বৃহস্পতিবার, ৩০ জানুয়ারি, ২০১৪


প্রকাশ : ৩০ জানুয়ারি, ২০১৪ ১৫:১৩:৪৩আপডেট : ৩০ জানুয়ারি, ২০১৪ ১৫:২৯:৩৫
লক্ষ্মীপুরে দিন-দুপুরে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ স্থানীয়রা জানিয়েছেন, লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার মোল্লারহাট বাজারে বৃহস্পতিবার দুপুরে এই ঘটনা ঘটেছে। রায়পুর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার মোল্লারহাট বাজারে বৃহস্পতিবার দুপুরে তৃতীয় শ্রেণির এক স্কুলছাত্রী (১০) ধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।লক্ষ্মীপুরে দিন-দুপুরে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ বাজারের ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, সরফ আলী হাওলাদার (২৫) নামে এক বখাটে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান হাওলাদার ভ্যারাইটিজ স্টোরে এই ঘটনা ঘটিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তারা বিষয়টি শুনেছেন। বাজারের ইত্যাদি ভ্যারাইটিজ স্টোরের মালিক হারুন হাওলাদার সমকালকে জানান, দুপুর ২টার দিকে ওই স্কুলছাত্রী সরফ আলীর দোকানে যায় খাতা কিনতে। এসময় সরফ আলী কৌশলে তাকে তার দোকানের পেছনের রুমে নিয়ে ধর্ষণ করে। তখন তার চিৎকারে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা এগিয়ে গেলে দোকান ফেলে পালিয়ে যায় সরফ। পরে তারা তাকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে রায়পুর থানার ওসি রূপক কুমার সাহা সমকালকে বলেন, বিষয়টি আমরা শুনেছি। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। - See more at: http://www.samakal.net/2014/01/30/36249#sthash.h6Rzj776.dpuf

বুধবার, ২৯ জানুয়ারি, ২০১৪

5/17 ২০০৪ সালের ২ এপ্রিল চট্টগ্রামের সিইউএফএল জেটি থেকে দশ ট্রাক অস্ত্র উদ্ধারের পর দামপাড়া পুলিশ লাইন মাঠে নেয়া হচ্ছে। ছবি: বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
২০০৪ সালের ২ এপ্রিল চট্টগ্রামের সিইউএফএল জেটি থেকে দশ ট্রাক অস্ত্র উদ্ধারের পর দামপাড়া পুলিশ লাইন মাঠে নেয়া হচ্ছে। ছবি: বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
২০০৪ সালের ২ এপ্রিল চট্টগ্রামের সিইউএফএল জেটি থেকে দশ ট্রাক অস্ত্র উদ্ধারের পর দামপাড়া পুলিশ লাইন মাঠে নামানো হচ্ছে। ছবি: বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
২০০৪ সালের ২ এপ্রিল চট্টগ্রামের সিইউএফএল জেটি থেকে দশ ট্রাক অস্ত্র উদ্ধারের পর দামপাড়া পুলিশ লাইন মাঠে নামানো হচ্ছে। ছবি: বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
২০০৪ সালের ২ এপ্রিল চট্টগ্রামের সিইউএফএল জেটি থেকে দশ ট্রাক অস্ত্র উদ্ধারের পর দামপাড়া পুলিশ লাইন মাঠে নামানো হচ্ছে। ছবি: বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
২০০৪ সালের ২ এপ্রিল চট্টগ্রামের সিইউএফএল জেটি থেকে দশ ট্রাক অস্ত্র উদ্ধারের পর দামপাড়া পুলিশ লাইন মাঠে নামানো হচ্ছে। ছবি: বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
11/17 চট্টগ্রামে দশ ট্রাক অস্ত্র উদ্ধারের একদিন পরে ২০০৪ সালের ২ এপ্রিল চট্টগ্রামের দামপাড়া পুলিশ লাইন মাঠ থেকে তোলা ছবি। ছবি: বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
12/17 চট্টগ্রামে দশ ট্রাক অস্ত্র উদ্ধারের একদিন পরে ২০০৪ সালের ২ এপ্রিল চট্টগ্রামের দামপাড়া পুলিশ লাইন মাঠ থেকে তোলা ছবি। ছবি: বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
