বৃহস্পতিবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০১৩

রেল নাশকতার নেপথ্যে রেল কর্মীরাই! গোয়েন্দা প্রতিবেদন 05 Dec, 2013 ১৮ দলীয় জোটের টানা অবরোধ কর্মসূচিতে গুরুত্বপূর্ণ রেলস্টেশনের আশপাশেও বড় ধরনের নাশকতা চালানো হয়। রেললাইন উপড়ে ফেলা থেকে শুরু করে ফিসপ্লেট খুলে ফেলা, লাইনে আগুন দেয়া ও স্লিপার তুলে ফেলা হয়। এ কারণে সারা দেশের রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনাও ঘটে। গত ফেব্রুয়ারি থেকিই চলছে এ নাশকতা। এ পর্যন্ত ১৬৯টি নাশকতার ঘটনা ঘটলেও সেটা এড়ানোর কোনো চেষ্টা নেই রেলওয়ের। এসব নাশকতার নেপথ্যে রেলওয়ের নিজস্ব কর্মীরাই জড়িত বলে মনে করছেন সংস্থাটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। রেলওয়ে পুলিশ ও রেলওয়ে গোয়েন্দা শাখার পৃথক প্রতিবেদনেও এ ধরনের আভাস দেয়া হয়েছে। রেলওয়ের তথ্যমতে, নাশকতার বড় আঘাত আসে রেলওয়ের ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে। এ পথের ব্রাহ্মণবাড়িয়া, গাজীপুর ও কুমিল্লায় তিন দফা ফিসপ্লেট ও লাইন খুলে ফেলা হয়। এর মধ্যে অবরোধ শুরুর আগে গত সোমবার রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় কসবা ও ইমামবাড়ী স্টেশনের মধ্যে ৬৬৮ ফুট লাইন (এক কিলোমিটারের বেশি) তুলে পানিতে ফেলে দেয়া হয়। রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানান, মাত্র ৪০ মিনিটে কসবা ও ইমামবাড়ী স্টেশনের মধ্যে এক কিলোমিটারের বেশি রেললাইন তুলে ফেলা হয়। সাধারণ মানুষের পক্ষে এত দ্রুত রেললাইন তুলে ফেলা সম্ভব নয়। এছাড়া লাইনটি তোলার জন্য ফিসপ্লেট ও রেলক্লিপ খোলা হয়। এজন্য বিশেষ ধরনের যন্ত্র দরকার; যা সাধারণ মানুষের কাছে থাকার কথা নয়। এছাড়া গত মঙ্গলবার সকাল থেকে অবরোধ শুরু হলেও সোমবার রাতেই লাইন তুলে ফেলা অবশ্যই পূর্বপরিকল্পিত ঘটনা বলে রেল বিশেষজ্ঞদের অভিমত। জানা গেছে, প্রতিটি ট্রেন ছাড়ার ১০ মিনিট আগে রেলপথ চেকআপ করার কথা থাকলেও সেটা হচ্ছে না। তাই দিন দিন ট্রেন দুর্ঘটনা বাড়ছে। পিডব্লিউআই (পার্মানেন্ট ওয়ে ইন্সপেক্টর) সপ্তাহে একদিন এবং এপিডব্লিউআই (অ্যাসিস্ট্যান্ট পার্মানেন্ট ওয়ে ইন্সপেক্টর) সপ্তাহে তিন দিন এলাকাভিত্তিক রেলপথ পরিদর্শন করার কথা থাকলেও তারা তা করছেন না। অন্যদিকে মিস্ত্রির প্রতিদিন লাইন চেক করা এবং চাবিম্যানের প্রতিদিন লাইনের চাবি, ওয়াশার, নাট-বল্টু চেক করার কথা থাকলেও তারা করছেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। রেলপথ রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে নিয়োজিত প্রধান প্রকৌশলীর অধীনে পিডব্লিউআই, এপিডব্লিউআই, মিস্ত্রি, চাবিম্যানসহ বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োজিত থাকেন। এদের দায়িত্ব অবহেলার কারণে নাশকতার ঘটনা রেড়েই চলছে। এছাড়া রেলওয়েতে তিন ধরনের স্বীকৃত নিরাপত্তা টহলের ব্যবস্থা থাকলেও তা পুরোপুরি কার্যকর নেই। ফলে নাশকতার শিকার হয়ে দেশের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। জীবনের ঝুঁকিতে পড়ছেন যাত্রীরা। রেলওয়ে সূত্র জানায়, বিশেষ পরিস্থিতিতে ইমার্জেন্সি শাটল, ইমার্জেন্সি ট্রলি ও ইমার্জেন্সি টহলব্যবস্থা নেয়ার নিয়ম রয়েছে। এই তিনটি ব্যবস্থা কার্যকর থাকলে যাত্রী ও মালবাহী ট্রেনগুলোকে নাশকতার হাত থেকে রক্ষা করা অনেকটাই সম্ভব। গত ২৮ ফেব্রুয়ারিতে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির রায়ের পর থেকেই মূলত রেল যোগাযোগে নাশকতা শুরু। ১৮ দলীয় জোটের দুই দফা অবরোধ কর্মসূচিতে সেটা ব্যাপকতা পেয়েছে। কিন্তু এই দীর্ঘ সময়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির শিকার হলেও রেলের নিরাপত্তা সংক্রান্ত জরুরি উল্লিখিত তিন ব্যবস্থা কার্যকর করেনি রেলের প্রকৌশল বিভাগ। অবরোধে নাশকতা বৃদ্ধির পর রেল কর্তৃপক্ষ সারাদেশে রেলপথ ও রেল স্থাপনার মধ্যে ৬৩২টি স্থান ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে। এসব স্থানে চারজন করে আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়। কিন্তু তাতে কোনো কার্যকর ফল পাওয়া যায়নি। এ অবস্থায় কর্তৃপক্ষ ট্রেনের গতি কমিয়ে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি কমানোর উদ্যোগ নেয়। এতে সারাদেশে ট্রেনের সময়সূচি ভেঙে পড়ে। আয়ও নেমে আসে অর্ধেকে। নিয়ম আছে স্পর্শকাতর সময় কোনো যাত্রীবাহী ট্রেন গন্তব্যে ছাড়তে হলে তার আগে একটি কোচ লাগানো ইঞ্জিন যাত্রা করবে। এটাই ইমার্জেন্সি শাটল। এটি রেললাইন ঠিক ও নিরাপদ আছে কিনা, তা পর্যবেক্ষণ করতে করতে যাবে। আর পেছনে যাবে যাত্রীবাহী বা মালবাহী ট্রেন। ফলে রেললাইনে যে কোনো ধরনের ত্রুটি পাওয়া গেলে ইমার্জেন্সি শাটল নিকটবর্তী স্টেশন মাস্টারের কাছে আগাম বার্তা পাঠাবে। তখন যাত্রী বা মালবাহী ট্রেনটি নিকটতম স্টেশন বা উপযুক্ত স্থানে থামিয়ে রাখা হবে, রেললাইন ঠিক না হওয়া পর্যন্ত। ঢাকা, চট্টগ্রাম, লাকসাম, আখাউড়া, সিলেট ও ময়মনসিংহসহ সব গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনেই এই ইমার্জেন্সি শাটলের ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু এসব যথাযথভাবে ব্যবহার করা হয় না বলে অভিযোগ রয়েছে। ইমার্জেন্সি শাটলের মতো ইমার্জেন্সি ট্রলিও রেললাইন নিরাপদ আছে কিনা, তা যাত্রী বা মালবাহী ট্রেনের আগে যাত্রা করে কাছের স্টেশনে আগাম বার্তা পাঠাবে। তৃতীয় ব্যবস্থা হলো জরুরি টহল। প্রতি পাঁচ মাইল রেললাইনে একজন ম্যাটের নেতৃত্বে ১২ জনের একটি দল থাকে। তারা পথ ভাগ করে সার্বক্ষণিকভাবে হেঁটে রেললাইন পর্যবেক্ষণ করবেন। যদি কোনো নাশকতার চিহ্ন দেখেন, তার তথ্য সংশ্লিষ্ট স্টেশনে জানাবেন এবং রেললাইন মেরামত করবেন। দিনের বেলায় এ কাজটি হয় বলে জানা গেছে। ইমার্জেন্সি শাটল, ইমার্জেন্সি ট্রলি ও ইমার্জেন্সি টহলব্যবস্থা কার্যকর করার দায়িত্ব রেলের প্রকৌশল দফতরের। এতে করে রেলের প্রকৌশল দফতরের দায়িত্ব নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। রেলের নাশকতা এড়ানোর গুরুত্বপূর্ণ এই তিনটি বিষয়ে দায়িত্ব তাদের। রেলওয়ের পরিচালক (ট্রাফিক) সৈয়দ জহুরুল ইসলাম জানান, গত কয়েক দিনের নাশকতার সঙ্গে রেলওয়ের কর্মীরা যুক্ত থাকতে পারেন। কারণ রেলে ট্রেড ইউনিয়ন আছে। এসব ইউনিয়নে বিভিন্ন মতাদর্শের শ্রমিক রয়েছেন। তারা এ ধরনের ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন। অবরোধের সময় বিভিন্ন জায়গায় গাছের গুড়ি ফেলে, ঢিল ছুড়ে ট্রেন চলাচল বন্ধের চেষ্টা করা হয়। সাধারণ মানুষ ফিসপ্লেট বা লাইন খুলতে পারলে সব স্থানে এ চেষ্টাই করা হতো। রেলপথ আটকে অবরোধ করার প্রয়োজন হতো না। তাই বিষয়টি গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা উচিত। এদিকে রেলপথে চলমান নাশকতায় রেলওয়েরই শ্রমিক সংগঠনভিত্তিক একশ্রেণীর কর্মচারী জড়িত বলে ইঙ্গিত পেয়েছে গোয়েন্দা শাখা। সম্প্রতি রেলপথ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গত তিন দিনে রেলপথে নাশকতাকারীদের অনেকের মুখ ঢাকা ছিল। তারা রেলওয়ের লোক বলে ধারণা করা হচ্ছে। কেননা ইমামবাড়ী এলাকায় যেভাবে এক কিলোমিটার রেললাইন সরিয়ে ফেলা হয়, তা খুব অল্প সময়ের মধ্যে করা কোনো সাধারণ মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়। রেলওয়ের এক অতিরিক্ত মহাপরিচালক এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, অবরোধে চলমান নাশকতার সঙ্গে রেলওয়ের নিজস্ব কর্মীরা জড়িত থাকার সম্ভাবনাই বেশি। তবে তারা সরাসরি এ কাজ না করলেও নাশকতাকারীদের পরামর্শ দিয়ে সহায়তা করতে পারেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। রেলওয়ের মহাপরিচালক প্রকৌশলী মো. আবু তাহের বলেন, ‘রেলওয়ের লোকবলের বড় ধরনের ঘাটতি থাকায় অস্থায়ী নিয়োগ দিয়ে কাজ চালানো হচ্ছে। এদের নাম কেটে দিলেই চাকরিচ্যুত। তাই নাশকতার সঙ্গে অস্থায়ী লোকজন জড়িত থাকলে রেলওয়ের কিছু করার নেই।’ এছাড়া নাশকতার সঙ্গে রেলওয়ের কর্মী জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগও পাওয়া যায়নি। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি জানান। উৎসঃ বাংলামেইল২৪ Share on facebook Share on email Share on print 7
দুই দলের দুর্নীতি 05 Dec, 2013 স্বৈরতন্ত্রের পতনের পর নতুনভাবে বাংলাদেশ গড়ার কাজ শুরু হয় ১৯৯১ সালে। দুই নেত্রীরই প্রতিশ্রুতি ছিল, সুশাসন ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন হবে রাজনীতির চালিকাশক্তি। কিন্তু দুই দশকে প্রধান দুই দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সুশাসন অবস্থান দুঃস্বপ্নে রূপ নিয়েছে। একের পর এক কেলেঙ্কারি ও দুর্নীতি প্রকাশ্যে এসেছে দুই দলের নেতৃত্বাধীন শাসনামলেই। গণমাধ্যমের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে অনেক রাঘব-বোয়ালের নামও। তবু অদ্ভুতভাবে নিশ্চুপ থেকেছেন বর্তমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী। বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট সরকার ও আওয়ামী লীগের মহাজোট সরকারের দুই মেয়াদে কী পরিমাণ সরকারি অর্থের অপচয় ও দুর্নীতি হয়েছে, তা নিরূপণের জন্য অর্ধশতাধিক বিশেষজ্ঞ, সাবেক আমলা, বিচারপতি, অর্থনীতিবিদ, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ও সাবেক উপদেষ্টার পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে একটি আকার দাঁড় করানোর চেষ্টা করেছে বণিক বার্তা। সিংহভাগ ব্যক্তিই মতামত দেন, এরশাদ-পরবর্তী সময়ে দুটি রাজনৈতিক দলেরই প্রথম পর্যায়ের শাসনামলে তুলনামূলক কম দুর্নীতি হয়েছে। তাদের অনুমান, এ সময়ে দুর্নীতির পরিমাণ সরকারি ব্যয়ের সর্বোচ্চ ১০ শতাংশের মধ্যেই ছিল। তবে বিএনপির সর্বশেষ মেয়াদে (২০০১-০৬) হাওয়া ভবনকেন্দ্রিক দুর্নীতিসহ ব্যক্তি ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে ব্যাপক অনিয়মের কারণে তা ১৫ শতাংশে উন্নীত হয় বলে বিশেষজ্ঞরা ধারণা করেন। আর আওয়ামী লীগের চলমান শাসনামলে শেয়ারবাজার, পদ্মা সেতু, ব্যাংক ও রেল কেলেঙ্কারি, বিভিন্ন মাল্টিলেভেল ব্যবসার নামে যেসব দুর্নীতি হয়েছে, তা যেকোনো সময়ের দুর্নীতিকে ছাড়িয়ে গেছে। রক্ষণশীলভাবে হিসাব করলেও গত পাঁচ বছরে মোট সরকারি ব্যয়ের কমপক্ষে ২০ শতাংশ অনিয়ম বা দুর্নীতি হয়েছে বলে বিশেষজ্ঞদের অনুমান। গত