৯৫ সালে। কিন্তু এর নতুন লাইব্রেরিটির কাজ গত বছর শেষ হয়। ডেনমার্কের স্থপতি স্মিট হ্যামার লাসেন এমনভাবে এটি নির্মাণ করেন যেন মনে হয় এটি অতীতের কোনো এক যুগে আটকে রয়েছে। অবশ্য অত্যাধুনিক সব সুবিধার কোনো কমতি নেই সেখানে! বাহির থেকে একটা বাক্সের মত মনে হলেও ভেতরটা একবারে আলাদা। আটতলা এ লাইব্রেরিটির সিঁড়িগুলো বাঁকানো এবং ভিতরে রয়েছে যথেষ্ঠ প্রাকৃতিক ও কৃত্রিম আলো বাতাসের ব্যবস্থা। এখানে প্রায় ১২০০ পাঠক আলাদা আলাদাভাবে পড়তে পারে। এবারদিন স্কটল্যান্ডকে বিশ্বে আলাদাভাবে পরিচিত করে তুলেছে।
৮. জর্জ পিবডি লাইব্রেরি
বাল্টিমোরের স্থপতি এডমান্ড জি. লিন্ড এটি শেষ করেন ১৮৭৮ সালে। এ লাইব্রেরিটিকে উত্তর আমেরিকার সবচেয়ে সুন্দরতম লাইব্রেরির একটি হিসেবে সন্মান করা হয়। লাইব্রেরির ভেতরের অংশটি পর্যটকদের কাছে সবচেয়ে আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। ৬১ ফুট উপরের ছাদ দিয়ে আসা সূর্যের আলোতেই আপনি পড়ে ফেলতে পারবেন। সাদা-কালো মার্বেলের ফ্লোরটিকে সূর্যের আলো অসাধারণ আলোয় আলোকিত করে রাখে।
৯. মোশাসিনো আর্ট ইউনিভার্সিটি মিউজিয়াম অ্যান্ড লাইব্রেরি
প্রত্যেক লাইব্রেরিতেই চেয়ার টেবিলের সঙ্গে আরেকটি প্রধান অনুসঙ্গ হলো বইয়ের তাক। জাপানি স্থপতি সু ফুজিমোতু পুরো লাইব্রেরিটাকেই বানিয়ে ফেলেছেন তাকের মত করে। প্রত্যেকটা দেয়াল যেন একেকটা তাক। যদিও প্রত্যেকটা তাকে বই নেই কিন্তু এটা যেন উত্তরাধুনিক স্থাপনার একটি অনন্য নিদর্শন। যান্ত্রিক সভ্যতার পথ প্রদর্শক জাপানের টোকিও-তে এটির অবস্থান।
১০. হোসে ভাসকনসেলোস লাইব্রেরি
একটি বিশাল দুর্গাকৃতির এ লাইব্রেরিটির চতুর্দিকে আছে ১২৫,০০০ বর্গফুটের একটি বাগান। মেক্সিকোতে শিক্ষার হার বাড়ানোর স্বপ্ন থেকে এ লাইব্রেরিটির নকশা করেন স্থপতি আলবার্তো কালাচ। এ লাইব্রেরিটিতে ১.৫ মিলিয়ন বই রাখার জায়গা রয়েছে।
উৎসঃ প্রাইমনিউজবিডি
ভারতীয় সুপ্রিমকোর্টের বিচারপতির বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ
12 Nov, 2013
সদ্য অবসর নেওয়া অবসরপ্রাপ্ত সুপ্রিমকোর্টের এক বিচারপতির বিরুদ্ধে যৌননির্যাতনের অভিযোগ আনলেন এক তরুণী আইনজীবী। কলকাতার আইন বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই ছাত্রী ডিসেম্বরে সুপ্রিমকোর্টের অভিযুক্ত ওই বিচারপতির অধীনে শিক্ষানবিশ ছিলেন।
অভিযোগে তিনি বলেন, গত বছর ডিসেম্বর শিক্ষানবিশকতা করার সময়ই তিনি ওই বিচারপতির দ্বারা যৌন নির্যাতনের শিকার হন। টাইমস অব ইন্ডিয়ায় এ খবর প্রকাশের পর ভারতের প্রধান বিচারপতি পি সাথাসিবম তিন সদস্যের বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন এবং তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
অভিযোগকারী ওই আইনজীবী তাঁর উপর হওয়া যৌননির্যাতনের উল্লেখ করেন একটি ব্লগে। পরে 'লিগালি ইন্ডিয়া' নামের একটি ওয়েবসাইটে পুনরায় এই ঘটনার উল্লেখ করেছেন।
নিগৃহীতা তরুণী অভিযোগ করেছেন দিল্লিতে ১৬ ডিসেম্বরের গণধর্ষণ কাণ্ডে সারা দেশ যখন প্রতিবাদে উত্তাল তখন দিল্লিরই একটি হোটেলে `ঠাকুরদার বয়সী` ওই বিচারক তাঁর উপর যৌননিগ্রহ চালায়।