চট্টগ্রামে দশ ট্রাক অস্ত্র উদ্ধারের একদিন পরে ২০০৪ সালের ২ এপ্রিল চট্টগ্রামের দামপাড়া পুলিশ লাইন মাঠ থেকে তোলা ছবি। ছবি: বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
চট্টগ্রামে দশ ট্রাক অস্ত্র উদ্ধারের একদিন পরে ২০০৪ সালের ২ এপ্রিল চট্টগ্রামের দামপাড়া পুলিশ লাইন মাঠ থেকে তোলা ছবি। ছবি: বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
চট্টগ্রামে দশ ট্রাক অস্ত্র উদ্ধারের একদিন পরে ২০০৪ সালের ২ এপ্রিল চট্টগ্রামের দামপাড়া পুলিশ লাইন মাঠ থেকে তোলা ছবি। ছবি: বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
চট্টগ্রামে দশ ট্রাক অস্ত্র উদ্ধারের একদিন পরে ২০০৪ সালের ২ এপ্রিল চট্টগ্রামের দামপাড়া পুলিশ লাইন মাঠ থেকে তোলা ছবি। ছবি: বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
চট্টগ্রামে দশ ট্রাক অস্ত্র উদ্ধারের একদিন পরে ২০০৪ সালের ২ এপ্রিল চট্টগ্রামের দামপাড়া পুলিশ লাইন মাঠ থেকে তোলা ছবি। ছবি: বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
২০০৪ সালের ২ এপ্রিল চট্টগ্রামের দামপাড়া পুলিশ লাইন মাঠে উদ্ধার হওয়া অস্ত্র পরিদর্শন করছেন তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর। ছবি: বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
২০০৪ সালের ২ এপ্রিল চট্টগ্রামের দামপাড়া পুলিশ লাইন মাঠে উদ্ধার হওয়া অস্ত্র পরিদর্শন করছেন তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর। ছবি: বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
২০০৪ সালের ২ এপ্রিল চট্টগ্রামের দামপাড়া পুলিশ লাইন মাঠে উদ্ধার হওয়া অস্ত্র পরিদর্শন করছেন তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর। ছবি: বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
3/17 ২০০৪ সালের ২ এপ্রিল চট্টগ্রামের দামপাড়া পুলিশ লাইন মাঠে উদ্ধার হওয়া অস্ত্র পরিদর্শন করছেন তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর। ছবি: বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
২০০৪ সালের ২ এপ্রিল চট্টগ্রামের দামপাড়া পুলিশ লাইন মাঠে উদ্ধার হওয়া অস্ত্র পরিদর্শন করছেন তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর। ছবি: বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

মঙ্গলবার, ২৮ জানুয়ারি, ২০১৪


৫ বস্তা টাকা নিয়ে দু’দিন ধরে না খেয়ে ব্যাংক ডাকাত প্রধান ! 28 Jan, 2014 পাঁচ বস্তা টাকা পাহারা দিয়েছেন দু’দিন ধরে। এই সময়ে তার নাওয়া খাওয়া কিছুই হয়নি। পেটে পড়েনি এক ফোটা দানাপানিও। এতে ভীষণ দূর্বল হয়ে পড়েছেন হাবিব ওরফে সোহেল। সোহেলকে চিনতে পাঠকদের অসুবিধা হবার কথা নয়। সোহেল হচ্ছে কিশোরগঞ্জের সোনালী ব্যাংক ডাকাতির প্রধান আসামী। মঙ্গলবার বিকেল ৪টার দিকে রাজধানীর শ্যামপুর বালুর মাঠের ৮ নম্বর রোডের তনি ভিলার তিন তলা থেকে র‌্যাব সদস্যরা তাকে লুণ্ঠিত টাকা এবং এক সহযোকীকে গ্রেফতার করে। র‌্যাবের মুখপাত্র এটিএম হাবিবুর রহমান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শ্যামপুর বালুর মাঠ এলাকার একটি সাত তলা ভবনের তিন তলা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় ওই বাসা থেকে লুন্ঠিত পাঁচ বস্তা টাকাও উদ্ধার করা হয়েছে। এই টাকার ওজন প্রায় ১২ মন। তবে লুন্ঠিত ১৬ কোটি ৪০ লাখ টাকার মধ্যে কত টাকা উদ্ধার করা হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে তা গুনে দেখা হয়নি বলে জানান তিনি। উৎসঃ রাইজিংবিডি Share on facebook Share on email Share on print

যে সূক্ষ্ম চালে হিন্দি সিরিয়াল ধ্বংস করে দিচ্ছে আপনার জীবন!
