মঙ্গলবার, ৪ মার্চ, ২০১৪


প্রকাশ : ০৫ মার্চ, ২০১৪ ০১:২৩:৩১ অঅ-অ+ printer নিরাপত্তা ঝুঁকিতে বঙ্গভবন
বঙ্গভবন ঘেঁষে গড়ে ওঠা অর্ধশতাধিক বহুতল ভবনকে নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে মনে করছে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়। এসব ভবনের মধ্যে ব্যক্তিমালিকানাধীন ভবন ছাড়াও ঢাকা সিটি করপোরেশন, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) মূল ভবন ও সরকারি সোনালী ব্যাংকের কার্যালয়ও রয়েছে। অমিতোষ পাল বঙ্গভবন ঘেঁষে গড়ে ওঠা অর্ধশতাধিক বহুতল ভবনকে নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে মনে করছে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়। এসব ভবনের মধ্যে ব্যক্তিমালিকানাধীন ভবন ছাড়াও ঢাকা সিটি করপোরেশন, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) মূল ভবন ও সরকারি সোনালী ব্যাংকের কার্যালয়ও রয়েছে। দ্রুত এসব ভবনের ব্যাপারে করণীয় নির্ধারণের জন্য রাজউক, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনসহ (ডিএসসিসি) সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশ দিয়েছে বঙ্গভবন।নিরাপত্তা ঝুঁকিতে বঙ্গভবন জানা গেছে, বর্তমানে বঙ্গভবন লাগোয়া আরও যেসব ভবন নির্মাণাধীন, সেগুলোর কাজ দ্রুত বন্ধ করার জন্য ডিএসসিসি ও রাজউককে অনুরোধ করেছে বঙ্গভবন কর্তৃপক্ষ। এ ছাড়া সিটি করপোরেশনের নিজস্ব ভবনটির কাজও বন্ধ করার কথা বলা হয়েছে। ডিএসসিসি ও রাজউক এ ব্যাপারে কী ব্যবস্থা গ্রহণ করছে সে বিষয়ে আগামী ১৩ মার্চের মধ্যে বঙ্গভবনকে জানানোরও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ডিএসসিসির প্রধান প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম সমকালকে বলেন, এ ব্যাপারে করণীয় নির্ধারণের জন্য প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি বিষয়টি দেখছেন। প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ সিরাজুল ইসলাম সমকালকে জানান, ডিএসসিসির প্রকৌশল বিভাগ থেকে ওইসব ভবনের ব্যাপারে তথ্য নিয়ে রাজউককে সরবরাহ করা হয়েছে। এসব ভবন কীভাবে অনুমোদন পেয়েছে, বিস্তারিত বিষয় রাজউককে জানানো হয়েছে। এ ব্যাপারে করণীয় নির্ধারণ করতে রাজউকের বোর্ড সদস্যকে (নিয়ন্ত্রণ) আহ্বায়ক করে একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে। সিরাজুল ইসলাম আরও জানান, কেপিআই (কি পয়েন্ট ইনস্টলেশন) নিরাপত্তা নীতিমালা ২০১৩ অনুযায়ী কেপিআইভুক্ত ভবনের ৩০০ মিটার দূরত্বের মধ্যে কোনো ভবন থাকতে পারে না।বিশেষ প্রয়োজনে কোনো অবকাঠামো নির্মাণ করতে হলে কেপিআই ডিফেন্স কমিটি থেকে পৃথকভাবে অনুমতি নিতে হয়। এসব ভবনের ক্ষেত্রে সে নিয়ম অনুসরণ করা হয়নি। রাজউকের মূল ভবন, সিটি করপোরেশনের একটি বহুতল কারপার্কিং ভবন, সোনালী ব্যাংক, বেসরকারি কয়েকটি ব্যাংকের ভবনও এর মধ্যে পড়েছে। এসব ভবনের সংখ্যা অর্ধশতাধিক হবে বলে মন্তব্য করেন সিরাজুল ইসলাম।জানা গেছে, গত ২০ ফেব্রুয়ারি বঙ্গভবনের পক্ষ থেকে 'বিশেষ শ্রেণীর কেপিআই হিসেবে বঙ্গভবনের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে' একটি বৈঠক ডাকা হয়। বৈঠকে পূর্ত মন্ত্রণালয়, রাজউক, ডিএসসিসি, সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশসহ ডজনখানেক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের রাখা হয়। বৈঠকে জনবিভাগের সিনিয়র সচিব শেখ আলতাফ আলী বঙ্গভবনের নিরাপত্তার বিষয়টি উত্থাপন করেন। পরে ২৬ ফেব্রুয়ারি এ বিষয়ে করণীয় নির্ধারণের জন্য রাজউক ও ডিএসসিসি কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেন শেখ আলতাফ আলী। চিঠিতে বলা হয়, 'কেপিআই নিরাপত্তা নীতিমালা ২০১৩-তে স্থাপনা নির্মাণের বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও সেই নীতিমালা ভঙ্গ করে বঙ্গভবনের অতি সনি্নকটে (আনুমানিক ১৮ মিটার দূরে) অনেকগুলো বহুতল ভবন নির্মিত হয়েছে। এর মধ্যে সিটি করপোরেশনের একটি ভবন ১৬ তলা থেকে ৩০ তলায় উন্নীত করার কাজও দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে, যা বিশেষ শ্রেণী কেপিআই হিসেবে বঙ্গভবনের নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ।' যেসব ভবনের নির্মাণকাজ বর্তমানে চলছে সেগুলো দ্রুত বন্ধ করার ব্যাপারেও চিঠিতে বলা হয়েছে। চিঠিতে আরও বলা হয়, 'এসব ভবনের যাবতীয় কার্যক্রম ও অনুমোদন-সংক্রান্ত বিষয়ে রাজউক ও সিটি করপোরেশনের যেহেতু ভূমিকা রয়েছে, তাতে মনে হয় এসব ভবনের অনুমতি দেওয়ার ক্ষেত্রে বেশকিছু দুর্বলতা/ত্রুটি পরিলক্ষিত হচ্ছে। অনুমোদনের ক্ষেত্রে এসব সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কোনোরূপ গাফিলতি আছে কি-না তা খতিয়ে দেখার জন্য পূর্ত মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কেও অনুরোধ করা হলো।' এসব বিষয়ের অগ্রগতি ও ভবনগুলোর তথ্য বঙ্গভবনকে অবহিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে অনুরোধ জানিয়ে বলা হয়েছে, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে রিপোর্ট পাঠাতে হবে।এ বিষয়ে রাজউকের বোর্ড সদস্য (নিয়ন্ত্রণ) ও আহ্বায়ক কমিটির প্রধান হেলাল উদ্দিন সমকালকে বলেন, 'বঙ্গভবনের পাশের ভবন মালিকরা এত প্রভাবশালী যে কোনো কিছু করতে গেলে খুব সাবধানে ও কৌশলে করতে হবে। তবে বঙ্গভবনের বিষয়টি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে।' তিনি জানান, কেপিআই নিরাপত্তা নীতিমালা ১৯৯৭ অনুযায়ী ২০ মিটারের মধ্যে কোনো অবকাঠামো থাকার নিয়ম ছিল না। পরে ২০১৩ সালে আইন সংশোধনের পর ১৫০ মিটারের মধ্যে কিছুই থাকতে পারবে না বলে সিদ্ধান্ত হয়। এর বাইরে ১৫০ মিটারের মধ্যে করতে গেলে অনুমতি নিয়ে করতে হবে। ২০১৩ সালের নিয়মটিই কঠোরভাবে অনুসরণের চেষ্টা করা হবে বলে তিনি জানান।