চার সরকারের আমলে অর্থনৈতিক সুশাসনের অভাবে দুর্নীতি ও অনিয়ম হয়েছে প্রায় ২ লাখ ২১ হাজার ৫০৭ কোটি টাকার। বিএনপির প্রথম সরকারের আমলে পাঁচটি অর্থবছরের ঘোষিত বাজেটের ১০ শতাংশ হারে মোট দুর্নীতি হয়েছে প্রায় ৯ হাজার ৬৩৪ কোটি টাকার। পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগ আমলে তা দাঁড়ায় ১৬ হাজার ৩৫৩ কোটি টাকায়। দেশের অর্থনীতির আকার বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মোট বাজেটও বাড়তে থাকে। পাশাপাশি বেড়ে যায় দুর্নীতির পরিমাণ। বিএনপির সর্বশেষ শাসনামলে মোট বাজেটের ১৫ শতাংশ হারে হিসাব নিয়ে দুর্নীতি দাঁড়ায় ৪২ হাজার ৭৩১ কোটি টাকার। তবে আওয়ামী লীগের চলমান শাসনামলে এর পরিমাণ সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। এ মেয়াদে দুর্নীতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৫২ হাজার কোটি টাকা। দুর্নীতি আবার শুধু কয়েকটি খাতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। ছড়িয়ে পড়েছে আর্থিক প্রতিষ্ঠান, সেবা, শিক্ষা কিংবা স্থানীয় সরকার বিভাগসহ সব খাতে। এ প্রসঙ্গে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, গত কয়েক দশকে রাজনৈতিক ক্ষমতার সঙ্গে অর্থনৈতিক ক্ষমতা অঙ্গীভূত হওয়ার প্রবণতা লক্ষ করা যাচ্ছে। এক্ষেত্রে বিশেষ মহলকে সুবিধা দিতেই উদ্দেশ্যমূলকভাবে দুর্নীতি করানো হচ্ছে। ফলে দুর্নীতিবাজরা থাকছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। আইনের আওতায়ও আনা যাচ্ছে না তাদের। আর্থিক প্রতিষ্ঠান: ২০০১-০৬ শাসনামলে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের শেষ সময়ে ওরিয়েন্টাল ব্যাংক কেলেঙ্কারি আলোচনায় আসে। প্রায় ৫০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেন ব্যাংকের উদ্যোক্তারা। পরবর্তী সময়ে ব্যাংকটি অধিগ্রহণ করে বাংলাদেশ ব্যাংক। ২০০৬ সালে ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালককে অপসারণ ও পরিচালনা পর্ষদের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। আর্থিক অনিয়ম বিষয়ে তদন্তের পর ‘ব্যাংক কোম্পানি আইন’ অনুযায়ী ব্যাংকটির উদ্যোক্তা ও ওরিয়ন গ্রুপের কর্ণধার ওবায়দুল করিম এবং বেঙ্গল গ্রুপের কর্ণধার আবুল খায়ের লিটুর নামে-বেনামে থাকা সব শেয়ার বাজেয়াপ্ত করা হয়। বর্তমানে ব্যাংকটি আইসিবি গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক নামে পরিচালিত হলেও বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে পারেনি। বিএনপির পর বর্তমান মহাজোট সরকারের আমলেও আক্রান্ত হয় ব্যাংকিং খাত। সোনালী ব্যাংক থেকে হল-মার্ক গ্রুপ জালিয়াতির মাধ্যমে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়। বেসিক ব্যাংক থেকেও কয়েকটি গ্রুপ হাতিয়ে নেয় প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা। রাষ্ট্রায়ত্ত রূপালী, জনতা ও অগ্রণী ব্যাংক থেকেও বড় অঙ্কের অর্থ লোপাটের ঘটনা ঘটেছে। ব্যাংকের অর্থ কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িতরা দুই সরকারের আমলেই বহাল তবিয়তে ব্যবসা করে যাচ্ছেন। অর্থনীতিবিদ ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ এ প্রসঙ্গে বলেন, আর্থিক খাতগুলোকে রাজনৈতিক সুযোগ-সুবিধার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এজন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না। তাছাড়া রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর অনভিপ্রেত রাজনৈতিক বিরূপ প্রভাব বেসরকারি ব্যাংকগুলোয় পড়তে শুরু করেছে। তাই এ খাতে দুর্নীতিরোধে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের চেয়ে রাজনৈতিক সদিচ্ছার প্রয়োজন। শেয়ারবাজার: শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারি নিয়ে বড় ধরনের অস্বস্তির মধ্যে রয়েছে বর্তমান সরকার। দেশের ইতিহাসে দুটি ধসের ঘটনাই ঘটেছে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধী সরকারের আমলে। ১৯৯৬ সালের কারসাজি ঘটনার প্রায় ১৭ বছর পার হতে চললেও সাজা পাননি কেউ। উচ্চ আদালতের নির্দেশে সব কটি মামলাই বছরের পর বছর স্থগিত রয়েছে। আর ২০১০ সালের কেলেঙ্কারির ঘটনায় বড় রাঘব-বোয়ালদের ছেড়ে দিয়ে মধ্যম শ্রেণীর পাঁচ কারসাজিকারীর বিরুদ্ধে নিম্ন আদালতে দুটি মামলা হলেও আজ পর্যন্ত শুনানি হয়নি। এ বিষয়ে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, বিভিন্ন অনানুষ্ঠানিক তথ্য প্রমাণ করে, আর্থিক খাতে দুর্নীতি বেড়েই চলেছে। ঘটনাপ্রবাহ সুশাসনের অভাবকেই প্রতিষ্ঠিত করছে। রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োজিত সরকারি ব্যাংকের পরিচালকরা সুশাসনের কোনো নজির স্থাপন করতে পারেননি। অন্যায়-দুর্নীতি বন্ধ করতে হলে নিরপেক্ষ আইনের শাসন প্রয়োজন। বিদ্যুৎ খাত: সরবরাহ লাইন বাড়ানোর নামে আলোচিত খাম্বা ব্যবসার জন্ম দিয়েছিল বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট সরকার। এ খাত নিয়ে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ থাকায় ওই সরকারের এক বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রীকে পদত্যাগও করতে হয়। জ্বালানি খাতেও নাইকো কেলেঙ্কারির জন্ম দিয়ে পদত্যাগ করেছিলেন তত্কালীন জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী। এদিকে বর্তমান সরকার সুশাসনের অভাবে নির্ধারিত সময়ে বাস্তবায়ন করতে পারেনি সরকারি বিদ্যুেকন্দ্রগুলো। বাধ্য হয়েই বাড়াতে হয়েছে ভাড়াভিত্তিক অধিক ব্যয়বহুল বিদ্যুেকন্দ্রের মেয়াদ। এক্ষেত্রে মহাপরিকল্পা বাস্তবায়নে বিদ্যুৎ, জ্বালানি দ্রুত সরবরাহ (বিশেষ ক্ষমতা) আইন, ২০১০ তৈরি করা হয়। আইনটির আওতায় এ বিষয়ে নেয়া কোনো সিদ্ধান্তকে ভবিষ্যতে চ্যালেঞ্জ করা যাবে না, অন্য কোনো আইনের আওতায়ও বিচার করা যাবে না। যদিও এ আইনের আওতায় রেন্টাল ও কুইক রেন্টালের জন্ম দিয়ে সমালোচিত হয় সরকার। বিদ্যুৎ উৎপাদনক্ষমতা প্রত্যাশার চেয়ে বেশি বাড়লেও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে সরকারের পরিকল্পনা নিয়ে। ছয় দফা বাড়ানো হয়েছে বিদ্যুতের দাম। তার পরও প্রতি বছর কয়েক হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হচ্ছে সরকারকে। বিদ্যুৎ খাতে বিশেষ কিছু পদক্ষেপ নেয়া হলেও বঞ্চিত রয়েছে জ্বালানি খাত। প্রাকৃতিক গ্যাসের সংকট ক্রশেই ঘনীভূত হয়ে আসছে। নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে উল্লেখযোগ্য গতি নেই। উৎপাদন বাড়াতে বিদেশী বিভিন্ন কোম্পানিকে কাজ দেয়া নিয়েও নানা প্রশ্ন উঠেছে। উৎসঃ bonikbarta Share on facebook Share on email Share on print 32

বুধবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৩

‘মেয়ে বন্ধু’সহ ছাত্রলীগ নেতা হোটেল থেকে গ্রেপ্তার 04 Dec, 2013 জেলায় এক ছাত্রলীগ নেতা ‘মেয়ে বন্ধু’সহ শহরের একটি আবাসিক হোটেল থেকে গ্রেপ্তার হয়েছেন। কক্সবাজার মডল থানা পুলিশে বুধবার বেলা পৌনে ২টার দিকে কলাতলি এলাকার ‘ক্ল্যাসিক রিসোর্ট’ নামের আবাসিক হোটেল থেকে ওই ছাত্রলীগ নেতাকে গ্রেপ্তার করে। এছাড়াও অনৈতিক কাজে লিপ্ত আরো দুই জুটিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে কনডমও জব্দ করা হয়। ধৃত ছাত্রলীগ নেতা মাহবুবুল আলম শাকিল ছাত্রলীগের কক্সবাজার শহর শাখার ১২নং ওয়ার্ড কমিটির সভাপতি। তিনি শহরের লাইট হাউস পাড়ার নজরুল ইসলামের ছেলে। তার সঙ্গে হোটেল কক্ষ থেকে গ্রেপ্তার হওয়া ‘মেয়ে বন্ধু’ হলেন রামু কলেজের শিক্ষার্থী সুমি। তিনি রামু উপজেলার রাজারকুল ইউনিয়নের বাসিন্দা। কক্সবাজার মডেল থানার অপারেশন কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) সাহেদ উদ্দিন জানান, পুলিশের একটি দল বুধবার দুপুরে শহরের কলাতলি হোটেল মোটেল জোন (আবাসিক গেস্ট হাউস) এলাকার আবাসিক হোটেল ‘ক্ল্যাসিক রিসোর্ট’ থেকে ছয় যুবক-যুবতিকে গ্রেপ্তার করেন। তিনি জানান, তাদের অনৈতিক কাজে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়। এদের মধ্যে মাহবুবুল আলম শাকিল নামের এক যুবকও রয়েছেন। তার সঙ্গে ‘মেয়ে বন্ধু’ সুমিকেও পাওয়া যায়। ওসি জানান, ধৃত যুবক-যুবতিদের কাছ থেকে অনৈতিক কাজে ব্যবহৃত কমডমও উদ্ধার করা হয়। তবে ওই পুলিশ কর্মকর্তা মাহবুবুল আলম শাকিল নামের যুবকটি ছাত্রলীগের নেতা কিনা নিশ্চিত করতে পারেননি। ছাত্রলীগে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মাহবুবুল আলম শাকিল ছাত্রলীগের শহরের ১২নং ওয়ার্ড কমিটির সভাপতি। উৎসঃ আরটিএনএন

সোমবার, ২ ডিসেম্বর, ২০১৩

মাগো, দেশবাসীর আর্তনাদ কি শুনতে পাচ্ছেন! 02 Dec, 2013 মাগো! চারিদিকে বারুধ, ঢাকাবাসীর চাপা কান্না এবং দেশবাসীর আর্তনাদ কি শুনতে পাচ্ছেন! কয়েকদিন যাবৎ ঘুমাতে পারছিনা। পরিবার পরিজন, বন্ধু বান্ধব ও পরিচিত জনের কাউকেই হাসতে দেখিনি কয়েকমাসে। রুটি রুজির জন্য অফিসে আসতে হয়। আমার গাড়ীর গ্লাসটি ককটেলের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্থ হবার পর রিক্সায় ঘুরে বেড়াই। বাসে উঠতে ভয় পাই গান পাউডার এর অগ্নিতে কাবাব হবার আশংকায়। শরীর-মন হাহাকার করছে এক অজানা শংকায়- বিশেষ করে গাজীপুরে স্যান্ডার্ড গার্মেন্টস পুড়ে ১২০০ কোটি টাকার ক্ষতি এবং অসহায় মালিকের গগন বিদারী কান্না দেখার পর বার বার মনে হচ্ছে ডাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে যাই- কিন্তু একজন ব্যর্থ রাজনীতিবীদ হিসেবে আমার কলংকিত মুখ ঐ সব আগুনে পোড়া মানুষজনকে যে দেখানো যাবেনা- এতটুকু চেতনা এখনো ধারন করছি বলেই আমার মনজগতে অনেক উথাল পাথাল হচ্ছে প্রতি মূহুর্তে। সন্ধ্যার পর ঢাকা ভূতরে নগরী হয়ে যায়। দিনের বেলায় সবাই চলে ইতিউতি চোখ নিয়ে সর্বদা একই ভয় এই বুঝি কেউ এলো আর ককটেল মেড়ে দৌড় দিলো। টেলিভিশনে পুলিশের কিছু তৎপরতা দেখা যায়। কিন্তু নাগরিক হিসেবে রাস্তায় চললে দেখবেন- কোন এক জায়গায় বেঞ্চ পেতে তারা অলস সময় কাটাচ্ছে। টহলরত অবস্থায় পুলিশের গাড়ী দেখা যায় কালে ভদ্রে। রাতের বেলায় তারা একদমই চলে না। মাঝে মধ্যে হুইসেল বাজিয়ে ৩/৪ টি পুলিশের গাড়ী চলে যায় ব্যস্ত সড়ক দিয়ে। অবস্থা থেকে মনে হয় তারা হুইসেল বাজিয়ে কাউকে নিরাপদে সরে যাবার আহবান করছে। ঢাকা মুলত: এই মূহুর্তে সারা দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন। আপনি