28 Jan, 2014 সন্ধ্যার পরে কোনো কিছুইতেই আর মন বসে না। ঠিক সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত দুনিয়ার সব কাজকর্ম বাদ দিয়ে একটাই কাজ হলো ‘হিন্দি সিরিয়াল’ দেখা। প্রতিদিনই নতুন নতুন পর্ব আর ঘটনার চমকের কারণে নেশা হয়ে গিয়েছে সিরিয়ালের। এক দিন দেখতে না পারলেই মনটা খারাপ হয়ে যায়। তখন বান্ধবীদের থেকে ঘটনা শুনে নিতে হয় অথবা পুনঃপ্রচার দেখতে হয়। এমন ভয়ংকর নেশায় মত্ত হয়ে আছে বাংলাদেশের অধিকাংশ নারী। স্টার প্লাস, স্টার ওয়ান কিংবা জি টিভিতে চলা এই সিরিয়ালগুলো নারীদের কাছে খুবই জনপ্রিয়। এমনকি অনেক পুরুষও আজকাল দেখছেন এসব সিরিয়াল। ঢাকার পাশাপাশি মফস্বলেও ভয়াবহ আকারে ছড়িয়ে পড়েছে এই আসক্তি। আর হিন্দি সিরিয়ালের বিষাক্ত ছোবলের ভয়ঙ্কর প্রভাব পড়ছে আমাদের সমাজের উপরে। আসুন জেনে নেয়া যাক হিন্দি সিরিয়ালের সেই বিরূপ প্রভাব গুলো, যা মূলত ধ্বংস করছে আপনার জীবন! ১)সংসারে ‘কুটনামি’ করে অশান্তি বৃদ্ধি করা যে সূক্ষ্ম চালে হিন্দি সিরিয়াল ধ্বংস করে দিচ্ছে আপনার জীবন! হিন্দি সিরিয়ালের মূল উপাদান নিঃসন্দেহে কুটনামি। প্রতিদিনই সিরিয়ালে দেখানো হচ্ছে শাশুড়ি-বৌ এর কুটনামি, দুই জা এর কুটনামি কিংবা পরিবারের অন্যদের সংগে ষড়যন্ত্র ও কুটনামি। সিরিয়ালে দেখানো এসব ঘটনা ‘স্লো পয়জন’ এর মত কাজ করছে নারীদের ওপর। নিজের অজান্তেই কুটনামি করা শিখে ফেলছেন নারীরা। এক পর্যায়ে মনের বিকৃতির কারণে কুটনামি করেই বিকৃত রূচির বিনোদন পাচ্ছেন আমাদের সমাজের কিছু সংখ্যক হিন্দি সিরিয়াল প্রেমী নারী। ২)সাধারণ বিষয়কেও জটিল মনে করে মানসিক চাপে ভোগা হিন্দি সিরিয়ালে অনেক সাধারণ একটি বিষয়কেও জটিল করে দেখানো হয়। আর তাই যারা নিয়মিত হিন্দি সিরিয়াল দেখে তাদের কাছে খুব সহজ, সাধারণ একটি বিষয়কেও অনেক বেশি জটিল ও কুটিল মনে হতে থাকে। ফলে অযথাই মানসিক চাপ বৃদ্ধি পায় তাদের। ৩)অন্যের সম্পর্কে আলোচনা-সমালোচনা করা হিন্দি সিরিয়ালের দেখা দেখি একের কাছে অন্যের সমালোচনা করার প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে সমাজে। বান্ধবীদের কাছে, বোনদের কাছে কিংবা অন্য কারো কাছে সমালোচনা করে আনন্দ পাচ্ছে নারীরা। কে কী পোশাক পরছে, কার কত টুকু সম্পত্তি আছে, কার সন্তান আছে কার নেই ইত্যাদি অনধিকার চর্চার অভ্যাস বাড়ছে। ৪)ভারতীয় সংস্কৃতির বিরূপ প্রভাব যে সূক্ষ্ম চালে হিন্দি সিরিয়াল ধ্বংস করে দিচ্ছে আপনার জীবন! আমাদের দেশের বিয়ের অনুষ্ঠান, জন্মদিন, পূজা, ঈদ, সম্পর্ক সব কিছুতেই পড়েছে হিন্দি সিরিয়ালের প্রভাব। হিন্দি সিরিয়ালের দেখা দেখি অনেক বেশি জাঁকজমকপূর্ন অনুষ্ঠান করা কিংবা ভারতীয় প্রথা অনুসরণ করার কারণে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে নিজস্ব দেশীয় সংস্কৃতি। ৫)অতিরিক্ত সাজ পোশাক ও মেকআপ করার প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়া হিন্দি সিরিয়ালের নায়িকারা মেকআপ করে ঘুমাতে যায়, ঘুম থেকে ওঠে,শপিং যায়। এমনকি গোসল করে আসার পরেও মেকআপ করা থাকে। আর তাই হিন্দি সিরিয়াল আশক্ত নারীদের মধ্যেও অতিরিক্ত মেকআপ করা ও হিন্দি সিরিয়ালের নায়িকাদের মত দামী দামী জবরজং সাজ পোশাক পড়ার প্রবণতা লক্ষ্য করার মত বাড়ছে। ৬)লোক দেখানো কাজ করা কার কত দামী শাড়ি আছে, অমুক সিরিয়ালের নায়িকার স্টাইলের শাড়ি, তমুক সিরিয়ালের নায়িকার গলার হার ইত্যাদি হিন্দি সিরিয়ালের ভক্ত নারীদের ধ্যান-জ্ঞান হয়ে দাঁড়িয়েছে। কার চাইতে কে বেশি খরচ করে এসব কিনতে পারবে ও বান্ধবীদেরকে দেখাতে পারবে না নিয়ে রীতিমত প্রতিযোগিতা হয় নিজেদের মধ্যে। অসুস্থ এই প্রতিযোগিতায় যারা হেরে যায় তাদেরকে কটাক্ষ করতেও দ্বিধা করে হিন্দি সিরিয়াল আসক্ত এই নারীরা। ৭)পরকীয়ার প্রবণতা যে সূক্ষ্ম চালে হিন্দি সিরিয়াল ধ্বংস করে দিচ্ছে আপনার জীবন! হিন্দি সিরিয়ালে অহরহই যে বিষয়টি দেখাচ্ছে তা হলো পরকীয়া। প্রতিটি