প্রকাশ : ০৫ মার্চ, ২০১৪ ০০:০০:০০ অঅ-অ+ printer কালি ছুড়ে মারা হলো সাহারা প্রধানের মুখে সমকাল ডেস্ক
মামলা আর গ্রেফতারি পরোয়ানায় পেরেশান সাহারা প্রধান সুব্রত রায় আরেক অপ্রীতিকর ঘটনার মুখোমুখি হলেন। গতকাল মঙ্গলবার আদালতে পেঁৗছতেই তার মুখে কালি ছুড়ে মারলেন এক ব্যক্তি। মনোজ শর্মা নামের ওই ব্যক্তি গুরগাঁওয়ের বাসিন্দা। সাহারার বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে দিতে তার মুখে কালি ছুড়ে দিলেন বিক্ষুব্ধ লোকটি। খবর এনডিটিভির। পুলিশ মনোজ শর্মাকে গ্রেফতার করেছে। এদিকে গত বুধবার হাজির না হওয়ার কারণে আদালতের কাছে ক্ষমা চান সাহারা প্রধান। তিনি আদালতকে এই মর্মেও নিশ্চয়তা দেন, ভবিষ্যতে সুপ্রিম কোর্টের সব আদেশ পালন করা হবে। এ ছাড়া পাওনাদারদের টাকা ফেরত দেওয়ারও প্রতিশ্রুতি দেন আদালতকে। আদালত তার ক্ষমা প্রার্থনার জবাবে বলেন, 'আমরা আপনাকে সম্মান করি; কিন্তু আপনি আমাদের সম্মান জানাতে ব্যর্থ হয়েছেন।' সোমবার রাতে দিলি্লতে নেওয়া হয় সুব্রত রায়কে। গতকাল সর্বোচ্চ আদালতে হাজির করা হয়। বিনিয়োগকারীদের ২০ হাজার কোটি টাকা ফেরত না দেওয়ার মামলায় সুপ্রিম কোর্টে নির্ধারিত দিন ধার্য করেছিলেন আদালত। সেদিন হাজিরা না দেওয়ায় সুব্রতর বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন আদালত। পরে শুক্রবার পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন সুব্রত রায়। গ্রেফতারের পর দুই দিন পুলিশি হেফাজতে ছিলেন তিনি।

সোমবার, ৩ মার্চ, ২০১৪


আইনের ফাঁকে জামিনে বের হচ্ছে নিষিদ্ধ জেএমবি জঙ্গিরা 04 Mar, 2014
আইনের ফাঁকে জামিনে বের হচ্ছে নিষিদ্ধ ঘোষিত জেএমবি-হুজির দুধর্ষ জঙ্গিরা। র‌্যাব ও পুলিশের তথ্য অনুযায়ী প্রায় তিনশো জঙ্গি জামিনে আছে। বেশির ভাগই নিজেকে শোধরানোর পরিবর্তে আবারো জড়াচ্ছে জঙ্গি তৎপরতায়। তবে আইন বিশেষজ্ঞের মতে, আদালতে সঠিক তথ্য প্রমাণ হাজির করতে না পারায় জঙ্গিরা জামিন পাচ্ছে। ২৩ ফেব্রুয়ারি ময়মনসিংহের ত্রিশালে প্রিজন ভ্যানে হামলা ও পুলিশ হত্যার পর জেএমবির দ-প্রাপ্ত তিন আসামিকে ছিনিয়ে নেয় জঙ্গিরা। তদšেত্ম বের হয়ে আসে ঘটনার নেতৃত্বে ছিল জেএমবির শুরা সদস্য ফারুক ও জাকারিয়া। দু’জনই জামিনে ছিল। শুধু ফারুক বা জাকারিয়া নয়, র‌্যাবের তথ্য অনুযায়ী গ্রেপ্তারের পর জামিনে আছে জেএমবির ১৯২ এবং হরকাতুল জিহাদ বা হুজির ৭৪ সদস্য। এই তালিকায় আছে ২০০৯ সালের ২৪ মার্চ বহুল আলোচিত ভোলার বোরহানউদ্দিনে গ্রীণ ক্রিসেন্ট মাদ্রাসায় জঙ্গি প্রশিক্ষণ চলাকালে গ্রেপ্তার ১২ আসামির মধ্যে ১১ জন। ১৭ আগস্ট দেশব্যাপী বোমা হামলার আসামিসহ আদালত চত্বরে হামলাকারীরাও পেয়ে গেছে জামিন। আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সম্বনয়হীনতা ও গাফেলতির কারণে জঙ্গিরা জামিনের সুযোগ পাচ্ছে। জঙ্গি সমস্যা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ বা দমন করতে হলে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তদারকির পাশাপাশি আইন- শৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে প্রসিকিউশনের আরো সমন্বয় দরকার। ইন্ডিপেন্ডেন্ট টিভি Share on facebook Share on email Share on print

বৃটিশ পার্লামেন্টে বোরকা নিষিদ্ধের বিল রুখে দিলো লেবার পার্টি 04 Mar, 2014
নেকাব নিষিদ্ধের জন্য বৃটিশ পার্লামেন্টে উত্থাপিত বিলটি পাস হয়নি। বর্তমান বিরোধী দল লেবার পার্টির বিরোধিতার কারণে ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টির এমপি ফিলিপ হলোবোর্ন উত্থাপিত বিলটি পার্লামেন্টে পাস করা সম্ভব হয়নি। গত শুক্রবার পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ হাউস অব কমন্সে বিলটি উত্থাপিত হলে লেবার দলীয় বাঙালি এমপি রুশনারা আলীসহ লেবার এমপিরা তীব্র বিরোধিতা করেন। দীর্ঘ বিতর্কে বিলটির পক্ষে তেমন কোন সমর্থন না থাকায় এখানেই থেমে গেল আইন করে নেকাব নিষিদ্ধের প্রচেষ্টা। বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত বৃটিশ এমপি রুশনারা আলী বলেন, নেকাব পরিধান ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং অনুশাসনের অংশ। আমি সবসময়ই নারীদের স্বাধীনতা এবং অধিকার রক্ষায় আন্তরিক। মুসলিম নারীদের অধিকার পরিপন্থি বিল উত্থাপন কনজারভেটিব দলের একটি ভুল। তিনি বলেন, এই বিলটি ছিল একটি প্রাইভেট মেম্বার বিল। এটি ভোটাভুটির পর্যায় পর্যন্ত যায়নি। তার আগেই থামিয়ে দেয়া সম্ভব হয়েছে। রুশনারা