ঘটনার পর মেয়েটি বিষয়টি নিয়ে নিশ্চুপ থাকার কারণে নিজেকে ভীতু বলে অভিহিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন ভবিষ্যতে কোনও মেয়ে যাতে এই ধরণের নিগ্রহের শিকার না হয় তাই তিনি বর্তমানে সোচ্চার হয়েছেন।
ঘটনার পর কেন তিনি চুপ ছিলেন মেয়েটির কাছে এ কথা জানতে চাইলে তিনি জানান ঘটনার আকস্মিকতায় তিনি এতটাই হতবাক হয়ে গিয়েছিলেন যে সেই সময় কোনও প্রতিক্রিয়া জানাবারও অবস্থায় ছিলেন না তিনি।
নিজের উপর নিগ্রহের কথা প্রকাশ করে নিগৃহীতা আইনজীবী জানিয়েছেন 'আমি অন্তত চারজনকে চিনি যাঁদেরকে ওই বিচারক যৌন নিগ্রহ করেছে। তাঁদের মধ্যে একটি মেয়েতো দীর্ঘদিন ধরে ওই ব্যক্তির বিকৃত লালসার শিকার হয়ে ছিলেন।'
তবে ব্লগে নিজের বক্তব্য জানাবার সংবাদ মাধ্যমের কাছে নতুন করে আর কিছু জানাতে চাননি অভিযোগকারী আইনজীবী।
উৎসঃ কালের কণ্ঠ
Share on facebook Share on email Share on print 2
জাতীয় মশকরা
13 Nov, 2013
বেইলী রোডেও এমন নাটক কখনও মঞ্চস্থ হয়েছে কিনা- তা নিশ্চিত করে বলা যায় না। নাটকপ্রবণ বাংলাদেশের রাজনীতিতে সোমবার যা ঘটে গেল তা একেবারেই অভিনব। সুনিশ্চিত করে বলতে গেলে, অভিধানের কোন শব্দই আসলে এ নাটককে কাভার করে না। ‘সংবিধান, সংবিধান’ বলে মুখে ফেনা তুলে ফেলা মহাজোট সরকার সংবিধান নিয়ে কি তামাশাটাই না করলো! তবে মশকরা এখনও শেষ হয়নি। এ লেখার ২৪ ঘণ্টা আগে আমরা জানতাম, মন্ত্রীরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, প্রধানমন্ত্রী যাদের নির্বাচনকালীন মন্ত্রিসভায় রাখতে চান তাদের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করবেন না। বাকিদের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে প্রেসিডেন্টের কাছে পাঠিয়ে দেবেন। যেখানে সংবিধান অনুযায়ী যে কোন সময় মন্ত্রিসভা পুনর্গঠনের এখতিয়ার প্রধানমন্ত্রীর রয়েছে সেখানে পদত্যাগের এ ক্যামেরা শো’র কি প্রয়োজন ছিল সে প্রশ্ন এরই মধ্যে উঠেছে। সংবিধান বিশেষজ্ঞরা সাফ জানিয়ে দেন, পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা না করার কোন এখতিয়ার প্রধানমন্ত্রীর নেই। পদত্যাগপত্র দেয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মন্ত্রীদের পদত্যাগ কার্যকর হয়ে যায়। অবশ্য এটা বোঝার জন্য সংবিধান বিশেষজ্ঞ হওয়ার প্রয়োজন নেই। সংবিধানের ৫৮(১) অনুচ্ছেদ একেবারেই স্পষ্ট। ওই অনুচ্ছেদে বলা আছে, ‘প্রধানমন্ত্রী ব্যতীত অন্য কোন মন্ত্রীর পদ শূন্য হইবে, যদি- ক) তিনি রাষ্ট্রপতির নিকট পেশ করিবার জন্য প্রধানমন্ত্রীর নিকট পদত্যাগপত্র প্রদান করেন।’ পদত্যাগের পরও মন্ত্রীদের চেয়ারে বসে থাকা নিয়ে যখন বিতর্ক তুঙ্গে তখন আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদের বক্তব্য বিস্ময়কর। গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, মন্ত্রীরা প্রধানমন্ত্রীর হাতে যা দিয়েছেন তা আদতে পদত্যাগপত্রই নয়, কেননা তা প্রেসিডেন্ট বরাবর দেয়া হয়নি। আইনমন্ত্রীর ভাষায়, এটা পদত্যাগই না। এটা আনুষ্ঠানিকতা মাত্র। যদিও এ কিসের আনুষ্ঠানিকতা ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ তা বলতে পারেননি অথবা বলতে চাননি। সরকারে যোগ দেয়ার আগে ব্যারিস্টার শফিক আহমেদের সংবিধান নিয়ে দেয়া বিভিন্ন মতামত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হতো। তিনি এখন বলছেন, মন্ত্রীরা কেউ পদত্যাগ করেননি, তারা অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছেন। যে পদত্যাগপত্র দেয়া হয়েছে, তা সংবিধান অনুযায়ী হয়নি। তাহলে সোমবার মন্ত্রীরা প্রধানমন্ত্রীর হাতে যে পত্র দিয়েছেন, তাকে কি বলা হবে- এমন প্রশ্নের জবাবে ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ বলেন, আপনারা যা খুশি বলতে পারেন। যদিও সরকারের তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু আমাদের হাইকোর্ট দেখানোর চেষ্টা করেছেন। তিনি বলেছেন, সংবিধান অনুযায়ীই মন্ত্রীরা পদত্যাগ করেছেন। এব্যাপারে প্রয়োজন হলে আদালতে যাওয়ারও পরামর্শ দিয়েছেন। দুই মন্ত্রীর এই পরস্পরবিরোধী মন্তব্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, তাহলে তাদের কে সঠিক?
শাসনতন্ত্র অথবা সংবিধান প্রণয়নে বিলম্বকে পাকিস্তান রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান ব্যর্থতা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়ে থাকে। বাংলাদেশ রাষ্ট্রকে ওই ব্যর্থতা গ্রাস করেনি। মহান মুক্তিযুদ্ধের এক বছরের মধ্যেই আমরা সংবিধান প্রণয়ন করতে পেরেছিলাম। ৩০ লাখ মানুষের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা পাই এ দলিল। যদিও তা বদলে ফেলতে সময় নেয়নি বাঙালি জাতি। স্বাধীনতার চার বছরের মধ্যেই সংবিধানের খোলনলচে পুরো বদলে ফেলা হয়। এতে নেতৃত্ব দেন স্বয়ং জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান। এ দলিল নিয়ে পরে অবশ্য অনেক রক্তক্ষয় হয়। রাজনীতির মাঠে স্বাধীন বাংলাদেশে যত প্রাণ গেছে তার বেশির ভাগই গেছে সংবিধান নিয়ে সংঘাতে। বাংলাদেশ রাষ্ট্রে এখন যে সংঘাত চলছে তারও মূলে সংবিধান থেকে চুল নড়া, না নড়া নিয়ে। সংবিধান লঙ্ঘনের শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের বিধানের কথা পবিত্র সংবিধানে বলা হয়েছে। কিন্তু সংবিধানের সঙ্গে মশকরার শাস্তি কি- তা আমাদের এ মহান গ্রন্থে বলা নেই।
উৎসঃ manabzamin
‘বাংলাদেশ প্রশ্নে ভারত আমেরিকা এক হয়ে যাবে’
13 Nov, 2013
একদলীয় নির্বাচন করে সরকার টিকতে পারবে না বলে মনে করেন প্রখ্যাত রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও জাতীয় অধ্যাপক তালুকদার মনিরুজ্জামান। বাংলাদেশ পরিস্থিতি নিয়ে আমেরিকা ও ভারত শেষ পর্যন্ত সমঝোতায় আসবে বলে তার বিশ্বাস। বাংলাদেশের রাজনীতিতে তৃতীয় শক্তির আগমনের কোন সম্ভাবনাও দেখছেন না প্রবীণ এ রাজনীতির গবেষক। মঙ্গলবার মানবজমিন-এর সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। অধ্যাপক তালুকদার মনিরুজ্জামান বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে বলা যায় সরকার একদলীয় নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। যেমনটা