সিরিয়ালেই পরকীয়া হলো ঘটনার একটি মূল উপাদান। নৈতিকতা বিরোধী এই সম্পর্ক অতিরিক্ত দেখার কারণে বেশ স্বাভাবিক মনে হচ্ছে গৃহিণীদের কাছে। তাই একটু সুযোগ পেলেই পরকীয়ায় লিপ্ত হচ্ছে অনেক নারী। এমনকি অনৈতিক শারীরিক সম্পর্কে জড়িয়ে যাচ্ছে অনেক নারী। ৮)পড়াশোনায় ক্ষতি স্কুল, কলেজ কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়া অনেক মেয়েরা ও কিছু সংখ্যক ছেলেরাও হিন্দি সিরিয়ালে আসক্ত। প্রতিদিন পড়াশোনার মূল সময়টি তারা নষ্ট করে হিন্দি সিরিয়াল দেখে। তাদের মা, নানি, দাদিরাও সেই সময়ে বসে সিরিয়াল দেখে বলে সন্তানদেরকে মানা করতে পারে না। ফলে তাদের পরীক্ষার ফলাফল খারাপ হচ্ছে এবং অনেক ক্ষেত্রে কম বয়সেই ঝরে পড়ছে পড়াশোনা থেকে। উৎসঃ আলোকিত Share on facebook Share on email Share on print 4

বাংলাদেশী গণতন্ত্রের নতুন মডেল
27 Jan, 2014 নয়া এক গণতন্ত্র আমরা পেয়েছি বিতর্কিত ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পর। বিশ্বের কোথাও এ ধরনের গণতন্ত্র এ মুহূর্তে চালু নেই। পশ্চিমা গণতন্ত্রের জন্মদাতারা বেঁচে থাকলে হয়তো তারা বড্ড বেশি লজ্জা পেতেন। কারণ, প্রচলিত ধারার গণতন্ত্রের সংজ্ঞার সঙ্গে বাংলাদেশী গণতন্ত্রের কোন মিল নেই। অদ্ভুত কিসিমের এই গণতন্ত্রে কোন ভোটের প্রয়োজন হয় না। সংসদেও দরকার হয় না বিরোধী দলের। বিরোধী নেত্রী আছেন। আছেন তার দলের মন্ত্রীরা। দলের প্রধান সরকারের বিশেষ দূতও। সরকার আর বিরোধীদলকে আলাদা করে দেখার কোন সুযোগ নেই। কথা হচ্ছে জটিল এক নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আমরা এটা অর্জন করেছি। পশ্চিমা গণতন্ত্রের প্রতি আমাদের অবিচল আনুগত্য আর নেই। কারণ, আমরা নিজেরা নয়া এক মডেল তৈরি করেছি। এখন সংবিধান সংশোধন করে নিলেই সব মামলা চুকে যায়। বুদ্ধিজীবীরা সমানেই টিভির টকশোতে নয়া সব তত্ত্ব হাজির করছেন। বলছেন এটাই গণতন্ত্র। কে ভোট দিতে গেল আর না গেল তা দেখার সুযোগ বা সময় কোথায়? ভোটের বাক্স ছিল। দাওয়াতও দেয়া হয়েছিল ভোটারদের। নিরাপত্তাও ছিল। কেউ যায়নি তাতে কি? শাসন কায়েম হয়ে গেছে। বিদেশ থেকে স্বীকৃতিও এসে গেছে। তাই আসুন আমরা সবাই যোগ দেই গার্ডেন উৎসবে। যদিও সবার জন্য দরজা খোলা নয় এই উৎসবে। যারা সহযাত্রী তারাই যোগ দেবেন বা দিয়েছেন। আগে ব্যতিক্রম থাকতেন নিরাপত্তা বসরা। এবার তারাও কোরাসে যোগ দিয়েছেন। খানাপিনায় অংশ নিয়ে তৃপ্তির ঢেকুর তুলেছেন। বলেছেন, বাড়তি মজা দেখছি। আগে আমাদেরকে কেন দূরে ঠেলে রাখা হতো। এটাইতো ভাল। সবাই মিলেমিশে এক পতাকাতলে যোগ দিলে দেশে শান্তি আসবে। ভিন্ন মতের কি প্রয়োজন? ওরা তো গাড়ি পোড়ায়, রাস্তা অবরোধ করে। কথায় কথায় হরতাল ডাকে। জ্বালাও পোড়াও ছাড়া ওদের যেন আর কোন কাজ নেই। একদা আমজনতার আওয়াজ অন্য স্রোতে বেশি ছিল। এখন ঠিক হয়ে যাবে। আমরা ওদেরকে ঘুম পাড়িয়ে রাখার ওষুধ পেয়ে গেছি। দেখছেন না জেলায় জেলায় থানায় থানায় কিভাবে নতুন শব্দে ঘুম ভাঙে। কেউ জাগে, কেউ চিরদিনের জন্য ঘুমিয়ে যায়। নয়া মডেল দরকার। জয়তু সরকার প্রধান। তিনি নয়া মডেল দিয়েছেন। আসাদরা গাদ্দাফিরা কোন মডেল দিতে পারেনি। তারা বন্দুকের জোরে ক্ষমতা টিকে ছিল বা আছে। এখানে তো সংসদ বহাল। বিরোধীদলও থাকছে। একটু অন্যরকম আর কি? সরকার আর বিরোধীদল একযোগে কাজ করবে। বিরোধী মতের কি প্রয়োজন। অযথা বাড়তি টেনশন। কথার যুদ্ধ। জনগণকে উসকে দিয়ে ফায়দা নেয়ার চেষ্টা। বাংলাদেশী নতুন মডেলে এর কোন জায়গা নেই। ধীরে ধীরে এই জঞ্জাল সাফ করতে হবে। বিরোধী মতের আপাতত কোন দরকার নেই। ভবিষ্যতে দেখা যাবে। পশ্চিমা দুনিয়ার কয়েকজন চেঁচামেচি করবে। পরে ঠিক হয়ে যাবে। আর ওরা কি চায়। ব্যবসা, সুযোগ সুবিধা। সবই তারা পাবে। দেখলেন না চীন কিভাবে রাতারাতি পাল্টে গেল। আরও বড় শক্তি? অপেক্ষা করছে। দেখবেন সেটাও ম্যানেজ হয়ে গেছে। বিরোধীরা যে কেন ভোটে এলো না, তা আমি বুঝতে