আলী বলেন, মুসলিম নারীরা নেকাব পরিধান করবে কী করবে না তা তাদের একান্তই ব্যক্তিগত ব্যাপার। এটা কারো চাপিয়ে দেয়ার কোনো বিষয় নয়। তিনি বলেন, একজন মুসলিম হিসেবে তিনি সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষায় বিশ্বাস করেন । যখন বৃটেনে মুসলমানদের বিরুদ্ধে বর্ণবাদী হামলার ঘটনা বাড়ছে তখন এ ধরনের আইন দেশটিতে ইসলামবিদ্বেষী মনোভাবকে আরও উসকে দেবে বলে তিনি মনে করেন। শ্যাডো জাস্টিস মিনিস্টার সাদিক খান জানান, গত শুক্রবার দ্বিতীয় শুনানিতে লেবার পার্টির তীব্র বিরোধিতার মুখে পার্লামেন্টে বিলটি আর অগ্রসর হয়নি। দ্বিতীয় শুনানীতে দীর্ঘ বিতর্কে কোন সুরাহা না হওয়ায় এবং বিলটির সময় শেষ হয়ে যাওয়ায় চলতি পার্লামেন্টে এ সংক্রান্ত এই বিল উত্থাপনের আরো কোনো সুযোগ নেই। তিনি নারীর নেকাব পরিধানের বিষয়টিকে অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করার তীব্র বিরোধিতা করে বলেন, নিকাব পরিধান করা না করার বিষয়টি ব্রিটেনের অধিকাংশ মানুষের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়। তিনি বলেন, আধুনিক ব্রিটিশ সমাজে বৈষম্যের কোনো স্থান নেই। বৃটিশ পার্লামেন্টে দুই ঘণ্টার বিতর্কে এই বিলের বিরুদ্ধে সবচেয়ে জোরালো অবস্থান নেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় কমিটির চেয়ারম্যান লেবার পার্টির ভারতীয় বংশোদ্ভূত এমপি কিথ ভাজ। তিনি তাঁর নির্বাচনী এলাকার মসজিদসমূহের ইমাম ও বিভিন্ন ইসলামী সংগঠনের পক্ষ থেকে সহস্রাধিক ব্যক্তির আপত্তি জানিয়ে লেখা চিঠির উল্লেখ করে বলেন, এসব মুসলিম নারী ধর্মবিশ্বাসের কারণেই বোরকা পরে থাকেন। প্রস্তাবের বিরোধিতাকারীরা বলেন, এ ধরনের আইন ব্যক্তিস্বাধীনতার পরিপন্থি এবং সামাজিক সম্প্রীতি ক্ষুণœ করবে । তারা বলেন, নগরিকদের পোশাক-পরিচ্ছদ পরিধানের ব্যাপারে রাষ্ট্র কোনো নির্দেশনা চাপিয়ে দিতে পারে না। এই প্রস্তাবের বিপক্ষে বক্তব্য দেন লেবার পার্টির জেরাল্ড কফম্যান, লিন ব্রাউন, জোনাথন অ্যাশওয়ার্থ, মিসেস শ্যারন হজসন ও জেরেমি করবিন এমপি। অন্যদিকে বিলটির পক্ষে উদ্যোক্তা ফিলিপ হলোবোর্ন ছাড়া আর কেউই সমর্থন দেননি। ফিলিপ হলোবোর্ন বিক্ষোভ-সমাবেশে মুখোশ এবং ইসলামি বোরকার ক্রমবর্ধমান ব্যবহার নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণ উল্লেখ করে এগুলোর ব্যবহার নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব করেন। ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে ফ্রান্সে ইতিমধ্যেই মুখ ঢেকে রাখা বোরকা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। উৎসঃ তাজাখবর Share on facebook Share on email Share on print 1

একদিনে ৩ ক্রসফায়ার ‘আমার সামনেই র‌্যাব ওয়াসিমকে গুলি করে’ 04 Mar, 2014
রাজধানী ও সাভারে কথিত বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় তিন জনের মৃত্যু হয়েছে। রাজধানীর কদমতলী এলাকায় দিনদুপুরে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মারা যান দুই ব্যক্তি। র‌্যাব দাবি করেছে নিহতরা অপহরণকারী এবং বন্দুকযুদ্ধে তাদের মৃত্যু হয়। কিন্তু পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছে, র‌্যাব তাদের গুলি করে হত্যা করেছে। গতকাল দুপুর সোয়া ১২টার দিকে কদমতলী আলমবাগ মদিনা মসজিদ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত মোহাম্মদ ওয়াসিম ও সংগ্রাম চৌধুরী পোস্তগোলা সেতুতে টোল আদায় করতেন। ওয়াসিম ওই সেতুর টোল আদায়ের ঠিকাদার এবং সংগ্রাম তার সহকারী বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। র‌্যাব ১০-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল খন্দকার গোলাম সারোয়ার জানান, গোপন সংবাদে সোমবার দুপুরে অপহৃত কয়েকজন ব্যক্তিকে উদ্ধারে কদমতলীর একটি বাসায় অভিযান চালানো হয়। অপহরণকারীরা এক পর্যায়ে র‌্যাব সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। আত্মরক্ষায় র‌্যাবও পাল্টা গুলি চালায়। গোলাগুলিতে অপহরণকারী দলের দু’জন ও র‌্যাবের তিনজন সদস্য আহত হন। আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে রানা, জাহাঙ্গীর, আখতার ও জনি নামে অপহৃত চার ব্যক্তি ও দু’টি পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে। তবে অপহরণের বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাতে পারেনি র‌্যাব। এদিকে গতকাল ঘটনার পর মদিনা মসজিদ এলাকার নিহত ওয়াসিমের বাসায় গিয়ে দেখা যায় সাততলা ওই বাসার আসবাবপত্র এলোমেলো। মালামাল ভাঙচুর করা। বাসার নিচে সিঁড়ির কাছে জমাট বাঁধা রক্ত। নিহতের স্ত্রী সোনিয়া আক্তার জানান, দুপুর সোয়া ১২টার দিকে ওয়াসিম বাসার সপ্তম তলার চিলেকোঠার অফিসে অবস্থান করছিলেন। তখন সাদা পোশাকের র‌্যাব সদস্যরা বাসা ঘিরে ফেলে। তারা বাসায় প্রবেশের চেষ্টা করলে ষষ্ঠ তলার একটি বাথরুমে আশ্রয় নেন ওয়াসিম। এক পর্যায়ে বাসায় প্রবেশ করে র‌্যাব সদস্যরা তল্লাশি চালায় এবং আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। তল্লাশির এক পর্যায়ে বাথরুম থেকে ওয়াসিমকে বের করে আনে র‌্যাব