যদি নিউমার্কেট অথবা মোহাম্মদপুর কাঁচা বাজারে যান তাহলে দেখবেন সেই নিত্য প্রয়োজনীয় কাঁচা মালের কিরুপ হাহাকার যাচ্ছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক- অভিভাবক- আর শিক্ষার্থীরা গুমরে গুমরে কাদঁছে। অন্যদিকে রাজনৈতিক দলের অফিসের সামনে কিছু কর্মী নিয়ে কয়েকজন নেতাগোছের মানুষ মুছকি মুছকি হেসে ক্যামেরায় পোজ দিচ্ছে। শহরের যে কোন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান যান এবং শুনুন সবার কথা। বিশ্বাস না হলে তাদের কাগজপত্র পরীক্ষা করুন- দেখবেন সকলেই হয় ইতিমধ্যে দেউলিয়া হয়ে গেছে নয়তো দেউলিয়া হওয়ার পথে। এরপর আপনি তাদের মনের কথা জানার জন্য সম্প্রতি আবিস্কৃত হওয়া যন্ত্রটির সাহায্যে নিন এবং ভালো করে শুনুন তারা কি আপনাকে অভিশাপ দিচ্ছে না অন্য কাউকে? বিভাগীয় শহর, জেলা শহর এবং প্রত্যন্ত গ্রাম্য হাটবাজারে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। ঠিক যেনো জাতিগত দাঙ্গার মতো, যেমনটি হয়েছিলো ভারত ভাগের পর। এ দেশের টিভি গুলো নৈতিক কারনে অনেক কিছু প্রকাশ করছেনা- বা পারছেনা। কিন্তু বিদেশী টিভিতে যা দেখাচ্ছে তাতে পরিস্থিতি সিরিয়া, কাবুল বা কান্দাহারের চেয়েও ভয়াবহ ভাবে উপস্থাপিত হচ্ছে আর এসব দেখে বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশীরা ঐ দেশীয় লোকদের নিকট শরমে মরমে মরে যাচ্ছে আর দেশে বসবাসরত তাদের আত্নীয় স্বজনের জন্য কান্নাকাটি করছে। এতসব তান্ডবের মধ্যে নির্বাচনের চেষ্টা হচ্ছে। ঢোল, ডগর বাজিয়ে একদল নাছছে আর একদল ভি চিহ্ন দেখিয়ে রাজপথ প্রকম্পিত করছে- ঠিক যেনো নজরুলের কবিতার মতো- আমি জাহান্নামের আগুনে বসিয়া হাসি পুস্পের হাসি। তারা সবাই আপনার সামনে বীরত্ব দেখিয়ে হম্বিতম্বি করে আর পর্দার আড়ালে এসে ভয়ে জড়সড় হয়ে ভিন্ন কথা বলে। ভিন্ন চিত্র ও অবশ্য আছে- কেউ কেউ আপনাকে পতনের অতলান্তে নিয়ে যাবার জন্য- ঠান্ডা মাথায় অনেক কিছু করছে। আপনিতো অবশ্যই জানেন অতিরিক্ত তৃষ্ণার্ত মানুষকে হঠাৎ করে ঠান্ডা সুপেয় পানি দিলে লোকটির কি অবস্থা হয়। সে পানি খেয়ে মারা যায় অথবা আপনার হাত থেকে পানি ছিনিয়ে নেবার জন্য- আপনার ওপর যেকোন জঘন্য- অনাচার ঘটিয়ে দেয়। যারা একবার আপনার শত্রু হয়ে গেছে তারা কখনো বন্ধু হবেনা। আপনি দীর্ঘদিন যাদেরকে অপমানিত করেছেন আপনার প্রয়োজনে তাদেরকে যদি সম্মানিত করেনও সে ক্ষেত্রে তাদের প্রধান দায়িত্ব ও কর্তব্য হয়ে দাড়ায়- আপনার প্রতি প্রতিশোধ নিয়ে নিজেদের অতীত অপমানের ঝাল মেটানো এবং তৎপর উল্লাস নৃত্য করা। আপনি বিশ্বাস করুণ- দীর্ঘ ইতিহাসের পথ প্ররিক্রমায় এর ব্যতিক্রম ঘটেনি একবারের জন্যও বিশেষত রাজনীতিতে। হায় আল্লাহ্! শেষ মুহুর্তে কেনো আপনি সেই উদারতা কিংবা দূর্বলতা দেখিয়ে পুরস্কার গুলো দিলেন যার জন্য- তারা বহু বছর ধরে অপেক্ষা করছিলো। ১৭৫৭ সালের এপ্রিল মে মাসের কিছু ঘটনা যা কিনা ঘটেছিলো মূর্শিদাবাদের রাজ দরবারে, তার সঙ্গে আপনার জীবনের কিছু উপাখ্যান ইচ্ছে করলে মিলিয়ে নিতে পারেন। প্রথম থেকে নবাব সিরাজউদ্দৌলা রাজ্যের সিনিয়র কিছু আমীর ওমরাদের অপছন্দ করতেন এবং উঠতে বসতে অপমানিত করতেন। একবার তাদেরকে রাজ দরবারে গ্রেফতারও করে বসেন। তারপর আবার তার চারিত্রিক দূর্বলতার কারণে আমীর ওমরাদেরকে ছেড়ে দেন। ২৩ জুন পলাশীর যুদ্ধের ঠিক এক মাস আগে নবাব তার ৫৩ হাজার সদস্য সেনাবাহিনীর মূল কমান্ড তাদের হাতে দিয়ে দেন যাদেরকে তিনি এতকাল অপমান করে আসছিলেন। অন্যদিকে নিঃস্বার্থভাবে যারা তাকে ভালোবাসতো এসব জেনারেলকে রাজধানী রক্ষার দায়িত্ব দিয়ে তিনি নিজ রণাঙ্গনে উপস্থিত হলেন। চক্রান্তকারীরা যুদ্ধক্ষেত্রে এসে নবাবের তাবু এমনভাবে সুরক্ষিত করলো যে মোহন লাল, মীর মদনরা তার সঙ্গে দেখা করার সুযোগও পেলো না। আপনাকে আমি ইতিহাসের শ’খানেক উদাহরণ দেখাতে পারবো যেখানে গত একহাজার বছরে বার বার একই ভুল করা হয়েছে এবং হুবহু একই পরিণতি হয়েছে। আমার প্রশ্ন কেনো এমনটি হয় বার বার! এর উত্তর কিন্তু আঁতেল প্রকৃতির লোকেরা দিয়ে গেছেন যাদেরকে আবার আপনারা ভারী অপছন্দ করে থাকেন। মানুষ একটা সময় এসে নিজেকে অতিমানব ভাবতে শুরু করে। পারিপার্শ্বিক পরিবেশ এবং নিজের মধ্যে লুকিয়ে থাকা একটি নফস যার নাম ‘এজাহারে তাজাল্লুল’- এর প্রভাবেই এমনটি হয়ে থাকে। অনেকে দেশের মানুষকে আনুগত্যহীন ও অস্থির প্রকৃতির বলে গালি দিতে চায়। কিন্তু আমার মনে হয় উত্তম শাসকের অভাবে মানুষ অস্থিরতা দেখায়। এই বাংলায় শশাংক, সামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ, হোসেন শাহ কিংবা শায়েস্তা খানের মতো শাসক ছিলেন যারা একেক জন ২০/৩০ বছর এক নাগারে শাসন করেছেন। তখন বিদ্রাহ ছিলো না, অপরাধীও ছিলো না এবং কারাগার গুলো বলতে গেলে খালি ছিলো। পাল বংশ এক নাগারে ৪০০ বছর নির্বিঘ্নে রাজত্ব করলো আর আমরা চার বছর পার করতে পারছিনা। রাজার সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য্য তার ন্যায়পরায়ণতা আর রাজাকে শেষ করে দেয় তার মোনাফিকী এবং অন্যায় আচরণ। মানুষ হিসেবে আপনি যদি সম্রাট শাহজানের সেই গল্পটির ইতিকথা স্মরণ করেন তবে অনেক কিছুই এমনিতেই সমাধান হয়ে যাবে। দিল্লীতে কায়েস নামক এক বৃদ্ধ ভিক্ষুক ছিলো। বহুদুর ভিক্ষা করার পরও তার চাল চুলো কিছুই হলো না দেখে শহরবাসী মুরুব্বীরা সহানুভূতি জানিয়ে বললো- কি গো কায়েস তোমার তো কিছুই হলো না। তুমি কি সারাজীবন ভিক্ষাই করে যাবে? ভিক্ষা ছাড়া আর করবোই বা কি! লোকজন তো এক পয়সার বেশি দেয় না- তাও আবার সবাই সকলে দেয় না। হবে কিভাবে! কায়েস উত্তর করলো। লোকজন বললো- বাদশার কাছে যাও। তিনি মস্ত বড় দাতা। একবার দিলে আর জীবনে ভিক্ষা করতে হবে না। কায়েস বললো- কিভাবে যাবো? রাজ দরবারে তো কোন ভিক্ষুক ঢুকতে দেয় না। বাদশাহ রাজপথে নামার আগে প্রহরীরা সেখানকার সব ভিক্ষুক তাড়িয়ে দেয়। লোকজন বললো- তুমি এখন দিল্লী জামে মসজিদে যাও। বাদশাহ নামাজ পড়ছেন। তুমি মুসল্লির বেশে ঢুকে অপেক্ষা কর এবং নামাজ শেষে তাকে সালাম দিয়ে মনের দুঃখ বল। কায়েস সত্যিই মসজিদে ঢুকলো এবং বাদশাহ নামাজ শেষে মোনাজাত করছেন। হাউমাউ করে অঝরে কাদছেন। অনেকক্ষণ দাড়িয়ে কায়েস ভারী আশ্চর্য হয়ে বাদশার কান্নাকাটি দেখলো। মোনাজাত শেষে বাদশাহ উঠে দাড়ালেন এবং অশ্রুসজল নেত্রে কায়েসের দিকে তাকিয়ে সালাম দিলেন। বাদশার মন ছিলো ঐ মুহুর্তে যথেষ্ট নরম এবং অহংকার মুক্ত। কায়েস সালামের উত্তর দিয়ে মসজিদ থেকে বের হতে উদ্যত হলো- বাদশাহ কায়েসকে ডাক দিলেন। বললেন- তোমাকে দেখেতো একজন ভিক্ষুক বলেই মনে হচ্ছে। আরো মনে হচ্ছে তুমি হয়তো আমার কাছে কিছু চাইতে এসেছিলে। আমার কাছে যারা আসে তারা তো কিছু না চেয়ে ফেরত যায় না। অথচ কি আশ্চর্য তুমি ফেরত চলে যাচ্ছো! কায়েস বললো- হে বাদশাহ নামদার! আপনি ঠিকই ধরেছেন যে আমি একজন ভিক্ষুক এবং আপনার নিকট ভিক্ষা চাইতে এসেছিলাম। কিন্তু আপনাকে দেখে আমার জ্ঞানের চক্ষু খুলে গেছে। আমি মানুষ জনের কাছে ভিক্ষা চাই কিন্তু জীবনে কোনদিন কান্নাকাটি করিনি। কিন্তু আজ আমি দুনিয়ার সবচেয়ে বড় শাহনশাহকে দেখলাম অন্য কারো নিকট আমার চেয়েও বড় ভিক্ষুক হয়ে চোখের পানি ফেলে ভিক্ষা চাইতে। কাজেই এখন থেকে আমি তারই কাছেই সবকিছু চাইবো যার নিকট শাহেন শাহ- ভিক্ষার হাত বাড়ান। উৎসঃ ফেসবুক
আফগান গ্রামে এখনো তালেবান শাসন অনলাইন ডেস্ক | আপডেট: ১৪:৫০, ডিসেম্বর ০২, ২০১৩ তিন বছর ধরে আদালতে বিচার না পেয়ে গুল জামান অবশেষে আশ্রয় নেন তালেবান শাসনের। ছবি: বিবিসিআফগানিস্তানে তালেবান শাসনের অবসান হয়েছে ২০০১ সালে। মার্কিন প্রশাসনের সমর্থনে প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাইয়ের সরকার ক্ষমতায় বহাল প্রায় ১২ বছর ধরে। এর পরও দেশটির প্রত্যন্ত অঞ্চলের অনেক গ্রামে এখনো এই সরকারের শাসন পৌঁছায়নি। কোনো কোনো গ্রামে তা আছে নামে মাত্র। এসব গ্রামে বিচারের প্রয়োজনে এখনো মানুষকে ধরনা দিতে হচ্ছে তালেবান নেতাদের কাছে। কিছু গ্রামে রয়েছে তালেবানের ছায়া সরকার। আজ সোমবার বিবিসির অনলাইনের একটি প্রতিবেদনে বিষয়টি তুলে ধরা হয়। আফগানিস্তানের অনেক গ্রামে কারজাই সরকারের সুশাসন নেই। বিচারব্যবস্থার দুর্নীতির অভিযোগ তুলে অনেকে সুবিচারের আশায় তালেবানের শরণাপন্ন হয়েছেন বলে বক্তব্য দেন। আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ কুনারের চাপাদারা জেলার বাসিন্দা ৫৭ বছর বয়সী গুল জামান। তিন বছর ধরে তিনি তাঁর ভাইয়ের হত্যাকারীদের শাস্তির দাবিতে আদালতের দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়িয়েছেন। তিনি জানান, তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে কয়েকজন লোক তাঁর ভাই মোহাম্মদ জামানকে হত্যা করে। এর পরের তিন বছর তিনি বিচার চেয়ে আদালত এবং বিচারকদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন। গুল জামানের ভাষ্য, ‘তাঁরা প্রত্যেকে আমার অভিযোগ শোনার জন্যও ঘুষ চেয়েছেন। কিন্তু আমি তা দিতে না পারায় তাঁরা আমাকে পথভ্রষ্ট পশুর মতো তাড়িয়ে দিয়েছেন।’ তিনি বলেন, ‘তিন বছর পর সেই হত্যাকারীদের একজন ফিরে এসে আমার আরেক ভাইকে গুলি ছুড়ে হত্যা করে। তবে এবার তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। আমাদের মনে হয়েছিল এবার হয়তো বিচার পাব।’ গুল জামান পরে শুনানির দিন আদালতে হাজির হয়েছিলেন বলে জানান। তিনি বলেন, ‘বিচারক আমার কাছে জানতে চান—আমি কী দিতে পারব। কিন্তু আমার কিছুই দেওয়ার নেই বলার পর বিচারক আসামির কাছেও একই জিনিস জানতে চান।’ গুল জামানের ভাষ্যমতে, আসামি বিচারককে একটি ষাঁড়, একটি গাভি ও ১০ কেজি আখরোট দেওয়ার পর তাঁকে ছেড়ে দেন। পরে আসামিদের একজন তালেবানে যোগ দেন। সাধারণ লোকজন বিচারক ও অভ্যন্তরীণ বিচারব্যবস্থা নিয়ে খুব বিরক্ত। তিনি বলেন, ‘শেষ আশ্রয় হিসেবে আমি প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই ও তালেবানের কাছে বিচার চাইছি।’ এই গ্রামেরই আরেক বাসিন্দা ফজলে মোহাম্মদ। তিনি জানান, জমিসংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে তাঁর পরিবারের চার সদস্যকে হত্যা করা হয়। তিনিও বিচারের আশায় সরকারের নিয়োগ দেওয়া বিচারকদের কড়া নেড়েছেন। কিন্তু ঘুষের জন্য পোহাতে হয়েছে হয়রানি। এভাবে কয়েক মাস কাটার পর তিনি তালেবানের কাছে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এরপর তিনি জেলা তালেবানের কাছে যান। সেখানে সংগঠনটির বিচারক ও মোল্লারা ছিলেন।