পারি না। তারা এলেই অনেক কিছু পেত। আমি তো সবাইকেই দিয়েছি। গোলমালটা হচ্ছে ইউরোপীয় একটি শক্তিকে নিয়ে। তারা ওয়েস্ট মিনস্টার ধারণার অন্য ব্যাখ্যা মানতে চায় না। তাই তারা আপত্তি করেছে। সংসদে প্রস্তাবও পাস করেছে। আপাতত বৈরী। পরশু সকালে দেখবেন বিলকুল ঠিক। বিরোধীরাও চুপ হয়ে যাবে। সামনে কত যে খেলা অপেক্ষা করছে। উপজেলা যাক না- দেখবেন হিসেব মেলাতে পারছে না। রাজনীতি চার দেয়ালের মধ্যেই বন্দি হয়ে যাবে। মিডিয়া তো কাবু হয়েই গেছে। আমাদের কিছু করতে হয়নি। নিজেরাই ম্যানেজ হয়ে গেছে। নতুন আইন করতে যাচ্ছি তাতে ওয়েব দুনিয়াও ঠাণ্ডা হয়ে যাবে। ক’জনের সাহস আছে আইন অমান্য করে বিপ্লবে যোগ দেয়ার। তার মানে কি? মানে খুবই সোজা। এক নেতা, এক দেশ, স্লোগানটি একসময় শুনতে ভাল লাগতো। মাঝখানে অরুচি ছিল। এখন নয়া মোড়কে মোড়ানো হচ্ছে। ভাল লাগতেও পারে। না লাগলে চলে যান অন্য দেশে। কার কি আপত্তি। কেউ আপত্তি জানাবে না। নিরাপত্তার জন্য, সুশাসনের জন্য প্রজারা নানা সময় নানা কিছু করেছেন। এই ভূখণ্ডেও তাই দেখা গেছে। প্রজারা রাজাকে বসান। আবার হটিয়েও দেন। রাজতন্ত্র আর গণতন্ত্রের মিল খুঁজতে গিয়ে অযথা বাড়তি চিন্তা করছেন কেন? সময় শেষ হয়ে যায়নি। অপেক্ষা করুন, দেখুন। নয়া কিছুর জন্য কষ্ট করতে হয়। রূপকথার গল্প শেষে সব সময় বলা হয়, এরপর তারা সুখে-শান্তিতে বসবাস করতে লাগল। এটা রূপকথা কিনা তা নিয়ে আপনি বিতর্ক করতে পারেন। আমি অন্তত করছি না। উৎসঃ manabzamin Share on facebook Share on email Share on print 5

পুলিশে যোগ হচ্ছে আরও ২০ হাজার সদস্য
27 Jan, 2014 পুলিশ বাহিনীতে আরও ২০ হাজার সদস্য বাড়ানোর নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। শিগগিরই দুই ধাপে এ নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হবে। পুলিশের লজিস্টিক সাপোর্টও বাড়ানো হচ্ছে। প্রয়োজনীয় নতুন গাড়ি কেনারও সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ ছাড়া পুলিশের গ্রেড-১ ও গ্রেড-২ পদ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। বর্তমানে পুলিশে গ্রেড-১-এ দুটি পদ রয়েছে।পুলিশে যোগ হচ্ছে আরও ২০ হাজার সদস্য পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত গাড়িগুলো মেরামতের পাশাপাশি নতুন গাড়ি কেনারও সিদ্ধান্ত হয়েছে। গতকাল রোববার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের এক বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত হয়। প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থবিষয়ক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান, জনপ্রশাসন সচিব আবদুস সোবহান শিকদার, পুলিশের আইজি হাসান মাহমুদ খন্দকার, আইন সচিব আবু সালেহ শেখ মো. জহিরুল হক, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব নাজিমুদ্দিন চৌধুরীসহ পুলিশ বিভাগ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচটি ইমাম বলেন, জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলা এ মুহূর্তে পুলিশের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এ জন্য পুলিশ বাহিনীকে আরও যোগ্য করে গড়ে তুলতে সরকার সম্ভাব্য সব কিছু করবে। কার্যক্ষেত্রে পুলিশের সক্ষমতা বাড়ানো হবে। সংঘাত ও সহিংসতা মোকাবেলায় পুলিশকেও প্রস্তুত থাকতেহবে। তাদের সক্ষমতার প্রমাণ দিতে হবে। বৈঠকে উপস্থিত পুলিশ সূত্র জানায়, গুরুত্বপূর্ণ ওই বৈঠকে পুলিশের দীর্ঘদিনের দাবি-দাওয়া নিয়ে আলোচনা হয়। প্রয়োজনীয় নতুন গাড়ি কেনার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। এ ছাড়া আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) ৯টি ইউনিটে লোকবল বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, বৈঠকের সিদ্ধান্তের আলোকে শিগগিরই পুলিশে নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হবে। দুই ধাপে এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। বৈঠকে পুলিশের পক্ষ থেকে নতুন গাড়ি কেনার প্রস্তাব দেওয়া হয়। এ ছাড়া পুলিশের ভাতা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। পুলিশ বাহিনীর প্রস্তাবনা অনুযায়ী বাহিনীতে গ্রেড-১-এ দুটি এবং গ্রেড-২-এ ৫টি পদ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। পুলিশ সূত্র জানায়, যুদ্ধাপরাধের দায়ে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির রায়কে কেন্দ্র করে সারাদেশে সহিংসতা শুরু হয়। ওই সময় থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত রাজনৈতিক সহিংসতায় পুলিশের শতাধিক গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পুড়ে যাওয়া ও ভাংচুরের শিকার ওইসব গাড়ি বর্মতানে অকেজো হয়ে পড়ে থাকায় পুলিশের স্বাভাবিক অভিযান পরিচালনায় ব্যাঘাত ঘটছে। দ্রুত এসব ক্ষতিগ্রস্ত গাড়ি মেরামত করে কাজের উপযোগী করা হবে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় নতুন গাড়ি কেনার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে। উৎসঃ samakal Share on facebook Share on email Share on print 2

কৌশল রোধে কৌশলী সরকার 26 Jan, 2014
প্রভাবশালী দেশের কূটনীতিক, উন্নয়ন সহযোগী ও বিরোধী দলের নানামুখী কৌশল ঠেকাতে সরকারও কৌশলী অবস্থান নিচ্ছে। নতুন সরকারের সঙ্গে কাজ করার ঘোষণা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যের মতো প্রভাবশালী দেশের কূটনীতিকরা কৌশলী অবস্থান নিয়েছে। তেমনি জামায়াতে ইসলামীর বিষয়েও বিএনপিও অবস্থান পরিষ্কার না করার কৌশল বেছে নিয়েছে। একইভাবে সরকারও আদালতের রায় সাপেক্ষে জামায়াতের রাজনীতির ভবিষ্যত্ নির্ধারণ কথা বলছে। বিএনপি আন্দোলনের ইস্যু বানাতে পারে এমন বিষয়গুলো সরকার হাতে রেখে বিএনপিকে চাপে ফেলার কৌশল নিয়েছে। এছাড়া যুক্তরাজ্যের পর পাকিস্তানে অবস্থানরত যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের আওতায় আনার প্রক্রিয়া শুরুর তথ্য প্রকাশের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে সরকারের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার কৌশল নেয়া হয়েছে। স্বস্তি ফেরাতে আইনশৃঙ্খলার উন্নতি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ, ব্যবসা খাতের সমস্যা নিরসনে পরামর্শক কমিটি গঠন নানা ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া প্রয়োজনে অন্তর্বর্তী সরকার ব্যবস্থা বৈধতা দেয়ার জন্য সংবিধান সংশোধন, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে। অন্তর্বর্তী সরকার ব্যবস্থা সংবিধানে অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে আইন বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক বর্তমানকে টেলিফোনে বলেন, এখন পর্যন্ত বিষয়টি আলোচনায় আসেনি। তবে আলোচনায় এলেই সংবিধান সংশোধনের প্রক্রিয়া শুরু করা যাবে। এর আগে প্রধানমন্ত্রী নিজে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেছেন জামায়াতের বিষয়ে আদালতে মামলা আছে। সেই মামলার রায় হওয়ার আগে আমি কিছুই বলতে চাই না। যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত মানবতাবিরোধী দুই আসামির ফাঁসির রায়ের পর পাকিস্তানে অবস্থানরত যুদ্ধপরাধীদের বিচারের বিষয়টি সক্রিয় আলোচনায় এসেছে। সরকারের নীতিনির্ধারণী সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান সরকার দ্বিতীয় দফায় ক্ষমতায় আসার পর ভারত, রাশিয়া, চীন, সিঙ্গাপুর, শ্রীলংকা, নেপাল, ভুটান মিশনসহ বেশ কিছু দেশ সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিন্দন জানিয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন সরাসরি কোনো চিঠিতে নতুন সরকারকে অভিনন্দন জানায়নি। এমনকি সরকারের সঙ্গে কাজ করে যাওয়ার বিষয়টিও তারা চিঠির মাধ্যমে সরকারকে অবহিত করেনি বলে জানা গেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অফিসিয়াল ব্রিফিংয়ে সরকারের কাজ করার বিষয়টি সাংবাদিকদের অবহিত করেন। যুক্তরাজ্য এবং ইইউ প্রতিনিধিরা সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে কাজ করে যাওয়ার কথা বলেন। প্রভাবশালী দেশগুলো সরকারের সঙ্গে কাজ করে যাওয়ার মতো কৌশলী ঘোষণা দিয়েছে। অন্যদিকে গত ১৬ জানুয়ারি ইউরোপীয় পার্লামেন্টে গৃহীত প্রস্তাবে বিএনপিকে জামায়াত থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। কৌশলী অবস্থান নয় জমায়াতের সঙ্গ ত্যাগের বিষয়ে বিএনপিকে স্পষ্ট অবস্থান নেয়ার পরামর্শও দেয়া হয়। সরকারের চেয়ে বিএনপির প্রতি তারা যে বেশি সহানুভূতিশীল এটা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এরপরও বিএনপি জামায়াতের সঙ্গ ছাড়ার বিষয়ে স্পষ্ট কোনো বক্তব্য এখন পর্যন্ত দেয়নি। দলের চেয়ারপারসন, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবসহ দলের সিনিয়র নেতারা জামায়াতের সঙ্গ ত্যাগের বিষয়ে যে কৌশলী বক্তব্য দিচ্ছেন তাতে কিছুই পরিষ্কার হয় না। সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের অপর একটি সূত্র জানায়, প্রভাবশালী দেশের কূটনীতিক দাতা সংস্থা এবং বিএনপি যত কৌশলী অবস্থানই গ্রহণ করুক তা রোধ করার সামর্থ্য সরকারের আছে। তার মতে বিএনপি যে বিষয়গুলোকে পুঁজি করে আন্দোলনে যেতে পারে ওই বিষয়গুলোকেই সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে। জনজীবনে স্বস্তি ফেরাতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি করে দেশে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনা। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখা ব্যবসায়ীদের আস্থায় নিয়ে বিনিয়োগের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করা। বিএনপি এই ইস্যুগুলোকে কাজে লাগিয়ে মাঠ গরম করতে পারলে দাতারা মধ্যর্বর্তী নির্বাচন সেই সঙ্গে সংলাপের বিষয়ে চাপ সৃষ্টি সুযোগ পাবে। বিএনপি এর একটি বিষয়ও যাতে ইস্যু বানাতে না পারে সেজন্য নতুন সরকার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাচ্ছে বলে জানা গেছে। তৃতীয় দফায় প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর শেখ হাসিনা ইতিমধ্যেই কয়েকটি জেলায় সফর করেছেন। বিশেষ করে ভোট দেয়ার অপরাধে যেসব জেলায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের পরিবারের ওপর হামলা চালানো হয়েছে প্রধানমন্ত্রী ওইসব জেলায় সফর করছেন। নির্যাতিত পরিবারের সদস্যদের পাশে সরকার আছে বলে তাদের আশ্বাস দিচ্ছেন। হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে। এছাড়া সারাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও উন্নতি করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পুলিশ বিভাগকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। ব্যবসা-বাণিজ্য খাতের সার্বিক উন্নয়নের জন্য সব ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের নিয়ে পরামর্শক কমিটি গঠনে জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে উদ্যোগ নেয়া হবে। এছাড়া তৈরি পোশাক খাতের শিল্প মালিকদের বেশ কিছু প্রস্তাব সরকার বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। যার সুফল এ খাতে বইতে শুরু করেছে বলে জানা গেছে। বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, ব্যবসায়ীরাই দেশের উন্নয়নের চালিকা শক্তি। কিন্তু সাম্প্রতিক রাজনৈতিক কারণে অর্থনৈতিক উন্নয়নের বেশ ভাটা পড়েছে। আর এই ক্ষতি ব্যবসায়ী সম্প্র্রদায় ও বাণিজ্যমন্ত্রণালয় সমন্বিতভাবে কাজ করলেই দ্রুত পুষিয়ে নেয়া সম্ভব। ব্যবাসায়ীরা কোনো রাজনৈতিক দল করেন তা মুখ্য নয়, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের দিকে তাদের অধিক মনোযোগী হওয়া উচিত্। আর এ ক্ষেত্রে বাণিজ্যমন্ত্রণালয় সবাইকেই