সদস্যরা। এরপর সিঁড়ির কাছে নিয়ে তারা পরপর তিনটি গুলি করে। গুলি করার আগে আমি একজন র‌্যাব সদস্যের পা জড়িয়ে ধরে বলেছি, আমাদের যা আছে নিয়ে যান। তবুও আমার স্বামীকে মারবেন না। আমি তার প্রাণভিক্ষা চাইছি। সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা সোনিয়া বলেন, আমি বলেছি আমার স্বামী অপরাধী হলে তাকে আইনের হাতে তুলে দিন। যা শাস্তি হয় মেনে নেবো। আমার অনাগত সন্তানের দিকে চেয়ে আপনারা তাকে মারবেন না। কিন্তু তারা আমার কান্না শোনেনি। তিনি বলেন, এসময় আমাকে লাথি ও চড় মারে র‌্যাব সদস্যরা। চোখের সামনে তাকে গুলি করে রক্তাক্ত অবস্থায় তুলে নিচে নিয়ে যায়। তিনি দাবি করেন নিহত ওয়াসিমের বিরুদ্ধে কোন মামলা নেই। কোন ধরনের অপরাধের সঙ্গেও তিনি জড়িত ছিলেন না। এদিকে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংগ্রাম চৌধুরী ওই বাসায় র‌্যাবের অভিযান চালানোর সময় সপ্তম তলা থেকে একটি পাইপ বেয়ে নিচে নামার সময় র‌্যাব সদস্যরা তাকে ধরে ফেলেন। এর কিছুক্ষণ পর পার্শ্ববর্তী একটি স্থানে নিয়ে তাকেও গুলি করা হয়। পরে দু’জনকে রক্তাক্ত অবস্থায় মিটফোর্ড হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন হাসপাতালে নেয়ার আগেই তাদের মৃত্যু হয়। নিহত ওয়াসিমের শাশুড়ি শিরিন বেগম জানান, তার ছোট মেয়ের জামাই একজন ব্যবসায়ী ছিলেন। স্থানীয় কোন রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল না। পোস্তগোলা ব্রিজের টোল ইজারা আদায় করতেন। এদিকে র‌্যাবের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, কদমতলী থানাধীন ১৩১ নম্বর নতুন জুরাইন, আলমবাগ, মদিনা মসজিদ রোডে সন্ত্রাসীরা কিছু লোককে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের জন্য একটি বাসায় শারীরিক নির্যাতন করছে- এই তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাব ১০-এর একটি দল তাৎক্ষণিক অভিযান চালায়। র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে সন্ত্রাসীরা ভবনের সিঁড়ি এবং পাইপ বেয়ে পালিয়ে যেতে থাকে। এসময় সন্ত্রাসীরা র‌্যাবের মুখোমুখি হলে গুলি করতে করতে পালানোর চেষ্টা করে। এ পরিস্থিতিতে সরকারি সম্পদ ও জানমালের নিরাপত্তার জন্য র‌্যাবও পাল্টা গুলি চালালে মো. ওয়াসিম ও সংগ্রাম নামের দু’জন সন্ত্রাসী আহত হয়। আহত অবস্থায় তাদের ঢাকা মিটফোর্ড হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় র‌্যাবের তিন জন সদস্য আহত হন। ঘটনাস্থল থেকে দু’টি বিদেশী পিস্তল, দু’টি ম্যাগাজিন, ৯ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। বাসার ৭ম তলার চিলেকোঠা থেকে নির্যাতনের জন্য ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জামসহ অপহৃত আক্তার (৪২), রানা (১৮), জনি (২৪) ও জাহাঙ্গীর (২৮)-কে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। অনুসন্ধানে জানা যায়, এই সন্ত্রাসী দলের বিভিন্ন সদস্যদের নামে ঢাকার বিভিন্ন থানায় হত্যা, সিএনজি গাড়ি চুরি, চাঁদাবাজি, মাদক, জুয়া, অস্ত্র ও বিস্ফোরকসহ একাধিক মামলা রয়েছে। সাভারে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ১ স্টাফ রিপোর্টার, সাভার থেকে জানান, সাভারে পুলিশের কথিত বন্দুকযুদ্ধে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি (৩৫) নিহত হয়েছেন। পুলিশ দাবি করেছে নিহত ব্যক্তি ডাকাত দলের সদস্য। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ডাকাতদের ব্যবহৃত ১টি চাপাতি, ১টি রামদা, ১টি হাতবোমা, ১টি টর্চ লাইট, ১টি মোবাইল ফোন সেট, দুই জোড়া জুতাসহ বিস্ফোরিত হাতবোমার আলামত উদ্ধার করেছে বলে সাভার সার্কেলের এএসপি শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন। তিনি বলেন, রোববার দিবাগত গভীর রাত আনুমানিক ২টার দিকে সাভারের রাজফুলবাড়িয়ার হারাননগর এলাকার পুলিশ টাউনের সামনে মহাসড়কে ডাকাতির প্রস্তুতি নেয়ার সময় পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধের এক ডাকাত সদস্য নিহত হয়েছে। এদিকে ডাকাত-পুলিশ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা নিয়ে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের মধ্যে একেক জনের কাছ থেকে একেক ধরনের বক্তব্য পাওয়ায় সৃষ্টি হয়েছে ধূম্রজালের। এছাড়া হাসপাতাল থেকে ‘ডেথ’ সার্টিফিকেট নেয়ার পর তড়িঘড়ি করে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আশিস কুমার সান্যাল সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে ভোর রাতেই লাশটি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (ঢামেক) মর্গে পাঠিয়ে দেন। সাভার মডেল থানার পরিদর্শর্ক (তদন্ত) দীপক কুমার সাহা বলেন, গভীর রাত আনুমানিক ৩টার দিকে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের রাজফুলবাড়িয়ার পুলিশ টাউনের কাছে একদল দুর্বৃত্ত ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছিল। তখন পুলিশ বিষয়টি বুঝতে পেরে সামনের দিকে এগিয়ে গেলে তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে হাতবোমা ও গুলি ছুড়তে থাকে। তখন আত্মরক্ষার্থে