তাঁরা পবিত্র কোরআন ও শরিয়া আইন অনুযায়ী এ মামলার রায় দেন। জমি দখল করা ব্যক্তিকে দোষী সাব্যস্ত করে তাঁকে জমি ফেরত দিতে বলেন। অভিযুক্ত ব্যক্তি এ রায় মেনে নিতে না চাইলে তাঁকে বাধ্য করা হয়। তালেবানের পক্ষ থেকে তাঁকে একটি চিঠিও দেওয়া হয়। সেখানে বলা হয়, ‘এই বিরোধপূর্ণ জমির মালিক আমি এবং কেউ এটি দখল করতে চাইলে তাঁকে তালেবানের রোষের মুখে পড়তে হবে। এরপর থেকে কেউ আর আমার জমি দখল করার সাহস করেনি।’ চাপাদারা জেলার গভর্নর খান মোহাম্মদ সাফি বলেন, ‘আমাদের জেলায় কোনো বিচারক নেই। কৌঁসুলি নেই। তাঁরা রাজধানী থেকে কাজ করেন। তাই এসব লোকের অভিযোগের সত্যতা রয়েছে। ঠিক সময়ে মামলার মীমাংসা হয় না। তালেবানের ক্রমাগত হামলায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সরকারি কোনো বিচারক এখানে কাজ করতে চান না। কুনার প্রদেশের রাজধানী আসাদাবাদের সরকারি কৌঁসুলিরা এ বিষয়ে মুখ খুলতে চাননি। তবে নাম না প্রকাশের শর্তে তাঁরা স্বীকার করেছেন, কুনারের চার জেলায় কোনো বিচারক ও সরকারি কৌঁসুলি নেই। কাবুলের সুপ্রিম কোর্টের তথ্য পরিচালক মোহাম্মদ সাদেক ঝোবাল বলেন, গুল জামান যদি মনে করেন তাঁর প্রতি অবিচার করা হয়েছে, তাহলে তিনি দ্বিতীয় বা তৃতীয় আদালতের শরণাপন্ন হতে পারেন বা তথ্য প্রমাণ নিয়ে কাবুলে আসতে পারেন। আমাদের সাক্ষ্য-প্রমাণের প্রয়োজন। বিচারকেরা কোনো গল্পের ওপর ভিত্তি করে রায় দিতে পারেন না। সরকারের মৌলিক সেবার ঘাটতির কারণে আফগানিস্তানের প্রত্যন্ত এলাকায় শাসন পরিচালনায় সংকট দেখা দিয়েছে। এতে হাজার হাজার মানুষকে তালেবানের বিচারিক ব্যবস্থার শরণাপন্ন হতে হচ্ছে; যা তাঁদের কাছে কঠোর, কিন্তু কার্যকর বলে মনে হয়।

রবিবার, ১ ডিসেম্বর, ২০১৩

কান্ডারী অথর্ব কুমারী মাঃ একটি তাত্ত্বিক পর্যবেক্ষণ 30 November 2013, Saturday ইংরেজি মেইডেন শব্দটির অর্থ কুমারী। ম্যাগডেন অর্থাৎ অবিবাহিত নারী থেকে মেইডেন শব্দটির উৎপত্তি। ঋতুবতী অথচ বিয়ের পূর্ব পর্যন্ত কোনো নারী পুরুষের সঙ্গে যৌন সংযোগ না করে থাকলে সে কুমারী। বাংলায় এর সমার্থক শব্দগুলো হচ্ছে অনূঢ়া, অধবা, অপাত্রস্থা, কৌমারী। হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় তার বঙ্গীয় শব্দকোষে কুমারীর সংজ্ঞায় বলেছেন, “দ্বাদশ বর্ষীয়া বালিকা, সম্ভান্তে দ্বাদশ বর্ষে কুমারীত্ব বিধিয়তে অথবা অজ্ঞাতপুষ্প ষোড়শ বর্ষ পর্যন্ত বয়স্কা বালিকা”। সৎ+ঈপ = ‘সতী’ শব্দটির উৎপত্তি । ‘সৎ’ (অসবিদ্যমান থাকা + শতৃ কর্তৃ) অর্থ যা বিদ্যমান, যা উত্তম, সাধু এবং সভ্য। নারীদেহে হাইমেন বা সতীচ্ছেদ নামক একটি পর্দা নির্ণীত হয় যা নারীর সতীত্ব প্রমান করে অর্থাৎ একজন নারীকে কুমারী বা ইংরেজিতে ভার্জিন হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়। আল্লাহ বলেন, وَإِذْ قَالَ رَبُّكَ لِلْمَلاَئِكَةِ إِنِّيْ خَالِقٌ بَشَرًا مِّن صَلْصَالٍ مِّنْ حَمَإٍ مَّسْنُوْنٍ، فَإِذَا سَوَّيْتُهُ وَنَفَخْتُ فِيْهِ مِن رُّوحِيْ فَقَعُوْا لَهُ سَاجِدِيْنَ- অর্থঃ স্মরণ কর সেই সময়ের কথা, যখন তোমার প্রভু ফেরেশতাদের বললেন, আমি মিশ্রিত পচা কাদার শুকনো মাটি দিয়ে ‘মানুষ’ সৃষ্টি করব। অতঃপর যখন আমি তার অবয়ব পূর্ণভাবে তৈরী করে ফেলব ও তাতে আমি আমার রূহ ফুঁকে দেব, তখন তোমরা তার প্রতি সিজদায় পড়ে যাবে (হিজর ১৫/২৮-২৯)। অন্যত্র তিনি বলেন,هُوَ الَّذِيْ يُصَوِّرُكُمْ فِي الأَرْحَامِ كَيْفَ يَشَآءُ لآ إِلَهَ إِلاَّ هُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ- (آل عمران অর্থঃ তিনিই সেই সত্তা যিনি তোমাদেরকে মাতৃগর্ভে আকার-আকৃতি দান করেছেন যেমন তিনি চেয়েছেন। তিনি ব্যতীত কোন উপাস্য নেই। তিনি মহা পরাক্রান্ত ও মহা বিজ্ঞানী (আল ইমরান ৩/৬)। তিনি আরও বলেন, يَخْلُقُكُمْ فِيْ بُطُوْنِ أُمَّهَاتِكُمْ خَلْقًا مِّن بَعْدِ خَلْقٍ فِي ظُلُمَاتٍ ثَلاَثٍ- (زمر অর্থঃ তিনি তোমাদেরকে তোমাদের মাতৃগর্ভে সৃষ্টি করেন একের পর এক স্তরে তিনটি অন্ধকারাচ্ছন্ন আবরণের মধ্যে (যুমার ৩৯/৬)। তিনটি আবরণ হলোঃ পেট, রেহেম বা জরায়ু এবং জরায়ুর ফুল বা গর্ভাধার। উপরোক্ত আয়াতগুলোতে আদম সৃষ্টির তিনটি পর্যায় বর্ণনা করা হয়েছে। প্রথমে মাটি দ্বারা অবয়ব নির্মাণ, অতঃপর তার আকার-আকৃতি গঠন ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সমূহে শক্তির আনুপতিক হার নির্ধারণ ও পরস্পরের মধ্যে সামঞ্জস্য বিধান এবং সবশেষে তাতে রূহ সঞ্চার করে আদমকে অস্তিত্ব দান। অতঃপর আদমের অবয়ব পাঁজর থেকে কিছু অংশ নিয়ে তার জোড়া বা স্ত্রী সৃষ্টি করা হয়। সৃষ্টির সূচনা পর্বের এই কাজগুলো আল্লাহ সরাসরি নিজ হাতে করেছেন (ছোয়াদ ৩৮/৭৫)। অতঃপর এই পুরুষ ও নারী স্বামী-স্ত্রী হিসেবে বসবাস করে প্রথম যে যমজ সন্তান জন্ম দেয়, তারাই হলো মানুষের মাধ্যমে সৃষ্ট পৃথিবীর প্রথম মানব যুগল। তারপর থেকে এই পর্যন্ত স্বামী-স্ত্রীর মিলনে মানুষের বংশ বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। মৃত্তিকাজাত সকল প্রাণীর জীবনের প্রথম ও মূল একক হচ্ছে ‘প্রোটোপ্লাজম’। যাকে বলা হয় ‘আদি প্রাণসত্তা’। এ থেকেই সকল প্রাণী সৃষ্টি হয়েছে। এজন্য বিজ্ঞানী মরিস বুকাইলী একে বম্ব শেল বলে অভিহিত করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে মাটির সকল প্রকারের রাসায়নিক উপাদান। মানুষের জীবন বীজে প্রচুর পরিমাণে চারটি উপাদান পাওয়া যায়। অক্সিজেন, নাইট্রোজেন, কার্বন ও হাইড্রোজেন। আর আটটি পাওয়া যায় সাধারণভাবে সমপরিমাণে। সেগুলো হলোঃ ম্যাগনেশিয়াম, সোডিয়াম, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, ক্লোরিন, সালফার ও আয়রণ। আরও আটটি পদার্থ পাওয়া যায় স্বল্প পরিমাণে। তাহলোঃ সিলিকন, মোলিবডেনাম, ফ্লুরাইন, কোবাল্ট, ম্যাঙ্গানিজ, আয়োডিন, কপার ও যিংক। প্রথম পর্যায়ে মাটি থেকে সরাসরি আদমকে অতঃপর আদম থেকে তার স্ত্রী হাওয়াকে সৃষ্টি করার পরবর্তী পর্যায়ে আল্লাহ আদম সন্তানদের মাধ্যমে বনু আদমের বংশ বৃদ্ধির ব্যবস্থা করেছেন। এখানেও রয়েছে সাতটি স্তর। যেমনঃ মৃত্তিকার সারাংশ তথা প্রোটোপ্লাজম, বীর্য বা শুক্রকীট, জমাট রক্ত, মাংসপিন্ড, অস্থিমজ্জা, অস্থি পরিবেষ্টনকারী মাংস এবং সবশেষে রূহ সঞ্চারণ (মুমিনূন ২৩/১২-১৪; মুমিন ৪০/৬৭; ফুরক্বান ২৫/৪৪; তারেক্ব ৮৬/৫-৭)। স্বামীর শুক্রকীট স্ত্রীর জরায়ুতে রক্ষিত ডিম্বকোষে প্রবেশ করার পর উভয়ের সংমিশ্রিত বীর্যে সন্তান জন্ম গ্রহণ করে (দাহর ৭৬/২)। উল্লেখ্য যে, পুরুষের একবার নির্গত বীর্যে লক্ষ-কোটি শুক্রাণু থাকে। আল্লাহর হুকুমে তন্মধ্যকার একটি মাত্র শুক্রকীট স্ত্রীর জরায়ুতে প্রবেশ করে। এই শুক্রকীট পুরুষ ক্রোমোজম Y অথবা স্ত্রী ক্রোমোজম X হয়ে থাকে। এর মধ্যে যেটি স্ত্রীর ডিম্বের X ক্রোমোজমের সাথে মিলিত হয়, সেভাবেই পুত্র বা কন্যা সন্তান জন্ম গ্রহণ করে আল্লাহর হুকুমে। মাতৃগর্ভের তিন তিনটি গাঢ় অন্ধকার পর্দার অন্তরালে এইভাবে দীর্ঘ নয় মাস ধরে বেড়ে ওঠে একটি পূর্ণ জীবন সত্তার সৃষ্টি (আবাসা ৮০/১৮-২০)। এভাবেই জগত সংসারে মানববংশ বৃদ্ধির ধারা এগিয়ে চলেছে। এ নিয়মের ব্যতিক্রম নেই কেবল আল্লাহর হুকুম ব্যতীত। একারণেই আল্লাহ অহংকারী মানুষকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘মানুষ কি দেখে না যে, আমি তাকে সৃষ্টি করেছি শুক্রবিন্দু থেকে? অতঃপর সে হয়ে গেল প্রকাশ্যে বিতন্ডাকারী’। ‘সে আমার সম্পর্কে নানারূপ দৃষ্টান্ত বর্ণনা করে। অথচ সে নিজের সৃষ্টি সম্পর্কে ভুলে যায়, আর বলে যে, কে জীবিত করবে এসব হাড়গোড় সমূহকে, যখন সেগুলো পচে গলে যাবে? (ইয়াসীন ৩৬/৭৭-৭৮)। অতএব প্রমানিত হলো যে, স্বয়ং আল্লাহর সৃষ্ট নিয়ম অনুযায়ী একজন কুমারী নারীর পক্ষে কখনও সন্তান জন্ম দিয়ে মা হওয়া সম্ভব নয়। এবং বিজ্ঞানও তাই প্রমান করে বলেই কুমারী মা সম্পূর্ণ অবাস্তব একটি ভিত্তিহীন অমূলক ধারনা। কুমারী মা বলে আসলে পৃথিবীতে কিছুই নেই। আর তাই যদি হয়, তাহলে বিভিন্ন পুরাণ আর বিভিন্ন ধর্ম অনুসারে আমরা কুমারী মা সম্পর্কে যে ধারনাগুলো পেয়ে থাকি সবই মিথ্যা মানুষের রচিত কল্প কাহিনী ব্যতীত আর কিছুই নয়। তবে দেখে নেয়া যাক বিভিন্ন পুরাণ আর বিভিন্ন ধর্মে কুমারী মা নিয়ে প্রচলিত কাহিনিগুলোর সংক্ষিপ্ত আলোচনা। গ্রীক পুরাণ অনুযায়ীঃ সৃস্টির শুরুতে পৃথিবী ছিলো না, সমুদ্র ছিলো না, আকাশ ছিলো না , ছিলো শুধু অসীম অনন্ত শুন্যতা, বিশৃংখল নিরাকার অন্ধকার। সৃষ্টির জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত কিছুই ছিলো কিন্তু তার কোন গুনাবলি ছিলো না, পৃথিবীর আকার ছিলো না ,পানির তরলতা ছিলো না আকাশে আলো ছিলো না। একটা মাত্র পাখি ছিলো নাম তার নিক্স। কালো ডানার পাখি নিক্স সোনালী ডিম পেড়ে যুগের পর যুগ তাতে ‘তা’ দেওয়ার পর একদিন প্রানের লক্ষন দেখা গেলো এবং আরো কিছুদিনপর ডিম ফেটে জন্ম নিলেন ভালোবাসার দেবতা এরোস। ডিমের খোসার এক অংশ বাতাসের উপরে উঠে গিয়ে হলো আকাশ আর অপর অংশ হলো পৃথিবী। এরোস আকাশের নাম রাখলেন ইউরেনাস আর পৃথিবীর নাম রাখলেন গাইয়া, তারপর এরোস, গাইয়া এবং ইউরেনাসের মনে ভালোবাসা সঞ্চার করলেন। গাইয়া এবং ইউরেনাসের অনেক সন্তান সন্ততি হলো, নাতিপুতি হলো। এদের মধ্যে একজন ছিলেন ক্রোনাস। ক্রোনাস তার সন্তানদের কেউ হয়ত তার চেয়ে শ্রেষ্ঠতর হয়ে যাবে এই ভয়ে জন্ম মাত্রই তাদের গিলে খেয়ে ফেলতে লাগলেন। কিন্তু ক্রোনাস স্ত্রী রিয়া তাদের সবচে ছোট সন্তানকে লুকিয়ে রাখলেন। যখন ক্রোনাস সন্তান চাইলেন তিনি কম্বলে জড়ানো এক টুকরো পাথর দিলেন আর ক্রোনাস তাই গলাধঃকরন করলেন। এই সন্তান হলেন জিউস। জিউস যখন বড় হলেন তখন বাবার হাত থেকে তার ভাই বোনদের কৌশলে রক্ষা করতে থাকলেন। তারপর জিউসে্র নেতৃত্বে পিতার বিরুদ্ধে তারা অনেক বছর যুদ্ধ করে জয়ী হলেন। তারা আকাশকে গ্রহ নক্ষত্র দিয়ে সাঁজালেন আর পৃথিবীতে সাঁজালেন প্রানী দিয়ে। এরপর জিউস তার দুই পুত্র প্রমিথিউস এবং এপিমেথিউস এই দুজনকে পৃথিবীতে পাঠালেন মানুষ এবং অন্যান্য প্রানী তৈরী করে প্রত্যেককে একটা করে উপহার দিতে। প্রমিথিউস দেবতাদের অনুকরনে সৃস্টি করলেন মানুষ এবং এপিমিথিউস সৃস্টি করলেন অন্যান্য প্রানী। এপিমিথিউস অনেক আগেই প্রানী সৃস্টি করে প্রত্যককে উপহার দিলেন। মানুষ সৃস্টি শেষ হলে প্রমিথিউস যখন তাদের উপহার দেওয়ার জন্য এলেন এপিমিথিউস তাকে লজ্জিতমূখে জানালেন আর কোন উপহার অবশিষ্ট নেই, সবই দিয়ে ফেলেছেন প্রানীদের। তখন বিষন্ন প্রমিথিউস ঠিক করলেন মানুষকে তিনি আগুন উপহার দেবেন। পরদিন সকালে সূর্য্য আকাশে ওঠার পর তিনি সেখান থেকে আগুন চুরি করে এনে মানুষদের কে আগুনের ব্যবহার শেখালেন। আগুনের উপর দেবতা ছাড়া অন্য কারো ব্যবহার করার অধিকার ছিল না। জিউস প্রমিথুসের এই কাজ জানতে পেরে তাকে শাস্তি স্বরুপ এক পাহাড়ের সাথে বেধে রাখলেন। অনন্ত কাল ধরে প্রতিদিন ঈগল এসে তার লিভারের কিছু অংশ খেয়ে যায়। হিন্দু পুরাণ অনুযায়ীঃ গীতার কেন্দ্রীয় চরিত্র হচ্ছেন কৃষ্ণ। হিন্দুশাস্ত্রীয় বিবরণ বা লোকবিশ্বাস অনুযায়ী কৃষ্ণের জন্ম হয়েছিল খ্রীষ্টপূর্ব ৩২২৮ সালে। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বিভিন্ন সম্প্রদায় বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে কৃষ্ণের পূজা করে থাকে। একাধিক বৈষ্ণব সম্প্রদায়ে তাকে বিষ্ণুর অবতার রূপে গণ্য করা হয়; অন্যদিকে কৃষ্ণধর্মের অন্যান্য সম্প্রদায়গুলিতে তাকে ঈশ্বর এর মর্যাদা দেওয়া হয়। কৃষ্ণকে যেহেতু ঈশ্বর হিসেবে বিশ্বাস করা হয় সেহেতু তাদের কাছে গীতা হচ্ছে ঈশ্বরের বাণী। অন্যদিকে আবার তারা যেহেতু ঈশ্বরকে স্বচক্ষে দেখে বিশ্বাস করে সেহেতু তারা খ্রীষ্টান, মুসলিম, ও ইহুদীদেরকে ‘অন্ধ বিশ্বাসী’ বলে সমালোচনা করে থাকে। যদিও হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা যেমন রাম ও কৃষ্ণকে মানুষরূপী ঈশ্বর হিসেবে বিশ্বাস করে, খ্রীষ্টানরাও তেমনি যীশুকে মানুষরূপী গড বা গডের পুত্র হিসেবে বিশ্বাস করা সত্ত্বেও মুসলিম ও ইহুদীদের সাথে খ্রীষ্টানদেরকেও ‘অন্ধ বিশ্বাসী’ বলা হয়! কৃষ্ণ যাদব-রাজধানী মথুরার রাজপরিবারের সন্তান। তিনি বসুদেব ও দেবকীর অষ্টম পুত্র। তাঁর পিতামাতা উভয়ের যাদববংশীয়। দেবকীর দাদা কংস তাঁদের পিতা উগ্রসেনকে বন্দী করে সিংহাসনে আরোহণ করেন। একটি দৈববাণীর মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন যে দেবকীর অষ্টম গর্ভের সন্তানের হাতে তাঁর মৃত্যু হবে। এই কথা শুনে তিনি দেবকী ও বসুদেবকে কারারুদ্ধ করেন এবং তাঁদের প্রথম ছয় পুত্রকে হত্যা করেন। দেবকী তাঁর সপ্তম গর্ভ রোহিণীকে প্রদান করলে, বলরামের জন্ম হয়। এরপরই কৃষ্ণ জন্মগ্রহণ করেন। কৃষ্ণের জীবন বিপন্ন জেনে জন্মরাত্রেই দৈবসহায়তায় কারাগার থেকে নিষ্ক্রান্ত হয়ে বসুদেব তাঁকে গোকুলে তাঁর পালক মাতাপিতা যশোদা ও নন্দের কাছে রেখে আসেন। কৃষ্ণ ছাড়া বসুদেবের আরও দুই সন্তানের প্রাণরক্ষা হয়েছিল। প্রথমজন বলরাম যিনি বসুদেবের প্রথমা স্ত্রী রোহিণীর গর্ভে জন্মগ্রহণ করেন এবং সুভদ্রা বসুদেব ও রোহিণীর কন্যা, যিনি বলরাম ও কৃষ্ণের অনেক পরে জন্মগ্রহণ করেন। ভাগবত পুরাণ অনুযায়ী, কোনো প্রকার যৌনসংগম ব্যতিরেকেই কেবলমাত্র "মানসিক যোগের" ফলে কৃষ্ণের জন্ম হয়েছিল। হিন্দুরা বিশ্বাস করেন, সেযুগে এই ধরনের যোগ সম্ভব ছিল। কুন্তির আসল নাম পৃথা। তিনি শ্রীকৃষ্ণের পিসি। একবার মহর্ষি দুর্বাসা অতিথিরূপে গৃহে এলে কুন্তি তাঁকে আতিথেয়তা ও পরিচর্যায় সন্তুষ্ট করেন। দুর্বাসা তাঁকে এক অমোঘ মন্ত্র শিখিয়ে দিয়ে বলেন যে, এই মন্ত্রের প্রভাবে কুন্তি যে-দেবতাকে স্মরণ করবেন সেই দেবতাই তাঁর নিকটে আসবেন এবং তাঁর সাহায্যে কুন্তির পুত্রলাভ হবে। বর পেয়ে যে কোনো দেবতার সঙ্গে পুত্রসন্তান জন্মাতে পারবেন জানতে পেরে সঙ্গে সঙ্গে কিছু না বুঝেই কিশোরী কুন্তি কৌতূহলবশত মন্ত্রের গুণাগুণ পরীক্ষা করার জন্যে সূর্যদেবকে ডেকে বসেন। আসলে কুমারী কুন্তিদেবী গুরুদেবের দেওয়া মন্ত্রের গুরুত্ব না বুঝে ভুলক্রমে বিবাহের পূর্বে সন্তান প্রার্থনার মন্ত্রটা পাঠ করে ফেলেছিলেন। ফলে অবিবাহিত অবস্থায় তাঁর গর্ভে জন্ম নেন কর্ণ। সূর্য যথারীতি চলে যান নিজ গৃহে কুন্তির গর্ভে সন্তানের ভ্রূণ প্রতিস্থাপন করে। তবে কুন্তি যে জেনেশুনেবুঝে সূর্যকে ডাকেননি এটা বুঝতে পেরে সূর্য কুন্তিকে পুনরায় কুমারীত্বে ফিরে যাওয়ার আশ্বাস দেন পুত্রজন্মের পর, এবং সেটা ঘটে। কৌমার্য হারালে কুন্তির আর বিয়ে হতো না। যথাসময়ে পুত্র কর্ণের জন্ম হয়। মা-বাবা বা সমাজ কেউ কুন্তিকে এই অবস্থায় গ্রহণ করতে পারবে না বলে পুত্র কর্ণকে তিনি জলে ভাসিয়ে দেন। এক সন্তানহীন রথচালক ও তার স্ত্রী আদি রাধা কর্ণকে প্রতিপালন করেন। অতঃপর স্বয়ংবর-সভার মাধ্যমে কুন্তির সঙ্গে বিয়ে হলো পান্ডুর। পান্ডু সন্তান উৎপাদনক্ষম ছিলেন না। হরিণের বেশে রতিক্রিয়ায় রত দুই ঋষিকে শিকার করায় তাঁর প্রতি দেবতার অভিশাপও ছিল, কোনো নারীর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করার চেষ্টা করলেই তাঁকে মৃত্যুবরণ করতে হবে। পান্ডু কুন্তিকে অনুরোধ করেন, দুর্বাসার দেওয়া মন্ত্রের মাধ্যমে সন্তান উৎপাদন করতে। কুন্তি তখন একে একে তিন ধর্মদেবতাকে স্মরণ করে তিন পুত্র লাভ করেন। যমরাজের সঙ্গে জন্ম নেন যুধিষ্ঠির, বায়ুর সঙ্গে ভীম আর ইন্দ্রের সঙ্গে অর্জুন। পৌরুষত্বহীন, নির্জীব পান্ডুকে বিয়ে করে শরীরের কামনা-বাসনা চরিতার্থ করতে পারেননি কুন্তি। কিন্তু মন্ত্র ও বরের শক্তিতে তিন দেবতাকে দিয়ে তিন পুত্রের জননী হয়েছেন। এছাড়া, পান্ডু অন্য স্ত্রী মন্দ্রাকে সেই গোপন মন্ত্র শিখিয়ে তাঁর দ্বারাও পান্ডুকে দুই পুত্র, সহদেব আর নকুল, দান করতে সমর্থ হন কুন্তি। মিশরীয় পুরাণ অনুযায়ীঃ আইসিস, পৃথিবীর অধিকর্তা গেব স্বর্গের অধিকর্তী নাট দেবীর চার সন্তানের একজন। আইসিস এবং তাঁর স্বামী অসিরিস ছিলেন জমজ ভাই বোন। তাদের অন্য দুই ভাইবোন নেফথিস এবং তার স্বামী সেথও ছিলেন জমজ। এক রাতে অসিরিস নেফথিসকে তার স্ত্রী আইসিস মনে করে তার সাথে রাত্রি যাপন করে। যার ফলশ্রুতিতে জন্ম নেয় আনুবিস । নেফথিসের স্বামী সেথ ব্যাপারটা স্বভাবতই সহজ ভাবে মেনে নিল না। গোপনে সে ফন্দি আঁটতে শুরু করল কি করে অসিরিসকে হত্যা করা যায়। তার গোপন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সেথ গোপনে অসিরিসের দেহের মাপ নেয় এবং সেই মাপে একটি সুন্দর কারুকার্য খচিত কফিন তৈরী করে যাতে সেই কফিনে নিখুঁত ভাবে অসিরিসের দেহ এঁটে যায়। একদিন দেবতাদের ভরা মজলিশে সেথ তার কারুকার্য মন্ডিত কফিনটি প্রদর্শন করে এবং ঘোষণা দেয় যে এই কফিন যার দেহের সাথে নিখুঁত ভাবে মানিয়ে যাবে কফিনটি তাকে উপহার দেয়া হবে। মজলিশের সবাই একে একে তাদের মাপ দেয়ার জন্য যায় কিন্তু কারো সাথেই কফিনটি মিলে না। অবশেষে অসিরিস কফিনের ভেতর যায় এবং তা আবশ্যিক ভাবেই তার সাথে একদম মিলে যায়। এদিকে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী অসিরিস কফিনে ঢোকা মাত্রই সেথ কফিনের ঢাকনা বন্ধ করে দেয় এবং কফিনে বন্দী করে নীল নদে ডুবিয়ে তাকে হত্যা করে। আনুবিসের জন্মের কারণে অসিরিসের মৃত্যুর উপাখ্যানের মাধ্যমেই প্রাচীন মিশরীয় সভ্যতায় শেয়াল দেবতা আনুবিস মৃত্যুর দেবতার আসনে আসীন হয়। আর অসিরিসের মৃত্যু হয়ে উঠে নীল নদের বন্যা এবং উর্বরতার প্রতীক। আর এই বন্যার কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয় মৃত্যুর দেব শেয়াল দেবতা আনুবিস। এদিকে অসিরিসের মৃতদেহ নীল নদে ভেসে ভেসে সিরিয়ার উপকূলে চলে যায়। এবং সমুদ্র সৈকতে তার শবদেহ সহ কফিনটি একটি গাছে পরিণত হয়। যার থেকে বেরুতে থাকে দারুণ সুগন্ধ। এদিকে সিরিয়ার রাজার সেসময় একটি ছেলে সন্তান জন্ম নিয়েছে। রাজা গাছের সুখ্যাতি এবং সুবাসের কথা শুনে তার সন্তানকে উপহারের জন্য গাছটি কেটে এনে প্রাসাদের থাম বানিয়ে রাখে। এদিকে আইসিস তার স্বামীকে খুজতে বের হয়। নীল নদের ধারে ধারে স্বামীর মৃতদেহ খুঁজতে খুঁজতে অবশেষে হাজির হয় সিরিয়াতে। সিরিয়াতে উপস্থিত হয়েই আইসিস লোকমুখে সেই আশ্চর্য কারুকার্য খচিত গাছ এবং তার সুবাসের কথা শুনতে পায়। এবং শোনা মাত্রই তার স্থির বিশ্বাস জন্মে এটাই তার স্বামীর মৃতদেহের পরিবর্তিত রুপ। অবশেষে স্বামীর খোঁজে আইসিস রাজার সন্তানের পরিচারিকা হিসেবে কাজ নেয়। রাজা তার সন্তানের প্রতি আইসিসের মমত্ব দেখে আপ্লুত হয় এবং আইসিসকে তার ইচ্ছা মতো রাজার থেকে পুরষ্কার নিতে বলে। তখন আইসিস সেই সুগন্ধী গাছের থামটা চেয়ে নেয়। তারপর সেই থাম নিয়ে রাজকীয় নৌকায় চড়ে আইসিস মিশরের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। পথিমধ্যে আইসিস সেই গাছের থামের সাথে মিলিত হয় এবং তাদের এই মিলনের ফলে জন্ম নেয় দেবতা হোরাস । তুলনামূলক মিথ তত্ত্বে হোরাসকে প্রাচীন মিশরের যীশুও বলা হয়। যে প্রাচীন মিশরের কুমারী মাতা আইসিসের পুত্র। অর্ধেক মানুষ আর অর্ধেক ফেল্কন পাখির দেহ নিয়ে হোরাস ছিলো মিশরীয় দেবতা। আনুমানিক ৩০০০ বিসি এর সময়ের হোরাসকে মিশরীয়রা সান অব গড (সূর্য দেবতা) হিসেবে জানত। আমাদের আধুনিক সময় গণনার সূর্যভিত্তিক যে সিস্টেম তা কিন্তু এসেছে এই হোরাস থেকেই। আরও সহজভাবে বললে horus শব্দ টিকে একটু উল্টিয়ে পাল্টিয়ে লিখলেই কিন্তু hours শব্দটি চলে আসে যাকে আমরা এখন দিনের ২৪ ভাগের এক ভাগ বলি। তাছাড়া সূর্যোদয়ের (হোরাসের উদয়) যেদৃশ্য যদি আমরা দেখি তা কিন্তু আমরা দিগন্ত কে হরাইজনটালি রেখে। এই horizon শব্দটা এসেছে horus has risen থেকে। এবার আসি যীশুর কথায়। খ্রিষ্টান ধর্মের প্রচারক যীশু ছিলেন savior of humanity. মরার আগ পর্যন্ত যীশু এক ঈশ্বর এর বানী প্রচার করে গেছেন। কিন্তু তার আমাদের সামনে তার যে জীবনী আছে তা যদি আমরা ভালভাবে দেখি তাহলে আমরা তাকে বলতে পারি replica of horus। এই যীশু আর হোরাস মিলের ব্যাপারটা সবার আগে খেয়াল করেন MASSEY (1828-1927) নামের একজন ইংরেজ কবি, মিশরীয় সভ্যতা নিয়ে যার ছিলো প্রবল আগ্রহ। মিশরীয় সভ্যতা নিয়ে যখন তিনি গবেষণা শুরু করলেন তখনি একদিন যীশু আর হোরাসের মিলের ব্যাপারটি তিনি খেয়াল করেন। হোরাস এবং যীশুর মধ্যে মিলগুলোঃ ১। যতটুকও জানা যায় যীশু জন্মের প্রায় ৩০০০ বছর পূর্বে হোরাসের পৃথিবীতে আগমন। কিন্তু অদ্ভুত ভাবে তারা দু জনই জন্ম গ্রহণ করেন ২৫ ই ডিসেম্বর। ২। তাদের দু জনের জন্মই কুমারী মাতার গর্ভে। যীশুর মা ছিলেন মেরী অন্যদিকে হোরাসের মা ছিলেন আইসিস যিনি আইসিস মেরি নামেও পরিচিত ছিলেন। ৩। খৃষ্টান ধর্মের ইতিহাস থেকে আমরা জানি যে যীশুর জন্মের সময় স্টার সিরিয়াস এবং থ্রি কিংস নামে তিনটি তারা একই লাইন বরাবর ছিলো। আশ্চর্যের ব্যাপার হল হোরাসের কাহিনীতেও এই চারটা তারা একইভাবে ছিলো। তাছাড়া দুজনের জন্মই গুহার