সহায়তা করবে বলে তিনি জানান। রাজনৈতিক অস্থিরতা কেটে যাওয়ার পর তৈরি পোশাক খাতে স্বস্তি ফিরে আসছে, বিদেশি ক্রেতারা ফিরতে শুরু করেছে বলে জানা গেছে। নতুন বছরে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বিদেশি ক্রেতাদের অনেকেই পুরো বছরের অর্ডার দেয়ার জন্য আলোচনা শুরু করেছেন বলে জানিয়েছেন পোশাক রফতানিকারকরা। তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের নেতা আবদুস সালাম মুর্শেদী বলেন, বাজার হাতছাড়া হওয়ার যে ভয় ছিল তা অনেকটাই কেটে গেছে। নতুনভাবে ভরসা পাচ্ছি আমরা। আশা করছি, এই স্থিতিশীল পরিবেশ বজায় রাখার জন্য সব পক্ষই উদ্যোগী হবে। এখন যে অবস্থা চলছে তা অব্যাহত থাকলে বিশ্ব বাজারে আমাদের তৈরি পোশাকের কদর আরও বাড়বে। বাংলাদেশের অবস্থান আরও দৃঢ় হবে। রফতানি খাতকে উত্সাহিত করতে সরকার এরইমধ্যে বেশ কিছু সুবিধা দিয়েছে বলেও জানান ব্যবসায়ী নেতারা। এসব সুবিধার মধ্যে টিটির মাধ্যমে রফতানিতে ৫ পাঁচ শতাংশ নগদ সহায়তা, রফতানি উন্নয়ন তহবিলের (ইডিএফ) সুদহার কমানো, ডাউন পেমেন্ট ছাড়াই অথবা ব্যাংক-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিলের সুযোগ এবং শিল্প পণ্য আমদানিতে আগাম মূল্য পরিশোধের ব্যবস্থা অন্যতম। দেশের সব খাতে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনতে সরকারের পক্ষ থেকে এর বাইরেও অনেক বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এর সব পদক্ষেপকেই ইতিবাচক কৌশল হিসেবেই বর্ণনা করেন সরকারের মন্ত্রী প্রতিমন্ত্রীরা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা বলেন, আমাদের অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে বিএনপি যাতে আন্দোলনের কোনো ইস্যু হাতে তুলে নিতে না পারে। বিএনপি আন্দোলন করতে না পারলে বিদেশিরা তাদের হয়ে সরকারের ওপর সংলাপ বা মধ্যবর্তী নির্বাচনের বিষয়ে চাপ সৃষ্টি করবে না। বিদেশিরা যদি কোনো কারণেও চাপ দেয়ার চিন্তাভাবনা করে তখন সরকারের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশর পুনর্গঠন এবং সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে অন্তর্বর্তী সরকারের বিষয়টি উপস্থাপন করার পরিকল্পনা রয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন করতে গেলে সংবিধান সংশোধন করতে হবে। সংবিধান সংশোধন এবং নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন এ দুটি বিষয়টি দীর্ঘ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সম্পন্ন হয়ে থাকে। সংবিধান সংশোধনের জন্য প্রথম প্রস্তাব তৈরি করতে হবে। এটা মন্ত্রিসভার বৈঠকে নীতিগত অনুমোদন দেয়া হবে। চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য আবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে পেশ করা হবে। সেখান থেকে বিল আকারে উপস্থাপন করা হবে জাতীয় সংসদে। সেখান থেকে যাবে সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে। সংসদীয় কমিটি এ লক্ষ্যে আলাদাভাবে সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত জাতীয় কমিটি গঠন করে দিতে পারে। মোট কথা নানা কায়দায় সংবিধান সংশোধন ইস্যুতে সময় ক্ষেপণের সুযোগ সরকারের হাতে আছে। বিএনপির দাবি অনুযায়ী সংবিধান সংশোধন করা হচ্ছে এটা বিদেশিদের বোঝানো সহজ হবে। এই ফাঁকে লম্বা সময় হাতে পাওয়া যাবে। এর আগে কিছু দিন চলবে সংলাপ। সংবিধান সংশোধনের পর আসবে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের প্রসঙ্গ। সেখানে সার্চ কমিটির মাধ্যমে কমিশন গঠনের যে নজির চালু হয়েছে এবারও সে বিষয়টি সামনে আসবে। তখন কমিটির মাধ্যমে যোগ্য লোক খুঁজে কমিশনে নিয়োগ দেয়ার বিষয়টিও সময় সাপেক্ষ। এত সবের পরও চাপ থাকলে তা সামলানো খুব বেশি কঠিন হবে বলে মনে করেন না সরকারের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা। উৎসঃ বর্তমান Share on facebook Share on email Share on print