পুলিশ গুলি ছুড়লে এক ডাকাত সদস্য নিহত হয়। ডাকাতদের হামলায় চার পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আহত পুলিশের এসআই রফিকুল ইসলামকে সাভার এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া আহত কনস্টেবল আমিনুল ইসলাম, আবদুল আজিজসহ তিন জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। তবে ঘটনাটি নিয়ে এনাম মেডিকেলে চিকিৎসাধীন আহত এসআই রফিকুল ইসলামের সঙ্গে কথা বলতে দেয়নি পুলিশ। আর বন্দুকযুদ্ধে নিহত ডাকাত সদস্যের কোন পরিচয়ও জানাতে পারেনি তারা। এদিকে আবার ঘটনার সময় উপস্থিত এএসআই মনিরুজ্জামান বলেন অন্য কথা। তিনি বলেন, মহাসড়কে ব্যারিকেড দিয়ে ডাকাতির চেষ্টা করছিল ১০-১২ জনের ডাকাত দল। তখন পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাতরা গুলি ও বোমা ছুড়তে থাকে। পরে পুলিশ পাল্টা গুলি ছুড়লে এক ডাকাত সদস্য নিহত হয়। আর অন্যরা পালিয়ে যায়। বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা সাভার মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোস্তফা কামাল জানেন না দাবি করে বলেন, ঘটনাটি শোনার পরে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। পরে জানতে পারি ডাকাতরা পুলিশকে লক্ষ্য করে হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। তখন পুলিশ গুলি ছুড়লে এক ডাকাত নিহত হয়। তবে ঘটনাস্থলের সামনে সাভার পল্লী বিদ্যুতের ১৩২/১৩৩ কেবি গ্রিড উপকেন্দ্রের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্য সুমন, রফিক ও সাদ্দাম বলেন, আমরা শুধু গুলির শব্দ শুনেছি। এর বেশি কিছু আর জানি না। এদিকে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বরত চিকিৎসক জাহিদুর রহমান জানান, রাত পৌনে ৩টার দিকে আহত অবস্থায় আনুমানিক ৩৫ বছর বয়সের এক ব্যক্তিকে সাভার থানার এসআই আশিস্‌ কুমার নিয়ে আসেন। আহত ওই ব্যক্তির বাম হাতের কনুইয়ের নিচে ও বাম পায়ের হাঁটুর নিচে ছররা গুলির আঘাত ছিল। আর পুরো শরীর পানিতে ভেজা ও কাদা মাখানো ছিল। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভোর রাত ৩টার দিকে ওই ব্যক্তি মারা যায়। তবে গুলিতে তার মৃত্যু হয়নি বলে দাবি করেন ওই চিকিৎসক। উৎসঃ manabzamin Share on facebook Share on email Share on print

নতুন বছরের প্রথম ৪৬ দিনে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ৪৬ 04 Mar, 2014
দেশ-বিদেশে তুমুল সমালোচনা সত্ত্বেও ‘বন্দুকযুদ্ধ বা ক্রসফায়ারের’ নামে বিচারবহির্ভূত হত্যাকা-ের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েই চলেছে। গত দেড় মাসে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে নিহত হয়েছে ৪৬ জন। আর ২০১৩ সালে দেশে কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহতের সংখ্যা ছিল ২০৮ জন। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) তথ্যানুযায়ী, এ বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৬ ফেব্রুয়ারি পর্যšত্ম সময়ে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছে ৪৬ জন। এর মধ্যে র‌্যাবের হাতে ১৫ জন, ২২ জন পুলিশের হাতে, ১ জন র‌্যাব ও পুলিশের (যৌথভাবে) হাতে, ১ জন বিজিবির হাতে এবং বাকি ১৬ জন যৌথবাহিনীর সঙ্গে বন্দুক যুদ্ধে নিহত হয়েছে। এই বিচারবহির্ভূত হত্যাকা- শুরু হয় ২০০৪ সালে এলিট ফোর্স র‌্যাব গঠনের পর থেকে। এরপর ২০০৫ ও ২০০৬ সালে এ ধরনের হত্যাকা-ের শিকার হয় ৭৩৯ জন। ওই সময় প্রধান বিরোধী দল আওয়ামী লীগ এ ধরনের হত্যাকা-ের জন্য বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের কঠোর সমালোচনা করছিল। বলেছিল, তারা ক্ষমতায় আসলে ‘বন্দুকযুুদ্ধের’ নামে বিচারবহির্ভূত হত্যাকা- বন্ধ করা হবে। কিন্তু ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার একইভাবে হত্যাকাণ্ডের শিকার কমপক্ষে ২২৯ জন। আসকের তথ্যানুযায়ী, ২০০৬ সালের পর বিচারবহির্ভূত হত্যাকা-ের ঘটনা সবচেয়ে কম হয়েছে ২০১২ সালে। ওই বছর ‘ক্রসফায়ারে’ নিহত হয়েছে ৯১ জন। এছাড়া ২০০৪ সালে ২১০ জন, ২০০৫ সালে ৩৭৭ জন, ২০০৬ সালে ৩৬২ জন, ২০০৭ সালে ১৮০ জন, ২০০৮ সালে ১৭৫ জন, ২০১০ সালে ১৩৩ জন এবং ২০১১ সালে বিচার বহির্ভূত হত্যাকা-ের শিকার হয়েছে ১০০ জন। গত বছর অর্থাৎ ২০১৩ সালে ক্রসফায়ার নতুন নাম পায় ‘বন্দুকযুদ্ধ’ নামে। ওই বছর এ ধরনের হত্যাকা-ের শিকার হয় ২০৮ জন। অভিযোগ রয়েছে, গত ১০ বছরে দেশে বহুসংখ্যক মানুষ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক গুম হয়েছে। তাদের আর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, ৫ জানুয়ারির দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে দেশে হঠাৎ করেই ‘ক্রসফায়ার বা বন্দুকযুদ্ধের’ ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়ে গেছে। এ ব্যাপারে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমান বলেছেন, সম্প্রতি এ ধরনের ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে গেছে। এটা আইন ও গণতন্ত্র পরিপন্থী এবং কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের অপরাধ ও