মধ্যে। ৪। দুজনেরই ১২ জন করে শিষ্য ছিলো। ৫। যীশুর সিম্বল ছিল fish,beetle,the vine &shepard’s cross. এই চারটি সিম্বলের প্রত্যেকটিই হোরাসের সিম্বল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ৬। তারা দুজনেই একই রকম মিরাকল বা অলৌকিক ঘটনা দেখাতে পারতেন। যেমন দুজনেই পানির উপরে হাঁটতে পারতেন। ৭। তারা জনেই ক্রুচিফাইড হন। ৮। তারা দুজনেই নিজ নিজ অনুসারিদের নিকট king of kings, son of god, light of the world, savior of humanity ইত্যাদি নামে পরিচিত। আরও অনেক মিল আছে তাদের মধ্যে। এসব মিল শুধুমাত্র co-incidence নয়। খুব সুকৌশলে যীশুর ইতিহাস গুলিয়ে ফেলা হয়েছে হোরাসের সাথে। পৃথিবীর মানুষজনকে সত্য ইতিহাস থেকে দূরে রাখা হয়েছে। কালক্রমে খুব ধীরে ধীরে তার ইতিহাস পরিবর্তন করা হয়েছে, সাথে সাথে বদলে দেওয়া হয়েছে যীশুর অনেক ইতিহাস, এভাবেই দুজনকে একবিন্দুতে নিয়ে আসা হয়েছে, বানান হয়েছে একই রকম সত্ত্বা। আসলে এটা হাজার বছর ধরে চলা একটি পুরনো ষড়যন্ত্র। এটা ধর্মের সাথে ধর্মের সংঘাত, সত্যর সাথে মিথ্যার, আলোর সাথে আঁধারের সংঘাত। যারা এই কাজটি করছে তারা সবসময় চেয়েছে একেশ্বরবাদী ধর্মগুলো এবং এগুলোর প্রচারকদের প্রকৃত ইতিহাস কখনই মানুষ না জানুক। তাদের ষড়যন্ত্র এর শিকার মুসা (আঃ), ইসা (আঃ), মুহাম্মদ (সাঃ) সহ অনেক নবী রাসুলগণ। তবে যীশুর ক্ষেত্রে তারা অনেক বেশি সফল। খ্রিষ্টান ধর্ম অনুযায়ীঃ খৃস্ট ধর্মমতে যীশু স্বয়ং ঈশ্বর পুত্র। খৃস্ট ধর্মানুসারীদের মতে ওল্ড টেস্টামেন্টে বর্নিত মসীহ হলেন যীশু। খৃস্ট ধর্মমতে মসীহ বলতে বোঝায় “ঈশ্বর কর্তৃক অভিষিক্ত”, ইহুদী ধর্মমতে “যিনি ঈশ্বরের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেন”, ইসলাম ধর্মমতেও ইহুদী ধর্মের অনুরূপ, তবে ইহুদী ধর্মানুসারীদের মতে যীশুর মধ্যে ঈশ্বরের প্রতিশ্রুতি রক্ষাকারী নবীদের গুণাবলী ছিলো না, আর ইসলাম ধর্মমতে গুণাবলী ছিলো তবে ঈশ্বরের পুত্র না। ইহুদী ধর্মে যীশু’র স্বীকৃতি না থাকলেও ইসলাম ধর্মে যীশুকে ঈসা নবী বলে মান্য করা হয়। মেরী’র সাথে যোসেফের বিয়ে ঠিকঠাক। এমন সময় গ্যাব্রিয়েল হাজির। কুমারী মেরীকে গ্যাব্রিয়েল এসে বলে তোমাকে ঈশ্বর আশীর্বাদ করেছেন। মেরী তো আতংকে অস্থির, আবার কি হলো! গ্যাব্রিয়েল বললো ভয় করোনা মেরী, ঈশ্বর তোমার সাথেই আছেন, তিনি তোমাকে দয়া করেছেন। তোমার একটা পুত্র সন্তান হবে। সেই পুত্র হবে স্বয়ং ঈশ্বরের পুত্র। নাম হবে যীশু, যীশু ডেভিডের সিংহাসনে বসবে। য্যাকবের বংশের উপর চিরকাল রাজত্ব করবে। এই কথা শুনে হাহাকার করে উঠলেন মেরী, বললেন, আমার তো এখনও বিয়েই হয়নি, বাচ্চা হবে কিভাবে! উত্তরে গ্যাব্রিয়েল বললেন, তোমার উপর পবিত্র আত্মা ভর করবে, ঈশ্বরের শক্তির ছায়া তোমার উপর পরবে। এতে যে পুত্র জন্মগ্রহন করবে সে হবে ইশ্বরপুত্র। মেরী’র অবিশ্বাস অবস্থা দেখে গ্যাব্রিয়েল আবারো শুরু করলেন, ঈশ্বরের কাছে অসম্ভব কিছু নেই। মেরী এই কথা যোসেফকে জানালেন, যোসেফ মেরীর কথা বিশ্বাস করে মেরীকে লজ্জা থেকে বাঁচাতে ছেড়ে দিবেন ভাবলেন। স্বপ্নে ঈশ্বরের একজন দূত স্বরুপে যোসেফকে দেখা দিলেন, বললেন, ভয় করোনা ডেভিডের বংশধর যোসেফ! মেরীর গর্ভে ঈশ্বরের পুণ্যাত্মা আসছে, ওর নাম রেখো ইমানুয়েল। ইমানুয়েল মানে হলো ঈশ্বর আমাদের সংগে আছেন। কথামত কাজ করলেন যোসেফ। মেরীকে বিয়ে করলেন কিন্তু মিলিত হলেন না। ছেলের জন্ম হওয়ার পর নাম রাখলেন যীশু। ইহুদিয়া রাজ্যের সম্রাট ছিলেন অগাস্ট। তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন তার রাজ্যের গণনা’র জন্য সবার নাম লিখা হবে। নাম লিখাবার জন্য সবাই নিজ নিজ গ্রামে যেতে লাগলেন। রাজা ডেভিডের জন্মস্থান ছিলো ইহুদিয়া রাজ্যের গ্যালিলি প্রদেশের বেথেলহেম গ্রাম। যোসেফ নাজারেথ গ্রাম থেকে বেথেলহেমে রওনা করলেন, সাথে গর্ভবতী স্ত্রী মেরী। বেথেলহেমে থাকা অবস্থায়ই সন্তান প্রসবের সময় চলে আসলো। জন্ম হলো নাজারেথ যীশু’র। গ্রামে তাদের থাকার যায়গা ছিলো না, সদ্য ভুমিষ্ট যীশুকে তাই যবপাত্রে রাখা হলো। খৃস্ট ধর্ম প্রচারক যীশু'র জন্ম একটি বিতর্কের বিষয়। খৃস্ট ও ইসলাম ধর্মমতে পিতা ছাড়াই কুমারী মাতা মেরীর গর্ভে যীশু’র জন্ম হয়েছিলো। খৃস্ট ধর্মমতে যীশু’র পিতা স্বয়ং ইশ্বর, আর ইসলাম ধর্মমতে সর্বশক্তিমান আল্লাহ তার ক্ষমতা বলে কুমারী মাতার গর্ভে যীশুকে স্থান দিয়েছিলেন। যীশু’র বংশধরেরা ছিলেন ক্ষমতাবান ধর্মপ্রচারক ও রাজ বংশীয়। মেরী’র সাথে যোসেফ’র (নবী ইউসুফ) বিয়ে যখন ঠিকঠাক, তখনি মেরী’র গর্ভে সন্তান এলো। বিন্দুমাত্র বাস্তব জ্ঞান থাকলে যে কেউই স্বীকার করবে স্বামী ছাড়া কেবল ইশ্বরের আশীর্বাদে সন্তানের জন্ম সম্ভব না। যোসেফের সাথে অবশ্যই মেরী’র বিবাহ বহির্ভূত যৌন সম্পর্ক ছিলো। যার ফলে মেরির গর্ভে সন্তান আসে। ক্ষমতাশালী পরিবার হওয়ায় ব্যাপারটা ইশ্বরের ইচ্ছা বলে চালিয়ে দিয়ে মেরী-যোসেফ সহ তাদের পরিবার পার পেয়ে গিয়েছিলো। কেননা ইব্রাহীমের বংশের কোন পুরুষের লাম্পট্য কোনভাবেই গ্রহনযোগ্যতা পেত না। যোসেফের নিজ বংশীয় ডেভিডের প্রচারিত ধর্মে মসীহের আগমনের সংবাদ ছিলো। সুচতুর যোসেফ আর মেরী পরিবারের অন্যদের সহায়তায় রটিয়ে দিলো গর্ভে আসা সন্তানই হবে সেই মসীহ। যীশু নাম নিয়ে সে ঈশ্বরের সত্য ধর্ম প্রচার করবে। ঐসময় এলাকার কিছু মানুষ আপত্তি তুললে মেরী ও যোসেফ বেথেলহেমে চলে যায়, সেখানেই জন্ম হয় যীশু’র। যোসেফের সাথে মেরীর বিয়ে ঠিক হওয়ার পরেই কিন্তু মেরী গর্ভবতী হয়। বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের কারনেই বিয়ে ঠিক হয়েছিলো কিনা তাই বা কে জানে। ততকালীন সময়ে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক দুধ ভাত হলেও মেরী-যোসেফের ক্ষেত্রে ব্যাপারটা হেলাফেলার বিষয় ছিলো না। কারন মেরীর পিতা য্যাকব, বোন এলিজাবেথ ও জামাই যাকারিয়াও ধর্ম প্রচারক ছিলেন। আমরা বহু আগে থেকেই জানি, শুধুমাত্র পিতা অথবা মাতা হতে সন্তান জন্ম সম্ভব না। ছেলে সন্তানের জন্য যেই সেক্স ক্রোমোসোম Y লাগে তা শুধুমাত্র পুরুষ হতেই পাওয়া সম্ভব। যেহেতু খৃস্ট ধর্মমতে কোন পুরুষের সাথে যৌন সম্পর্ক স্থাপন ছাড়াই কেবল মেরী হতে যীশু’র জন্ম হয়েছিলো, আর তিনি ইশ্বর পুত্র, তাই এই গাজাখুরি কথার পিঠে বলা যায় স্বয়ং ইশ্বরের সাথে মেরীর সম্পর্ক ছিলো, ইশ্বরের শুক্রানু থেকেই যীশু’র জন্ম। তাহলে আবার "নিরাকার" ইশ্বরের তত্ত্ব টিকেনা। আরেকটা কথা বলা যায় মেরীর শরীরেই ডিম্বানু ও শুক্রানু উৎপন্ন হয়েছিলো, তা নিষিক্ত হয়েই যীশু’র জন্ম। স্বাভাবিক কোন নারীর পক্ষে এইসব অসম্ভব ব্যাপার। ধর্মীয় মতেও আবার এই যুক্তি টিকেনা। কারন মেরীকে সবচেয়ে নিখুঁত নারী হিসেবেই খৃস্ট ধর্মাবলম্বীরা মানে, ইসলাম ধর্মের ধর্মগ্রন্থ কোরআনেও মেরীকে একমাত্র নিখুঁত নারী বলা হয়েছে (দ্রষ্টব্যঃ সহিহ্‌ মুসলিম, বই ৩১, হাদিস ৫৯৬৬)। হয় যোসেফের সাথে মেরীর যৌন সম্পর্ক ছিলো, অথবা তার পরিবারেরই কারো সাথে! বিজ্ঞান অনুযায়ী একজন কুমারী নারীর মা হওয়ার সম্ভাবনা কতটুকু? একজন কুমারী নারীর কোন রকম যৌন সম্পর্ক ছাড়া মা হওয়া সম্ভব। এর বৈজ্ঞানিক ভিত্তি আছে। একজন কুমারীকে মা হতে হলে তার নিজের ডিম্বগুলোর একটিকে অবশ্যই গর্ভনিষেক নির্দেশক জৈব রাসায়নিক পরিবর্তন করতে হবে এবং শুক্রানু ডিএনএ'র অভাব পুরণের জন্য অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে হবে। এই ব্যাপারটা অনেকটাই সহজ এবং ডিম্ব বা ডিম্বপূর্ব অবস্থার কোষগুলোতে এই ঘটনা ঘটতে পারে, যার সম্ভাবনা কয়েক হাজার নারীর মধ্যে একজন। কিন্তু একটি সফল বাচ্চা দিতে ডিম্ব'কে কমপক্ষে দুটি বিশেষ জ্বীনগতভাবে মুছন কাজ করতে হবে। স্পাইক সেন্স করার পর ডিম্ব ভাগ হতে শুরু করে। শুক্রানু প্রবেশের সময় এটি স্বাভাবিকভাবেই ঘটে। কিন্তু সতঃস্ফুর্ত ক্যালসিয়াম স্পাইকও দেখা যেতে পারে, সে ক্ষেত্রে ডিম্ব তার কাজ যথারীতি শুরু করতে পারে। ত্রুটিযুক্ত শুক্রানু যাতে ডিএনএ নেই ফেইক ক্যালসিয়াম স্পাইক তৈরি করতে পারে। নিষেক হওয়ার পর ডিম্বকোষ বিভাজনের ফাইনাল স্টেইজ সম্পন্ন করতে পারে মিওসিস-২ । এই সময় ডিম্ব তার অর্ধেক জ্বীনবস্ত হারায়, যাতে শুক্রানুর ডিএনএ স্থান পেতে পারে। কিন্তু যদি শুক্রানু না থাকে তাহলে বিভাজিত প্রত্যেক অর্ধডিম্বকোষ ধীরে ধীরে কমে আসবে এবং উভয় কোষের মৃত্যু ঘটবে। কুমারী জন্মদান অব্যাহত রাখতে হলে অনিয়মতান্ত্রিকভাবে নিষিক্ত ডিম্বের মিওসিস প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে দেয়া যাবে না। মানবজাতির মধ্যে যৌনসংসর্গ ব্যতীত সন্তানজন্ম Parthenogenesis আপাতঃদৃষ্টিতে সম্ভব নয়। কারণ ডিম্বানু এবং শুক্রানু উভয়ের সিগন্যালই প্রয়োজন। একটি অনুপস্থিত থাকলে অন্যটি প্রকট থাকবে এবং ফাইনালি নিষিক্ত ডিম্ব মারা যাবে। কাজেই মানবজাতির মধ্যে কুমারী মাতার সন্তান জন্মদান সম্ভব হলেও তার সম্ভাবনা খুবই কম। মূলত এই যে জ্বীনগত মুছনকার্য এর সম্ভাবনা এক বিলিয়নভাগের একভাগ। এবার ব্লগার মুদ্‌দাকির তার একটি পোস্টে কি বলছেন দেখে নেয়া যাকঃ ভালোবাসার জৈবিক বিজ্ঞান টেষ্টোস্টেরন এই যুক্তি খন্ডানোর আগে আবার হিন্দু শাস্ত্র থেকে কুমারী পূজা সম্পর্কে কিছু ধারনা নেয়া যাকঃ বৃহদ্ধর্মপুরাণ এ রামের জন্য ব্রহ্মার দুর্গাপূজার বিস্তারিত বর্ণনা পাওয়া যায়। তখন শরৎকাল, দক্ষিণায়ণ। দেবতাদের নিদ্রার সময়। তাই, ব্রহ্মা স্তব করে দেবীকে জাগরিত করলেন। দেবী তখন কুমারীর বেশে এসে ব্রহ্মাকে বললেন, বিল্ববৃক্ষমূলে দুর্গার বোধন করতে। দেবতারা মর্ত্যে এসে দেখলেন, এক দুর্গম স্থানে একটি বেলগাছের শাখায় সবুজ পাতার রাশির মধ্যে ঘুমিয়ে রয়েছে একটি তপ্তকাঞ্চন বর্ণা বালিকা। ব্রহ্মা বুঝলেন, এই বালিকাই জগজ্জননী দুর্গা। তিনি বোধন-স্তবে তাঁকে জাগরিত করলেন। ব্রহ্মার স্তবে জাগরিতা দেবী বালিকামূর্তি ত্যাগ করে চণ্ডিকামূর্তি ধারন করলেন। সব নারী ভগবতীর এক একটি রূপ। শুদ্ধাত্মা কুমারীতে ভগবতীর বেশি প্রকাশ। দুর্গাপূজার অষ্টমী বা নবমীতে সাধারণত ৫ থেকে ৭ বছরের একটি কুমারীকে প্রতিমার পাশে বসিয়ে দেবী প্রতিমা চিন্তা করে পূজা করা হয়। এটা মাতৃভাবের প্রতিই শ্রদ্ধা নিবেদন। চণ্ডীতে বলা হয়েছে, “যা দেবী সর্বভূতেষু মাতৃরূপেণ সংস্থিতা। নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমো নম” অর্থঃ সকলের মধ্যে মায়ের রূপ ধরে যে দেবী বিরাজিতা, তাঁকে পুনঃপুন নমস্কার করি। সঠিকভাবে পূজা হলে মন বিশুদ্ধ হয়, ঈশ্বরের কৃপালাভ হয়। বয়স অনুসারে কুমারীর নানা শাস্ত্রীয় নাম হয়ে থাকে। যেমনঃ কালিকা, সুভগা, উমা, মালিনী ইত্যাদি। শান্ত, পবিত্র, সর্তশীলা এসব দৈবী সম্পদের অধিকারিণী কুমারীই জগজ্জননীর প্রতিমারূপে গ্রহণে বিধান আছে। ব্রহ্ম ও শক্তি অভিন্ন। যাঁকে ঈশ্বর, হরি, গড প্রভৃতি বলা হয়, তাঁকেই মাতৃভাবে সাধনার সময় বলা হয় জগজ্জননী। সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ মানবজাতির ক্ষেত্রে মায়ের নীরব অবদানের ঋণ পরিশোধ করা অসম্ভব। নারী শক্তিরূপিণী। তাঁর সঠিক মূল্যায়নের অভাবে আমাদের অবক্ষয় নেমে আসে। আবার তাঁর উপযুক্ত মর্যাদায় সমাজ হয় কল্যাণমুখী। স্বামী বিবেকানন্দ বলেছেন, “মেয়েদের পূজা করেই সব জাত বড় হয়েছে। যে দেশে, যে জাতে মেয়েদের পূজা নেই, সে দেশ, সে জাত কখনও বড় হতে পারেনি, কস্মিন্কালেও পারবে না”। “যত্র নার্যস্তু পূজ্যন্তে রমন্তে তএ দেবতা। যত্রৈতাস্তু ন পূজ্যতে সর্বাস্তত্রাফলা ক্রিয়া”। অর্থঃ যেখানে নারীগণ পূজিতা হন, সেখানে দেবতারা প্রসন্ন। যেখানে নারীগণ সম্মানিতা হন না, সেখানে সকল কাজই নিষ্ফল। (মনুসংহিতা, ৩.