হয়েছিল ১৯৯৬ সালে। ওই সরকার বেশি দিন টিকতে পারেনি। শেখ হাসিনা একদলীয় নির্বাচন করে সরকার গঠন করলেও বেশি দিন টিকতে পারবেন না। আর ওই নির্বাচন দেশে-বিদেশেও সমর্থন পাবে না। বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোট স্পষ্টভাবে বলে দিয়েছে তারা তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া নির্বাচনে যাবে না। তারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকেও মেনে নেবে না। কিন্তু শেখ হাসিনা নির্বাচন একটা করবেনই। আর ওই নির্বাচনের আগে প্রচুর সহিংসতা হবে। হরতাল হবে। ধর্মঘট হবে। সাধারণ মানুষও রাস্তায় নেমে আসবে। বিএনপির নেতৃত্বে ১৮ দলীয় জোট নির্বাচন প্রতিরোধ করবে। তাদের সঙ্গে সাধারণ জনগণও যোগ দিতে পারে। ফলে দেশে আবার ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটবে। যেমনটা হয়েছিল ১৯৯৬ সালে। তখন বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর ন্যায় খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন সরকারও সংবিধানের ব্যাখা দিয়েছিল। তারা নির্বাচন একটা করেছিলেন। কিন্তু টিকতে পারেননি। শেখ হাসিনা নির্বাচন একটা করলেও ১৯৯৬ সালের পুনরাবৃত্তি ঘটবে। জরিপে দেখা গেছে দেশের ৯০ ভাগ মানুষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার চায়। দেশী-বিদেশী সব জরিপই বলছে বেশির ভাগ মানুষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার চায়। এটা আওয়ামী লীগের মেনে নেয়া উচিত। এটাই গণতন্ত্র। আর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলছেন, তিনি সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন করবেন। কিন্তু তার মনে রাখা উচিত তিনিই সংবিধান পরিবর্তন করেছেন। আর তিনি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনেই জয়লাভ করেছেন। প্রবীণ এ রাজনৈতিক বিশ্লেষক বলেন, বাংলাদেশের পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হচ্ছে। ভবিষ্যতে আরও জটিল হবে। হরতাল হচ্ছে। মানুষ মারা যাচ্ছে। গাড়ি পোড়ানো হচ্ছে। কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি নষ্ট হচ্ছে। এরজন্য দেশের সার্বিক পরিস্থিতি দায়ী। এককভাবে কাউকে দায় দেয়া যাবে না। সার্বিক পরিস্থিতি উন্নতির জন্য বড় দু’দলেরই ছাড় দিতে হবে। অধ্যাপক তালুকদার মনিরুজ্জামান বলেন, ১৯৯৬ সালেও এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। তখন অস্ট্রেলিয়ার কূটনৈতিক স্যার স্টিফেন নিনিয়ান দু’দল থেকে ৫ জন করে সরকার গঠন করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু আওয়ামী লীগ সে প্রস্তাব মেনে নেয়নি। বর্তমানে একই সমস্যা তৈরি হয়েছে। সারা দুনিয়ার কূটনৈতিকরা বাংলাদেশের দিকে নজর রাখছে। বিশেষ করে জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, আমেরিকা, চীন, ভারত, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া গভীরভাবে বাংলাদেশের রাজনীতি পর্যবেক্ষণ করছে। এটা করছে বাংলাদেশের ভূ-কৌশলগত অবস্থানের কারণে। সবারই এখানে বড় ধরনের স্বার্থ রয়েছে। বাংলাদেশের প্রতি তাদের একটা দায়িত্ব রয়েছে। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। পৃথিবীর সকল গণতন্ত্রকামী মানুষের বাংলাদেশের জনগণের প্রতি একটা সহানুভূতি রয়েছে। এখানে আবার সংঘাত-সংঘর্ষ হোক এটা কেউ চায় না। এজন্য তারা আলাপ-আলোচনা ও সংলাপের ওপর জোর দিচ্ছে। অধ্যাপক তালুকদার মনিরুজ্জামান বলেন, পত্রপত্রিকায় খবর প্রকাশিত হয়েছে বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে আমেরিকা ও ভারত একমত হতে পারেনি। আমার বিশ্বাস একসময় আমেরিকা ও ভারত সমঝোতায় আসবে। এজন্য বাংলাদেশে নিযুক্ত আমেরিকার রাষ্ট্রদূত ড্যান মজিনা ঢাকা থেকে দিল্লি সেখান থেকে ওয়াশিংটনে দৌড়াদৌড়ি করছেন। এর মধ্যে একটা গুরুত্ব রয়েছে। কূটনীনিতকরা তাদের দায়িত্ব থেকেই এটা করছেন। অধ্যাপক মনিরুজ্জামান বলেন, ভারত ইতিমধ্যে একটা লিখিত বক্তব্য দিয়েছে। সেখানে অবাধ-সুষ্ঠু ও সংলাপের কথা বলা হয়েছে। এটা যদি ভারতের সঠিক বক্তব্য হয় তাহলে বুঝতে হবে তারা আগের অবস্থান থেকে সরে এসেছে। কিন্তু এটাও সত্য শেখ হাসিনা ভারতকে সম্ভাব্য সব সুযোগ-সুবিধাই দিয়েছেন। ভারত তার পক্ষে অবস্থান নেবে এটা স্বাভাবিক। প্রতৃতপক্ষে ভারতের অবস্থান কি তা ঠিক বোঝা যাচ্ছে না। এটাও ঠিক ভারত অন্ধভাবে কাউকে সমর্থন দেবে না। প্রবীণ এ অধ্যাপক বলেন, বাংলাদেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হোক তা ভারত কখনওই চাইবে না। এটা তাদের জন্য কল্যাণকরও নয়।
মন্ত্রীদের পদত্যাগ ও সর্বদলীয় মন্ত্রিসভা গঠনের বিষয়ে অধ্যাপক তালুকদার মনিরুজ্জামান বলেন, সংবিধান অনুযায়ী কেউ পদত্যাগ করলেই পদটি শূন্য হয়ে যাবে। এটা গ্রহণ করার প্রয়োজন নেই। কিন্তু সরকার এ নিয়ে বিতর্ক করেছে। বিএনপি বলছে তারা সর্বদলীয় সরকারে যোগ দেবেন না। তাহলে এটাকে তো সর্বদলীয় সরকার বলা যাবে না। এটা হবে মূলত ১৪ দলীয় সরকার। একে বলতে হবে আওয়ামী লীগ নিয়ন্ত্রণাধীন সরকার। অধ্যাপক মনিরুজ্জামান বলেন, এখন অনেকে প্রশ্ন করছেন আবার কি বাকশাল ফিরে আসছে, বাস্তবতার প্রেক্ষিতে কাগজে-কলমে বাকশাল করা আর সম্ভব নয়। অনেকে বলছেন, শেখ হাসিনা নিজেকে নিরাপদ মনে করছেন না। ক্ষমতা চলে গেলে সব বিপদ তার গাড়ে চাপতে পারে। এটা নিয়ে তিনি চিন্তিত। এজন্য তিনি আবার ক্ষমতায় থাকতে চান। এজন্য তিনি একদলীয় সরকারের দিকে হাঁটছেন। এটা করে তেমন লাভ হবে না। একদলীয় নির্বাচন করে আওয়ামী লীগও বেশি দিন টিকতে পারবে না। অধ্যাপক মনিরুজ্জামান বলেন, বর্তমানে আমি তৃতীয় শক্তির লক্ষণ দেখছি না। তৃতীয় শক্তি সাধারণত রাজনৈতিক নেতাদের মৌন সমর্থন নিয়ে আসে। বর্তমানে সে ধরনের কোন লক্ষণ নেই। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সবাই নির্বাচন চায়। সমস্যা হচ্ছে কোন পদ্ধতিতে নির্বাচন হবে। অধ্যাপক মনিরুজ্জামান বলেন, নিজেদের সমস্যা নিজেরাই আলাপ-আলোচনা করে সমাধান করতে হবে। দুই নেতার ফোনালাপের মধ্যে দিয়ে একটা শুভ সূচনা শুরু হয়েছিল। এটা সরকারই নষ্ট করে দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বিরোধী দলীয় নেতাকে দাওয়াত দিয়েছেন। তিনি বলেছেন তিনি হরতালের মধ্যে যেতে পারবেন না। প্রধানমন্ত্রী বিরোধীদলীয় নেতাকে হরতাল প্রত্যাহারের অনুরোধ করেছেন। বিরোধীদলীয় নেতা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি মেনে নিতে বলেছেন। এরপর সরকারের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা উচিত ছিল। সরকারই উদ্যোগটা নষ্ট করে দিয়েছে। এখনও সময় আছে আলাপ-আলোচনা করার। অধ্যাপক মনিরুজ্জামান বলেন, বিএনপির শীর্ষ নেতাদের গ্রেপ্তার করে সরকার নতুন করে সঙ্কট তৈরি করেছে। তারা একদিকে সংলাপের কথা বলছে অন্যদিকে হার্ড লাইনে যাচ্ছে। এটা করে মানুষের সমর্থন হারাচ্ছে। খালেদা জিয়ার বাসায় পানির লাইন বন্ধ করে সরকার নিকৃষ্ট কাজ করেছে বলে মনে করে অধ্যাপক মনিরুজ্জামান। তিনি বলেন, এখন অনেকেই বলছে শেষ পর্যন্ত খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে। সরকারের ন্যূনতম দূরদর্শিতা থাকলে তারা এটা করবেন না। তাহলে জনগণের সমস্ত সহানূভূতি খালেদা জিয়ার প্রতি চলে যাবে। অধ্যাপক মনিরুজ্জামান বলেন, বর্তমান সরকার শান্তিতে নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতি অনেক অত্যাচার করেছে। ইউনূসের বিশ্বব্যাপী সুনাম ও গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। এজন্য আমেরিকা আওয়ামী লীগের ওপর কিছুটা বিরক্ত। অধ্যাপক মনিরুজ্জামান বলেন, দু’নেত্রীর ফোনালাপের পর দেশের মানুষ অনেক আশাবাদী হয়েছিল। মনে হয় একটা সমাধান হবে। কিন্তু তাদের আশা অনেকটা ভেস্তে গেছে। এখন সাধারণ মানুষের অবস্থান অনেকটা এরকম ‘আশার আলো শেষ হচ্ছে তবু আমরা আশাবাদী’ অর্থাৎ Hope against hope। অধ্যাপক মনিরুজ্জামান বলেন, জাতিসংঘ দু’দলকেই অধিবেশনে লোক পাঠানোর প্রস্তাব করেছিল। কিন্তু কোন দলই প্রতিনিধি পাঠায়নি। পাঠালে হয়তো একটা সমাধান বেরিয়ে আসতো। জাতিসংঘ সার্বিক বিষয় পর্যবেক্ষণ করছে বলে মনে করেন প্রবীণ এ গবেষক। অধ্যাপক তালুকদার মনিরুজ্জামান বলেন, বুদ্ধিজীবী ও সুশীল সমাজের লোকজন এখন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে তারাও এখন হামলার শিকার হচ্ছেন। উল্লেখ্য, এর আগে তিনি মানবজমিনের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন জাতিসংঘ নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করতে পারে। ৬ই আগস্ট তার ওই সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হয়। ২৩শে আগস্ট জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতাকে ফোন করে সংলাপে বসার আহ্বান জানান।
অধ্যাপক তালুকদার মনিরুজ্জামান দীর্ঘদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে অধ্যাপনা করে ২০০৬ সালে অবসর নেন। পড়িয়েছেন বিশ্বের অনেক বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়ে। তার লেখা বই সারা দুনিয়ার বহু বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠ্য। The Security of Small States in the Third World, Military Withdrawal from Politics: A Comparative Study তার বিখ্যাত গ্রন্থ। অধ্যাপক তালুকদার মনিরুজ্জামান ১৯৩৮ সালের ১লা জুলাই জন্মগ্রহণ করেন। তিনি কানাডার কুইন্স বিশ্ববিদ্যালয় থেকে Political Development in Pakistan শীর্ষক অভিসন্দর্ভের জন্য ১৯৬৬ সালে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ থেকে ১৯৫৯ সালে অনার্স ও ১৯৬০ সালে মাস্টার্স পাস করেন। তিনি Cambridge Encyclopedia of India, Pakistan, Bangladesh, Srilanka, Nepal, Bhutan, Maldives-এর উপদেষ্টা সম্পাদক।