সন্ত্রাসী কর্মকা- বন্ধে এর সঙ্গে জড়িতদের সর্বোচ্চ শা¯িত্ম দেয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি। এদিকে পুলিশ প্রধান আইজিপি হাসান মাহমুদ খন্দকার দাবি করেছেন, গুম-হত্যা নতুন কোনো বিষয় নয়। আগে থেকেই এ ধরনের ঘটনা ঘটে আসছে। একইভাবে এখনো চলছে। তবে এ ব্যাপারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সদা তৎপর উল্লেখ করে পুলিশের এই মহাপরিদর্শক বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এই ধরনের অপরাধ দমনে অপরাধীদের ধরতে অভিযান চালাচ্ছে এবং তারা সফলভাবে তাদেরকে ধরতে সক্ষম হচ্ছে। বিচার বহির্ভূত হত্যাকা-ে আইনশৃৃঙ্খলা বাহিনীর সম্পৃক্ততা সম্পর্কে তিনি বলেন, তদšত্ম করে কারো বিরুদ্ধে এমন অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে অধিকাংশ অভিযোগ থেকে জানা যায়, বেশির ভাগ ক্রসফায়ারের ঘটনা এক পক্ষের। এটি পরিকল্পিতভাবে করা হচ্ছে। ক্রসফায়ারের কথা বলা হলেও সেখানে বিপরীত পক্ষের কোনো অ¯িত্মত্ব পাওয়া যায় না। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর এই ধরনের ভূমিকা ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে দেখ গেছে, অপহরণ বা গুম করার ক্ষেত্রে অপহরণকারীরা নিজেদেরকে র‌্যাব বা ডিবি পুলিশ বলে পরিচয় দিচ্ছে। আর এ ধরনের ঘটনার শিকার হচ্ছেন সাধারণত শিক্ষার্থী, রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী এবং বিরোধী রাজনৈতিক জোটের নেতারা। এদের মধ্যে কারো কারো মৃতদেহ পাওয়া যাচ্ছে। আবার কেউ কেউ পুরোপুরি গুম হয়ে যাচ্ছে। তাদের আর কোনো খোঁজ মিলছে না। এক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বক্তব্য হচ্ছে, যাদের মৃতদেহ উদ্ধার করা হচ্ছে তাদের সবাই অপরাধী। তাছাড়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের দাবি, যখন তাদের ওপর আক্রমণ হচ্ছে তখন আত্মরক্ষার্থে তারাও পাল্টা আক্রমণ করতে বাধ্য হচ্ছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত ১৫ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর যাত্রাবাড়িতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ সালাউদ্দীন (২৯) এবং জুয়েল (২৮) নামে দুই ব্যক্তি নিহত হয়েছিল। এদের মধ্যে সালাউদ্দীন ৮টি হত্যা মামলার আসামি হলেও জুয়েলের বিরুদ্ধে অপরাধ সংক্রাšত্ম কোনো রেকর্ড পুলিশের কাছে নেই। তিনি কাপ্তান বাজার এলাকায় ভাঙারির ব্যবসা করতেন। যাত্রাবাড়ি থানা পুলিশের কাছে তথ্য জানতে চাওয়া হলে তারা জুয়েলের বিরুদ্ধে কোনো মামলার কাগজপত্র দেখাতে পারেনি। এমনকি কোনো সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) নেই তার বিরুদ্ধে।এ ব্যাপারে পুলিশের ডেমরা বিভাগের সহকারী কমিশনার মহিউদ্দীন আহমেদ বলেন, জুয়েল কোনো মামলার আসামি নয় এটা ঠিক। কিন্তু সালাউদ্দীন ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে পৃথক তিনটি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে জুয়েলের নাম বলেছে। জুয়েল সম্পর্কে জানতে চাইলে শনির আখড়া এলাকার বাসিন্দা আশরাফুল ইসলাম বলেন, তিনি সন্ত্রাসী সালাউদ্দীনের নাম শুনেছেন। তবে জুয়েলের নাম কখনো শোনেননি। জুয়েল নামের কোনো অপরাধী বা সন্ত্রাসীর নাম এই প্রথম শুনলেন বলে জানান তিনি। এদিকে মামলার তদšত্ম কর্মকর্তা যাত্রাবাড়ি থানা পুলিশের এসআই প্রদ্বীপ কুমার কুন্ডুর কাছে জানতে চাইলে তিনিও জুয়েলের বিরুদ্ধে অপরাধ সংক্রাšত্ম কোনো ডকুমেন্টস দেখাতে পারেননি। বিষয়টি নিয়ে কথা বললে বাংলাদেশ মানবাধিকার ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী এলিনা খান বলেন, কোনো ব্যক্তি গুম বা নিখোঁজ হলে পরিবারের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট থানায় এ সংক্রাšত্ম অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগের বেশির ভাগই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে করা হচ্ছে। তারা যদি কিছু না করে থাকে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ উঠছে কেন? তিনি মনে করেন, এ ধরনের গুম ও হত্যাকা- বন্ধে রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও পারস্পারিক সহযোগিতা দরকার। এদিকে গত ২৮ জানুয়ারি নিখোঁজ হন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ভাটার শাখার সাংগঠনিক সম্পাদিক তানভীর হাসান অঞ্জন। এ বিষয়ে থানায় কয়েকটি অভিযোগ দায়ের করা হলেও এখন পর্যšত্ম র‌্যাব, পুলিশ ও ডিবি তার কোনো হদিস দিতে পারেনি। এছাড়া গত বছরের ৪ ডিসেম্বর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রদল নেতা আসাদুজ্জামান রানা, মাজাহারুল ইসলাম এবং আলামিন রাজধানীর বারিধারা এলাকা থেকে নিখোঁজ হন। ঘটনার পরপরই রানার বোন মিনারা বেগম মুগদা থানায় এ ব্যাপারে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। কিন্তু পুলিশ এখনো রানার কোনা সন্ধান দিতে পারেনি। নিখোঁজ এই তিনজনের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় কোনো অভিযোগও পাওয়া যায়নি। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, তারা ওই তিনজনকে ছাত্রদলের নেতা হিসেবে জানে। তবে তাদের বিরুদ্ধে কোনো সহিংসতা বা ওই এলাকায় অপরাধী কর্মকা-ে জড়িত থাকার ব্যাপারে তারা কখনো কোনো কিছু শোনেনি। ঢাকা ট্রিবিউন উৎসঃ আমাদের সময় Share on facebook Share on email Share on print