৫৬) যেখানে স্ত্রীলোকের আদর নেই, স্ত্রীলোকেরা নিরানন্দে অবস্থান করে, সে সংসারের, সে দেশের কখনও উন্নতির আশা নেই। মাটির প্রতিমায় যে দেবীর পূজা করা হয়, তারই বাস্তব রূপ কুমারী পূজা। কুমারীতে সমগ্র মাতৃজাতির শ্রেষ্ঠ শক্তি পবিত্রতা, সৃজনী ও পালনী শক্তি, সকল কল্যাণী শক্তি সূক্ষ্মরূপে বিরাজিতা। তাই কুমারী পূজা। কুমারী প্রতীকে আমাদের মাতৃরূপে অবস্থিত। সর্বব্যাপী ঈশ্বরেরই মাতৃভাবে আরাধনা। যে জাতির মধ্যে শুদ্ধা, শিক্ষিতা, করুণাময়ী মায়ের সংখ্যা বেশি সে মাতৃজাতির সন্তানেরা সমাজের আদর্শ সন্তান। নিজ নিজ শক্তির বিকাশের জন্য সমগ্র নারী জাতির প্রতি প্রয়োজন নিজের মায়ের শ্রদ্ধা। তাই কুমারী পূজার মাধ্যমে সৃষ্টির সেরা জীব মানুষ শ্রদ্ধা জানায়। যিনি সকল প্রাণীতে মাতৃরূপে আছেন, তাকে প্রণাম। কুমারী পূজার প্রণামে আছে তিনি “পরমভাগ্যসন্দায়িনীম এবং ভুবনবাক কুমারীং ভজে”। অর্থঃ কুমারী প্রতীকে জগজ্জননীর পূজায় পরম সৌভাগ্য লাভ হয়। এ কুমারী সমগ্র জগতের বাক্যস্বরূপা, বিদ্যাস্বরূপা। তিনি এক হাতে অভয় এবং অন্য হাতে বর প্রদান করেন। অন্য ধ্যান আছে, “ভদ্রবিদ্যাপ্রকাশিনীম”। তিনি সকল শুভ বিদ্যার প্রকাশিকা। তাই মাতৃজাতির প্রতি যথার্থ শ্রদ্ধা দেখিয়ে আমরা আমাদের সমাজ ও জীবনকে মহৎ করে তুলতে পারি। শাস্ত্রকাররা নারীকে সন্মান ও শ্রদ্ধা করতে এই পূজা করতে বলেছেন। আমাদের সনাতন ধর্মে নারীকে সন্মানের শ্রেষ্ঠ আসনে বসানো হয়েছে। “নিজেদের পশুত্বকে সংযত রেখে নারীকে সন্মান জানাতে হবে” এটাই কুমারী পূজার মূল লক্ষ্য। সকল নারীর মধ্যই বিরাজিত রয়েছে দেবীশক্তি। তবে কুমারী রূপেই মা দুর্গা বিশেষভাবে প্রকটিত হয়েছিলেন। তাই, কুমারী রূপে নারীকে দেবীজ্ঞানে সন্মান জানানোর একটি বাস্তব উদাহরন হচ্ছে “কুমারী পূজা”। এবার দেখে নেয়া যাক, মারিয়ামের সতীত্ব সম্পর্কে আল্লাহর সাক্ষ্যঃ আল্লাহ পাক নিজেই মারিয়ামের সতীত্ব সম্পর্কে সাক্ষ্য দিয়ে বলেন, وَمَرْيَمَ ابْنَتَ عِمْرَانَ الَّتِي أَحْصَنَتْ فَرْجَهَا فَنَفَخْنَا فِيهِ مِن رُّوْحِنَا وَصَدَّقَتْ بِكَلِمَاتِ رَبِّهَا وَكُتُبِهِ وَكَانَتْ مِنَ الْقَانِتِينَ- (التحريم ১২)- অর্থঃ তিনি দৃষ্টান্ত বর্ণনা করেন ইমরান তনয়া মারিয়ামের, যে তার সতীত্ব বজায় রেখেছিল। অতঃপর আমি তার মধ্যে আমার পক্ষ হতে রূহ ফুঁকে দিয়েছিলাম এবং সে তার পালনকর্তার বাণী ও কিতাব সমূহকে সত্যে পরিণত করেছিল এবং সে ছিল বিনয়ীদের অন্যতম (তাহরীম ৬৬/১২)। মারিয়াম বায়তুল মুক্বাদ্দাসের খিদমত করতে থাকেন। সম্মানিত নবী ও মারিয়ামের বয়োবৃদ্ধ খালু যাকারিয়া (আঃ) সর্বদা তাকে দেখাশুনা করতেন। মেহরাবের উত্তর-পূর্বদিকে সম্ভবতঃ খেজুর বাগান ও ঝর্ণাধারা ছিলো। যেখানে মারিয়াম পর্দা টাঙিয়ে মাঝে-মধ্যে পায়চারি করতেন। অভ্যাসমত তিনি উক্ত নির্জন স্থানে একদিন পায়চারি করছিলেন। এমন সময় হঠাৎ মানুষের বেশে সেখানে জিবরাঈল (আঃ) উপস্থিত হন। স্বাভাবিকভাবেই তাতে মারিয়াম ভীত হয়ে পড়েন। এ বিষয়ে কুরআনী বর্ণনা নিম্নরূপঃ وَاذْكُرْ فِي الْكِتَابِ مَرْيَمَ إِذِ انتَبَذَتْ مِنْ أَهْلِهَا مَكَاناً شَرْقِيًّا- فَاتَّخَذَتْ مِن دُونِهِمْ حِجَاباً فَأَرْسَلْنَا إِلَيْهَا رُوحَنَا فَتَمَثَّلَ لَهَا بَشَرًا سَوِيًّا- قَالَتْ إِنِّي أَعُوذُ بِالرَّحْمَن مِنكَ إِن كُنتَ تَقِيًّا- قَالَ إِنَّمَا أَنَا رَسُولُ رَبِّكِ لِأَهَبَ لَكِ غُلاَمًا زَكِيًّا- قَالَتْ أَنَّى يَكُونُ لِي غُلاَمٌ وَلَمْ يَمْسَسْنِي بَشَرٌ وَلَمْ أَكُ بَغِيًّا- قَالَ كَذَلِكِ قَالَ رَبُّكِ هُوَ عَلَيَّ هَيِّنٌ وَلِنَجْعَلَهُ آيَةً لِلنَّاسِ وَرَحْمَةً مِّنَّا وَكَانَ أَمْرًا مَّقْضِيًّا- (مريم ১৬-২১)- অর্থঃ (হে মুহাম্মাদ!) ‘আপনি এই কিতাবে মারিয়ামের কথা বর্ণনা করুন। যখন সে তার পরিবারের লোকজন হতে পৃথক হয়ে পূর্বদিকে একস্থানে আশ্রয় নিলো’ (মারিয়াম ১৬)। ‘অতঃপর সে তাদের থেকে আড়াল করার জন্য পর্দা টাঙিয়ে নিলো। অতঃপর আমরা তার নিকটে আমাদের ‘রূহ’ (অর্থাৎ জিব্রীলকে) প্রেরণ করলাম। সে তার কাছে গিয়ে পূর্ণাঙ্গ মানবাকৃতিতে আত্মপ্রকাশ করল’ (১৭)। ‘মারিয়াম বলল, আমি তোমার থেকে করুণাময় আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করছি, যদি তুমি আল্লাহভীরু হও’ (১৮)। ‘সে বলল, আমি তো কেবল তোমার প্রভুর প্রেরিত। এজন্য যে, আমি তোমাকে একটি পবিত্র পুত্র সন্তান দান করে যাব’ (১৯)। ‘মারিয়াম বলল, কিভাবে আমার পুত্র সন্তান হবে? অথচ কোন মানুষ আমাকে স্পর্শ করেনি এবং আমি ব্যভিচারিণী নই’ (২০)। ‘সে বলল, এভাবেই হবে। তোমার পালনকর্তা বলেছেন, এটা আমার জন্য সহজ ব্যাপার এবং আমরা তাকে (ঈসাকে) মানবজাতির জন্য একটা নিদর্শন ও আমাদের পক্ষ হ’তে বিশেষ অনুগ্রহরূপে পয়দা করতে চাই। তাছাড়া এটা (পূর্ব থেকেই) নির্ধারিত বিষয়’ (মারিয়াম ১৯/১৬-২১)। অতঃপর জিবরাঈল (আঃ) মারিয়ামের মুখে অথবা তাঁর পরিহিত জামায় ফুঁক মারলেন এবং তাতেই তাঁর গর্ভ সঞ্চার হলো (আম্বিয়া ২১/৯১; তাহরীম ৬৬/১২)। অন্য আয়াতে একে ‘আল্লাহর কলেমা’ (بِكَلِمَةٍ مِنْهُ) অর্থাৎ ‘কুন্’ (হও) বলা হয়েছে (আলে ইমরান ৩/৪৫)। অতঃপর আল্লাহ বলেন, فَحَمَلَتْهُ فَانتَبَذَتْ بِهِ مَكَانًا قَصِيًّا- فَأَجَاءهَا الْمَخَاضُ إِلَى جِذْعِ النَّخْلَةِ قَالَتْ يَا لَيْتَنِي مِتُّ قَبْلَ هَذَا وَكُنتُ نَسْيًا مَّنْسِيًّا- فَنَادَاهَا مِنْ تَحْتِهَا أَلاَّ تَحْزَنِي قَدْ جَعَلَ رَبُّكِ تَحْتَكِ سَرِيًّا- وَهُزِّيْ إِلَيْكِ بِجِذْعِ النَّخْلَةِ تُسَاقِطْ عَلَيْكِ رُطَبًا جَنِيًّا- فَكُلِيْ وَاشْرَبِيْ وَقَرِّيْ عَيْنًا فَإِمَّا تَرَيِنَّ مِنَ الْبَشَرِ أَحَدًا فَقُولِيْ إِنِّيْ نَذَرْتُ لِلرَّحْمَنِ صَوْماً فَلَنْ أُكَلِّمَ الْيَوْمَ إِنسِيًّا- (مريم ২২-২৬)- অর্থঃ ‘অতঃপর মারিয়াম গর্ভে সন্তান ধারণ করলো এবং তৎসহ একটু দূরবর্তী স্থানে চলে গেলো’(মারিয়াম ২২)। ‘এমতাবস্থায় প্রসব বেদনা তাকে একটি খেজুর বৃক্ষের মূলে আশ্রয় নিতে বাধ্য করলো। তখন সে বলল, হায়! আমি যদি এর আগেই মারা যেতাম এবং আমি যদি মানুষের স্মৃতি থেকে বিলুপ্ত হয়ে যেতাম’ (২৩)। ‘এমন সময় ফেরেশতা তাকে নিম্নদেশ থেকে (অর্থাৎ পার্শ্ববর্তী নিম্নভূমি থেকে) আওয়ায দিয়ে বলল, তুমি দুঃখ করো না। তোমার পালনকর্তা তোমার পাদদেশে একটি ঝর্ণাধারা সৃষ্টি করেছেন’ (২৪)। ‘আর তুমি খেজুর বৃক্ষের কান্ড ধরে নিজের দিকে নাড়া দাও, তা থেকে তোমার দিকে সুপক্ক খেজুর পতিত হবে’ (২৫)। ‘তুমি আহার কর, পান কর এং স্বীয় চক্ষু শীতল কর। আর যদি কোন মানুষকে তুমি দেখো, তবে তাকে বলে দিয়ো যে, আমি দয়াময় আল্লাহর জন্য সিয়াম পালনের মানত করেছি। সুতরাং আমি আজ কারও সাথে কোন মতেই কথা বলব না’ (মারিয়াম ১৯/২২-২৬)। যেহেতু ঈসা (আঃ) এর জন্মগ্রহণের ব্যাপারটি সম্পূর্ণভাবে অলৌকিক, তাই তার গর্ভধারণের মেয়াদ স্বাভাবিক নিয়মের বহির্ভূত ছিল বলেই ধরে নিতে হবে। নয় মাস দশদিন পরে সন্তান প্রসব শেষে চল্লিশ দিন ‘নেফাস’ অর্থাৎ রজঃস্রাব হতে পবিত্রতার মেয়াদও এখানে ধর্তব্য না হওয়াই সমীচীন। অতএব ঈসাকে গর্ভধারণের ব্যাপারটাও যেমন নিয়ম বহির্ভূত, তার ভূমিষ্ট হওয়া ও তার মায়ের পবিত্রতা লাভের পুরা ঘটনাটাই নিয়ম বহির্ভূত এবং অলৌকিক। আর এটা আল্লাহর জন্য একেবারেই সাধারণ বিষয়। স্বামী-স্ত্রীর মাধ্যমে সন্তান জন্ম হবে, মাকে দশ মাস গর্ভধারণ করতে হবে ইত্যাদি নিয়ম আল্লাহরই সৃষ্টি এবং এই নিয়ম ভেঙ্গে সন্তান দান করাও তাঁরই এখতিয়ার। এদিকে ইঙ্গিত করেই আল্লাহ বলেন, إِنَّ مَثَلَ عِيْسَى عِنْدَ اللهِ كَمَثَلِ آدَمَ خَلَقَهُ مِنْ تُرَابٍ ثُمَّ قَالَ لَهُ كُنْ فَيَكُوْنُ- الْحَقُّ مِن رَّبِّكَ فَلاَ تَكُن مِّنَ الْمُمْتَرِيْنَ- (آل عمران ৫৯-৬০)- অর্থঃ ‘নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকটে ঈসার দৃষ্টান্ত হলো আদমের মতো। তাকে তিনি মাটি দিয়ে সৃষ্টি করেন এবং বলেন, হয়ে যাও ব্যস হয়ে গেলো’। ‘যা তোমার প্রভু আল্লাহ বলেন, সেটাই সত্য। অতএব তুমি সংশয়বাদীদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না’ (আলে ইমরান ৩/৫৯-৬০)। অর্থাৎ, আদমকে যেমন পিতা-মাতা ছাড়াই সৃষ্টি করা হয়েছে, ঈসাকে তেমনি পিতা ছাড়াই শুধু মায়ের মাধ্যমেই সৃষ্টি করা হয়েছে। আর এটাই যে সত্য এবং এর বাইরে যাবতীয় জল্পনা-কল্পনা যে মিথ্যা, সে কথাও উপরোক্ত আয়াতে দ্ব্যর্থহীনভাবে বলে দেওয়া হয়েছে। দুর্ভাগ্য এই যে, যে বনু ইস্রাঈলের নবী ও রাসূল হয়ে ঈসা (আঃ) এর আগমন ঘটলো, সেই ইহুদী-নাছারারাই আল্লাহর উক্ত ঘোষণাকে মিথ্যা বলে গণ্য করেছে। অথচ এই হতভাগারা মারিয়ামের পূর্বদিকে যাওয়ার অনুসরণে পূর্বদিককে তাদের ক্বিবলা বানিয়েছে। এর পরের ঘটনা, আল্লাহ বলেন, فَأَتَتْ بِهِ قَوْمَهَا تَحْمِلُهُ قَالُوْا يَا مَرْيَمُ لَقَدْ جِئْتِ شَيْئًا فَرِيًّا- يَا أُخْتَ هَارُونَ مَا كَانَ أَبُوْكِ امْرَأَ سَوْءٍ وَمَا كَانَتْ أُمُّكِ بَغِيًّا- (مريم ২৭-২৮)- অর্থঃ ‘অতঃপর মারিয়াম তার সন্তানকে নিয়ে তার সম্প্রদায়ের কাছে উপস্থিত হলো। তারা বলল, হে মারিয়াম! তুমি একটা আশ্চর্য বস্ত্ত নিয়ে এসেছো। ‘হে হারূণের বোন! তোমার পিতা কোন অসৎ ব্যক্তি ছিলেন না কিংবা তোমার মাতাও কোন ব্যভিচারিণী