উৎসঃ মানবজমিন
ইনুর আঙ্গুল হলো ১২টা, ২ টা শুধুই খোচা দেওয়ার জন্য ঃ তুহিন মালিক (ভিডিও)
13 Nov, 2013
৪২ বছর পর যুদ্ধাপরাধের বিচার হলে বর্তমান সরকার সংবিধান লঙ্ঘনের কেন বিচার হবে না । ইনু সাহেবের আঙ্গুল হলো ১২টা
২ টা আঙ্গুল আছেই শুধু খোচা দেওয়ার জন্য।
ভিডিও দেখুন
http://www.youtube.com/watch?v=L5PMftEM38g
সিইসির সঙ্গে ভারতের পলিটিক্যাল কাউন্সিলরের দেড়ঘণ্টা রুদ্ধদ্বার বৈঠক
13 Nov, 2013
প্রধান বিরোধী দল বিএনপিকে বাইরে রেখে একতরফা নির্বাচনের এজেন্ডা বাস্তবায়নে তত্পর ভারত। এরই অংশ হিসেবে গতকাল প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনের পলিটিক্যাল কাউন্সিলর মনোজ কুমার মহাপাত্রের এক রুদ্ধদ্বার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিকাল পৌনে চারটায় শুরু হওয়া দেড় ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকে সংসদ নির্বাচনের বিষয়ে ইসির অবস্থান, নির্বাচনের দিনক্ষণ, প্রধান বিরোধী দলের অংশগ্রহণ করা না করা, নির্বাচনী বিভিন্ন কৌশল ও বিরোধী দলকে নির্বাচনে আনার বিষয়ে ইসির পদক্ষেপ, বিএনপি না এলে নির্বাচন গ্রহণযোগ্য করার উপায়সহ নানা বিষয়ে দীর্ঘ আলোচনা করা হয়েছে বলে বৈঠকের একটি দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে।
ইসির দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, নির্বাচনের সব প্রস্তুতি নিয়ে ভারতীয় হাইকমিশনের পলিটিক্যাল কাউন্সিলর মনোজ কুমার মহাপাত্রের সঙ্গে সিইসির আলোচনা হয়েছে। কবে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে, সম্ভাব্য ভোটের তারিখ, নির্বাচনের সার্বিক পরিবেশ, ইসির সক্ষমতা, সামগ্রিক নির্বাচনে ভারতের সহযোগিতা লাগবে কিনা ও প্রধান বিরোধী দল নির্বাচনে আসার বিষয়ে ইসির পক্ষ থেকে কোনো পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে কিনা এসব বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এছাড়া সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠানে ভারত সরকার সার্বিক সহযোগিতা করবে বলেও সিইসিকে আশ্বস্ত করেছেন মনোজ কুমার মহাপাত্র।
বৈঠক শেষে এ বিষয়ে মনোজ কুমার মহাপাত্র বলেন, নির্বাচন ও রাজনৈতিক কোনো বিষয়ে সিইসির সঙ্গে আলোচনা হয়নি। বৈঠকে নির্বাচন কর্মকর্তাদের ট্রেনিংয়ের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। নির্বাচন কর্মকর্তাদের ট্রেনিংয়ের জন্য ভারত ইসিকে সহযোগিতা করছে। সাম্প্রতিক নির্বাচন প্রস্তুতি ও নির্বাচনে ভারতের সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
উৎসঃ ইত্তেফাক
এতে সদস্যতা:
পোস্টগুলি (Atom)