নারীদের আত্মহত্যার প্রবণতা বেড়েছে 04 Mar, 2014
গৃহবধূ বিউটি বেগম (২৫)। ঝিনাইদহ জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার পিরোজপুর গ্রামের শহিদুল ইসলামের কন্যা। একই উপজেলার আমবাগান গ্রামের মিঠু মিয়ার সঙ্গে তার বিয়ে হয় ২০১০ সালে। দু’বছর পর বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে। স্বামী মিঠু মিয়া আবারও বিয়ের কথা বলে বিউটিকে কালীগঞ্জের কোলা গ্রামে নিয়ে যায়। সেখানে একটি কলাবাগানে তার সহযোগীদের নিয়ে শারীরিক নিপীড়ন করে। এর ভিডিওচিত্র ইন্টারনেটে ছেড়ে দেয়া হয়। হাতে হাতে পৌঁছে যায় এ ভিডিও চিত্র। লজ্জা অপমান সইতে না পেরে ১৫ই ফেব্রুয়ারি বিউটি বেগম তার নিজ বাড়িতে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন। কিশোরগঞ্জের ভৈরবের মুর্শিদ মুজিব উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর ছাত্রী হাসি আক্তার জ্যোতি (১৫) স্থানীয় সুস্মিত সুলতান (২০) নামে এক যুবকের সঙ্গে পরিচয় থেকে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। তার কপট প্রেম বুঝতে পারেনি জ্যোতি। মনপ্রাণ উজাড় করে দেয় সুস্মিতকে। প্রেম গড়ায় শারীরিক সম্পর্কে। প্রতারক প্রেমিক সুস্মিত তাদের বিশেষ মুহূর্তের ছবি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়। ফেসবুকে আপলোড করে। এরপরই লজ্জায় অপমানে জ্যোতি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে। প্ররোচনার অভিযোগে মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে সুস্মিত এখন কারাগারে। মামলা তুলে নেয়ার জন্য প্রভাবশালীরা চাপ দিচ্ছে জ্যোতির পরিবারকে। একদিকে মেয়ে হারানোর শোক, সামাজিক অসম্মান আর অন্যদিকে বিচার না পাওয়ার শঙ্কায় মুষড়ে পড়েছে জ্যোতির পরিবার। রাজধানী ঢাকার খিলগাঁও, সি ব্লক বউবাজার এলাকার মোহাম্মদ আলমগীরের কন্যা ডা. আসমা সুলতানা (৩০)। ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সুদীর্ঘ ১০ বছর প্রেম করে ইঞ্জিনিয়ার স্বামী মাহাদী মাসুদকে দু’বছর আগে বিয়ে করেছিলেন। ৭ই ফেব্রুয়ারি শুক্রবার কক্সবাজারের হোটেল মোটেল জোন কলাতলী সি-বিচ রিসোর্ট- এ ১১০ নম্বর কক্ষ থেকে সুইসাইড নোটসহ আসমার মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নারীদের আত্মহত্যার এমন প্রবণতা বাড়ছে দিন দিন। বিভিন্ন নারী সংগঠন ও বেসরকারি সংস্থার তথ্য অনুযায়ী নারীদের আত্মহত্যার হার উদ্বেগজনক। নির্যাতন বা মর্যাদাহানির কারণে মেয়ের আত্মহত্যার অনেক খবর প্রকাশ হওয়া বলে এর সঠিক পরিসংখ্যানও পাওয়া যায় না এসব সংস্থার দাবি। তবে সংস্থাগুলো বলছে, আত্মহত্যাকারীদের বেশির ভাগই বিভিন্ন বয়সী নারী। নারী সংগঠনগুলোর অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী প্রেমিক স্বামী কিংবা আপনজনের কাছ থেকে প্রতারিত ও ব্যর্থ হয়ে হতাশা, লজ্জা, ক্ষোভ, অপমান ও লোকলজ্জার ভয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছে বিভিন্ন বয়সের নারীরা। এদের মধ্যে স্কুল, কলেজের ছাত্রী, গৃহবধূর সংখ্যাই বেশি। গ্রাম, শহর, পাড়া, মহল্লা সবখানেই উদ্বেগজনকভাবে এ সংখ্যা বেড়েই চলেছে। বেসরকারি সংগঠন ‘নিজেরা করি’র সমন্বয়কারি খুশী কবির সমপ্রতি বাংলাদেশ পুলিশের উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছেন, ২০০২ সাল থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত সারা দেশে নারীর প্রতি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে ২ লাখ ৫ হাজারের বেশি। সহিংসতার মধ্যে রয়েছে ধর্ষণ, খুন, ধর্ষণ চেষ্টা, যৌন হয়রানি, এসিড নিক্ষেপ, যৌতুকের জন্য নির্যাতনসহ নানা ঘটনা। এসব ঘটনার প্রেক্ষিতে আত্মহত্যা করেছেন প্রায় তিন হাজারের বেশি বিভিন্ন বয়সী নারী। নারী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বলছেন সরকার বা পুলিশ বিভাগের কাছে এর সঠিক পরিসংখ্যান নেই আর থাকলেও তারা তা প্রচার করতে অনিচ্ছুক। প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়ে অনেক বেশি। গত ১২ই ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের আইনি সংস্থা লিগ্যাল এইড উপ-পরিষদ দেশে নারী নির্যাতন ও আত্মহত্যা সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এ সংক্রান্ত তথ্য। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের লিগ্যাল এইড উপ-পরিষদে সংরক্ষিত ১৪টি দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে এ পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়। তাতে দেখা যায়, ২০১৩ সালে বিভিন্ন বয়সী নারীদের আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে ৩৮৬টি। এর মধ্যে প্ররোচিত হয়ে আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে ৩৭টি। আত্মহত্যার তালিকায় বাসাবাড়ির গৃহপরিচারিকাও রয়েছেন। গৃহকর্তা বা গৃহকর্তীর মানসিক নিপীড়নে আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছে তারা। তাদের সংখ্যা ২৫। এছাড়া যৌন হয়রানির কারণে আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে ২৪টি। বিভিন্ন কারণে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন ২২ জন নারী। এসব আত্মহত্যার নেপথ্যে থাকে প্রেমঘটিত প্রতারণা, বিশেষ মুহূর্তের গোপন ছবি ইন্টারনেটে প্রকাশ, ফেসবুক প্রতারণা, গোপন তথ্য ফাঁস হওয়া, জীবনসঙ্গীর পরকীয়া বা অন্য নারীর প্রতি আসক্তি, পারিবারিক মনোমালিন্য ও মানসিক নিপীড়ন, অভিভাবকদের অতিমাত্রায় শাসন, ইভটিজিং, যৌন হয়রানি, যৌতুক, প্রেমের সম্পর্কে জটিলতাসহ নানা কারণ। বিষয়টি খুবই উদ্বেগের বলে মনে করছেন আইন, মানবাধিকার ও নারী সংস্থার নের্তৃবৃন্দ। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের লিগ্যাল এইড উপ-পরিষদের পরিসংখ্যানে আরও দেখা গেছে গত এক বছরে ৪৭৭৭ জন বিভিন্ন বয়সের নারী বিভিন্নভাবে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এদের মধ্যে শিশু থেকে শুরু করে ৪০ বছর বয়সের নারীর সংখ্যাই বেশি। এর মধ্যে উত্যক্তের শিকার হয়েছেন ৪৯৪ জন। এ ছাড়া ৯৭৫ জন নারী নির্যাতন ও ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন ১৮৫ জন। শ্লীলতাহানির শিকার হয়েছেন ১৫৪ জন। ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ৯৪ জনকে ও ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে ১৫৩ জনকে। অন্যদিকে যৌতুকের জন্য নির্যাতনের শিকার হয়েছে ৪৩৯ নারী। ফতোয়ার শিকার হয়েছে ২৪ জন। ৮৯ গৃহপরিচারিকা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এ ছাড়া ঘরে বাইরে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন বয়সী নারীদের মানসিক নিপীড়নতো আছেই। এসব ঘটনায় অনেকেই লোকলজ্জা ও অভিমানে আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছেন। খুশী কবির বলেন, নারীদের আত্মহত্যার প্রবণতা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। যদিও বিষয়টি অনেক আগে থেকেই হয়ে আসছে। বিশেষ ক্ষেত্রে আইন, সমাজের পাশাপাশি পরিবারও একজন নারীকে যথাযথ সমর্থন দেয়নি বা দেয় না। আর তখনি একজন নারী হতাশা, ক্ষোভ অভিমান নিয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। খুশি কবির বলেন, যে পরিসংখ্যান প্রকাশিত হয়েছে প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়ে অনেক বেশি। কখনও দেখা যায় হত্যার নামে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেয়া হয়। তাই নারীদের নিয়ে সমাজ ও পরিবারকে তার চিন্তাধারা বদলাতে হবে। এ দায়িত্বটি মূলত পুরুষদের। তাদের মানসিকতাও পরবির্তন করতে হবে। তিনি বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত না মানসিকতার পরিবর্তন হবে ততক্ষণ এ অবস্থা চলতেই থাকবে। এক্ষেত্রে আইনের যথযথ প্রয়োগ, বিচার ও শাস্তি নিশ্চিত একান্ত জরুরি। নারী নেত্রী, মনোবিজ্ঞানী ও আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়ে সাধারণত নারীরাই আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছেন। একজন সরকারি আইনজীবী (সহকারী এটর্নি জেনারেল) এ বিষয়ে মানবজমিনকে বলেন, নারীদের আত্মহত্যার প্ররোচনার জন্য বাংলাদেশ দণ্ডবিধি ও নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। কিন্তু দেখা গেছে, সেক্ষেত্রে মামলা হলেও শাস্তির নজির খুব একটা চোখে পড়ে না। এজন্য দায়ী আত্মহত্যার প্ররোচনার আইনগত সঠিক সংজ্ঞা না থাকা, মামলায় তথ্য, প্রমাণ, সাক্ষীর অভাব। যে কারণে নিম্ন ও উচ্চ আদালত থেকে আসামিরা সহজেই জামিন পেয়ে যায়। সঙ্গত কারণে প্ররোচনাকারীদের আইন ও বিচারের মুখোমুখি করা যাচ্ছে না। নিম্ন ও উচ্চ আদালতের বেশ ক’জন আইনজীবী বলছেন বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ৩০৯ ধারায় আত্মহত্যা করার উদ্যোগ নেয়াও একধরনের অপরাধ। সেক্ষেত্রে একবছরের কারাদণ্ড ও আর্থিক জরিমানার কথা বলা হলেও এই আইনের প্রয়োগ বর্তমানে নেই বললেই চলে। উদ্বেগজনকভাবে নারীদের আত্মহত্যার ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় সামজিক অস্থিরতা, সহজলভ্য আকাশ সংস্কৃতি, ফেসবুক, ইন্টারনেটের সহজপ্রাপ্তি, মোবাইলের সহজলভ্যতাকেও দায়ী করছেন অনেকে। তারা বলছেন, এসব ক্ষেত্রে আইনের যথাযথ প্রয়োগ না থাকায় এ ধরনের ঘটনা বেশি ঘটছে। এক্ষেত্রে অভিভাবকদের আরও সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. তানিয়া হক মানবজমিনকে বলেন, সমাজে নারীদের শারীরিক নির্যাতন আমাদের চোখে পড়লেও তাদের প্রতি মানসিক নির্যাতন ও নিপীড়ন চোখে পড়ে না। বলা হয়, নারীরা মুখ খুলতে চায় না। এ জন্য তারা আত্মঘাতী পথ বেছে নেয়। তিনি বলেন, নারীরা এখনও কেন আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছে তা বোধগম্য নয়। টিনএজ বা স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার প্রবণতার বিষয়ে ড. তানিয়া হক সরাসরি দায়ী করেন বিভিন্ন দেশের অপসংস্কৃতির আগ্রাসনকে। এ ছাড়া ফেসবুক, ইন্টারনেট, মোবাইল ফোনের অপব্যবহার ও সহজলভ্যতাও এক্ষেত্রে দায়ী বলে মনে করেন তিনি। উৎসঃ manabzamin