মহিলা ছিলেন না’ (মারিয়াম ১৯/২৭-২৮)। কওমের লোকদের এ ধরনের কথা ও সন্দেহের জওয়াবে নিজে কিছু না বলে বিবি মারিয়াম তার সদ্য প্রসূত সন্তানের দিকে ইশারা করলেন। অর্থাৎ একথার জবাব সেই দিবে। কেননা সে আল্লাহর দেওয়া এক অলৌকিক সন্তান, যা কওমের লোকেরা জানে না। আল্লাহ বলেন, فَأَشَارَتْ إِلَيْهِ قَالُوا كَيْفَ نُكَلِّمُ مَنْ كَانَ فِي الْمَهْدِ صَبِيًّا- قَالَ إِنِّيْ عَبْدُ اللهِ آتَانِيَ الْكِتَابَ وَجَعَلَنِي نَبِيًّا- وَجَعَلَنِيْ مُبَارَكاً أَيْنَ مَا كُنْتُ وَأَوْصَانِيْ بِالصَّلاَةِ وَالزَّكَاةِ مَا دُمْتُ حَيًّا- وَبَرًّا بِوَالِدَتِيْ وَلَمْ يَجْعَلْنِيْ جَبَّارًا شَقِيًّا- وَالسَّلاَمُ عَلَيَّ يَوْمَ وُلِدتُّ وَيَوْمَ أَمُوْتُ وَيَوْمَ أُبْعَثُ حَيًّا- (مريم ২৯-৩৩)- অর্থঃ ‘অতঃপর মারিয়াম ঈসার দিকে ইঙ্গিত করল। তখন লোকেরা বলল, কোলের শিশুর সাথে আমরা কিভাবে কথা বলবো’? (মারিয়াম ২৯)। ঈসা তখন বলে উঠলেন, ‘আমি আল্লাহর দাস। তিনি আমাকে কিতাব (ইনজীল) প্রদান করেছেন এবং আমাকে নবী করেছেন’ (৩০)। ‘আমি যেখানেই থাকি, তিনি আমাকে বরকতময় করেছেন। তিনি আমাকে জোরালো নির্দেশ দিয়েছেন যতদিন জীবিত থাকি, ততদিন সালাত ও যাকাত আদায় করতে’ (৩১)। ‘এবং আমার মায়ের অনুগত থাকতে। আল্লাহ আমাকে উদ্ধত ও হতভাগা করেননি’ (৩২)। ‘আমার প্রতি শান্তি যেদিন আমি জন্মগ্রহণ করেছি, যেদিন আমি মৃত্যুবরণ করবো এবং যেদিন জীবিত পুনরুত্থিত হবো’ (মারিয়াম ১৯/২৯-৩৩)। ঈসার উপরোক্ত বক্তব্য শেষ করার পর সংশয়বাদী ও বিতর্ককারী লোকদের উদ্দেশ্য করে আল্লাহ বলেন, ذَلِكَ عِيْسَى ابْنُ مَرْيَمَ قَوْلَ الْحَقِّ الَّذِيْ فِيْهِ يَمْتَرُوْنَ- مَا كَانَ ِللهِ أَن يَّتَّخِذَ مِنْ وَلَدٍ سُبْحَانَهُ إِذَا قَضَى أَمْراً فَإِنَّمَا يَقُوْلُ لَهُ كُنْ فَيَكُوْنُ- وَإِنَّ اللهَ رَبِّيْ وَرَبُّكُمْ فَاعْبُدُوْهُ هَذَا صِرَاطٌ مُّسْتَقِيْمٌ- (مريم ৩৪-৩৬)- অর্থঃ ‘ইনিই হলেন মারিয়াম পুত্র ঈসা। আর ওটাই হলো সত্যকথা (যা উপরে বর্ণিত হয়েছে), যে বিষয়ে লোকেরা (অহেতুক) বিতর্ক করে থাকে’ (মারিয়াম ৩৪)। ‘আল্লাহ এমন নন যে, তিনি সন্তান গ্রহণ করবেন (যেমন অতিভক্ত খৃষ্টানরা বলে থাকে যে, ঈসা ‘আল্লাহর পুত্র’)। তিনি মহাপবিত্র। যখন তিনি কোন কাজ করার সিদ্ধান্ত নেন, তখন বলেন, হও! ব্যস, হয়ে যায়’ (৩৫)। ‘ঈসা আরও বললেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ আমার পালনকর্তা এবং তোমাদের পালনকর্তা। অতএব তোমরা তাঁর ইবাদত কর। (মনে রেখো) এটাই হলো সরল পথ’ (মারিয়াম ১৯/৩৪-৩৬)। মারিয়ামের গর্ভধারণ ও ঈসার জন্মগ্রহণ ছিলো সম্পূর্ণরূপে অলৌকিক ঘটনা। আল্লাহ পাক নিয়মের স্রষ্টা এবং তিনিই নিয়মের ভঙ্গকারী। তাকে কোন বিষয়ে বাধ্য করার মতো কেউ নেই। তিনি পিতা-মাতা ছাড়াই আদমকে সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর পিতা ছাড়াই শুধু মাতার মাধ্যমে ঈসাকে সৃষ্টি করেছেন। তিনি যা খুশী তাই করতে পারেন। ঈসা কোন উপাস্য ছিলেন না। বরং তিনি ছিলেন অন্যদের মত আল্লাহর একজন দাস মাত্র এবং তিনি ছিলেন আল্লাহর একজন সম্মানিত নবী ও কিতাবধারী রাসূল। ঈসা যে বিনা বাপে পয়দা হয়েছিলেন, তার অন্যতম প্রমাণ এই যে, কুরআনের সর্বত্র তাঁকে ‘মারিয়াম-পুত্র’ (عيسى ابن مريم) বলা হয়েছে (বাক্বারাহ ২/৮৭, ২৫৩; আলে ইমরান ৩/৪৫ প্রভৃতি)। পিতা-মাতা উভয়ে থাকলে হয়তবা তাঁকে কেবল ঈসা বলেই সম্বোধন করা হতো, যেমন অন্যান্য নবীগণের বেলায় করা হয়েছে। অথচ মারিয়ামকে তার পিতার দিকে সম্বন্ধ করে ‘মারিয়াম বিনতে ইমরান’ (ابنت عمران) ‘ইমরান-কন্যা’ বলা হয়েছে (তাহরীম ৬৬/১২)। একমাত্র মারিয়ামের নাম ধরেই আল্লাহ তাঁর সতীত্বের সাক্ষ্য ঘোষণা করেছেন (তাহরীম ৬৬/১২)। যা পৃথিবীর অন্য কোন মহিলা সম্পর্কে করা হয়নি। অতএব যাবতীয় বিতর্কের অবসানের জন্য এতটুকুই যথেষ্ট। তাছাড়া আল্লাহ তাঁকে ‘ছিদ্দীক্বাহ’ অর্থাৎ কথায় ও কর্মে ‘সত্যবাদীনী’ আখ্যা দিয়েছেন (মায়েদাহ ৫/৭৫)। যেটা অন্য কোন মহিলা সম্পর্কে দেওয়া হয়নি। অর্থাৎ, পৃথিবীতে কুমারী মা নিয়ে যেসকল পুরাণ আর ধর্মে কাহিনী লিপিবদ্ধ রয়েছে তার সবগুলোই একই সূত্রে গাঁথা। ঈশ্বর তার সৃষ্টিকর্মের স্বরূপ পৃথিবীর মানুষের কাছে প্রমান হিসেবে কুমারী মায়ের মাধ্যমে রূপক আকারে ব্যাখ্যা করে দেখিয়েছেন যেন আমরা যুগে যুগে এক ঈশ্বরের কাছে আনুগত্য প্রকাশ করি এবং হেদায়েত প্রাপ্ত হই। উৎসঃ সামহোয়ারইনব্লগ Share on facebook Share on email Share on print
সেই রিপোর্টটি ছিল সাজানো 01 Dec, 2013 ২৭ নভেম্বর বুধবার চাঁদপুর, কোর্ট স্টেশন, মধুরোড ও হাজীগঞ্জ স্টেশন থেকে ২শ’ ২৬ জন যাত্রী নিয়ে মেঘনা এক্সপ্রেস ট্রেনটি চট্টগ্রামের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। অবরোধকারীদের হাতে মেহের স্টেশনের পশ্চিমে লাইন ওপড়ানো থাকায় ওই স্থানের দায়িত্বরত কর্মচারীদের তৎপরতায় ভয়াবহ দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পায় ট্রেনটি। মূল ঘটনাটি আড়ালে রেখে কয়েকটি ইলেকট্রনিকস মিডিয়ায় মনগড়া প্রতিবেদন প্রচার হয়। প্রতিবেদনে কৃষক তাজুল ঘটনার নায়ক বনে যান। সেই রিপোর্টটি ছিল সাজানো সরেজমিন জানা যায়, চাঁদপুর-লাকসাম রেলপথে ২৭ নভেম্বর অবরোধকারীরা মেহের স্টেশনের পশ্চিম পাশে লাইন উপড়ে পেলে। তখন সময় ভোর সাড়ে ৫টা। ওই সময় চাঁদপুর থেকে মেঘনা এক্সপ্রেস ট্রেনটি মেহের অতিক্রম করার সময় সন্নিকটে। রাতে দায়িত্বপালন করা কীম্যান নুরু মিয়া মৌতা বাড়ী সংলগ্ন এলাকায় প্রথমেই লাইনের স্লিপার ও ফিস প্লেট খোলা অবস্থা দেখে দৌড়ে মেহের স্টেশন মাস্টার মোস্তফাকে জানায়। মোস্তফা হাজীগঞ্জ স্টেশনে যোগাযোগ করে। ততক্ষণ হাজীগঞ্জ স্টেশন থেকে মেঘনা ট্রেনটি ছেড়ে আসে। হাজীগঞ্জ থেকে ছাড়ার সময় হচ্ছে ৫.৫৫ মিনিট। ওয়ারুক রেল ক্রসিং গেইটে প্রতিদিন সোয়া ৬টার মধ্যে আসে। ওইদিনও ঠিক ওই সময় চলে আসে। এরই মাঝে স্টেশন মাস্টার মোস্তফা বদলি দায়িত্বে গেইটম্যান (ওয়েম্যান) আঃ খালেককে ফোন করে বলে, তুমি লাল ঝা-া দিয়ে ট্রেনটি থামিয়ে দাও। সামনে লাইনে সমস্যা আছে। আঃ খালেক ঝাণ্ডা দিয়ে রেল ক্রসিংয়ের একটু পশ্চিম পাশে ট্রেন থামিয়ে দেয়। গেইটম্যান খালেকের সাথে কথা বলে চালক জয়নাল ক্রসিংয়ের সমানে এসে অবস্থান নেয়। পরে উপড়ে ফেলা লাইন ঠিক করে সচল করার পর ট্রেনটি মেহের স্টেশনের উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসে। ৮.১০ মিনিটে মেহের স্টেশনে পৌছে ৮.২০ মিনিটে লাকসামের উদ্দেশে মেহের স্টেশন ত্যাগ করে। অবরোধকারীদের উল্লেখিত ঘটনাটি চাঁদপুর থেকে প্রকাশিত স্থানীয় বেশ কয়েকটি দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। কিন্তু ওইদিন মেহের স্টেশন থেকে মেঘনা এক্সপ্রেস ট্রেনটি ছেড়ে যাওয়ার পর ইলেকট্রনিকস মিডিয়ার কয়েকজন সংবাদকর্মী ভিন্ন ভিন্ন ভাবে সংবাদ পরিবেশন করে। একটি বেসরকারি চ্যানেল প্রকৃত ঘটনাটি তুলে ধরলেও আরেকটি চ্যানেলে তাজুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তিকে আবিস্কার করে। তাজুল ইসলাম দুর্ঘটনা থেকে ৫শ’ যাত্রীকে প্রাণে রক্ষা করেছে শিরোনামে সংবাদ পরিবেশন করে। সেই রিপোর্টটি ছিল সাজানো যাত্রীদের প্রাণে রক্ষা সংবাদ অনুসন্ধানে বেশ কয়েকজন সংবাদকর্মী তুলে আনে ওই ঘটনাটির মূল চিত্র। পুরস্কারপ্রাপ্ত কৃষক তাজুল ইসলামের স্ত্রী রাহেলা বেগম (৫৫) জানায়, তার স্বামী ওই দিন ভোরে তাদের বাড়ীর পাশে রেল লাইনে হাঁটছিলো। সামনে হেটে একটু সামনে দেখে লাইন উপড়ানো অবস্থায় রয়েছে। তাজুল ইসলাম বাড়ীতে এসে তার স্ত্রীকে ঘটনাটি জানায়। স্ত্রী তার ছেলেকে স্টেশন মাস্টারকে জানাতে অনুরোধ করে। কিন্তু এর আগেই কীম্যান লাইনের এ অবস্থা দেখে মেহের স্টেশন মাস্টার মোস্তফার নিকট দৌড়ে গিয়ে সংবাদ পৌঁছায়। পরে সকাল ৮টার পর মিডিয়াকর্মীরা ট্রেন ছেড়ে যাওয়ার পর মেহের স্টেশনে উপস্থিত হয়। ঘটনার কোনো আলামত না পেয়ে একজন মিডিয়াকর্মী স্টেশন মাস্টার মোস্তফার সাক্ষাতকার নিয়ে সংবাদ পরিবেশন করে। এরই মাঝে আরেকজন সংবাদকর্মী ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে তাজুল ইসলামের নিকট জানতে চায়। এরপর ওই সংবাদকর্মী সংবাদ তৈরী করার জন্য তাজুল ইসলামের বাড়ী থেকে তার স্ত্রীর লাল পেটিকোট লাঠির মাথায় বেধে কাল্পনিক একটি ভিডিও চিত্র তৈরি করে। কীম্যান নুরু মিয়া জানায়, তিনি ঘটনার দিন সারারাত ওই লাইনে দায়িত্ব পালন করেন। ভোর সাড়ে ৫টায় মৌতা বাড়ী এলাকায় দুই স্থানে রেললাইন আংশিক কাটা দেখতে পান। এর একটু সামনেই গিয়ে দেখে স্লিপার ও ফিস প্লেট খুলে একটি লাইন ওপড়ানো রয়েছে। এই অবস্থা দেখে দৌড়ে স্টেশন মাস্টারকে সংবাদ দেয়। গেইট ম্যান আঃ খালেক জানায়, স্টেশন মাস্টার মোস্তফার ফোন পেয়ে লাল ঝাণ্ডা নিয়ে আমি ট্রেনটি থামিয়ে দেই। আমার সাথে মেঘনা এক্সপ্রেস চালকের সাথে কথা হয়। মেঘনা চালক জয়নাল আবেদীন জানায়, ওয়ারুক রেলক্রসিং আসার আগেই গেইটম্যান আঃ খালেক লাল ঝাণ্ডা দেখিয়ে ট্রেনটি থামানোর জন্য সতর্ক করে। আমি তাৎক্ষণিক ট্রেনটি নিয়ন্ত্রণ করি। লাইন সচল হওয়ার পর ওই স্থান ত্যাগ করি। তাজুল ইসলাম নামে কোনো ব্যাক্তিকে দেখেনি। তাজুল ইসলামের স্ত্রী রাহেলা বেগম জানায়, আমার স্বামী ওইদিন ভোরে রেল লাইনে হাঁটছিলো। লাইন ওপড়ানো দেখে বাড়ীতে এসে বললে, আমার ছেলেকে স্টেশন মাস্টারকে জানাতে অনুরোধ করে। আমার স্বামী আমার পেটিকোট নিয়ে লাইন দিয়ে হেটে গিয়ে দেখে তিনি যাওয়ার আগেই ওয়ারুক গেইটে ট্রেনটি থামানো রয়েছে। স্টেশন মাস্টার গোলাম মোস্তফা জানান, কীম্যান নুরু মিয়া আমাকে লাইন ওপড়ানো রয়েছে বলে সংবাদ পৌঁছায়। আমি চট্টগ্রামসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করি। মেঘনা ট্রেনটি মেহের স্টেশন অতিক্রম করার কথা ছিল ওই সময়। দ্রুত হাজীগঞ্জ স্টেশনে যোগাযোগ করলে আমাকে জানানো হয়, মেঘনা ট্রেনটি হাজীগঞ্জ ছেড়ে এসেছে। তাৎক্ষণিক আমি ওয়ারুক গেইটম্যান আঃ খালেককে লাল ঝাণ্ডা দিয়ে ট্রেনটি থামানোর জন্য বলি। কথামত ট্রেনটি ওইস্থানে অবস্থান নেয়। সকাল ৮টার পর লাইন সচল হওয়ার পর মেঘনা ট্রেনটি মেহের ত্যাগ করে। তাজুল ইসলাম নামে কোনো ব্যাক্তিকে ওই সময় দেখিনি। তবে পরে মিডিয়া ও লোকজনের মাধ্যমে তাজুল ট্রেন থামিয়েছে বলে জানতে পারি। উৎসঃ ঢাকাটাইমস২৪ Share on facebook Tweet Share on email Share on print 17